পাবনার ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে পিকনিকের নৌকা ধাক্কা লেগে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রাকিবুজ্জামান রকি নামে এক ছাত্রদল নেতা। দীর্ঘ ৩৮ ঘণ্টা পর পদ্মার শাখা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদীর চরকুড়লিয়া আকাতের ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান এ বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
চরকুড়ুলিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক সেলিম রেজা জাগো নিউজকে জানান, রবিবার সকাল ৯টার দিকে চরকুড়লিয়া গ্রামের আকাতের ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীতে একজনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে নৌ-পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী পিকনিকের নৌকা (ট্রলার) ধাক্কায় প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ হন। পরে দুইজনকে উদ্ধার করা হলেও রকি নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রকি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
পিকনিকে নৌকায় থাকা যাত্রীরা জানান, শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার কাতলাগাড়ী গড়াই নদী থেকে পদ্মা নদীতে নৌকাযোগে পিকনিকে বের হয় প্রায় শতাধিক ভ্রমণকারী। ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে রাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৫ নম্বর পিলারের সঙ্গে ট্রলারটির ধাক্কা লাগে। এ সময় ছাত্রদল নেতা রকিসহ তিনজন নদীতে ছিটকে পড়েন। কিছুক্ষণ পরেই নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে মো. লিটন (৩৮) ও মো. ওয়াহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রয়ে যায় ছাত্রদল নেতা রকি।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ঈশ্বরদীর চরকুড়লিয়া গ্রামে পদ্মার শাখা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে যাওয়া দেখে স্থানীয় গ্রামবাসী মুঠোফোনে আমাদের জানান। পরে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এটি ছাত্রদল নেতার রকির মরদেহ বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শেখ মহসীন/কেজে/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশটি আবারও নয়াদিল্লিতে বসেছে। এবারের ‘জোশ’ বা উত্তেজনাতেও যেন বাড়তি মাত্রা রয়েছে। উজ্জ্বল রঙের পটভূমি আর যুদ্ধের ঢাকের মতো আবহসংগীতের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে দেখানো হচ্ছে অতিরঞ্জিত সব ছবিতে। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি খুব একটা গোপন নয়: এই তিন নেতা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে হাত মিলিয়েছেন। অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘জায়গা’ বুঝিয়ে দিতে একজোট হয়েছেন। সব সরকারই, বিশেষ করে শক্তিমান বা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো, নিজেদের ভাবমূর্তি গড়তে শীর্ষ সম্মেলনকে ব্যবহার করে। মোদী সরকার একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু ব্রিকসের ক্ষেত্রে সংগঠনটির গঠন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য বিবেচনা করলে বিষয়গুলো এত সহজে এক জায়গায় মেলে না। বৈপরীত্যই যেখানে বেশি এই উন্মত্ত প্রচারণায় যেভাবে তিন শক্তিমান নেতাকে তুলে ধরা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে বৈপরীত্যই বেশি। প্রত্যেকেরই আলাদা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, একইভাবে রয়েছে আলাদা প্রতিপক্ষও। রাশিয়া চীনের মিত্র—কিছুটা হলেও চীনের ওপর নির্ভরশীল। ভারত চীনকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। আর চীন অন্য দুই দেশকে এতটাই দুর্বল মনে করে যে, খেলার নিয়ম সে-ই ঠিক করতে পারে এবং একই সঙ্গে আম্পায়ারের ভূমিকাও পালন করতে পারে। নির্মম সত্য হলো, এ ধরনের আন্তর্জাতিক জোটগুলোর মধ্যে ব্রিকসই সম্ভবত সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক। ন্যাটো কীসের প্রতিনিধিত্ব করে, বা করার কথা—আমরা তা জানি। অন্যগুলোরও পরিচয় নির্দিষ্ট করা যায়। ব্রিকসের সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ হতে পারে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও। কিন্তু সেখানে চীনের আধিপত্য প্রায় আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত। এসসিও মূলত চীনের বহুপক্ষীয় সংগঠন। এ কারণেই বলা যায়, এসসিওর অন্তত একটি উদ্দেশ্য আছে। এমনকি ৫৭ সদস্যের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির মতো তুলনামূলকভাবে অকার্যকর সংগঠনেরও অন্তত একটি অভিন্ন বন্ধন রয়েছে—ইসলাম। অবশ্য ইসলামী বিশ্বের ভেতরের এত সংকট ও যুদ্ধ, যেমন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান বিরোধ, এসব ক্ষেত্রে ওআইসিকে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে মিল কোথায়? ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন বিষয়টি কী? এটি কি ট্রাম্প বা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে একটি যৌথ ফ্রন্ট? মোটেও তা নয়। পুতিন ও ট্রাম্প যেন পরস্পরের প্রশংসায় মুগ্ধ এক জুটি। শি জিনপিংও শিগগির যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমস্যাগুলো মেরামতের চেষ্টা করবেন। তিনি ট্রাম্পকে তার নিজের দিকে মনোযোগ ফেরানোর নীতি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবেন— ‘আমেরিকা প্রথম’এবং শেষও আমেরিকা, তাইওয়ানকে ভুলে যান। চীনের জন্য ট্রাম্প বড় খবর। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটগুলোকে দুর্বল করছেন। এসব দেশের কিছু হয়তো নিজেদের জন্য হুমকির মাত্রা কমাতে চীনের দিকে ঝুঁকবে। তখন বেইজিং সেই দেশগুলোর কাছ থেকে নানা ছাড় আদায় করবে। অন্যদিকে, দুর্বল ও ছোট দেশগুলো—বিশেষ করে যেসব দেশকে ভারতীয় মহলে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অংশ হিসেবে দেখা হয়—তারা এরই মধ্যে চীনকে নতুন আধিপত্যশীল শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং তাকে ‘সালাম’ করছে। অন্তত শি জিনপিং ট্রাম্পের মতো প্রকাশ্যে আপনাকে অপমান করবেন না। রাশিয়ার হিসাব রাশিয়ার কথা বললে, এটি এমন এক বিশাল শক্তি যার সঙ্গে চীনের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। রাশিয়ার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের একটি নিরাপদ উৎসও রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শ্রেণিতে পড়ে। সেখানে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে এবং সীমান্তে সামরিকীকরণও চলমান। বাণিজ্য বাড়াতে হলে শি জিনপিংয়ের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর ভারত-চীন বাণিজ্য যেমনটা সবাই জানে- একতরফা। এই মুহূর্তে ১১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ব্যবধান নিয়ে ভারতের অংশ চীনের মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মাত্র ১০ শতাংশের একটু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে আসায় শি জিনপিং বিকল্প বাজার ও অংশীদার খুঁজছেন। পছন্দ হোক বা না হোক, ভারত সেখানে জায়গা করে নিয়েছে। এখন চীনের জনমিতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার পতনের কারণে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তার জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই শি জিনপিং ভারতের সঙ্গে সীমান্তে আপাতত কিছুটা বিরতি নিয়েছেন। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সময় কিনছে চীন? ১৯৮৮ সালে দেং শিয়াওপিং বেইজিংয়ে রাজীব গান্ধীকে বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের হয়তো সীমান্ত সমস্যা সমাধানের মতো প্রজ্ঞা নেই। তাই এটি ভবিষ্যতের আরও প্রজ্ঞাবান প্রজন্মের জন্য রেখে দেই।’ শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখনো আসেনি। তিনি বরং আরও সময় কিনতে চান, যতক্ষণ না চীন ও ভারতের মধ্যকার ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে ভারতকে ভারসাম্যহীন রাখতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করার সুযোগ তার রয়েছে। পুতিনও জিনপিংয়ের মতো ন্যাটোর দুর্বলতায় খুশি। তিনি হয়তো মনে করছেন, ইউক্রেন নিয়ে একটি সমঝোতা করে বিজয় ঘোষণা করতে পারবেন। অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কিয়েভকে সহায়তা কমে গেলে এবং ইউরোপ অস্বস্তিতে পড়লে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন। সংক্ষেপে বললে, শি জিনপিং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একত্রিত করছেন না। পুতিনও এমন কোনো অভিযানে যোগ দিচ্ছেন না। রাশিয়ার কাছে ভারত কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের সঙ্গে পুতিনের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে তার প্রথম স্বার্থও জিনপিংয়ের মতোই—একতরফা বাণিজ্যিক সম্পর্ক। চীন ছাড়া অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ভারত বেশি রুশ তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এর জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদও জানাতে রাজি। একই সঙ্গে রুশ অস্ত্রের বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে ভারত এখনো অনেক দূর এগিয়ে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে। তেলের বাণিজ্যের কারণে রাশিয়া ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তও ভোগ করছে। তবে রাশিয়া তুলনামূলকভাবে নমনীয় বাণিজ্য অংশীদার এবং এমন কিছু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত, যা অন্য কোনো দেশ ভারতকে দিতে চাইবে না। কিন্তু এর বাইরে যদি কেউ মনে করে, পুতিন ভারতকে রাশিয়া বা চীনের সমপর্যায়ের কোনো শক্তি বা সমকক্ষ হিসেবে দেখেন, তাহলে তার আবার ভাবা উচিত। ব্রিকস সম্মেলনের পেছনের সমীকরণ এই সমীকরণগুলোই এবারের ব্রিকস সম্মেলনের পটভূমি তৈরি করেছে। ভারত এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা পক্ষ নয়, তার আতিথেয়তা যতই চমৎকার হোক না কেন। কথাটি বলা কঠিন, কিন্তু সত্য বলতেই হবে। আজকের ভারতকে অনেকটা চীন ও রাশিয়ার আধুনিক বাণিজ্যিক উপনিবেশের মতো দেখাচ্ছে। ভারতকে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি মেনে নিতে হচ্ছে, কারণ দেশটি মূলত সেসব পণ্যই কিনছে, যেগুলো তার অত্যন্ত প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন থেকে যন্ত্রাংশ, উপকরণ বা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক না গেলে ভারতের অনেক রপ্তানি কার্যক্রমই থেমে যাবে। বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর হলেও সত্য, চীনা আমদানির সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী হলো ভারতের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল। এর পাশাপাশি, ভারতের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে শান্তি প্রয়োজন। আগামী পাঁচ বছর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই ধরনের আমদানি-নির্ভরতা ভারতের দর-কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় যে তিন শক্তিমান নেতাকে পাশাপাশি দেখিয়ে ভারতের শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেখানেও ভারত আসলে বড় দলে নেই। ট্রাম্পের যুগ মধ্যম শক্তি ও দোদুল্যমান রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা ও ‘ডি-ডলারাইজেশন’ ভাবনা ভারতের প্রভাবশালী কিছু বিশ্লেষক ও সরকারপন্থি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশের উত্তেজনার উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনিবার্য পতন এবং ডি-ডলারাইজেশন নিয়ে তাদের নানা কল্পনা। এই শক্তিশালী অংশটি ব্যক্তিগত আক্রমণনির্ভর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতায় এতটাই আচ্ছন্ন যে ‘দুষ্টু পশ্চিমকে’ মোকাবিলা করতে তারা শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও হাত মেলাতে প্রস্তুত। কিন্তু তারা কি চীনের সীমান্তসংক্রান্ত দাবিও মেনে নেবে? সেটি নিশ্চিত নয়। ‘শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু’—এই ধারণাটি এখানে সরলীকৃত তো বটেই, বরং বোকামির পর্যায়ে পড়ে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু হিসেবে নয়, সমান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের শত্রু নয়। পরপর তিনজন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্বাভাবিক কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। নরেন্দ্র মোদী এ কথা মনমোহন সিং ও অটল বিহারি বাজপেয়ী দুজনের সম্মিলিত সময়ের চেয়েও বেশিবার বলেছেন। এই সর্বগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতার পেছনে কী ধরনের ‘রক্তের শত্রুতার’ মানসিকতা কাজ করে, তা নিয়ে একটি বই লেখার মতো আরও বিচক্ষণ কোনো মন দরকার। শুধু এটুকু বলা যায়, মোদী সরকারের মধ্যে এ ধরনের কোনো আবেশ নেই। ডি-ডলারাইজেশনের পর কী? আর ডি-ডলারাইজেশন? যদি মার্কিন ডলার হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, তাহলে তার জায়গা নেবে কে? ‘ব্রিকস মুদ্রা’ নামের সেই কৌতুক? কিছু পরিসংখ্যান দেখুন। ব্রিকসের ১০টি দেশ মিলিয়ে মোট জিডিপি ১৪ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আর শুধু চীনের জিডিপিই ২০ দশমিক ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ব্রিকসের মূল সদস্য ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মিলিত জিডিপি ৯ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার—যা চীনের অর্ধেকেরও কম। আপনি যদি মার্কিন ডলারের অবসান চান, তাহলে কি ইউয়ানের যুগে বসবাস করতে প্রস্তুত? মার্কিন ডলারের জায়গা ভারতীয় রুপি নেবে না। রুশ রুবলও নেবে না। ব্রিকসের আসল শিক্ষা কী? বহুপক্ষীয় সম্মেলনের অবশ্যই একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও নেতাদের কথা বলার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে এসব সম্মেলন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা বিপজ্জনক এক ধরনের বিভ্রম। এই সম্মেলন যদি কোনো কিছু মনে করিয়ে দেয়, তা হলো ভারতের শক্তি নয়, বরং দেশটির দুর্বলতা। এটি তাদের আরও বাস্তববাদী করে তোলা উচিত এবং সামনে এগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজে মনোযোগী করা উচিত। লেখক: শেখর গুপ্ত, এডিটর ইন-চিফ, দ্য প্রিন্টসূত্র: দ্য প্রিন্টকেএএ/
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের জাজান এলাকায় হুতিদের ছোড়া প্রজেক্টাইলে দুজন আহত হয়েছেন এবং মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে
প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’। গণতন্ত্র শুধু ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, গণতন্ত্র হলো প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় নাগরিকের মৌলিক সম্মান ও অধিকারের প্রতিফলন। দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানাই।’ ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মূলত ১৯৮৭ সালে বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বেগবান করতে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবং ১৯৯৭ সালে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের গৃহীত ‘গণতন্ত্র সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণা’ স্মরণে রাখতে এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়। বিশ্বের প্রতিটি দেশে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ রক্ষা করা গণতন্ত্রের অবস্থা মূল্যায়ন করা, মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। আরও পড়ুন আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস / প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে ভোটের বাক্সের বাইরের গণতন্ত্র আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় গণতন্ত্রের পরিধি অনেক বেশি বিস্তৃত। অনেকেই সাধারণ অর্থে গণতন্ত্রকে কেবল নির্দিষ্ট মেয়াদ পর পর ব্যালট বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। একটি কার্যকর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম: যেখানে সাংবাদিকতা কোনো অদৃশ্য ভয় বা সেন্সরশিপের মুখোমুখি হবে না যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষমতাবানের জন্য আইনের বিচার সমান হবে এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা থাকবে, ভিন্নমতের সম্মান থাকবে, সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের পাশাপাশি সংখ্যালঘুর কণ্ঠস্বর শোনা এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ নাগরিকের জানার অধিকার থাকবে। অর্থাৎ গণতন্ত্র মানে হলো সেই পরিবেশ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের অনিয়মের বিরুদ্ধে ভয়হীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে ‘হাইব্রিড রেঝিম’ বা ছদ্মবেশী শাসনব্যবস্থার আধিক্য, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে নির্বাচনের কাঠামো বজায় রাখা হলেও ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে সংকুচিত করা হয়।ভবর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র এক অভূতপূর্ব ও সূক্ষ্ম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া যেমন মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত করেছে, তেমনি ভুয়া তথ্য, ঘৃণা ছড়ানো এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে জনমতকে বিকৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে। আরও পড়ুন বিশ্ব ডুচেন সচেতনতা দিবস / যে রোগটি শিশুর পায়ের শক্তি কেড়ে নেয় তরুণ সমাজ ও আগামীর পথ আজকের দিনে তরুণরা কেবল ভোটার হিসেবেই নয়, বরং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়া এবং সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যে কোনো গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাঁচিয়ে রাখার বড় শক্তি হলো তরুণ সমাজ। তাই তরুণদের রাজনীতি বিমুখ না করে বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা না গেলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাষ্ট্রের আসল মালিক জনগণ। গণতন্ত্র কোনো নিশ্চল বিষয় বা স্থায়ী ট্রফি নয় যা একবার অর্জন করলেই কাজ শেষ হয়ে যায়; এটি প্রতিনিয়ত চর্চা, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের একটি প্রক্রিয়া। নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার থাকা, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই গণতন্ত্র তার প্রকৃত রূপ পায়। কেএসকে