মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলো আজ রোববার নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে। এর জেরে এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে দুদিন আগে ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে কোনো একটি অজ্ঞাতবস্তুর (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) আঘাত হানার খবর তারা পেয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর পর্যন্ত জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর নাবিকদের অবস্থা কী, তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউকেএমটিওর এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন আগে গতকাল শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছিল, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সাময়িকভাবে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই পাইপলাইনে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরাক থেকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, বাগদাদ ও রিয়াদ। ইরাকে ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে কোনো একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর তারা পেয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর পর্যন্ত জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর নাবিকদের অবস্থা কী, তা জানা যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধে নতুন করে আবার হামলা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
আর আরব উপদ্বীপজুড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশে যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, সৌদি আরবকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে সে ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি। এই পাইপলাইন দেশটিকে এত দিন রক্ষা করে আসছিল।
আর আরব উপদ্বীপজুড়ে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
পাইপলাইনে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইটের ছবিতে পবিত্র শহর মদিনার দক্ষিণে একটি এলাকায় পাইপলাইনের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন ও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এর ফলে তেল রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সৌদি আরবে তেলের পাইপলাইনে হামলার জন্য ‘সম্ভবত ইরানই দায়ী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার আয়ারল্যান্ডে নিজের একটি রিসোর্টে আয়োজিত গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ট্রাম্প এ কথা বলেন।
শনিবার সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলে জাজান অঞ্চলে দুজন আহত হয়েছেন। এতে একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বগুড়ার সাতমাথায় আমরা জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঠিক আগমুহূর্তে পরপর দুটি বিকট শব্দ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, তিনদিন আগে ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে সারা দেশের মতো বগুড়াতেও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার পর থেকে আমরা জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা সাতমাথার জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সাতমাথা গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে বিকট শব্দে কিছু ফোটে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জুলাই শহীদ আব্দুল আহাদ সৈকতের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ৪০-৫০ জন মানুষ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একত্রিত হয়েছিলাম। কর্মসূচি শুরুর আগেই গোলচত্বরের দিকে বিকট শব্দ হয় এবং ধোঁয়া দেখতে পাই। ঢাকার ঘটনার পর আমাদের কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে কোনো দুষ্কৃতকারী এটি করল কি না, তা নিয়ে প্রথমে কিছুটা আতঙ্কে ছিলাম। তবে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে এসেছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনার বিষয়ে আমরা জুলাই যোদ্ধা বগুড়া জেলার আহ্বায়ক জুলফিকার আলম জানান, সারা দেশে ফ্যাসিবাদী অপশক্তির ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে কেন্দ্র নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ গোলচত্বরের দিক থেকে বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখা যায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক দৃষ্টিতে বিষয়টিকে পটকা জাতীয় কিছু মনে হচ্ছে এবং এর কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শব্দের পরপরই এক তরুণ ও তরুণীকে সেখান থেকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাচ্চাদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই তরুণ-তরুণীকে শনাক্তের পাশাপাশি পেছনে কারোর মদদ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর সাতমাথা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন পুলিশের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এল.বি/কেজে/জেআইএম
আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে রিট উত্থাপিত বিবেচনায় খারিজ হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন। রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১১৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।এর আগে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে মো. আল আমিন নামের এক ব্যক্তি ১ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করেন। রিটে আবেদনকারীর ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উল্লেখ করা হয়।আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নুরনবী বুলবুল ও মোহাম্মদ ইউনুছ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী প্রথম আলোকে বলেন, রিট আবেদনটি যথাযথভাবে হয়নি উল্লেখ করে তা না উপস্থাপন করার কথা জানায় রিট আবেদনকারীপক্ষ। এরপর রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের গত বছরের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মের ওই প্রজ্ঞাপন জারি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুলে হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় ১২ মের প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।
রাজশাহীতে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর সময় এক পুলিশ সদস্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে গতকাল শনিবার বিকেলে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানানো হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ তল্লাশিচৌকিতে অভিযান চালানো হয়। সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধ প্রতিরোধে এ অভিযান চালানো হয়।ওই দিন বিকেল পাঁচটার পর কাটাখালী পৌর এলাকায় পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকিতে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তারা সংকেত অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এ ঘটনায় কাটাখালী থানায় দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মতিহার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কাটাখালী তল্লাশিচৌকিতে দুই মোটরসাইকেল আরোহী সিগন্যাল অমান্য করেন। তাঁদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার কিশোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।তল্লাশিচৌকিতে না থেমে মোটরসাইকেল দিয়ে এসআইকে ধাক্কা, আরোহীদের খুঁজছে পুলিশএদিকে একই দিন বিকেলে মতিহার থানার আওতাধীন চৌদ্দপাই বিহাস এলাকায় আরেকটি তল্লাশিচৌকিতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, সেখানে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি দায়িত্ব পালনরত মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কিবরিয়া আহমেদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা হয়েছে। তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।