অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে গাজীপুরের সাফারি পার্ক। বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবহেলায় একের পর এক প্রাণী মারা যাচ্ছে। শ্রীপুরের সাফারি পার্ক শ্রীহীন হয়ে পড়ায় এখন দর্শনার্থীও কমছে প্রতিনিয়ত।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কটি শুরুতে দেশি-বিদেশি বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য জনপ্রিয় ছিল। থাইল্যান্ডের সাফারি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে মিল রেখেই পার্কটি তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে প্রাণীরা উন্মুক্ত থাকবে আর দর্শনার্থীরা নিরাপত্তাবেষ্টিত গাড়িতে ঘুরে দেখবেন। তবে নানা অনিয়ম আর অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে এর জৌলুস। সরকার প্রতি অর্থবছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও অব্যবস্থাপনার কারণে এখন অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই গাজীপুর সাফারি পার্ক।

নানা অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে এ পার্কে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ ও একটি সিংহীর মৃত্যু হয়। এর আগে একটি হাতিও মারা যায়। ৫ আগস্টের পর পার্ক থেকে দুটি ম্যাকাউ চুরি হয়, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি একটি নীলগাই পার্ক থেকে নিরুদ্দেশ হয়, যা এখনো পার্কে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একই বছরের ২৩ মার্চ পার্ক থেকে তিনটি আফ্রিকান প্রাণী লেমুর চুরি হয়। সবশেষ গত ৬ ও ৭ আগস্ট দুটি হাতির মৃত্যু হয়। পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় ১২টি জিরাফ আনা হয় বিদেশ থেকে, জিরাফগুলো ৪টি বাচ্চাও জন্ম দেয়। পরে একের পর এক মারা যায় জিরাফগুলো, ২০২৫ সালে মারা যায় সর্বশেষ সদস্য, পার্কটি বর্তমানে জিরাফ শূন্য। পার্ক প্রতিষ্ঠার সময় ২০১৩ সালে ৩টি ক্যাঙ্গারু আনা হয়। ২০১৭ সালে ক্যাঙ্গারু একটি বাচ্চারও জন্ম দেয়, পরে সেগুলো মারা যায়।
পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট রাতে পাচারকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাভবার্ড, কাকাতুয়া, ম্যাকাও, ময়ূর, দুইটি লেমুরসহ ২০২ জোড়া বিপন্ন পাখি ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও ঢাকা কাস্টমস্ হাউস কর্তৃপক্ষ। পরে তা বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট উদ্ধার হওয়া পাখি ও প্রাণীগুলোকে ওই বছরের ৭ আগস্ট সকালে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে। উদ্ধার হওয়া লেমুর দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো একজোড়া বাচ্চার জন্ম দিয়েছিল। পরে ২০২২ সালে একটি লেমুর মারা যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ মার্চ পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হওয়ায় লেমুর শূন্য হয়ে যায়। পরে ১৮ এপ্রিল ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া একটি পুরুষ রিংটেইল লেমুর উদ্ধার করা হয়। বাকি দুটি লেমুর ভারতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম।
ধারণা করা হচ্ছে পার্ক কর্তৃপক্ষের যোগসাজশেই লেমুরগুলো পাচার হয়েছে। এ ঘটনায় পার্কের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নিকটাত্মীয় নিপেল মাহমুদকে গ্রেফতার করেছিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। নিপেল মাহমুদ সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নিয়োগ করা পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী ছিলেন। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন জানেন না পার্কের কর্মকর্তারা।
পার্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে মূল গেইটসহ বিভিন্ন ইভেন্ট ইজারা দিলেও পার্ক কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে বিগত সরকারের সময় ইজারার প্রায় ৮ কোটি টাকা আদায় করতে পারেনি বন বিভাগ। ইজারার কোটি কোটি পাওনা টাকা আদায়ে মামলা করেই দায় সেরেছে তারা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এ পার্কটি ইজারার মাধ্যমে পরিচালনা হওয়ার কথা থাকলেও বন বিভাগের দায়িত্বশীলতার অভাবে পার্কটিতে কোটি কোটি টাকা ইজারার বকেয়া পড়ে রয়েছে।

অভিযোগ আছে, বন বিভাগের কর্মকর্তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ইজারাদারদের সরকারি রাজস্ব ফাঁকির নানা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। প্রতিবছর পার্কের মূল ফটক ও কোর সাফারি ৫ কোটি টাকা ইজারা দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও করোনার পর থেকে বন বিভাগ ইজারাদার না পাওয়ার কথা বলে নিজেরা পরিচালনা করছেন।
ভাওয়ালের শালবনের ৩ হাজার ৮১০ একর ভূমি পার্ক এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত। বিশাল আয়তনের পার্কে আসা দর্শনার্থীদের রোদ বা বৃষ্টিতে দাঁড়ানোর কোনো জায়গা নেই। অনেকেই বিরক্তি নিয়ে হাঁপিয়ে উঠে পার্ক ত্যাগ করেন। ভেতরে ফুড কোর্টগুলোতে অতিরিক্ত দামে বিভিন্ন খাবার, পানি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এরইমধ্যে শিশুপার্ক, লায়ন রেস্টুরেন্ট ও টাইগার রেস্টুরেন্ট বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত জৌলুস হারালে এখন দর্শনার্থীও কমছে প্রতিনিয়ত। ভেতরে নজরদারির ব্যবস্থা না থাকায় ঘটে নানা অসামাজিক কার্যকলাপও। গত ২৯ আগস্ট পার্কের ভেতর পার্ক কর্মচারীরা দর্শনার্থীদের ওপর হামলা চালালে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনায় মামলাও হয়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, কম জনবল নিয়ে পার্ক ব্যবস্থাপনা সত্যিই অনেক কষ্টের। এরপরও তারা প্রচেষ্টা করছেন। তবে ইজারাদার পাওয়া গেলে কাজ করতে সুবিধা হতো।
এসব বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, বেশ কয়েকবার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া না যাওয়ায় ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ৫ আগস্টের পর পার্কের নানা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব কাটিয়ে উঠতে বন বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর একটি পরিবারের ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। নতুন জীবনের উল্লাস, আনন্দ আর দায়িত্বের মাঝে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে থাকে দম্পতির নিজেদের সময়টা। রাত জেগে শিশুর যত্ন, কাজের চাপ আর সারাদিনের ক্লান্তিতে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একসময়ের সআবেগঘন মুহূর্ত কিংবা গভীর রাতের দীর্ঘ আড্ডাগুলো যেন দূর অতীতের গল্প মনে হতে শুরু করে। অনেক দম্পতিই এই সময়ে এসে অপরাধবোধে ভোগেন-তবে কি আমাদের মধ্যকার সুন্দর মূহুর্তগুলো ফুরিয়ে গেল? উত্তর হলো, না। ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি, শুধু মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের নতুন দায়িত্বের কারণে তা সাময়িকভাবে চাপা পড়ে গেছে। একটু সচেতনতা আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যেমেই ফিরে পেতে পারেন পারেন দাম্পত্যের সেই পুরোনো উষ্ণতা। দায়িত্বের ভাগ করে নিন সন্তানের দেখাশোনার সব দায়িত্ব একা একজনের ওপর পড়লে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর রোমান্সের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ক্লান্তি । তাই শিশুর দায়িত্ব দুজন মিলে ভাগ করে নিন। একজন যখন শিশুর যত্ন নিয়ে, অন্যজন তাকে কিছুটা সময় দিন বিশ্রাম নেওয়ার। সঙ্গী যখন মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকবেন, তখন ভালোবাসার জায়গা এমনিই তৈরি হবে। সারাদিন যোগাযোগ রাখুন ব্যস্ততার কারণে দিনে হয়তো সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু কাজের ফাঁকে 'তোমার কথা মনে পড়ছে' বা 'আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, নিজের যত্ন নিও'- এমন একটি ছোট খুদে বার্তা দিন। এটি সঙ্গীকে অনুভব করায় যে তিনি এখনো আপনার কাছে কতটা বিশেষ। নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন সপ্তাহে অন্তত একদিন সোশ্যাল মিডিয়া দূরে সরিয়ে রেখে একসঙ্গে শিশুর ঘুমানোর পর রাতের কিছুটা সময় শুধুই আপনাদের দুজনের জন্য তুলে রাখুন। এই সময়টাতে একসঙ্গে একটি সিনেমা দেখা, বারান্দায় বসে চা পান কিংবা অল্প গল্প করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে মাসে অন্তত একবার কাছের কোন মানুষের কাছে সন্তানকে কিছু সময়ের জন্য রেখে দুজনে বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। কথা বলুন সন্তানকে ছাড়াও সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন দুজন একসঙ্গে বসবেন, তখন আলোচনার বিষয় যেন শুধু সন্তানের বিষয় আলোচনা না করে নিজেদের সম্পর্কে ও কথা বলুন। সন্তানের খাওয়ার হিসাব বা ডায়াপার জানার বাহিরেও আপনাদের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে। সঙ্গীর সারাদিন কেমন কাটল, তার মনের হালচাল কেমন বা কোনো পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন দিয়ে শুরু করতে পারেন রাতের আড্ডা। ছোট ছোট স্পর্শের জাদু রোমান্স মানেই বড় কোনো আয়োজন বা দামি ডেট নাইট নয়। কাজের ফাঁকে হুট করে প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা, রান্নাঘরের ব্যস্ততার মাঝে যতটা সম্ভব কাজে সাহায্য করা, কিংবা সকালে এক কাপ চা একসঙ্গে খেতে খেতে গল্প করলেও ভালোবাসার গভীরতা বজায় থাকে। এই ছোট ছোট শারীরিক স্পর্শগুলো আপনার সঙ্গীর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে। আরও পড়ুন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পেয়েও যোগাযোগ করতে দ্বিধা হয় কেন? পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বাবা-মা হিসেবে সঙ্গীর ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোর প্রশংসা করুন। 'তুমি বাবুর খেয়াল সুন্দর করে রাখছো' কিংবা 'তুমি সত্যিই একজন চমৎকার বাবা/মা'-এ ধরনের আন্তরিক স্বীকৃতি সঙ্গীর মনে অনুরাগের সৃষ্টি করে। আরও পড়ুন অফিসে রসিকতার আড়ালে হয়রানি, বুঝবেন কীভাবে? সন্তান ঘরে আসা মানে দাম্পত্যের রোমান্সের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ভালোবাসার একটি নতুন ও পরিপক্ব অধ্যায়ের সূচনা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া আর সামান্য যত্নই পারে বাবা-মা হওয়ার যাত্রাতেও দাম্পত্যকে চিরসবুজ রাখতে। এসএকেওয়াই
সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ‘রাইডো গ্রিন মবিলিটি মুভমেন্ট’-এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ছাতা বিতরণ করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইলেকট্রিক স্কুটার ব্র্যান্ড রাইডো (RYDO)। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের এই অবদানকে সম্মান জানাতেই রাইডোর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাইডোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে সামান্য সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। রাইডোর হেড অব মার্কেটিং শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিন মবিলিটি আমাদের কাছে শুধু পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতা, সচেতনতা এবং সমাজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিষয়টিও জড়িত। আমাদের সড়কগুলো নিরাপদ ও সচল রাখতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন যে পরিশ্রম করেন, এই ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু পরিবহনের ধরন পরিবর্তন করলেই হবে না, সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবও তৈরি করতে হবে। রাইডো গ্রিন মবিলিটি মুভমেন্টের মাধ্যমে আমরা এ ধরনের ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে চাই।’ রাইডো মনে করে, গ্রিন মবিলিটি মানে শুধু স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নয়, বরং একটি আরও দায়িত্বশীল, সচেতন ও যত্নশীল সমাজ গড়ে তোলা। এই ভাবনাকে সামনে রেখেই রাইডোর গ্রিন মবিলিটি মুভমেন্টের আওতায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ছাতা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাইডোর বিজনেস ইনচার্জ মো. তৈমুর হাসিব, ব্র্যান্ড ম্যানেজার মিনহাজুর রহমান এবং হেড অব সেলস মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমএমএআর