যৌতুকের জন্য টাঙ্গাইলে স্ত্রী সুমি আক্তারকে হত্যার মামলায় সাবেক পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলীম ওরফে সুমনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই মামলায় তার সহযোগী ও বন্ধু শামীম আল মামুনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আব্দুল আলীম ওরফে সুমন কালিহাতী উপজেলার হিন্নাইপাড়া গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শামীম আল মামুন একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আব্দুল আলীম শিল্প পুলিশে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ৬ মে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ফলিয়ারঘোনা গ্রামের সুলতান আহমেদের মেয়ে সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের সময় পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা ছিল। তবে সুমির বাবা তিন লাখ টাকা দেন। বাকি দুই লাখ টাকার জন্য আব্দুল আলীম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে সুমিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তিনি।
২০১২ সালের ২০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে যান আব্দুল আলীম। পরে তাকে ঢাকার তুরাগ থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে বন্ধু শামীম আল মামুনের সহযোগিতায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমিকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
আব্দুল আলীম গ্রেফতারের পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় নিহত সুমির মা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল থানায় দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আব্দুল আলীমকে পুলিশ কনস্টেবল পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক খালেদা ইয়াসমিন।
পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তারা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট আব্দুল আলীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং শামীম আল মামুনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এফএইচ/জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না। একটি স্টাইল রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আবার কিছুদিন পরেই জায়গা করে নিচ্ছে নতুন কোনো ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিউটি ও ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এমনই এক ঝলমলে ট্রেন্ড-‘জেমম্যাক্সিং’। নাম শুনেই বোঝা যায়, এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ ঝিকিমিকি রত্ন, রাইনস্টোন, পুঁতি ও গ্লিটারের ব্যবহার। তবে এটি শুধু সাজের সঙ্গে কয়েকটি পাথর যোগ করার বিষয় নয়। বরং সাধারণ লুককে আরও নজরকাড়া, উজ্জ্বল এবং ব্যক্তিগত স্টাইলে রূপ দেওয়াই জেমম্যাক্সিংয়ের মূল ভাবনা। সাধারণ সাজে যোগ হচ্ছে ঝলমলে ছোঁয়া জেমম্যাক্সিংয়ে ছোট ছোট কৃত্রিম রত্ন, স্টোন, রাইনস্টোন বা ঝকঝকে পুঁতি ব্যবহার করে সাজে তৈরি করা হয় আলাদা মাত্রা। খুব সাধারণ মেকআপের সঙ্গেও কয়েকটি স্টোন যুক্ত করলেই লুকটি হয়ে উঠতে পারে পার্টি বা উৎসবের উপযোগী। চোখের চারপাশে ছোট স্টোন বসানো, আইলাইনের পাশে রাইনস্টোন লাগানো কিংবা আইশ্যাডোর ওপর কয়েকটি ঝলমলে পাথর ব্যবহার-সবই এই ট্রেন্ডের অংশ। কেউ আবার কপাল, গালের পাশ বা চোখের কোণেও সূক্ষ্মভাবে স্টোন ব্যবহার করছেন। ফলে মেকআপে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ফিউচারিস্টিক ও গ্ল্যামারাস আবহ। জেমম্যাক্সিংয়ে সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠছে স্টাইল স্টেটমেন্ট শুধু মেকআপেই সীমাবদ্ধ নয় জেমম্যাক্সিংয়ের মজার দিক হলো, এর ব্যবহার শুধু মুখের সাজে আটকে নেই। পোশাক, চুলের অ্যাক্সেসরিজ, নখ, ব্যাগ এমনকি ফোনের কেসেও দেখা যাচ্ছে ঝকঝকে স্টোনের ব্যবহার। কেউ চুলের খোঁপা বা বিনুনিতে ছোট রত্ন বসাচ্ছেন, কেউ আবার পোশাকের নির্দিষ্ট অংশে রাইনস্টোন যোগ করছেন। ফোনের কেস, মেকআপ বক্স বা দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসকেও ঝলমলে করে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নিজের চারপাশের ছোটখাটো জিনিসেও ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখার সুযোগ দিচ্ছে এই ট্রেন্ড। চোখের সাজেই সবচেয়ে বেশি নজর বিউটি ট্রেন্ড হিসেবে জেমম্যাক্সিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রয়োগ সম্ভবত চোখের সাজে। কারণ চোখের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি যোগ করলেই পুরো মেকআপের চরিত্র বদলে যায়। কালো বা রঙিন আইলাইনারের পাশে ছোট স্টোন বসানো যেতে পারে। আবার চোখের ভেতরের কোণায় একটি বা দুটি পাথর ব্যবহার করেও তৈরি করা যায় সূক্ষ্ম ঝলক। যারা একটু বেশি সাহসী লুক পছন্দ করেন, তারা আইশ্যাডোর ওপর বিভিন্ন আকার ও রঙের স্টোন দিয়ে তৈরি করতে পারেন আলাদা নকশা। তবে অতিরিক্ত স্টোন ব্যবহার না করে পোশাক ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাণ ঠিক করলেই লুকটি আরও পরিশীলিত দেখাতে পারে। ফিরছে ২০০০-এর দশকের ঝলমলে ফ্যাশন জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার সঙ্গে অনেকেই নব্বই ও ২০০০-এর দশকের ফ্যাশনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই সময়ে গ্লিটার, রাইনস্টোন, চকচকে পোশাক, ঝকঝকে হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ এবং স্টেটমেন্ট জুয়েলারির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে সেই পুরোনো নান্দনিকতাই নতুন প্রজন্মের হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে। পার্থক্য হলো, এবার পুরো সাজে ঝলমলে উপকরণ ব্যবহার করার বদলে অনেকেই ছোট ছোট জায়গায় স্টোন বসিয়ে তৈরি করছেন আধুনিক ও ব্যক্তিগত লুক। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এত জনপ্রিয়? জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও কম নয়। ক্যামেরার আলো পড়লে ছোট রাইনস্টোন বা কৃত্রিম রত্ন সহজেই ঝিলিক দেয়। ছবি ও ভিডিওতে এই ঝলমলে উপাদানগুলো খুব দ্রুত চোখে পড়ে। ফলে মেকআপের ছোট একটি পরিবর্তনও সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। বিশেষ করে পার্টি, কনসার্ট, উৎসব বা রাতের অনুষ্ঠানের লুকের সঙ্গে এই স্টাইল বেশ মানানসই হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যেও এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ জেমম্যাক্সিংয়ের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো-এখানে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে বাঁধা থাকতে হয় না। কেউ খুব মিনিমালভাবে এক-দুটি স্টোন ব্যবহার করতে পারেন, আবার কেউ চোখ, চুল ও পোশাকে একসঙ্গে ঝলমলে উপাদান যোগ করতে পারেন। আরও পড়ুন নারিকেল তেল কি সত্যিই সুপারফুড? চুল-ত্বকের যত্নেও কতটা কাজে দেয় অর্থাৎ এটি শুধু একটি বিউটি ট্রেন্ড নয়, বরং ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। রং, আকৃতি, নকশা ও ব্যবহারের জায়গা বদলে প্রত্যেকেই তৈরি করতে পারেন নিজের আলাদা জেমম্যাক্সিং লুক। আরও পড়ুন লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের দুনিয়ায় জেমম্যাক্সিং মূলত ঝলমলে সাজকে নতুনভাবে দেখার একটি প্রবণতা। সাধারণ লুকেও সামান্য রাইনস্টোন বা স্টোন যোগ করে যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ তৈরি করা যায়, তখন এই ট্রেন্ড তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই
ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদল। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন জানায় সংগঠনটি। আবেদনপত্রে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনসহ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। আবেদনপত্রে বলা হয়, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন এবং লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে ছাত্রদল। আরও পড়ুন ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাবিতে ছাত্রদলের ২ দিনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি এতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গত ৪ আগস্ট উপাচার্যের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবিগুলো বাস্তবায়নে চলমান ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করে। ছাত্রদলের আবেদনে ক্যাম্পাসের প্রতি ১৫০–২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ন্যূনতম একটি করে ডাস্টবিন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রতিটি হল ও একাডেমিক ভবনে মাসে অন্তত দুবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রে বলা হয়, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাবি ছাত্রদল। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য উল্লিখিত কর্মসূচিসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আবেদনপত্রে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন স্বাক্ষর করেন। আরটি/এমএমকে
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি যাত্রীবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ রোববার উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে জাহাজটি প্রথমে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার সময় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল।সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি গতকাল শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে এটি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করলেও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।উদ্ধারকারী সংস্থার বানজারমাসিন কার্যালয়ের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জাহাজের সাহায্যে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।ভৌগোলিক কারণে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও জাহাজ। বিমানভাড়ার চেয়ে নৌপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপরই বেশি নির্ভর করে।তবে ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায়ই নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয় না। ফলে সেখানে নৌ দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক অনেক বেশি।