ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি যাত্রীবাহী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনো ১৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আজ রোববার উদ্ধারকারীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে জাহাজটি প্রথমে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিখোঁজ হওয়ার সময় ২৪৩ যাত্রী নিয়ে ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল।
সংস্থাটি জানায়, জাহাজটি গতকাল শনিবার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া শহর থেকে সাউথ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিন শহরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে এটি ডুবে গেছে বলে নিশ্চিত করলেও দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার বানজারমাসিন কার্যালয়ের প্রধান আই পুতু সুদায়ানা এক ভিডিও বার্তায় জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন জাহাজের সাহায্যে এ পর্যন্ত ১০৩ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই যাত্রীদের কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। আই পুতু সুদায়ানা বলেন, জাহাজটির সর্বশেষ জানা অবস্থানের দিকে একটি বিশেষ দল, বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।
ভৌগোলিক কারণে প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ফেরি ও জাহাজ। বিমানভাড়ার চেয়ে নৌপথ অনেক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর ওপরই বেশি নির্ভর করে।
তবে ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে প্রায়ই নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলা হয় না। ফলে সেখানে নৌ দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক অনেক বেশি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে এবং ডেঙ্গু রোগীদের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু এখন শুধু মশক নিধনের বিষয় নয়, এটি একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গুর উৎস এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক সমাজ ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আরও পড়ুন মেয়র শাহাদাত / ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নগরের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, এডিস মশা আমাদের ঘরবাড়ির আশপাশেই বংশবিস্তার করে। তাই নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিকের। নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতা করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিকের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমআরএএইচ/এমএমকে
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর কল্পনা বেগম (২৫)। ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার তিন ছেলের জন্ম হয়। সন্তানদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। একসঙ্গে তিন সন্তান জন্মের আনন্দের মধ্যেই এখন চিকিৎসা ও খাবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর কল্পনা বেগমের কাটা স্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তার ওষুধ ও নবজাতকদের দুধ বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৬৭৫ টাকা খরচ হচ্ছে। কল্পনার বাবার বাড়ি ভূরুঙ্গামারীর আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের দেওয়ানির খামার এলাকায়। সেখানেই বর্তমানে তিন সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি। তার স্বামী জায়দুল হকের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকায়। তিনি আন্ধারীঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করেন। পরিবারের ভাষ্য, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কল্পনা সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংসারে আয়-রোজগারও নিয়মিত নয়। ফলে একসঙ্গে তিন নবজাতক ও অসুস্থ প্রসূতির চিকিৎসা এবং খাবারের খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কল্পনা বেগম বলেন, একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কিন্তু আমি অসুস্থ। স্বামীও প্রতিবন্ধী। এখন বাবার বাড়িতে আছি। কৃষক বাবার পক্ষে এত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন সন্তান ও আমার চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কল্পনার বাবা আবুল কালাম বলেন, আমি গরিব মানুষ। একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মেয়ের সিজার করিয়েছি। এখন তিন নাতি ও মেয়ের খরচ চালাতে পারছি না। জামাইও নিয়মিত কাজ করতে পারে না। তিন নবজাতক ও অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা চালানো আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সন্তানদের চিকিৎসা ও খাবারের খরচ চালাতে সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, বুধবার পরিবারটি আমার কাছে এসেছিল। তাদের তিন হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে। পরিবারটিকে স্থানীয়ভাবে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে কথা বলব। রোকনুজ্জামান মানু/এফএ