ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করছে, যেন ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশটি আবারও নয়াদিল্লিতে বসেছে। এবারের ‘জোশ’ বা উত্তেজনাতেও যেন বাড়তি মাত্রা রয়েছে।
উজ্জ্বল রঙের পটভূমি আর যুদ্ধের ঢাকের মতো আবহসংগীতের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী, শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনকে একসঙ্গে দেখানো হচ্ছে অতিরঞ্জিত সব ছবিতে। এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি খুব একটা গোপন নয়: এই তিন নেতা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে হাত মিলিয়েছেন। অথবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘জায়গা’ বুঝিয়ে দিতে একজোট হয়েছেন।
সব সরকারই, বিশেষ করে শক্তিমান বা কর্তৃত্ববাদী নেতাদের নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো, নিজেদের ভাবমূর্তি গড়তে শীর্ষ সম্মেলনকে ব্যবহার করে। মোদী সরকার একে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু ব্রিকসের ক্ষেত্রে সংগঠনটির গঠন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ বৈপরীত্য বিবেচনা করলে বিষয়গুলো এত সহজে এক জায়গায় মেলে না।

এই উন্মত্ত প্রচারণায় যেভাবে তিন শক্তিমান নেতাকে তুলে ধরা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে বৈপরীত্যই বেশি। প্রত্যেকেরই আলাদা বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, একইভাবে রয়েছে আলাদা প্রতিপক্ষও।
রাশিয়া চীনের মিত্র—কিছুটা হলেও চীনের ওপর নির্ভরশীল। ভারত চীনকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। আর চীন অন্য দুই দেশকে এতটাই দুর্বল মনে করে যে, খেলার নিয়ম সে-ই ঠিক করতে পারে এবং একই সঙ্গে আম্পায়ারের ভূমিকাও পালন করতে পারে।
নির্মম সত্য হলো, এ ধরনের আন্তর্জাতিক জোটগুলোর মধ্যে ব্রিকসই সম্ভবত সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক। ন্যাটো কীসের প্রতিনিধিত্ব করে, বা করার কথা—আমরা তা জানি। অন্যগুলোরও পরিচয় নির্দিষ্ট করা যায়। ব্রিকসের সবচেয়ে কাছাকাছি উদাহরণ হতে পারে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও। কিন্তু সেখানে চীনের আধিপত্য প্রায় আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত। এসসিও মূলত চীনের বহুপক্ষীয় সংগঠন।
এ কারণেই বলা যায়, এসসিওর অন্তত একটি উদ্দেশ্য আছে। এমনকি ৫৭ সদস্যের অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির মতো তুলনামূলকভাবে অকার্যকর সংগঠনেরও অন্তত একটি অভিন্ন বন্ধন রয়েছে—ইসলাম। অবশ্য ইসলামী বিশ্বের ভেতরের এত সংকট ও যুদ্ধ, যেমন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান বিরোধ, এসব ক্ষেত্রে ওআইসিকে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।
ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন বিষয়টি কী? এটি কি ট্রাম্প বা ‘দুষ্টু পশ্চিমের’ বিরুদ্ধে একটি যৌথ ফ্রন্ট? মোটেও তা নয়।
পুতিন ও ট্রাম্প যেন পরস্পরের প্রশংসায় মুগ্ধ এক জুটি। শি জিনপিংও শিগগির যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমস্যাগুলো মেরামতের চেষ্টা করবেন। তিনি ট্রাম্পকে তার নিজের দিকে মনোযোগ ফেরানোর নীতি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবেন— ‘আমেরিকা প্রথম’এবং শেষও আমেরিকা, তাইওয়ানকে ভুলে যান।
চীনের জন্য ট্রাম্প বড় খবর। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রজোটগুলোকে দুর্বল করছেন। এসব দেশের কিছু হয়তো নিজেদের জন্য হুমকির মাত্রা কমাতে চীনের দিকে ঝুঁকবে। তখন বেইজিং সেই দেশগুলোর কাছ থেকে নানা ছাড় আদায় করবে।
অন্যদিকে, দুর্বল ও ছোট দেশগুলো—বিশেষ করে যেসব দেশকে ভারতীয় মহলে অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অংশ হিসেবে দেখা হয়—তারা এরই মধ্যে চীনকে নতুন আধিপত্যশীল শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছে এবং তাকে ‘সালাম’ করছে। অন্তত শি জিনপিং ট্রাম্পের মতো প্রকাশ্যে আপনাকে অপমান করবেন না।

রাশিয়ার কথা বললে, এটি এমন এক বিশাল শক্তি যার সঙ্গে চীনের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। রাশিয়ার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের একটি নিরাপদ উৎসও রয়েছে।
সেক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শ্রেণিতে পড়ে। সেখানে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে এবং সীমান্তে সামরিকীকরণও চলমান। বাণিজ্য বাড়াতে হলে শি জিনপিংয়ের প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। আর ভারত-চীন বাণিজ্য যেমনটা সবাই জানে- একতরফা।
এই মুহূর্তে ১১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ব্যবধান নিয়ে ভারতের অংশ চীনের মোট বাণিজ্য উদ্বৃত্তের মাত্র ১০ শতাংশের একটু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে আসায় শি জিনপিং বিকল্প বাজার ও অংশীদার খুঁজছেন। পছন্দ হোক বা না হোক, ভারত সেখানে জায়গা করে নিয়েছে।
এখন চীনের জনমিতিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার পতনের কারণে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত তার জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই শি জিনপিং ভারতের সঙ্গে সীমান্তে আপাতত কিছুটা বিরতি নিয়েছেন।
১৯৮৮ সালে দেং শিয়াওপিং বেইজিংয়ে রাজীব গান্ধীকে বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের হয়তো সীমান্ত সমস্যা সমাধানের মতো প্রজ্ঞা নেই। তাই এটি ভবিষ্যতের আরও প্রজ্ঞাবান প্রজন্মের জন্য রেখে দেই।’
শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখনো আসেনি। তিনি বরং আরও সময় কিনতে চান, যতক্ষণ না চীন ও ভারতের মধ্যকার ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে ভারতকে ভারসাম্যহীন রাখতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করার সুযোগ তার রয়েছে।
পুতিনও জিনপিংয়ের মতো ন্যাটোর দুর্বলতায় খুশি। তিনি হয়তো মনে করছেন, ইউক্রেন নিয়ে একটি সমঝোতা করে বিজয় ঘোষণা করতে পারবেন। অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কিয়েভকে সহায়তা কমে গেলে এবং ইউরোপ অস্বস্তিতে পড়লে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন।
সংক্ষেপে বললে, শি জিনপিং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একত্রিত করছেন না। পুতিনও এমন কোনো অভিযানে যোগ দিচ্ছেন না।

ভারতের সঙ্গে পুতিনের তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে তার প্রথম স্বার্থও জিনপিংয়ের মতোই—একতরফা বাণিজ্যিক সম্পর্ক।
চীন ছাড়া অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ভারত বেশি রুশ তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এর জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদও জানাতে রাজি। একই সঙ্গে রুশ অস্ত্রের বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে ভারত এখনো অনেক দূর এগিয়ে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে।
তেলের বাণিজ্যের কারণে রাশিয়া ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্তও ভোগ করছে।
তবে রাশিয়া তুলনামূলকভাবে নমনীয় বাণিজ্য অংশীদার এবং এমন কিছু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত, যা অন্য কোনো দেশ ভারতকে দিতে চাইবে না।
কিন্তু এর বাইরে যদি কেউ মনে করে, পুতিন ভারতকে রাশিয়া বা চীনের সমপর্যায়ের কোনো শক্তি বা সমকক্ষ হিসেবে দেখেন, তাহলে তার আবার ভাবা উচিত।
এই সমীকরণগুলোই এবারের ব্রিকস সম্মেলনের পটভূমি তৈরি করেছে। ভারত এখানে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা পক্ষ নয়, তার আতিথেয়তা যতই চমৎকার হোক না কেন।
কথাটি বলা কঠিন, কিন্তু সত্য বলতেই হবে। আজকের ভারতকে অনেকটা চীন ও রাশিয়ার আধুনিক বাণিজ্যিক উপনিবেশের মতো দেখাচ্ছে। ভারতকে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি মেনে নিতে হচ্ছে, কারণ দেশটি মূলত সেসব পণ্যই কিনছে, যেগুলো তার অত্যন্ত প্রয়োজন।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চীন থেকে যন্ত্রাংশ, উপকরণ বা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক না গেলে ভারতের অনেক রপ্তানি কার্যক্রমই থেমে যাবে। বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর হলেও সত্য, চীনা আমদানির সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী হলো ভারতের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহল।
এর পাশাপাশি, ভারতের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে শান্তি প্রয়োজন। আগামী পাঁচ বছর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুই ধরনের আমদানি-নির্ভরতা ভারতের দর-কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় যে তিন শক্তিমান নেতাকে পাশাপাশি দেখিয়ে ভারতের শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেখানেও ভারত আসলে বড় দলে নেই।
ট্রাম্পের যুগ মধ্যম শক্তি ও দোদুল্যমান রাষ্ট্রগুলোর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

ভারতের প্রভাবশালী কিছু বিশ্লেষক ও সরকারপন্থি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশের উত্তেজনার উৎস হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনিবার্য পতন এবং ডি-ডলারাইজেশন নিয়ে তাদের নানা কল্পনা।
এই শক্তিশালী অংশটি ব্যক্তিগত আক্রমণনির্ভর যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতায় এতটাই আচ্ছন্ন যে ‘দুষ্টু পশ্চিমকে’ মোকাবিলা করতে তারা শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও হাত মেলাতে প্রস্তুত।
কিন্তু তারা কি চীনের সীমান্তসংক্রান্ত দাবিও মেনে নেবে? সেটি নিশ্চিত নয়।
‘শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু’—এই ধারণাটি এখানে সরলীকৃত তো বটেই, বরং বোকামির পর্যায়ে পড়ে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু হিসেবে নয়, সমান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে চায়। আবার যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের শত্রু নয়।
পরপর তিনজন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্বাভাবিক কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। নরেন্দ্র মোদী এ কথা মনমোহন সিং ও অটল বিহারি বাজপেয়ী দুজনের সম্মিলিত সময়ের চেয়েও বেশিবার বলেছেন।
এই সর্বগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতার পেছনে কী ধরনের ‘রক্তের শত্রুতার’ মানসিকতা কাজ করে, তা নিয়ে একটি বই লেখার মতো আরও বিচক্ষণ কোনো মন দরকার। শুধু এটুকু বলা যায়, মোদী সরকারের মধ্যে এ ধরনের কোনো আবেশ নেই।
আর ডি-ডলারাইজেশন? যদি মার্কিন ডলার হঠাৎ উধাও হয়ে যায়, তাহলে তার জায়গা নেবে কে? ‘ব্রিকস মুদ্রা’ নামের সেই কৌতুক?
কিছু পরিসংখ্যান দেখুন। ব্রিকসের ১০টি দেশ মিলিয়ে মোট জিডিপি ১৪ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আর শুধু চীনের জিডিপিই ২০ দশমিক ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
ব্রিকসের মূল সদস্য ভারত, রাশিয়া, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মিলিত জিডিপি ৯ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার—যা চীনের অর্ধেকেরও কম।
আপনি যদি মার্কিন ডলারের অবসান চান, তাহলে কি ইউয়ানের যুগে বসবাস করতে প্রস্তুত? মার্কিন ডলারের জায়গা ভারতীয় রুপি নেবে না। রুশ রুবলও নেবে না।
বহুপক্ষীয় সম্মেলনের অবশ্যই একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, দ্বিপক্ষীয় মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও নেতাদের কথা বলার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে এসব সম্মেলন। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা বিপজ্জনক এক ধরনের বিভ্রম।
এই সম্মেলন যদি কোনো কিছু মনে করিয়ে দেয়, তা হলো ভারতের শক্তি নয়, বরং দেশটির দুর্বলতা। এটি তাদের আরও বাস্তববাদী করে তোলা উচিত এবং সামনে এগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজে মনোযোগী করা উচিত।
লেখক: শেখর গুপ্ত, এডিটর ইন-চিফ, দ্য প্রিন্ট
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা থেকে একটি দেশি শুটারগান উদ্ধার করেছে র্যাব-২। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) র্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ জানতে পারে, রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় দেশে তৈরি একটি শুটারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে বিশেষ তল্লাশি চালায়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শুটারগানটি উদ্ধার করা হয়। আরও পড়ুন হারানো অস্ত্রের তথ্য দিলে গোপনে পুরস্কার দেবে র্যাব উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা। টিটি/ইএ
রাজধানীর আদাবর থানার সামনের রিংরোড সড়ক। ২৬ আগস্ট বিকেল ৫টা। প্যাডেল রিকশা নিয়ে বসেছিলেন ৯০ বছর বয়সী শাহজাহান মিয়া। সারা দিন রিকশা চালিয়েছেন। তবে আয় হয়েছিল মাত্র ১৫০ টাকা। দুপুরের খাবারও খেতে পারেনি শাহজাহান। কারণ, ১৫০ টাকা থেকে রিকশার মালিককে দিতে হবে ১০০ টাকা। হাতে থাকবে ৫০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে বাড়ির জন্য কিছু খাবার কিনতে হবে। কিন্তু কী কিনবেন, সেটিও ঠিক করতে পারছিলেন না শাহজাহান।কথা বলতে বলতে নিজের সংসারের কথা জানান তিনি। বলেন, প্রায়ই এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। কখনো ঘরে খাবার থাকে না। তখন প্রতিবেশীদের কাছে খাবার চেয়ে নিতে হয়। সেদিনও তাঁর চিন্তা ছিল একই—রাতে পরিবারের সবাই কী খাবেন।পরে আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়ে শাহজাহানের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, এক কক্ষের আধাপাকা ঘর। একটি খাট। কয়েকটি পাতিল। কয়েকটি ব্যাগে কিছু কাপড়। সংসারের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস বলতে এটুকুই। ঘরে তখন রান্না করার মতো চাল-ডাল, আলু-তরকারি কিছুই ছিল না।সংসার চালাতে বৃদ্ধ বয়সেও বাজারে মাছ কাটেন পাবনার নিয়ামততিন নাতির দায়িত্বও শাহজাহানেরশাহজাহানের সঙ্গে থাকেন তাঁর স্ত্রী রেনু বেগম। বয়স ৬৫ বছর। সঙ্গে থাকে তাঁদের মেয়ের তিন সন্তানও। শিশু তিনটির বয়স যথাক্রমে ১১, ৮ ও ৫ বছর। দুই বছর আগে অজানা অসুখে মারা গেছেন শাহজাহানের মেয়ে। গত বছর মারা যান সেই মেয়ের স্বামী। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।মেয়ের মৃত্যুর পর তিন শিশুর দায়িত্ব এসে পড়ে শাহজাহানের ওপর। শিশুদের দাদা-দাদি তাদের দায়িত্ব নিতে চান না। তাই বয়স ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও নাতিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাঁকে।শাহজাহানের নিজের এক ছেলে আছেন। তিন বছর আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে আলাদা করে দিয়েছিলেন। ছেলেটিও অসুস্থ। তাই মা–বাবার তেমন খোঁজ নিতে পারেন না। কখনো কখনো উল্টো বাবার ঘরে এসে খাবার খান। ফলে সংসারে উপার্জনের প্রধান ভরসা ৯০ বছরের শাহজাহান। বয়সের কারণে আগের মতো রিকশা চালাতে পারেন না। প্যাডেলে জোর পান না। ধীরে চালান। যাত্রীরাও তাঁর রিকশায় কম ওঠেন। শাহজাহান বলেন, ‘এই রিকশা চলে কম। মানু উঠতে চায় না। মিশিনেরডা চলে বেশি।’খরচের চাপে সংসারের হিসাব মেলানো কঠিনতারপরও প্রতিদিন রিকশা নিয়ে বের হতে হয় তাঁকে। কারণ, রিকশা না চালালে ঘরে খাবার আসে না। সেদিন শাহজাহানের কথায় ফুটে উঠেছিল অসহায়ত্ব। বলেছিলেন, ‘টেকা না থাকলে খাব কী, দেড় শ টেকা মারছি, মহাজনের কী দেব, বাড়িতে কী নেব।’শুধু দৈনিক আয়ের টানাটানি নয়, তাঁর ওপর আছে ঋণের চাপও। দুই বছর আগে ছিনতাইকারীরা তাঁর রিকশা নিয়ে যায়। সেই রিকশার মূল্য পরিশোধ করতে ১৫ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। সুদসহ অল্প অল্প করে এখনো সেই টাকা শোধ করছেন তিনি।স্ত্রীর আয় বন্ধ, ভাড়া বাকিসংসারের অভাব কিছুটা কমাতে কাজ করতেন রেনু বেগম। সুনিবিড় হাউজিংয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের রান্না করে মাসে ৫ হাজার টাকা পেতেন। দুই মাস ধরে ভবনটির কাজ বন্ধ। তাই তাঁর আয়ও বন্ধ। এর মধ্যে দুই মাসের ঘরভাড়াও বাকি পড়েছে। এক কক্ষের যে ঘরটিতে তাঁরা থাকেন, সেটার মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা। দুই মাসে বকেয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এই টাকা কীভাবে দেবেন, জানেন না রেনু।চার দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাজ পাননি রাশিদা রেনু বলেন, ‘মালিক কইছে ভাড়া না দিলে তালা দেবু।’ একদিকে খাবারের অভাব। অন্যদিকে ঘর হারানোর ভয়। তিন নাতিকে নিয়ে এরপর কোথায় যাবেন, সেই চিন্তাও আছে তাঁর।তবু নিজের খাবারের কথা ভুলে নাতিদের খাওয়ানোর চেষ্টা করেন রেনু। বলেন, ‘চেষ্টা করি বাবা, নিজে না খাইয়াও ছোট বাচ্চাগো খাওয়াতে।’ তিন শিশুর পর্যাপ্ত জামাকাপড়ও নেই। পড়াশোনার ব্যবস্থাও করতে পারেননি তাঁরা। শাহজাহানের নিজের পরনের কাপড়ও ছেঁড়া।সাহায্য মিললেও অভাব কাটেনি২৬ আগস্ট শাহজাহানের পরিবারের খোঁজ পাওয়ার পর সেদিন ও পরে মোট দুই দফায় তাঁদের জন্য চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে কয়েক দিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু তাতে অভাব কাটেনি। ঘরভাড়া এখনো বাকি। ঋণও আছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ শাহজাহান। তাই রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না। বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর সামান্য আয়ও।‘কোনোমতে তিন বেলা খাওন জুটে’ গত রোববার বিকেলে আবার কথা হয় রেনু বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আজও তাঁদের পরিবার না খেয়ে আছে। অসুস্থ শাহজাহান রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না এক সপ্তাহ। উপার্জন না থাকায় আজও ঘরে খাবার নেই।খাবার জোগানোর চেষ্টায় আছেন শাহজাহানের স্ত্রী রেনু বেগম। দুপুরে আশপাশের মানুষদের কাছে খাবার চেয়েছিলেন, কিন্তু কাজ হয়নি। তাই দুপুরে পরিবারসহ ছিলেন না খেয়ে। তবে রাতে কী হবে, সেই চিন্তায়ও উদ্বিগ্ন তিনি। রেনু বেগম জানান, কেউ দিলে রান্না হবে। না দিলে আজও খালি পেটে থাকতে হবে।রাতের খাবারের কথা জানতে চাইলে রেনু বেগম বলেন, ‘জুটলে খাবু, না জুটলে না খাবু।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর বাংলাবাজার এলাকায় সাতটি ভাড়াঘরের দরজা, জানালা ও টিন কেটে গেছে সন্ত্রাসীরা। ১৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এই লুটতরাজ চালানো হয় হয় বলে অভিযোগ করেছেন ঘরগুলোর মালিক মোহাম্মদ বাবুল খান।রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।ভাড়াঘরের মালিক ভুক্তভোগী বাবুল খানের দাবি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে ১৩ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াঘরগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় সিসি ক্যামরা। অস্ত্রধারীদের বিষয়ে দুদিন আগে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।বাবুল খান বলেন, সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়—‘তুই ফ্যাসিস্ট, ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’। এ অবস্থায় পরিবার ও ছেলেসন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আরও পড়ুন চাঁদাবাজি দমনে বিএনপির কোনো নেতা বাধা হলে ছাড় নয়: আইনমন্ত্রী এদিকে ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি টিন, এলপি গ্যাসের বোতল ও লোহার অ্যাংগেলসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে ফৌজদারহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ।ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুবেল আফ্রাদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এসময় লোহা কাটার যন্ত্র, ঘরের কিছু টিন, অ্যাংগেল জব্দ করা হয়। যারা ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালিয়েছেন তারা পুলিশ দেখে পালিয়ে যান। ভাড়াঘরগুলো জনৈক বাবুল খান নামের এক ব্যক্তির বলে জানান তিনি। এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/এএসএম