জাতীয়

বৃদ্ধ শাহজাহানের ঘরে খাবার নেই, দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বৃদ্ধ শাহজাহানের ঘরে খাবার নেই, দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি
বৃদ্ধ শাহজাহানের ঘরে খাবার নেই, দুই মাসের ঘরভাড়া বাকি

রাজধানীর আদাবর থানার সামনের রিংরোড সড়ক। ২৬ আগস্ট বিকেল ৫টা। প্যাডেল রিকশা নিয়ে বসেছিলেন ৯০ বছর বয়সী শাহজাহান মিয়া। সারা দিন রিকশা চালিয়েছেন। তবে আয় হয়েছিল মাত্র ১৫০ টাকা। দুপুরের খাবারও খেতে পারেনি শাহজাহান।

কারণ, ১৫০ টাকা থেকে রিকশার মালিককে দিতে হবে ১০০ টাকা। হাতে থাকবে ৫০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে বাড়ির জন্য কিছু খাবার কিনতে হবে। কিন্তু কী কিনবেন, সেটিও ঠিক করতে পারছিলেন না শাহজাহান।

কথা বলতে বলতে নিজের সংসারের কথা জানান তিনি। বলেন, প্রায়ই এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। কখনো ঘরে খাবার থাকে না। তখন প্রতিবেশীদের কাছে খাবার চেয়ে নিতে হয়। সেদিনও তাঁর চিন্তা ছিল একই—রাতে পরিবারের সবাই কী খাবেন।

পরে আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়ে শাহজাহানের ঘরে গিয়ে দেখা যায়, এক কক্ষের আধাপাকা ঘর। একটি খাট। কয়েকটি পাতিল। কয়েকটি ব্যাগে কিছু কাপড়। সংসারের তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস বলতে এটুকুই। ঘরে তখন রান্না করার মতো চাল-ডাল, আলু-তরকারি কিছুই ছিল না।

তিন নাতির দায়িত্বও শাহজাহানের

শাহজাহানের সঙ্গে থাকেন তাঁর স্ত্রী রেনু বেগম। বয়স ৬৫ বছর। সঙ্গে থাকে তাঁদের মেয়ের তিন সন্তানও। শিশু তিনটির বয়স যথাক্রমে ১১, ৮ ও ৫ বছর। দুই বছর আগে অজানা অসুখে মারা গেছেন শাহজাহানের মেয়ে। গত বছর মারা যান সেই মেয়ের স্বামী। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

মেয়ের মৃত্যুর পর তিন শিশুর দায়িত্ব এসে পড়ে শাহজাহানের ওপর। শিশুদের দাদা-দাদি তাদের দায়িত্ব নিতে চান না। তাই বয়স ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও নাতিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাঁকে।

শাহজাহানের নিজের এক ছেলে আছেন। তিন বছর আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে আলাদা করে দিয়েছিলেন। ছেলেটিও অসুস্থ। তাই মা–বাবার তেমন খোঁজ নিতে পারেন না। কখনো কখনো উল্টো বাবার ঘরে এসে খাবার খান। ফলে সংসারে উপার্জনের প্রধান ভরসা ৯০ বছরের শাহজাহান। বয়সের কারণে আগের মতো রিকশা চালাতে পারেন না। প্যাডেলে জোর পান না। ধীরে চালান। যাত্রীরাও তাঁর রিকশায় কম ওঠেন। শাহজাহান বলেন, ‘এই রিকশা চলে কম। মানু উঠতে চায় না। মিশিনেরডা চলে বেশি।’

তারপরও প্রতিদিন রিকশা নিয়ে বের হতে হয় তাঁকে। কারণ, রিকশা না চালালে ঘরে খাবার আসে না। সেদিন শাহজাহানের কথায় ফুটে উঠেছিল অসহায়ত্ব। বলেছিলেন, ‘টেকা না থাকলে খাব কী, দেড় শ টেকা মারছি, মহাজনের কী দেব, বাড়িতে কী নেব।’

শুধু দৈনিক আয়ের টানাটানি নয়, তাঁর ওপর আছে ঋণের চাপও। দুই বছর আগে ছিনতাইকারীরা তাঁর রিকশা নিয়ে যায়। সেই রিকশার মূল্য পরিশোধ করতে ১৫ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। সুদসহ অল্প অল্প করে এখনো সেই টাকা শোধ করছেন তিনি।

স্ত্রীর আয় বন্ধ, ভাড়া বাকি

সংসারের অভাব কিছুটা কমাতে কাজ করতেন রেনু বেগম। সুনিবিড় হাউজিংয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকদের রান্না করে মাসে ৫ হাজার টাকা পেতেন। দুই মাস ধরে ভবনটির কাজ বন্ধ। তাই তাঁর আয়ও বন্ধ। এর মধ্যে দুই মাসের ঘরভাড়াও বাকি পড়েছে। এক কক্ষের যে ঘরটিতে তাঁরা থাকেন, সেটার মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা। দুই মাসে বকেয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এই টাকা কীভাবে দেবেন, জানেন না রেনু।

রেনু বলেন, ‘মালিক কইছে ভাড়া না দিলে তালা দেবু।’ একদিকে খাবারের অভাব। অন্যদিকে ঘর হারানোর ভয়। তিন নাতিকে নিয়ে এরপর কোথায় যাবেন, সেই চিন্তাও আছে তাঁর।

তবু নিজের খাবারের কথা ভুলে নাতিদের খাওয়ানোর চেষ্টা করেন রেনু। বলেন, ‘চেষ্টা করি বাবা, নিজে না খাইয়াও ছোট বাচ্চাগো খাওয়াতে।’ তিন শিশুর পর্যাপ্ত জামাকাপড়ও নেই। পড়াশোনার ব্যবস্থাও করতে পারেননি তাঁরা। শাহজাহানের নিজের পরনের কাপড়ও ছেঁড়া।

সাহায্য মিললেও অভাব কাটেনি

২৬ আগস্ট শাহজাহানের পরিবারের খোঁজ পাওয়ার পর সেদিন ও পরে মোট দুই দফায় তাঁদের জন্য চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে কয়েক দিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু তাতে অভাব কাটেনি। ঘরভাড়া এখনো বাকি। ঋণও আছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ শাহজাহান। তাই রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না। বন্ধ হয়ে গেছে তাঁর সামান্য আয়ও।

গত রোববার বিকেলে আবার কথা হয় রেনু বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আজও তাঁদের পরিবার না খেয়ে আছে। অসুস্থ শাহজাহান রিকশা নিয়ে বের হতে পারছেন না এক সপ্তাহ। উপার্জন না থাকায় আজও ঘরে খাবার নেই।

খাবার জোগানোর চেষ্টায় আছেন শাহজাহানের স্ত্রী রেনু বেগম। দুপুরে আশপাশের মানুষদের কাছে খাবার চেয়েছিলেন, কিন্তু কাজ হয়নি। তাই দুপুরে পরিবারসহ ছিলেন না খেয়ে। তবে রাতে কী হবে, সেই চিন্তায়ও উদ্বিগ্ন তিনি। রেনু বেগম জানান, কেউ দিলে রান্না হবে। না দিলে আজও খালি পেটে থাকতে হবে।

রাতের খাবারের কথা জানতে চাইলে রেনু বেগম বলেন, ‘জুটলে খাবু, না জুটলে না খাবু।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বিবেকের চোখে গণতন্ত্র ও নৈতিকতা
বিবেকের চোখে গণতন্ত্র ও নৈতিকতা

আজ আর্ন্তজাতিক গণতন্ত্র দিবস। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য হলো'Raising Hands and Voices-Fostering Agency and Ownership through Deliberative Democracy' (হাত ও কণ্ঠস্বর উত্তোলন পরামর্শমূলক বা আলাপ- আলোচনামূলক গণতন্ত্রের মাধ্যমে নাগরিক প্রতিনিধিত্ব ও মালিকানা বৃদ্ধি করা)। আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রের চর্চায় মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। আর গণতন্ত্রকে একটি রাষ্ট্রশাসন পদ্ধতি হিসেবে আধুনিক ও  সমকালীন যুগে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে প্রতিষ্ঠা করা। তবে ব্যাপক অর্থে এটি একটি জীবনাদর্শ। এই জীবনাদর্শ একটি বিশেষ ধরনের নৈতিক জীবনের দিকনির্দেশনা দেয় যে নৈতিক আদর্শকে আমরা গণতান্ত্রিক নৈতিকতা বলে চিহ্নিত করতে পারি। সমকালীন বিশ্বে যে উদার নৈতিক গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে বা চর্চা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার প্রধানতম তাত্ত্বিক ভিত্তি হচ্ছে উপযোগবাদ। এটি ইংরেজ দার্শনিক বোথাম ও জে এস মিল প্রমুখের প্রণীত একটি বিশেষ নীতিদার্শনিক মতবাদ। মানুষের সর্ব প্রকার ঐচ্ছিক আচরণের আদর্শ বা নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে এই মতবাদ প্রদান করা হয়েছে। আরও পড়ুন আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস: নাগরিক অধিকার ও আগামীর উত্তরণ উপযোগবাদের মূল স্লোগান হচ্ছে-এই মতবাদ অনুযায়ী যে কাজ বা আচরণ সর্বাধিক লোকের সর্বাধিক পরিমাণে সুখ, আনন্দ বা শান্তি নিশ্চিত করতে পারে সেই কাজই ভালো বা নৈতিক। এই নৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যে সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে তাকেই উদার নৈতিক গণতান্ত্রিক সমাজ বা রাষ্ট্র বলা চলে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগণ ও শাসককে এমন নীতি বা আদর্শ অনুসরণের জন্য আন্তরিক হওয়া উচিত, যে নীতি বা আদর্শ সর্বসাধারণের বা অন্তত অধিক সংখ্যক নাগরিকের কল্যাণ বয়ে আনবে। তবে সর্বসাধারণের কল্যাণ কোন বিশেষ কাজ বা কর্মপদ্ধতির মধ্যে নিহিত সে বিষয়ে নানা রকম মত থাকতে পারে। আর এই নানা রকম মতের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকে, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি থাকে। এসব আদর্শ ও কর্মসূচির লক্ষ্য হওয়া উচিত সার্বজনীন কল্যাণ। প্রত্যেক দল যদি জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে চায় তাহলে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা। কোন দল কত ভালো কাজের ফর্মুলা বের করতে পারবে তার ওপর ভিত্তি করেই দলের মূল্যায়ন হবে। জনগণ সেই দলের পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করবে। শ্রেফ এই হচ্ছে গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক কথা। আমাদের দেশ একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এখানে পর্যাপ্তভাবে বিকাশ লাভ করেনি। গণতন্ত্র এখানে সর্বজনকল্যাণতন্ত্র না হয়ে দলতন্ত্র, ব্যক্তিগত ফায়দাতন্ত্র এমনকি বিশৃঙ্খলাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই জনকল্যাণের ফর্মুলা প্রবর্তনের চাইতে ক্ষমতা লাভের ফর্মুলা প্রণয়নের জন্যই সচেষ্ট থাকে। মাঝেমধ্যে সেই ফর্মুলা অনেকটা নির্মম হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা এখানে শক্তির, আদর্শের নয়। স্বার্থটা এখানে ব্যক্তি বা দলের; দেশ, জাতি, জনগণের স্বার্থ এখানে মুখ্য নয়। তাই বাস্তবিকভাবে এটি কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নয়। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! গণতন্ত্রের নামে আমাদের দেশে এসব সংকীর্ণ স্বার্থতন্ত্র প্রচলিত আছে বিধায় এ দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে না। গণতন্ত্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধা। কোনো রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচিকে যত বেশি সংখ্যক মানুষের আস্থায় নিতে পারবে সেই দল ততই সফল হবে। কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তির সুযোগ এখানে নেই। যে দলের কর্মসূচি বা আদর্শ অধিক সংখ্যক লোক সমর্থন দেবে সেই দলই ক্ষমতায় যাবে, রাষ্ট্র শাসন করবে এবং সর্বাধিক লোকের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে। এই কাজে পরাজিত দল বা বিরোধী দলকেও তারা আস্থায় নিতে চেষ্টা করবে। বিরোধী দলও সরকারের জনকল্যাণকর কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেবে-এটাই হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবা চালু

লোডশেডিংয়ে বদলে যায় জীবন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচিত যেসব সিনেমা

লোডশেডিংয়ে বদলে যায় জীবন, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচিত যেসব সিনেমা

বাসের ধাক্কায় মাদরাসার শিক্ষিকা নিহত, মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা

বাসের ধাক্কায় মাদরাসার শিক্ষিকা নিহত, মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা

তাল দিয়ে বানিয়ে নিন ভাপা পুলি
তাল দিয়ে বানিয়ে নিন ভাপা পুলি

তাল পাকানোর মৌসুম চলছে। এই সময় পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। তাল দিয়ে পায়েস, বড়া, পিঠাসহ তৈরি করা যায় নানা ধরনের সুস্বাদু পদ। তবে চেনা এসব আয়োজনের বাইরে এবার বানিয়ে দেখতে পারেন তালের ভাপা পুলি পিঠা। কম উপকরণে, খুব সহজেই তৈরি করা যায় মজার এই পিঠা। পাকা তালের মিষ্টি স্বাদ আর পুলির নরম আবরণ-দুইয়ে মিলে তৈরি হয় দারুণ এক ঘরোয়া স্বাদ। নাশতা কিংবা বিকেলের আড্ডায় যেমন মানিয়ে যাবে, তেমনি পরিবারের ছোট-বড় সবার কাছেই হতে পারে পছন্দের খাবার। তালের মৌসুমে ঘরেই সহজে বানিয়ে নিতে পারেন এই সুস্বাদু ভাপা পুলি পিঠা। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ভাপা পুলি পিঠা তৈরি করবেন- উপকরণ পাকা তালের রস ১ কাপ চালের গুঁড়া ২ কাপ নারিকেল কোরা ১.৫ কাপ খেজুরের গুড় বা চিনি ১ কাপ (স্বাদমতো) লবণ সামান্য পানি পরিমাণমতো  প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে কড়াইতে সামান্য ঘি গরম করে নিন। এতে কুড়ানো নারিকেল ও গুড় বা চিনি দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। নারিকেল আঠালো হয়ে ভাজা ভাজা ভাব এলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে রাখুন। অন্যদিকে একটি পাত্রে পানি ও সামান্য লবণ দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে এতে তালের রস মিশিয়ে দিন। এবার অল্প অল্প করে চালের গুঁড়ো দিয়ে নেড়ে শক্ত খামির তৈরি করুন। খামির কিছুটা ঠান্ডা হলে ভালোভাবে মথে নিন, যাতে পিঠার আবরণ নরম ও মসৃণ হয়। এবার খামির থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। প্রতিটি লেচি রুটির মতো বেলে নিন অথবা হাতের তালুতে চেপে একটু পাতলা করে নিন। মাঝখানে পরিমাণমতো নারিকেলের পুর দিয়ে চারপাশ থেকে মুখ বন্ধ করে পুলির আকার দিন। ইচ্ছা করলে হাতের সাহায্যে পিঠার গায়ে নকশা করে নিতে পারেন। চাইলে পিঠার ছাঁচ ব্যবহার করেও সুন্দর আকৃতি দেওয়া যায়। সব পিঠা তৈরি হয়ে গেলে কুকার, স্টিমার কিংবা ছিদ্রযুক্ত চালনিতে সাজিয়ে ভাপে বসিয়ে দিন। ঢেকে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভাপ দিলেই তৈরি হয়ে যাবে নরম, তুলতুলে ও সুস্বাদু তালের ভাপা পুলি পিঠা। ভাপানো হয়ে গেলে কিছুক্ষণ রেখে পিঠাগুলো পরিবেশন করুন। গরম গরম পরিবেশন করলে তালের মিষ্টি স্বাদ আর নারিকেলের পুরের ঘ্রাণে জমে উঠবে নাশতার আয়োজন। এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেন

শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বেড়েছে লেনদেন

হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের প্রস্তাব

হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের প্রস্তাব

কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড: সাত আসামির কার কী অপরাধ

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হচ্ছে
ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হচ্ছে

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ (অব.), তার স্ত্রী নিগার সুলতানা ও শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, শেখ মামুন খালেদের নামে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৩ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮২১ টাকা। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। এতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা। এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব। অনুমোদিত অপর একটি মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিগার সুলতানার নামে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। তার গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ টাকা। ফলে সম্পদ অর্জনের জন্য তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৪২ টাকা। এর তুলনায় তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। আরও পড়ুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ২ মামলা হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধানে নিগার সুলতানার আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে দেখানো ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩০ টাকা আয় গ্রহণযোগ্য হয়নি। দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই আয়কে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩-২৪ করবর্ষে দেখানো ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৩৮২ টাকার আয়েরও বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শেখ আমিনুর রহমানের নামে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১২৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার গ্রহণযোগ্য আয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৬১৬ টাকা। ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৩ টাকা। এর বিপরীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকা। আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে ৬ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকা আয় দেখানো হয়েছিল। দুদকের অনুসন্ধানে ওই আয়ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে দেখানো ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। দুদক সচিব বলেন, শেখ মামুন খালেদ, নিগার সুলতানা ও শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ মার্চ রাতে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেফতার হন শেখ মামুন খালেদ। পরে তাকে গুম-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এসএম/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পদ্মার পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি পানিবন্দি মানুষের

পদ্মার পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি পানিবন্দি মানুষের

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্টের অভিযোগ, ডিএজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইলেন রুমিন

ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ পোস্টের অভিযোগ, ডিএজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইলেন রুমিন

0 Comments