এ ম্যাচটা জোসে মরিনিওর জন্য সত্যিই বিশেষ কিছু। পর্তুগিজ কোচ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিজেই বলেছেন সে কথা, ‘এটা আমার জন্য সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়। ইন্টার যদি আমাকে বন্ধু মনে করেও থাকে, তবে তা হবে ম্যাচের আগে ও পরে। ম্যাচের সময় তারা আমাকে নিয়ে এমনটা ভাববে বলে মনে হয় না।’
অবশ্যই না। ম্যাচটা চ্যাম্পিয়নস লিগে। সেটাও আবার দুই দলের জন্য নতুন মৌসুম শুরুর ম্যাচ। এমন ম্যাচে শত্রুশিবিরে অতীতের বন্ধু যদি থেকেও থাকে, সেটা ভুলে যেতে হয়—অন্তত ৯০ মিনিটের জন্য। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজ রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলান লড়াইয়ে মরিনিওকে ঠিক এভাবেই ভুলে থাকবে ইতালিয়ান ক্লাবটি।
কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। ইতালিয়ান ফুটবলের খ্যাতিমান সাংবাদিক তানক্রেদি পালমেরি যেমন পারেননি। মাদ্রিদে গতকাল সংবাদ সম্মেলন শেষে মরিনিওকে ব্যতিক্রমী এক উপহার দিয়েছেন পালমেরি। সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষ থাকার সীমানা পেরিয়ে, ১৬ বছর আগের আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে মরিনিওকে ইন্টার মিলানের রঙে রাঙানো একটি ওয়াটার স্প্রিংকলার (পানি ছিটানোর যন্ত্র) উপহার দেন তিনি।
কেন এ উপহার, তার পটভূমি জানতে পিছিয়ে যেতে হবে ২০১০ সালে। বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগের সেই ম্যাচে। সেবার বার্সা ১–০ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে মরিনিওর ইন্টারের কাছে ৩–২ গোলে হেরে কাতালান ক্লাবটি বিদায় নিয়েছিল। ম্যাচ শেষে তর্জনী তুলে ক্যাম্প ন্যুর মাঠে দৌড়ে জয় উদ্যাপন করেন মরিনিও। তখন ক্যাম্প ন্যুতে পানি ছিটানোর যন্ত্র ছেড়ে দেওয়া হয়। মরিনিও তার মধ্য ভিজেই সেই পাগলাটে দৌড়ে জয় উদ্যাপন করেন।
Jose Mourinho was gifted a sprinkler by @tancredipalmeri after his press conference, evoking memories of the Special One's time with Inter and that famous night in the Camp Nou pic.twitter.com/fegdc90QVL
— Hayters TV (@HaytersTV) September 7, 2026
ইতালিয়ান ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে সেই স্মৃতি অমূল্য। কারণ, মরিনিওর হাত ধরে সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল ইন্টার। শুধু তা–ই নয়, ইতালিয়ান ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে একমাত্র ‘ট্রেবল’জয়ী কোচ হিসেবে মরিনিওর নামটা স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে যায়।
সেই মরিনিও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর ইন্টার ছেড়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রিয়ালের। ১৬ বছর পর মরিনিও যখন রিয়ালে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান শুরু করছেন, তখন তাঁর পথে প্রথম বাধাও সেই ইন্টার। তানক্রেদি এমন এক মুহূর্তকেই মরিনিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর উপলক্ষ হিসেবে বেছে নেন।
রেডিও মার্কার অনুষ্ঠান ‘ওত্রা রন্দা’য় মরিনিওকে উপহারটি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন পালমেরি। তাঁর ভাষায়, ‘পরিকল্পনা করেই কাজটা করা। আমার ঘরে কোনো ওয়াটার স্প্রিংকলার ছিল না, তাই আগে সেটা জোগাড় করতে হয়েছে। এরপর ইন্টার মিলানের জার্সির আদলে সেখানে কালো ও নীল রঙের দুটি স্ট্রাইপ আঁকতে হয়েছে।’

পালমেরি জানেন, সংবাদ সম্মেলনের বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে মরিনিওকে উপহার দেওয়ার কাজটি তিনি করেছেন। সে কথা তিনি স্বীকারও করলেন, ‘আমি জানি এমনটা সচরাচর করা হয় না এবং আমি সীমা কিছুটা লঙ্ঘন করেছি।’
তবে এ নিয়ে পালমেরির কোনো অনুশোচনা নেই। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইন্টারকে মরিনিওর মুখোমুখি দেখতে তিনি ১৬ বছর অপেক্ষা করেছেন। এবার সেই সুযোগটা পেয়েই পালমেরি বলেন, ‘এটি ছিল একধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শুভকামনা।’
তবে পালমেরি শুধু শ্রদ্ধা জানাতে মরিনিওকে এই উপহার দেননি। শুনুন স্পোর্তইতালিয়ার এই সাংবাদিকের মুখেই, ‘সেই রাতে মরিনিও যা করেছিলেন, তা আমার এক আত্মীয়ের মুখে একচিলতে হাসি ফুটিয়েছিল। একজন বাবা তাঁর জীবনে চরমতম কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।’
পালমেরি জানান, সেই মানুষটি তাঁর অত্যন্ত কাছের। জীবনের চরম এক দুঃসময়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ইন্টারের সেই ঐতিহাসিক জয় অন্তত এক মুহূর্তের জন্য হলেও সেই মানুষের মুখে হারিয়ে যাওয়া হাসি ফিরিয়ে এনেছিল। পালমেরি বলেন, ‘আমি সব সময়ই ভাবতাম, সুযোগ পেলেই জোসেকে এভাবে শ্রদ্ধা জানাব।’
তবে মরিনিওর কাছে এই উপহারের পেছনের মূল রহস্য খুলে বলার সুযোগ পাননি বলে স্বীকার করেন পালমেরি, ‘তাঁকে গুছিয়ে বিষয়টি বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি।’

মরিনিওর মতো একজন ব্যক্তিত্বের জন্য উপযুক্ত উপহার খুঁজে পাওয়াও ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কার সেই অনুষ্ঠানে পালমেরি বলেন, ‘যার সবই আছে, যিনি চাইলেই যেকোনো কিছু কিনে নিতে পারেন, তেমন একজন মানুষকে আপনি কী উপহার দেবেন?’
সেই প্রশ্নের উত্তর হয়ে আসে ওই স্প্রিংকলার। বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও ইতালিয়ান ফুটবল এবং বিশেষ করে পালমেরির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এর অর্থ ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর ভাষায়, ‘হঠাৎ করেই স্প্রিংকলারের কথা মাথায় আসে, তারপর তো ঘটনাটি ঘটেই গেল।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রেম বা সম্পর্কের প্রতি অনাগ্রহ নয়, বরং সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা—এটাই জেন জির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। আর এজন্যই দিন দিন বাড়ছে সিঙ্গেল জেন-জির সংখ্যা।'সম্পর্কে আছ?' এই প্রশ্নটা শুনে জেন জিদের অনেকেই হয়তো সরাসরি হ্যাঁ বা না বলবেন না। কেউ বলবেন, 'দেখা যাক', কেউ বলবেন, 'এখন এসবের সময় নেই', আবার কেউ হয়তো হেসে এড়িয়ে যাবেন। প্রেম বা সম্পর্কের প্রতি অনাগ্রহ নয়, বরং সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা; এটাই জেন জির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা; এটাই জেন জির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছেডেটিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোস্টিং, সিচুয়েশনশিপ, রেড ফ্ল্যাগ। সম্পর্কের অভিধানে যুক্ত হয়েছে নতুন অনেক শব্দ। একই সঙ্গে বেড়েছে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা, আত্মসচেতনতা ও মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব। ফলে নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে জেন জির অনেকেই ভাবছেন, এই সম্পর্ক কি সত্যিই আমার জন্য ভালো হবে?ভালোবাসা নয়, ভুল মানুষটাকে ভয়একসময় প্রেমে পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল হয়তো পরিবারের আপত্তি কিংবা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট। এখন সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ভয়।তরুণেরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতনপ্রতারণা, গ্যাসলাইটিং, ম্যানিপুলেশন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া—এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়। ফলে তরুণেরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। একবার খারাপ সম্পর্কে জড়িয়ে কষ্ট পাওয়া কেউ নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে তাই ভাবতেই পারেন, ‘আবার যদি একই ঘটনা ঘটে?’‘রেড ফ্ল্যাগ’ খুঁজতে খুঁজতেই সম্পর্কের শুরুজেন জির ডেটিং সংস্কৃতিতে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ এখন পরিচিত শব্দ। প্রথম কয়েকটি কথোপকথনেই অনেকে খেয়াল করেন—সামনের মানুষটি কীভাবে কথা বলছেন, অন্যকে কীভাবে সম্মান করছেন, তাঁর সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা কেমন।জেন জির ডেটিং সংস্কৃতিতে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ এখন পরিচিত শব্দএই সচেতনতা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু কখনো কখনো এর বিপরীত প্রভাবও দেখা যায়। একটি ছোট ভুল, একটি অস্বস্তিকর মন্তব্য বা ভিন্ন মতকেও কেউ কেউ সম্ভাব্য বড় সমস্যার সংকেত হিসেবে দেখতে পারেন। ফলে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগেই দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।‘নিজেকে হারাতে চাই না’জেন জির কাছে সম্পর্ক মানেই নিজের জীবনকে পুরোপুরি সঙ্গীর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া নয়। ক্যারিয়ার, বন্ধু, পরিবার, ব্যক্তিগত সময় কিংবা নিজের পছন্দ—এসবের জন্য আলাদা জায়গা রাখতে চান অনেকেই।এমন সম্পর্কই তাদের কাছে আকর্ষণীয়, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি থাকবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাআগের প্রজন্মের সম্পর্কের ধারণায় যেখানে ‘দুজন মানেই এক জীবন’ ধরনের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে নতুন প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘দুজন মানুষ, কিন্তু দুজনেরই নিজস্ব জীবন’। তাই এমন সম্পর্কই তাদের কাছে আকর্ষণীয়, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি থাকবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।ক্যারিয়ার আগে, প্রেম পরে?প্রেমের সঙ্গে বাস্তব জীবনও জড়িয়ে আছে। পড়াশোনা শেষ করা, ক্যারিয়ার তৈরি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া—সব মিলিয়ে অনেক তরুণের জীবনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।কেউ কেউ মনে করেন, ‘আগে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিই, তারপর সম্পর্কে যাওয়া যাবেবিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা বিয়ের কথা মাথায় এলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। তাই কেউ কেউ মনে করেন, ‘আগে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিই, তারপর সম্পর্কে যাওয়া যাবে।’ এটি প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং সম্পর্কের দায়িত্ব নেওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘পারফেক্ট কাপল’ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে চোখ রাখলেই দেখা যায় সুখী দম্পতি, সারপ্রাইজ ডেট, দামি উপহার, ভ্রমণ আর রোমান্টিক মুহূর্তের ছবি। বাস্তব সম্পর্কের ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, একঘেয়েমি কিংবা অনিশ্চয়তা সেখানে সাধারণত দেখা যায় না।সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হতে পারে অবাস্তব প্রত্যাশাফলে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হতে পারে অবাস্তব প্রত্যাশা। বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক ওঠানামা তখন অনেকের কাছেই মনে হতে পারে, ‘সম্পর্কটা বুঝি ঠিক নেই। অন্যের সাজানো সুখের সঙ্গে নিজের বাস্তব সম্পর্কের তুলনাও তৈরি করতে পারে অনিশ্চয়তা।গোস্টিংয়ের ভয়আজ কাউকে পছন্দ করা যেমন সহজ, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়াও অনেক সময় তেমন সহজ। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মেসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া, ফোন না ধরা বা হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াকে বলা হয় ‘গোস্টিং’। এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে আরও সতর্ক করে। কারণ সম্পর্কটি কোথায় যাচ্ছে, আদৌ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, এসব প্রশ্ন শুরুতেই মাথায় আসে।সম্পর্কটির কোনো স্পষ্ট পরিচয় নেই। এই অনিশ্চয়তা অনেককে মানসিকভাবে ক্লান্ত করেসিচুয়েশনশিপ: সম্পর্ক আছে, নাম নেইজেন জির সম্পর্কের আলোচনায় ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটিও বেশ পরিচিত। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আছে, নিয়মিত যোগাযোগ আছে, আবেগও আছে। কিন্তু সম্পর্কটির কোনো স্পষ্ট পরিচয় নেই। এই অনিশ্চয়তা অনেককে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে। ফলে এমন অভিজ্ঞতার পর কেউ নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে আরও স্পষ্টতা চান। ‘আমরা আসলে কী?’এই প্রশ্নটির উত্তর তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।মানসিক শান্তির মূল্য বেশিজেন জির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক সুস্থতা নিয়ে তুলনামূলক খোলামেলা আলোচনা। নিজের মানসিক অবস্থা, সীমারেখা, প্রয়োজন ও আবেগ নিয়ে কথা বলা এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক।মানসিক শান্তির মূল্য বেশি জেন জিদের কাছে তাই অনেকেই নিজেকে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি সত্যিই এই মানুষটিকে চাই, নাকি শুধু একাকিত্ব থেকে বের হতে চাই?’ এই প্রশ্নটি সম্পর্কের প্রতি ভয় নয়; বরং নিজের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা।তাহলে কি জেন জি প্রেমবিমুখ?একেবারেই নয়। বরং বলা যায়, তারা প্রেমের ব্যাপারে বেছে নিতে চাইছে বেশি। তারা এমন সম্পর্ক চায় যেখানে থাকবে ভালোবাসা, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে সম্মান; ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরও; প্রতিশ্রুতি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নয়; একসঙ্গে থাকা, কিন্তু নিজের পরিচয় হারিয়ে নয়।জেন জি ভালোবাসাকে ভয় পায় না, তারা ভুল ভালোবাসার মূল্য দিতে ভয় পায়তাই নতুন সম্পর্কে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ধীরগতি অনেক সময় ‘কমিটমেন্টে ভয়’ নয়। বরং আগের অভিজ্ঞতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতনতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার ফল। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হয়তো এক বাক্যেই বলা যায়, জেন জি ভালোবাসাকে ভয় পায় না, তারা ভুল ভালোবাসার মূল্য দিতে ভয় পায়। আর সেই কারণেই হয়তো তারা দ্রুত প্রেমে পড়ার চেয়ে এমন একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা করতে বেশি আগ্রহী, যার সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু ‘একসঙ্গে থাকা’ নয়, বরং নিরাপদে, স্বচ্ছন্দে এবং নিজের মতো করে একসঙ্গে থাকা।সূত্র: থট ক্যাটালগ ছবি: পেকজেলস ও এআই
পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন বনে আকস্মিক দেখা মিললেও প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের একটি সংরক্ষিত বনে গবেষকদের ক্যামেরা ট্র্যাপে (বনের ভেতর স্থাপিত ক্যামেরা) দেখা মিলেছে মেঘলা চিতার (ক্লাউডেড লেপার্ড)। এ মাসের শুরুতে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশনে’ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন মেঘলা চিতাকে মহাবিপন্ন (ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জারড) হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। এর মানে হলো মেঘলা চিতা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে মহাবিপন্ন হলেও বৈশ্বিকভাবে আইইউসিএনের তালিকায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে।কক্সবাজার ছিল এক সময়ের সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ বন ছিল বন্য প্রাণীর আদর্শ আবাসস্থল। গত এক দশকে বনাঞ্চলজুড়ে রোহিঙ্গাদের বসতি, রেললাইন নির্মাণ ও হাজার হাজার একর বনভূমির জবরদখলে প্রতিনিয়ত কমছে বনের জীববৈচিত্র্য। এর মধ্যে ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতা পাওয়ার খবর নতুন করে বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।শুধু মেঘলা চিতাই নয়, ওই গবেষণায় উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর, বনবিড়াল, চিতা বিড়ালসহ আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর—মোট ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারে একটি সংরক্ষিত বনে এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে।গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনয়েন।বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। এখানে ১৫টি ক্যামেরায় ৩২ স্থানকে গবেষণায় আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে। এর বাইরে পায়ের ছাপ ও মল থেকে মেঘলা চিতার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বনের ভেতর যেখানে জলাশয় ও পানির প্রবাহ আছে সেখানে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশি।২০২৩ সালে রাঙামাটি জেলায় পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মেঘলা চিতা কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে।বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনাবন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘলা চিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে এখনো এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। উদ্যানের ৭ হাজার হেক্টরের মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলকে মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ইনানী জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৪৪ শতাংশ। মূলত গাছের সঙ্গে থাকা ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে এদের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। গবেষণায় এ ধরনের গাছ ও ঝোপঝাড়সমৃদ্ধ বন পাওয়া গেছে ২ হাজার ৮৮৭ হেক্টর।মেঘলা চিতা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনভূমিতে বসবাসকারী একটি মাঝারি আকারের বন্য প্রাণী। এর শরীরের বড় বড় মেঘের মতো ছোপের কারণে এর নাম হয়েছে মেঘলা চিতা। এটি দিনের অধিকাংশ সময় গাছের ওপর কাটায়। এর শিকারের তালিকায় আছে বানর, পাখি, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। তাদের গোড়ালির সন্ধিগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে। ফলে তারা গাছের খাড়া কাণ্ড বেয়ে মাথা নিচের দিকে রেখে দৌড়ে নামতে পারে।জানতে চাইলে বন্য প্রাণী গবেষক রেজা খান প্রথম আলোকে বলেন, মেঘলা চিতা খুবই বিরল একটি বন্য প্রাণী। ইনানীর বনে এটির উপস্থিতি বন্য প্রাণী সংরক্ষণে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের উচিত মেঘলা চিতার বসবাসের এলাকাকে চিহ্নিত করে বিশেষভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া। এখানে কাঠ আহরণ বন্ধ ও বসতি থাকলে সরিয়ে নেওয়া।এক সময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন অবিভক্ত ছিল। ব্রিটিশ আসার পর এসব বন খণ্ডবিখণ্ড হয়েছে জানিয়ে রেজা খান বলেন, এ চিতা গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে শিকার ধরে। মাটিতে নামে খুবই কম। ইনানীর বনে এ চিতাই এখন টপ-প্রিডেটর (শীর্ষ শিকারি)। তাই এটির আবাসস্থলকে সুরক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি।আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীমেঘলা চিতার বাইরে গবেষণায় উঠে এসেছে আরও ২১টি বন্য প্রাণীর তথ্য। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান হাতি, মুখপোড়া হনুমান, উল্টোলেজি বানর, শজারু, বানর (রেসাস মেকাক), শিয়াল, গন্ধগোকুল, ছোট খাটাশ, বড় খাটাশ, বনবিড়াল, চিতা বিড়াল, শূকর, কাঁকড়াভুক বেজি, গোরখোদক, ইরাবতী কাঠবিড়ালি, গেছো চুছো, মায়া হরিণ, দাঁতাল ফেরেট বেজার, ছোট রক্তপেকো বাদুড়, বাদামি কাঠবিড়ালি, লজ্জাবতী বানর, লাল উড়ন্ত কাঠবিড়ালি।উদ্যানের ঝুঁকি কমানোর সুপারিশগবেষণায় বন্য প্রাণী সমৃদ্ধ ইনানী জাতীয় উদ্যানের চারপাশে বেশ কয়েকটি হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে মানুষের বসতি স্থাপন, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের সম্প্রসারণ, বনের গাছ কেটে জ্বালানি সংগ্রহ এবং কৃষিজমির অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষের আনাগোনা আছে বা কৃষিনির্ভর এলাকায় বন্য প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আশঙ্কাজনকভাবে কম পাওয়া গেছে।ইনানি বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গবেষকেরা দ্রুত কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে বনের ভেতরের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বনভূমি দখল বন্ধ করা, বন্য প্রাণীদের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোকে রক্ষা করা এবং পানির প্রবাহ সচল রাখা। এ ছাড়া উদ্যানের চারপাশে বাফার জোন তৈরি করে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে গবেষণায়। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ইনানী জাতীয় উদ্যানের উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদনকারী একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে জাল তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ রিল সুতা জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দয়াল বাজার ও (ফিরিঙ্গি বাজার) এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় কারখানা থেকে মনোফিলামেন্ট সুতাসহ আনুমানিক ৪২ হাজার কারেন্ট জাল তৈরির কাজে ব্যবহৃত রিল সুতা এবং প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য কয়েক লাখ টাকা। অভিযান পরিচালনা করেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। এসময় কারখানায় কর্মরত সেন্টু নামে এক কর্মচারীকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে জব্দ করা অবৈধ জাল ধলেশ্বরী নদীর তীরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ অভিযানে মুক্তারপুর নৌপুলিশ ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। মুক্তারপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আ. মাবুদসহ নৌপুলিশের সদস্য এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারীরাও অভিযানে অংশ নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, কারেন্ট জালসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব হবে। শুভ ঘোষ/এফএ