প্রেম বা সম্পর্কের প্রতি অনাগ্রহ নয়, বরং সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা—এটাই জেন জির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। আর এজন্যই দিন দিন বাড়ছে সিঙ্গেল জেন-জির সংখ্যা।
'সম্পর্কে আছ?' এই প্রশ্নটা শুনে জেন জিদের অনেকেই হয়তো সরাসরি হ্যাঁ বা না বলবেন না। কেউ বলবেন, 'দেখা যাক', কেউ বলবেন, 'এখন এসবের সময় নেই', আবার কেউ হয়তো হেসে এড়িয়ে যাবেন। প্রেম বা সম্পর্কের প্রতি অনাগ্রহ নয়, বরং সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত সচেতনতা; এটাই জেন জির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
ডেটিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোস্টিং, সিচুয়েশনশিপ, রেড ফ্ল্যাগ। সম্পর্কের অভিধানে যুক্ত হয়েছে নতুন অনেক শব্দ। একই সঙ্গে বেড়েছে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা, আত্মসচেতনতা ও মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব। ফলে নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে জেন জির অনেকেই ভাবছেন, এই সম্পর্ক কি সত্যিই আমার জন্য ভালো হবে?
ভালোবাসা নয়, ভুল মানুষটাকে ভয়
একসময় প্রেমে পড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল হয়তো পরিবারের আপত্তি কিংবা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট। এখন সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ভয়।

প্রতারণা, গ্যাসলাইটিং, ম্যানিপুলেশন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া—এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়। ফলে তরুণেরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। একবার খারাপ সম্পর্কে জড়িয়ে কষ্ট পাওয়া কেউ নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে তাই ভাবতেই পারেন, ‘আবার যদি একই ঘটনা ঘটে?’
‘রেড ফ্ল্যাগ’ খুঁজতে খুঁজতেই সম্পর্কের শুরু
জেন জির ডেটিং সংস্কৃতিতে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ এখন পরিচিত শব্দ। প্রথম কয়েকটি কথোপকথনেই অনেকে খেয়াল করেন—সামনের মানুষটি কীভাবে কথা বলছেন, অন্যকে কীভাবে সম্মান করছেন, তাঁর সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা কেমন।

এই সচেতনতা অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু কখনো কখনো এর বিপরীত প্রভাবও দেখা যায়। একটি ছোট ভুল, একটি অস্বস্তিকর মন্তব্য বা ভিন্ন মতকেও কেউ কেউ সম্ভাব্য বড় সমস্যার সংকেত হিসেবে দেখতে পারেন। ফলে সম্পর্ক গভীর হওয়ার আগেই দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
‘নিজেকে হারাতে চাই না’
জেন জির কাছে সম্পর্ক মানেই নিজের জীবনকে পুরোপুরি সঙ্গীর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া নয়। ক্যারিয়ার, বন্ধু, পরিবার, ব্যক্তিগত সময় কিংবা নিজের পছন্দ—এসবের জন্য আলাদা জায়গা রাখতে চান অনেকেই।

আগের প্রজন্মের সম্পর্কের ধারণায় যেখানে ‘দুজন মানেই এক জীবন’ ধরনের প্রত্যাশা ছিল, সেখানে নতুন প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘দুজন মানুষ, কিন্তু দুজনেরই নিজস্ব জীবন’। তাই এমন সম্পর্কই তাদের কাছে আকর্ষণীয়, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি থাকবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
ক্যারিয়ার আগে, প্রেম পরে?
প্রেমের সঙ্গে বাস্তব জীবনও জড়িয়ে আছে। পড়াশোনা শেষ করা, ক্যারিয়ার তৈরি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া—সব মিলিয়ে অনেক তরুণের জীবনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বা বিয়ের কথা মাথায় এলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। তাই কেউ কেউ মনে করেন, ‘আগে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিই, তারপর সম্পর্কে যাওয়া যাবে।’ এটি প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং সম্পর্কের দায়িত্ব নেওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘পারফেক্ট কাপল’
ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে চোখ রাখলেই দেখা যায় সুখী দম্পতি, সারপ্রাইজ ডেট, দামি উপহার, ভ্রমণ আর রোমান্টিক মুহূর্তের ছবি। বাস্তব সম্পর্কের ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, একঘেয়েমি কিংবা অনিশ্চয়তা সেখানে সাধারণত দেখা যায় না।

ফলে সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হতে পারে অবাস্তব প্রত্যাশা। বাস্তব জীবনের স্বাভাবিক ওঠানামা তখন অনেকের কাছেই মনে হতে পারে, ‘সম্পর্কটা বুঝি ঠিক নেই। অন্যের সাজানো সুখের সঙ্গে নিজের বাস্তব সম্পর্কের তুলনাও তৈরি করতে পারে অনিশ্চয়তা।
গোস্টিংয়ের ভয়
আজ কাউকে পছন্দ করা যেমন সহজ, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়াও অনেক সময় তেমন সহজ। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মেসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া, ফোন না ধরা বা হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াকে বলা হয় ‘গোস্টিং’। এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে আরও সতর্ক করে। কারণ সম্পর্কটি কোথায় যাচ্ছে, আদৌ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, এসব প্রশ্ন শুরুতেই মাথায় আসে।

সিচুয়েশনশিপ: সম্পর্ক আছে, নাম নেই
জেন জির সম্পর্কের আলোচনায় ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটিও বেশ পরিচিত। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আছে, নিয়মিত যোগাযোগ আছে, আবেগও আছে। কিন্তু সম্পর্কটির কোনো স্পষ্ট পরিচয় নেই। এই অনিশ্চয়তা অনেককে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে। ফলে এমন অভিজ্ঞতার পর কেউ নতুন সম্পর্কে যাওয়ার আগে আরও স্পষ্টতা চান। ‘আমরা আসলে কী?’এই প্রশ্নটির উত্তর তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মানসিক শান্তির মূল্য বেশি
জেন জির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো মানসিক সুস্থতা নিয়ে তুলনামূলক খোলামেলা আলোচনা। নিজের মানসিক অবস্থা, সীমারেখা, প্রয়োজন ও আবেগ নিয়ে কথা বলা এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক।

তাই অনেকেই নিজেকে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি সত্যিই এই মানুষটিকে চাই, নাকি শুধু একাকিত্ব থেকে বের হতে চাই?’ এই প্রশ্নটি সম্পর্কের প্রতি ভয় নয়; বরং নিজের প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা।
তাহলে কি জেন জি প্রেমবিমুখ?
একেবারেই নয়। বরং বলা যায়, তারা প্রেমের ব্যাপারে বেছে নিতে চাইছে বেশি। তারা এমন সম্পর্ক চায় যেখানে থাকবে ভালোবাসা, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে সম্মান; ঘনিষ্ঠতা, কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসরও; প্রতিশ্রুতি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নয়; একসঙ্গে থাকা, কিন্তু নিজের পরিচয় হারিয়ে নয়।

তাই নতুন সম্পর্কে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ধীরগতি অনেক সময় ‘কমিটমেন্টে ভয়’ নয়। বরং আগের অভিজ্ঞতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতনতা এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার ফল। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হয়তো এক বাক্যেই বলা যায়, জেন জি ভালোবাসাকে ভয় পায় না, তারা ভুল ভালোবাসার মূল্য দিতে ভয় পায়। আর সেই কারণেই হয়তো তারা দ্রুত প্রেমে পড়ার চেয়ে এমন একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা করতে বেশি আগ্রহী, যার সঙ্গে সম্পর্ক মানে শুধু ‘একসঙ্গে থাকা’ নয়, বরং নিরাপদে, স্বচ্ছন্দে এবং নিজের মতো করে একসঙ্গে থাকা।
সূত্র: থট ক্যাটালগ
ছবি: পেকজেলস ও এআই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় আটতলা এক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতাররা চার দেশের বাসিন্দা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল এ অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। তিনি বলেন, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। আরও পড়ুন এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি, ফল তৈরিতে ‘জালিয়াতি’ মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন- এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোটি টাকার লেনদেনের সন্দেহ অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটতলা ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে জব্দ করা ৭০টি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও পড়ুন এই দিনে ছিনতাই হয় চার যাত্রীবাহী বিমান, হামলায় কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ধারণা, ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও দাবি করেছে, কথিত ওই জুয়ার আসরে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই অর্থের পরিমাণ বা লেনদেনের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি পুলিশ। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, অনলাইন লেনদেন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এমআরএএইচ/কেএসআর
শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে ১৩ আগস্ট রাজধানীর একটি হাসপাতালে আমীরুল ইসলামকে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাত তিনটার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।আজ শুক্রবার তিন দফা জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর মা আনজিরা খাতুনের কবরে আমীরুল ইসলামকে সমাহিত করা হবে।জুমার নামাজের পর বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আমীরুল ইসলামের প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা তিনটায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।আসরের নামাজের পর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসংলগ্ন গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তাঁর তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।আমীরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হতো। সর্বশেষ এই জটিলতায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।আমীরুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া, কবিতা ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। এর অধিকাংশই শিশুসাহিত্যনির্ভর।শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান আমীরুল ইসলাম। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান নির্মাণ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।তাঁর মৃত্যুতে চ্যানেল আইয়ের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাঁধন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন সবসময় মনে রাখবেন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে।’ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা, যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত; ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।’ আরও পড়ুন হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘যখন আমার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী। আরও পড়ুন বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ফারুকীর, তুললেন অনেক প্রশ্ন পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন। সবশেষে আজমেরী হক বাঁধন লেখেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন। আরও পড়ুন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। ঘটনার পর তার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। এমআই/বিএ/জেআইএম