জাতীয়

চট্টগ্রামে আটতলা ভবন ঘিরে পুলিশের অভিযান, ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে আটতলা ভবন ঘিরে পুলিশের অভিযান, ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক
চট্টগ্রামে আটতলা ভবন ঘিরে পুলিশের অভিযান, ৬৩ বিদেশি নাগরিক আটক

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় আটতলা এক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতাররা চার দেশের বাসিন্দা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল এ অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

তিনি বলেন, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি, ফল তৈরিতে ‘জালিয়াতি’

মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন- এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

এছাড়া তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোটি টাকার লেনদেনের সন্দেহ

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটতলা ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে জব্দ করা ৭০টি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এই দিনে ছিনতাই হয় চার যাত্রীবাহী বিমান, হামলায় কেঁপে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র

পুলিশের ধারণা, ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও দাবি করেছে, কথিত ওই জুয়ার আসরে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত ওই অর্থের পরিমাণ বা লেনদেনের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি পুলিশ। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, অনলাইন লেনদেন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এমআরএএইচ/কেএসআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হ্রদের পানি বেড়েছে, চার দিন পর আবার খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধ
হ্রদের পানি বেড়েছে, চার দিন পর আবার খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। এই অবস্থায় আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট (স্পিলওয়ে)। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এসব জলকপাট খুলে দেওয়া হয়।​কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে বর্তমানে পানি রয়েছে ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল। পানি আরও বাড়লে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৬ দশমিক শূন্য ১ ফুটে পৌঁছালে বাঁধের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেয় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। পরে ৩ ফুট করে জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছিল। পানি কমার কারণে গত রোববার জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এর চার দিন পর আবারও পানি বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুট এমএসএলে নেমে এলে আবারও বাঁধের জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
কোরআনের ‘মুহকাম’ ও ‘মুতাশাবিহ’ আয়াত বলতে কী বোঝায়?

কোরআনের ‘মুহকাম’ ও ‘মুতাশাবিহ’ আয়াত বলতে কী বোঝায়?

দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্কে বানভাসিরা

দৌলতপুরে পদ্মায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্কে বানভাসিরা

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মোটরসাইকেলচালকের মাথা

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মোটরসাইকেলচালকের মাথা

৪ ক্যাচ ও ১ রান আউট মিস, তবু দলের ফিল্ডিংয়ে সন্তষ্ট জ্যোতি!
৪ ক্যাচ ও ১ রান আউট মিস, তবু দলের ফিল্ডিংয়ে সন্তষ্ট জ্যোতি!

ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ৪টি ক্যাচ ও একটি সহজ রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এর মাশুল দিতে হয় বড় ব্যবধানে হেরে! অথচ এরপরও দলের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে ম্যাচের ফল বদলাতে না পারার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতাকেই দেখছেন তিনি। ভারতের ইনিংসে স্মৃতি মান্ধানার উইকেট পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জ্যোতি মনে করেন, ভারতের ব্যাটারদের দেওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, ‘স্মৃতি মান্ধানা না শুধু, আমরা ওদের সব ব্যাটারকে নিয়েই কথা বলেছি। তারা সুযোগ দিয়েছিল, আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। দ্বিতীয় ওভারেই লং অনে ক্যাচ দিয়েছিল শেফালি ভার্মা। ওই ক্যাচ ধরলে পুরো দৃশ্য অন্যরকম হতে পারত। তবে যেভাবে মেয়েরা লড়াই করেছে, আমি খুশি।’ চারটি ক্যাচ হাতছাড়া হলেও ফিল্ডিং ইউনিটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি জ্যোতি। বরং দলের বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে স্বস্তিই খুঁজে নিয়েছেন তিনি। জ্যোতির ভাষায়, ‘আমরা ভালো ফিল্ডিংই করেছি। এই বিভাগেই বাকি দুই বিভাগের চেয়ে ভালো করেছি। বোলাররা ভালোই তো করছে। ভারত অনেক ভালো ব্যাটিংও করছিল। শেষদিকে অনেক রান তুলেছে।’ ভারতের ইনিংসের মাঝের সময়টায় বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পেরেছিল বলেও মনে করেন অধিনায়ক। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করায় ভারতকে ১৩০ থেকে ১৩৫ রানের মধ্যে আটকে রাখার সুযোগ ছিল বলে মত তার। জ্যোতি বলেন, ‘মাঝখানে আমরা ঠিকই নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। স্পিনাররা পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করেছে। ১৩০-১৩৫ রানেই ওদের আটকে রাখা যেত, তাহলে ব্যাটিং ইউনিটের সামনে ভিন্ন দৃশ্যপট থাকতো।’ বল হাতে বোলাররা নিজেদের কাজটা করলেও রান তাড়ায় ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। পুরো আসরেই ব্যাটিংয়ের এই ধারাবাহিকতার অভাব ভুগিয়েছে দলকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা ওদের ১৩০ রানের মধ্যে আটকে রাখার কথা ভেবেছিলাম। গত কয়েক ম্যাচে যেভাবে বোলিং-ফিল্ডিং করেছি… তবে সেটা হয়নি। আমরা উইকেটও বিলিয়ে এসেছি। এতে রান তাড়া কঠিন হয়ে যায়।’ ব্যাটিংয়ের সমস্যাটা নতুন নয় বলেও জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২ ম্যাচে যারা রান করেছে এবার তারা রান পায়নি। রানের এই অধারাবাহিকতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’ তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝেও বোলারদের পারফরম্যান্সকে কৃতিত্ব দিয়েছেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘তবে বোলাররা গত ৩ ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ভুগছি ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে। উইকেট অবশ্য একটু ধীর গতির ছিল। ব্যাট করার জন্য এত সহজ ছিল না।’ এসকেডি/আইএন

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শিশুর দাঁতের যত্ন কখন থেকে নেওয়া উচিত, জেনে নিন সঠিক সময়

শিশুর দাঁতের যত্ন কখন থেকে নেওয়া উচিত, জেনে নিন সঠিক সময়

২১ দিনের সহজ রুটিনে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করুন

২১ দিনের সহজ রুটিনে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করুন

গিলপিনের তীরে, নীল নীরবতার দেশে
গিলপিনের তীরে, নীল নীরবতার দেশে

একদিকে মন্দাক্রান্তা লয়ে বয়ে চলা গিলপিন, অন্যদিকে পাহাড় আর নীরবতার সঙ্গে নিবিড় সখ্য। প্রকৃতির এই অনাবিল ঐশ্বর্য বদলে দেয় জীবনের অর্থ। শহুরে বাস্তবতা এর কাছে নিছকই অর্থহীন হয়ে পড়ে।ইয়র্ক আমাদের আরও অনেক কিছু দেখার অপেক্ষায় রেখে গেল। প্রাচীন সিটি ওয়ালসের ওপর দিয়ে হাঁটা হলো না, ভাইকিং ইয়র্কের জীবন্ত স্মৃতি ইয়োরভিকে ফিরে দেখা হলো না, ক্লিফোর্ডস টাওয়ারের মাথা থেকে শহরের বিস্তৃত আকাশরেখাও দেখা হলো না। বাকি থেকে গেল ইয়র্কশায়ার মিউজিয়ামের রোমান নিদর্শন, আউস নদীর বুকে নৌভ্রমণ, মার্চেন্ট অ্যাডভেঞ্চারস হলের মধ্যযুগীয় গল্প আর ন্যাশনাল রেলওয়ে মিউজিয়ামের ইস্পাতের ইতিহাস জানা। এক রাতের ইয়র্ক তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল এক অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি, যার পরের অধ্যায়টি হয়তো কোনো এক দিন আবার খুলে বসতে হবে।পাহাড় থেকে জল এসে নামে গিলগিন নদীতেকিন্তু পথ তো থেমে থাকে না। আমাদেরও আবার পথে নামতে হলো। পরবর্তী গন্তব্য রিচমন্ডের মিডলটন টাইয়াস; সামনের দীর্ঘ পাহাড়ি পথের আগে সামান্য যাত্রাবিরতি, কিছুটা বিশ্রাম, আর নতুন করে প্রস্তুতি।বিরতির পর আবার গাড়ি ছোটালাম উত্তরের দিকে। ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল চারপাশের দৃশ্যপট। শহর ও জনপদের পরিচিত ব্যস্ততা পেছনে পড়ে গিয়ে সামনে খুলে গেল নীল দিগন্ত আর সবুজ পাহাড়ের বিস্তৃত প্রান্তর। পাহাড়ের ঢালে ঢালে ছড়িয়ে আছে ভেড়ার পাল। চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা, মাঝে মাঝে দূর থেকে একটি-দুটি গাড়ি সেই নীরবতার বুক চিরে চলে যায়।গিলপিন নদীর ধারে লেখকগাড়ি ধীরে ধীরে পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল। যত ওপরে উঠছি, ততই কাছে চলে আসছে পাহাড়ের ঢালে চরতে থাকা ভেড়াগুলো। পেছনের আসনে আরুষি আর এরিয়া ক্লান্ত অথচ মিষ্টি কণ্ঠে গেয়ে চলেছে, ‘বা বা ব্ল্যা শিপ, হ্যাভ ইউ এনি উল...?’শিশুদের সেই গান হঠাৎ আমাকে নিয়ে গেল কয়েক শতাব্দী পেছনে, মনে পড়ল কৈশোরে পড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর সেই বিখ্যাত প্রেমের কবিতা, দ্য প্যাশনেট শেফার্ড টু হিজ লাভ। সেখানে এক মেষপালক তার প্রিয়তমাকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মধ্যে তার সঙ্গে জীবন কাটানোর আহ্বান জানায়। পাহাড়, নদী, ফুল আর বসন্তের সৌন্দর্যকে ঘিরে তার স্বপ্ন—ক্ষণস্থায়ী জীবনের মধ্যেই যেন ভালোবাসার এক অনন্ত বসন্ত খুঁজে নেওয়া।এই পাহাড়ি সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে মার্লোর সেই আকুলতা যেন নতুন অর্থ পেল। মনে হলো, প্রকৃতির এমন নিবিড় সান্নিধ্যে এলে মানুষও তার ভেতরের কোনো হারিয়ে যাওয়া প্রেম, সৌন্দর্য কিংবা সরলতার কাছে ফিরে যেতে চায়।ক্রসথওয়াইট উপত্যকাসেই অনুভূতিরই যেন আরেকটি বাঙালি প্রতিধ্বনি পাই অতুলপ্রসাদ সেনের গানে—‘প্রকৃতির ঘোমটাখানি খোল্ লো বধূ,ঘোমটাখানি খোল্।আছি আজ পরান মেলি দেখব বলি—তোর নয়ন সুনিটল…’মার্লোর মেষপালকের প্রেম আর অতুলপ্রসাদের প্রকৃতির ঘোমটা খোলার আকুতি, দুটি ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সময়, অথচ অনুভূতির জায়গায় আশ্চর্য এক সেতুবন্ধন। প্রকৃতির পরম সৌন্দর্যের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের সেই চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা, দেখতে চাওয়া, অনুভব করতে চাওয়া, ভালোবাসতে চাওয়া।দুপুর গড়িয়ে বিকেল। অবশেষে আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের বহু প্রতীক্ষিত গন্তব্য, ক্রসথওয়াইট ভ্যালির কটেজে।কটেজের জানালা দিয়ে বাইরে যতদুর চোখ যায়সামনেই ছোট্ট পাহাড়ি নদী গিলপিন। অনাবৃষ্টির কারণে জলধারা কিছুটা ক্ষীণ, তবু তার স্বচ্ছ স্রোত সারা দিন আপন মনে বয়ে চলেছে। দুপাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য ছোট ছোট ঝিরি এসে তাকে নিঃশব্দে বাঁচিয়ে রাখছে। ক্ষীণ হলেও তার চলা থেমে নেই—অবিরাম, নিরলস।কন্ট্রাক্টস অ্যান্ড ফান্ডিং কোডইয়র্ক: ইতিহাসের শহর পেরিয়ে উত্তরের পথেআর সেই নদীর পাড়েই লাইমস্টোনের তৈরি শতবর্ষী ছোট্ট বাড়ি, গিলপিন ভিউ। আশপাশের পাহাড়ের নরম সবুজ আদরের বাড়িটি যেন কোনো প্রিয় লকেটের মতো পাহাড়ের শরীরে লেপটে আছে। চারপাশের সবুজ, পাহাড় আর নীরবতার সঙ্গে তার এমন নিবিড় সখ্য, মনে হয় বাড়িটি এখানে তৈরি হয়নি; বরং বহুদিন ধরে এই পাহাড়েরই কোনো পুরোনো স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল পুরো উপত্যকার দৃশ্য। আশপাশের কটেজগুলোর জানালায় একে একে জ্বলে উঠল আলো। দূর থেকে মনে হলো, পাহাড়ের বুকজুড়ে অন্ধকারের মধ্যে ছোট ছোট তারা ফুটে উঠছে। রাত যত গভীর হলো, আলোগুলো ততই মনে হলো যেন আকাশের তারার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।সকালে গিলপিনের তীরেআর নিচে, অন্ধকারের ভেতর দিয়ে গিলপিন তার ক্ষীণ জলরেখা নিয়ে বয়ে চলেছে।ভোররাতে ঘুম ভাঙে সেই জলের শব্দে। তার সঙ্গে যোগ হয় পাখিদের কিচিরমিচির। দুইয়ে মিলে নিস্তব্ধ পাহাড়ের বুকে যেন এক অপার্থিব সিম্ফনি বাজতে থাকে।এমন ভোরে মানুষ নিজের কাছেই ফিরে আসে।বয়ে চলে গিলপিনশহরের কোলাহল, ব্যস্ততা, হিসাব—সব যেন দূরের কোনো জীবনের গল্প হয়ে যায়। এখানে নেই কোনো তাড়া। শুধু পাহাড় আছে, জল আছে, পাখির ডাক আছে—আর আছে ভোর হয়ে ওঠার এক অপূর্ব ধীরতা।লেখক: ড. অসীম চক্রবর্তী,  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিকস বিষয়ের শিক্ষক ও গবেষক, এংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিজ, যুক্তরাজ্য।ছবি: লেখক

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক তাঁরা

ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক তাঁরা

আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে এআই!

আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে এআই!

হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

0 Comments