জাতীয়

হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে
হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

বর্তমানে ব্ল্যাকহোলের মতোই বহুল আলোচিত মহাজাগতিক বস্তু হোয়াইট হোলস। কিন্তু ব্ল্যাকহোলের পরীক্ষামূলক প্রমাণ থাকলেও হোয়াইট হোলের তেমন কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। গাণিতিকভাবে বাস্তব জগতে সময়ের উল্টো দিকে প্রবাহ সম্ভব নয় বলে হোয়াইট হোলের অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ। হোয়াইট হোলস কি তবে বাস্তবে থাকা সম্ভব?

ব্ল্যাকহোল বনাম হোয়াইট হোল

জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ—নিউটনের তৃতীয় সূত্র ব্যবহার হচ্ছে যত্রতত্র। প্রয়োজন থাকুক আর না থাকুক—উল্টো কিছু দেখলেই আমরা বলি, প্রত্যেক ক্রিয়ারই বিপরীত ক্রিয়া আছে। ব্ল্যাকহোলেও কি তা–ই? ব্ল্যাকহোলের মেকানিজমে নিউটনের তৃতীয় সূত্রের কতটুকু উপযোগিতা আছে, সে নিয়ে তর্ক হতে পারে। কিন্তু ওই প্রবাদ অর্থে প্রশ্ন হতেই পারে, যদি ব্ল্যাকহোল সবকিছু গ্রাস করে নেয়, তাহলে কি এমন কিছু আছে, যা কিছুই শোষণ করে না, বরং সবকিছু ফিরিয়ে দেয়?

এমন কোনো জিনিসের প্রমাণ নেই, তবে তাত্ত্বিকভাবে আছে হোয়াইট হোল নামের এক মহাবৈশ্বিক দানব। ব্ল্যাকহোলের সম্পূর্ণ উল্টো চরিত্র। ব্ল্যাকহোল সবকিছু গ্রাস করে নেয় বলে সেটা সম্পূর্ণ কালো। অন্যদিকে হোয়াইট হোল কিছুই শোষণ করে না, বরং ভেতর থেকে সবকিছু বের করে দেয়। তাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু এই হোয়াইট হোল। অথচ সেটাই এখনো দেখতে পারছি না। ব্যাপারটা অদ্ভুত না!

ব্ল্যাকহোল সবকিছু গ্রাস করে নেয় বলে সেটা সম্পূর্ণ কালো

ধরা যাক, আপনার একটি প্রবল গতির মহাকাশযান আছে। সেটিতে চড়ে আপনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন মহাকাশের অলিগলিতে। ছুটছেন তো ছুটছেন। কত গ্রহ-নক্ষত্রকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন, কত গ্যালাক্সি দেখতে পাচ্ছেন দূর থেকে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো। হঠাৎ মহাকাশের এক অন্ধকার কোণে চোখে পড়ল একটি আলোর বৃত্ত। তার ঠিক মাঝখানটা ভয়ানক কালো। কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। আপনার যদি যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক জ্ঞান থাকে, তাহলে সহজেই বুঝতে পারবেন, আলোর বৃত্তটার ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি ব্ল্যাকহোল।

ব্ল্যাকহোল সবকিছু গ্রাস করে নেয় বলে সেটা সম্পূর্ণ কালো। অন্যদিকে হোয়াইট হোল কিছুই শোষণ করে না, বরং ভেতর থেকে সবকিছু বের করে দেয়। তাই মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু হোয়াইট হোল।

আরও নির্দিষ্ট করে বলা যায়, মাঝখানের কালো অংশ আসলে ব্ল্যাকহোলের মুখ। বৈজ্ঞানিক ভাষায় সেটাকে বলা হয় ‘ইভেন্ট হরাইজন’ বা ঘটনা দিগন্ত। ঘটনা দিগন্ত আসলে আমাদের চিরচেনা জগতের বর্ডারলাইন। সেই লাইন পার হলেন তো পড়ে গেলেন ব্ল্যাকহোলের অন্ধকূপে। সেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ নেই। ব্ল্যাকহোলের সীমারেখা পার হলে সব বস্তুই ব্ল্যাকহোলের প্রবল মহাকর্ষীয় টানে ভেতরে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

কিন্তু এবার একটু অ্যাডভান্স হোন, বিজ্ঞানের আধুনিক তত্ত্বগুলোর খুঁটিনাটি তালাশ করুন। তারপর চলে যান মহাকাশ ভ্রমণে। এবারও আপনার চোখে পড়ল এমন কোনো উজ্জ্বল বৃত্ত, যার ভেতরটা ঘুটঘুটে কালো। এবার কি আপনি নিশ্চিত করে বলতে পারবেন, যেটা দেখছেন, সেটা ব্ল্যাকহোল?

হোয়াইট হোলেরও ইভেন্ট হরাইজন আছে। তার চার পাশে আছে উজ্জ্বল আলোকবলয়

না, তা পারবেন না। কারণ, আপনি এখন ভালো করেই জানেন, ব্ল্যাকহোল আর হোয়াইট হোল খোলা চোখে দেখতে একই রকম। দূর থেকে দেখে পার্থক্য বোঝা মুশকিল।

কিন্তু কেন এমন হলো? সম্পূর্ণ উল্টো চরিত্রের হওয়ার পরও কেন তাদের চেহারা একই রকম?

ব্ল্যাকহোলের যেমন ভর, ঘূর্ণন বা স্পিন আছে, হোয়াইট হোলেরও তেমনি ভর ও ঘূর্ণন আছে। হোয়াইট হোলেরও ইভেন্ট হরাইজন আছে। তার চার পাশে আছে উজ্জ্বল আলোকবলয়। তাই খোলা চোখে দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা মুশকিল। কিন্তু মূল পার্থক্যের জায়গা হলো ওই ইভেন্ট হরাইজন। ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজন সবকিছু শোষণ করে নেয়, কিছুই ফিরিয়ে দেয় না, এমনকি আলোর মতো ভরহীন শক্তিও এর ভেতরে একবার ঢুকে পড়লে আর বেরিয়ে আসতে পারে না।

ব্ল্যাকহোলের যেমন ভর, ঘূর্ণন বা স্পিন আছে, হোয়াইট হোলেরও তেমনি ভর ও ঘূর্ণন আছে। হোয়াইট হোলেরও ইভেন্ট হরাইজন আছে। তার চার পাশে আছে উজ্জ্বল আলোকবলয়।

অন্যদিকে হোয়াইট হোলের ইভেন্ট হরাইজন কোনো কিছুই শোষণ করে না, বরং হোয়াইট হোলের ভেতরকার সব পদার্থ ইভেন্ট হরাইজনের বাইরে বেরিয়ে এসে একটা উজ্জ্বল বলয় তৈরি করে। এমনকি আপনি যদি বাইরে থেকে কোনো বস্তু হোয়াইট হোলের ভেতর নিক্ষেপ করেন, সেটা ভেতরে ঢুকবে না, আপনি নিজেও হোয়াইট হোলের কাছে গিয়ে ইভেন্ট হরাইজনের বর্ডারলাইন পেরোতে পারবেন না কিছুতেই। বরং এক প্রবল বিকর্ষণ বল আপনাকে সেখান থেকে ছুড়ে বাইরে নিক্ষেপ করবে। এরপরও ইভেন্ট হরাইজনের মাঝখানটা ঠিকই ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর সে কারণেই ব্ল্যাকহোল আর হোয়াইট হোলের বাহ্যিক চেহারায় কোনো পার্থক্য নেই।

হোয়াইট হোল কিছুই শোষণ করে না, অথচ নিজের ভেতর থেকে ক্রমাগত ভর-শক্তি উগরে দেয়। এত ভর তাহলে সে কোথায় পায়?

হোয়াইট হোলের ভেতরকার সব পদার্থ ইভেন্ট হরাইজনের বাইরে বেরিয়ে এসে একটা উজ্জ্বল বলয় তৈরি করে

উত্তর খুব সোজা, ব্ল্যাকহোলের কাছ থেকে ভরের জোগান পায় হোয়াইট হোল। ব্ল্যাকহোল যা কিছু শোষণ করে ইভেন্ট হরাইজনের মুখ দিয়ে, সেটাই ক্রমাগত বাইরে বের করে দেয় আরেকটা মুখ দিয়ে। অর্থাৎ ব্ল্যাকহোলের ভেতরে ঢোকা ভর-শক্তিগুলোই হোয়াইট হোল থেকে বেরিয়ে আসে।

তাহলে কি ব্ল্যাকহোলের উল্টো পিঠে আরেক দরজা আছে, যেটা দিয়ে সবকিছু বেরিয়ে আসে?

ব্যাপার অনেকটা সে রকম। কিন্তু উল্টো পিঠ বলতে আমরা সাধারণত স্থানের উল্টো পিঠ বুঝি। যেমন একটা টানেলের ওপাশে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরেকটা মুখ থাকে। কিন্তু হোয়াইট হোল ঠিক টানেলের উল্টো পাশের মুখ নয়। এটা বরং সময়ের উল্টো দিকে থাকা আরেকটা মুখ।

ব্ল্যাকহোল যা কিছু শোষণ করে ইভেন্ট হরাইজনের মুখ দিয়ে, সেটাই ক্রমাগত বাইরে বের করে দেয় আরেকটা মুখ দিয়ে। অর্থাৎ এর ভেতরে ঢোকা ভর-শক্তিগুলোই হোয়াইট হোল থেকে বেরিয়ে আসে।

সিঙ্গুলারিটির মৃত্যু!

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বড় ভয় সিঙ্গুলারিটি নিয়ে। সিঙ্গুলারিটি হলো অসীম ঘনত্বের একটা বিন্দু। অনেকে এটাকে পরম বিন্দুও বলেন। ব্ল্যাকহোলের আধুনিক ধারণাটা এসেছিল ১৯১৬ সালে। জার্মান বিজ্ঞানী কার্ল শোয়ার্জশিল্ড যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনঘাতী অসুখের সঙ্গে লড়তে লড়তে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার একটা গাণিতিক সমাধান বের করেন। সেই সমাধানে তিনি দেখান, কোনো ব্ল্যাকহোল যদি যথেষ্ট ভারী হয়, তাহলে সেটা তার চারপাশের স্থান-কালকে অসীমভাবে বাঁকিয়ে দেবে। সেই বক্র স্থান-কালের ভেতর কোনো বস্তু, এমনকি আলোও একবার ঢুকলে আর বেরিয়ে আসতে পারবে না। শোয়ার্জশিল্ডের সেই তত্ত্ব বহুদিন তত্ত্ব হিসেবেই রয়ে যায়।

১৯৩০-এর দশকে সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর ও রবার্ট ওপেনহাইমারের গবেষণা শোয়ার্জশিল্ডের তত্ত্বে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও অক্সিজেনটা সরবরাহ করে যায় টিকিয়ে রাখার জন্য। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল, কণাপদার্থবিজ্ঞানের মহা মহা সব গবেষণায় মহাকাশবিদ্যা কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলে, ব্ল্যাকহোল তত্ত্বও তাই চাপা পড়ে থাকে অন্ধকূপে। ১৯৬০-এর দশকে মার্কিন জন হুইলার আবার বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি মহাবিশ্বের দিকে ফেরাতে সক্ষম হন। তিনিই শোয়ার্জশিল্ডের সেই আলোখেকো বস্তুটার নাম দেন।

শিল্পীর কল্পনায় একটি কৃষ্ণগহ্বরের ছবি। কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দুর উদাহরণ

১৯৬০ সালে গণিতবিদ মার্টিন ডেভিড ক্রাসকাল শোয়ার্জশিল্ডের ব্ল্যাকহোল নিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন। তিনি শোয়ার্জশিল্ডের তত্ত্বটা নিজে করেন। স্থান ও কালের তত্ত্বটার বিকল্প একটা সমাধান বের করেন তিনি। তাতে দেখা যায়, ব্ল্যাকহোলে মিরর ইমেজ বা উল্টো প্রতিবিম্ব থাকা সম্ভব। তবে নতুন এ কাঠামোর গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ক্রাসকাল। আসলে তিনি আধুনিক হোয়াইট হোলের একটা গাণিতিক প্রতিরূপ তৈরি করে ফেলেছিলেন নিজের অজান্তে।

১৯৩০-এর দশকে সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর ও রবার্ট ওপেনহাইমারের গবেষণা শোয়ার্জশিল্ডের তত্ত্বে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও অক্সিজেনটা সরবরাহ করে যায় টিকিয়ে রাখার জন্য।

পরে ১৯৬৫ সালে পেনরোজ একটি গাণিতিক তত্ত্ব দাঁড় করান। সেই তত্ত্বে তিনি দেখান, কোনো নক্ষত্রকে যদি ব্ল্যাকহোলে পরিণত হতে হয়, তাহলে সেই নক্ষত্রকে নিজের কেন্দ্র বরাবর ভেঙে পড়তে হবে। নক্ষত্রটির সব ভর গিয়ে জড়ো হবে একটা বিন্দুতে। সেই বিন্দু হবে আয়তনহীন। তাই তার ভর ও ঘনত্ব হবে অসীম। অসীম ঘনত্বের এ ভরকেই সিঙ্গুলারিটি বলে অভিহিত করেন পেনরোজ। পরে স্টিফেন হকিং দেখান, আমাদের মহাবিশ্বের জন্মও হয়েছিল অসীম ঘনত্বের একটা সিঙ্গুলারিটি থেকে। সেই বিন্দুই বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে স্থান-কালে প্রসারিত হয়ে মহাবিশ্বের জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু আধুনিক বিগ ব্যাং থিওরি ইনফ্লেশন থিওরিকে বেশি সমর্থন করে। আর ইনফ্লেশনারি বিগ ব্যাং থিওরিতে সিঙ্গুলারিটির দরকার হয় না। সত্যি বলতে কি, পদার্থবিজ্ঞানীরা সিঙ্গুলারিটিকে ভয় পান। কারণ, এই বিন্দুতে গিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের সব তত্ত্ব অকেজো হয়ে পড়ে। সুতরাং সিঙ্গুলারিটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়। তাই তাঁরা এটাকে পারতপক্ষে এড়িয়ে চলার চেষ্টাই করেন। ইনফ্লেশন থিওরি কসমোলজিকে সিঙ্গুলারিটি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ব্ল্যাকহোলে সিঙ্গুলারিটি আছে বহাল তবিয়তে। বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাকহোলের ভেতরের খবর জানতে চান। সেটার জন্য মূল বাধা সিঙ্গুলারিটি। আর এ বাধা টপকাতে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে সিঙ্গুলারিটির মৃত্যু।

সিঙ্গুলারিটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীদের এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়। তাই তাঁরা এটাকে পারতপক্ষে এড়িয়ে চলার চেষ্টাই করেন। ইনফ্লেশন থিওরি কসমোলজিকে সিঙ্গুলারিটি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

প্যারালাল ইউনিভার্সের সঙ্গে সংযোগ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সময় উল্টো দিকে চলে না। কিন্তু যদি অন্য কোনো প্যারালাল ইউনিভার্স থাকে, সেখানে হয়তো সময় চলে আমাদের বিপরীত দিকে। ব্ল্যাকহোলের মুখ আমাদের মহাবিশ্বে আর হোয়াইট হোলের মুখ থাকতে পারে সেই সমান্তরাল মহাবিশ্বে। সে ক্ষেত্রে ব্ল্যাকহোল আর হোয়াইট হোলের মধ্যে একটা সংযোগ দরকার। সেই সংযোগ হতে পারে কোয়ান্টাম টানেলিংয়ের মাধ্যমে। নিজের ছাত্র হ্যাল হ্যাগার্ডের এই অনুমানকেও উড়িয়ে দেননি রোভেল্লি। হ্যালের এই ধারণা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের মহাবিশ্বে যে হোয়াইট হোলের দেখা পাচ্ছি না, তার একটা কারণ অন্তত পাওয়া গেল।

একই রকম ব্যাপার ধরা হয় অ্যান্টিম্যাটার বা প্রতিপদার্থের ক্ষেত্রেও। অ্যান্টিম্যাটার কণাদের এমনি মহাবিশ্বে পাওয়া যায় না। নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান রীতিমতো প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন, কণারা সময়ের বিপরীত দিকে চলতে পারে। এ সময় কণারা তার যমজ প্রতিকণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে আবার সময়ের সামনের দিকে অগ্রসর হয়। আর এসব প্রতিকণার জন্ম হয় কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন নামের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ধারণা করা হয়, এসব প্রতিকণার বাস প্যারালাল ইউনিভার্সে। বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যদি প্রতিকণাদের আমাদের মহাবিশ্বে ডেকে আনা হয়, তখন প্রতিকণার যমজ স্বাভাবিক বস্তুকণাটি চলে যায় প্যারালাল ইউনিভার্সে।

হোয়াইট হোলের মুখ যদি প্যারালাল ইউনিভার্সেই থাকে, তাহলে সেটাকে কি আমাদের মহাবিশ্বে পাওয়া সম্ভব? তবে এ ধারণাও হয়তো অতিকল্পনা। তবু এটাকে একটা যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করাই যায়।

অ্যান্টিম্যাটার কণাদের এমনি মহাবিশ্বে পাওয়া যায় না। নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান রীতিমতো প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন, কণারা সময়ের বিপরীত দিকে চলতে পারে।

সময়ের উল্টো পথে

একসময় কসমোলজিস্টরা ধারণা করতেন, সিঙ্গুলারিটির আগল ভাঙা ব্ল্যাকহোলের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক হোয়াইট হোল তত্ত্ব বোধ হয় সিঙ্গুলারিটির হাত থেকে পদার্থবিজ্ঞানকে মুক্ত করতে চলেছে (আদৌ যদি হোয়াইট হোলের দেখা মেলে)! হোয়াইট হোলকে হালে জনপ্রিয় করে তুলেছেন ইতালিয়ান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও ফ্রান্সের ‘সেন্টার দে ফিজিক থিওরিক’-এর গবেষক কার্লো রোভেল্লি। তিনি হোয়াইট হোলস নামে আস্ত একটি বই লিখেছেন। তাতে দেখিয়েছেন, ব্ল্যাকহোলের সিঙ্গুলারাটিতে পৌঁছানের আগেই বস্তুকণাগুলো বাউন্স করে সময়ের উল্টো দিকে গিয়ে হোয়াইট হোলে রূপ নেয়। অর্থাৎ হোয়াইট হোল আসলে ব্ল্যাকহোলেরই টাইম রিভার্সাল রূপ। টাইম রিভার্সাল ব্যাপারটা এ যুগে বোঝা খুব সহজ।

আপনার স্মার্টফোনটি নিয়ে একটি ছোট্ট গর্তের কাছে যান। সঙ্গে নিয়ে যান আপনার কয়েকজন বন্ধুকে। তাদের হাতে কয়েক শ মার্বেল দিয়ে বলুন চারদিক থেকে সেগুলো গড়িয়ে গর্তের ভেতর ফেলতে। মার্বেলগুলো যখন গর্তের ভেতর পড়ছে, আপনি তখন গর্তের মুখের ভিডিও করুন। এক মিনিটের ভিডিওই যথেষ্ট। ভিডিওটি ঠিকঠাকমতো চালিয়ে দেখুন সেটা ঠিকমতো হয়েছে কি না। এবার ভিডিওটি উল্টো দিকে, অর্থাৎ পেছনের দিকে চালান। এখানে ভিডিওটির সবশেষ ফ্রেমটা সবার আগে দেখাবে এবং প্রথম ফ্রেমটা দেখাবে সবার শেষে। উল্টো ভিডিওতে আপনি কী দেখলেন? গর্তের মুখ থেকে মার্বেলগুলো বেরিয়ে আসছে!

আবার আপনি ভিডিওটি স্বাভাবিক মোডে চালান, দেখবেন একগুচ্ছ মার্বেল চারপাশ থেকে গিয়ে গর্তে পড়ছে। ব্ল্যাকহোল আর হোয়াইট হোলের ব্যাপারটাও এ রকম। সময় যখন সামনের দিকে চলছে, বস্তুকণা আর আলো ঘূর্ণিপাকের মতো করে ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্তের ভেতর ঢুকে পড়ছে৷ আর যখন সময় উল্টো দিকে চলবে, তখন ব্ল্যাকহোলই টাইম রিভার্সাল ভিডিওর মতো আচরণ করবে। আমরা দেখব একটা কালো গর্ত থেকে বস্তুকণা আর আলোকরশ্মি বেরিয়ে আসছে।

হোয়াইট হোলকে হালে জনপ্রিয় করে তুলেছেন ইতালিয়ান তাত্ত্বিক পদার্থবিদ ও ফ্রান্সের সেন্টার দে ফিজিক থিওরিক-এর গবেষক কার্লো রোভেল্লি। তিনি হোয়াইট হোলস নামে আস্ত একটি বই লিখেছেন।

ঘূর্ণিপাকের মতো করে

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বড় সমস্যা হলো সময় শুধু সামনের দিকেই প্রবাহিত হয়, পেছনের দিকে নয়। কিন্তু কথাটা বড়দের জগতে সত্য হলেও কণাজগতে নয়। কোয়ান্টাম কণারা সময়ের পেছনের দিকেও চলতে পারে। এর পরীক্ষামূলক প্রমাণও আছে। কিন্তু হোয়াইট হোল তো কণা নয়, বিশাল ভরের এক দানব। তাহলে সে সময়ের উল্টো দিকে চলবে কী করে?

আসলে হোয়াইট হোলের আধুনিক তত্ত্বটা এখনো হাইপোথিসিস পর্যায়ে রয়েছে। আর এর প্রাথমিক ভাবনাটা কার্লো রোভেল্লির শিষ্য হ্যাল হ্যাগার্ডের মাথায় প্রথম আসে। তারপর গুরু–শিষ্য মিলে একটা গাণিতিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। স্টিফেন হকিং যেমন ব্ল্যাকহোলকে বিকিরণের আয়নায় বাঁধতে চেয়েছিলেন গণিতের রশি ব্যবহার করে, অনেকটা সেভাবেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রোভেল্লি আর হ্যাল জুটি।

আসলে হোয়াইট হোলের আধুনিক তত্ত্বটা এখনো হাইপোথিসিস পর্যায়ে রয়েছে। আর এর প্রাথমিক ভাবনাটা কার্লো রোভেল্লির শিষ্য হ্যাল হ্যাগার্ডের মাথায় প্রথম আসে।

কোয়ান্টাম প্রভাব

আগেই বলেছি, বড়দের জগতে সময় শুধু সামনের দিকেই যায়। হোয়াইট হোলের ক্ষেত্রে সময়কে পেছনের দিকে প্রবাহিত হতেই হবে। এটা তখনই সম্ভব, যদি ব্ল্যাকহোলে কোয়ান্টাম মেকানিকস প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।

একটা ব্ল্যাকহোল দেখতে অনেকটা ফানেলের মতো। ফানেলের মুখটা ঘটনা দিগন্ত। আর ফানেলের সরু নলটার শেষ মাথায় হলো সিঙ্গুলারিটির অবস্থান। অর্থাৎ ভারী নক্ষত্র যখন নিজের ওপর কেন্দ্র বরাবর ভেঙে পড়ে, তখন এর ঘটনা দিগন্তের অনেক দূরে গিয়ে একটা বিন্দুতে জমা হয় সব ভরশক্তি। স্থান-কাল বেঁকে গিয়ে ঘটনা দিগন্ত ফানেলের মুখ ও সরু নলের মতো আকৃতি লাভ করে।

একটা ব্ল্যাকহোল দেখতে অনেকটা ফানেলের মতো

হ্যাল প্রস্তাব করেন, ফানেলের শেষ মাথাটা আসলে ব্ল্যাকহোলের স্থানিক কেন্দ্রে নয়, বরং রয়েছে ভবিষ্যতের কোনো বিন্দুতে। তাই এমনটাও ঘটা সম্ভব, সব ভরশক্তি ভবিষ্যতের সেই বিন্দুতে—যেটাকে আমরা সিঙ্গুলারিটি বলছি—সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আবার বাউন্স করে সময়ের উল্টো দিকে চলে আসে। তাহলে পুরো ব্যাপারটা তখন সময়ের পেছন দিকে ঘটবে এবং ব্ল্যাকহোল পরিণত হবে হোয়াইট হোলে। অর্থাৎ ব্ল্যাকহোল পরিণত হবে হোয়াইট হোলে। আর বিজ্ঞানীরাও সিঙ্গুলারিটির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

কিন্তু ব্ল্যাকহোল যদি একটা বিন্দুতে পরিণত না হয়, তাহলে সেটা কোয়ান্টাম বলবিদ্যার দ্বারা প্রভাবিত হবে কীভাবে?

একটা ব্ল্যাকহোল দেখতে অনেকটা ফানেলের মতো। ফানেলের মুখটা ঘটনা দিগন্ত। আর ফানেলের সরু নলটার শেষ মাথায় হলো সিঙ্গুলারিটির অবস্থান।

এখানেই আসলে রোভেল্লির ক্যারিশমা কাজ করে। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা বলার চেষ্টা করছেন, কণাদের মতো স্থান-কালও কোয়ান্টায়িত। কোনো বস্তু তখন কোয়ান্টায়িত হয়, যখন সেটা দানাদার হয়। অর্থাৎ একটা নির্দিষ্ট আকারের পর সেই বস্তুকে আর ভাঙা যায় না। কোয়ার্ক, ইলেকট্রনের মতো মূল কণাদের তাই আর ভাঙা যায় না। আবার আলো বা তাপশক্তির মতো তরঙ্গগুলোরও আসলে দানাদার সত্তা রয়েছে। একটা নির্দিষ্ট প্যাকেটের মধ্যে শক্তি কোয়ান্টায়িত হয়ে থাকে। সেই প্যাকেটকে বলে ফোটন।

তেমনি স্থান–কালেরও একটি ক্ষুদ্র দানাদার সত্তা আছে। স্থান–কালকে এর চেয়ে সংকুচিত করা যায় না। আসলে কোনো বস্তুর ব্যাসার্ধ প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্যের (1.616×10⁻³⁵ মিটার) চেয়ে ছোট হতে পারে না। তাই হোলের সংকুচিত ভরশক্তির ব্যাসও এর চেয়ে ছোট হবে না। তবে এর চেয়ে বড় হলেও কোয়ান্টাম প্রভাব কাজ করে। যেমন কাজ করে প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্যের চেয়ে আকারে বড় ইলেকট্রন কিংবা কোয়ার্কের ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারই হোয়াইট হোলকে বাঁচিয়ে দেয় সিঙ্গুলারিটির হাত থেকে।

ব্ল্যাকহোলের ভরশক্তি একটা অসীম ঘনত্বের বিন্দুতে পরিণত হওয়ার আগেই বাউন্স ব্যাক করে সময়ের উল্টো দিকে। আর এই বাউন্স করতে সে কাজে লাগায় কোয়ান্টাম লাফ। কোয়ান্টাম মেকানিকস বলে, কোনো একটা কোয়ান্টাম কণা কিছু অনুমোদিত নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে থাকতে পারে। দুটি অনুমোদিত শক্তিস্তরের মাঝে অননুমোদিত অনেক জায়গা থাকে। সেসব জায়গায় কণারা থাকতে পারে না। তাই এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে যেতে হলে কণাদের কোয়ান্টাম লাফ দিতে হয়। মাঝের অননুমোদিত জায়গাগুলো এড়িয়ে তারা এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে চলে যায়।

ব্ল্যাকহোলের ভরশক্তি একটা অসীম ঘনত্বের বিন্দুতে পরিণত হওয়ার আগেই বাউন্স ব্যাক করে সময়ের উল্টো দিকে। আর এই বাউন্স করতে সে কাজে লাগায় কোয়ান্টাম লাফ।

ঠিক এভাবেই ব্ল্যাকহোলের ভেতরকার পুঞ্জীভূত কণারা লাফ দিয়ে বাউন্স ব্যাক করতে পারে। তবে সিঙ্গুলারিটির বাইরে তাদের অনুমোদিত জায়গায় বেরিয়ে আসা কঠিন। কিন্তু কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় অসম্ভব বলে কিছু নেই—হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি ও শ্রোডিঙ্গারের ওয়েভ ফাংশন তত্ত্ব থেকে বেরিয়ে আসা কিছু পরিঘটনা সেটা প্রমাণ করে।

কণাদের তরঙ্গ ফাংশন থাকে; অনুমোদিত শক্তিস্তরের বাইরেও তরঙ্গ ফাংশনের বিস্তার থাকার কিছুটা সম্ভাবনা থাকে। ক্ষীণ এই সম্ভাবনাও অনেক সময় বাস্তব হয়ে ওঠে। কণাদের সংখ্যা যখন কোটি কোটি হয়, তখন কিছুসংখ্যক কণা কোয়ান্টাম বাধা টপকে বাইরে চলে যায়। তাই একেবারে নিরেট একটা প্রতিবন্ধক তুললেও সব কণাকে আটকে ফেলা যায় না। টানেলিংয়ের সাহায্যে কিছু কণা ঠিকই বেরিয়ে আসে।

ব্ল্যাকহোলের ভেতরের পুঞ্জীভূত ভরশক্তিও এভাবে বারবার কোয়ান্টাম লাফ দিয়ে কয়েকবার অন্তত সফল হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্ল্যাকহোলের স্থান–কাল উভয়ই এখানে কণাদের মতো আচরণ করে এবং কোয়ান্টাম লাফ দিয়ে উল্টো দিকে চলে যায়। পরিণত হয় হোয়াইট হোলে।

কণাদের সংখ্যা যখন কোটি কোটি হয়, তখন কিছুসংখ্যক কণা কোয়ান্টাম বাধা টপকে বাইরে চলে যায়। তাই একেবারে নিরেট একটা প্রতিবন্ধক তুললেও সব কণাকে আটকে ফেলা যায় না।

হোয়াইট হোল কি আদৌ আছে

হকিং বিকিরণের কারণে ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্ত ক্রমেই ছোট হতে থাকে। কিন্তু ঘটনা দিগন্ত ছোট হওয়া মানেই কিন্তু এর ভেতরকার জায়গা কমে যাওয়া নয়। বরং ছোট ঘটনা দিগন্তের ভেতরে বিশাল স্থান–কাল নিয়েই বহাল তবিয়তে থাকে ব্ল্যাকহোল। তারপর সেই বড় স্থান–কাল কোয়ান্টাম লাফ দিয়ে শ্বেত গহ্বরে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এত কিছুর পরও তাহলে শ্বেত গহ্বরকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না কেন?

এর মূল কারণ, স্থান-কালের একটা ভুল কনসেপ্ট আমাদের মনে গেঁথে আছে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েও আমাদের ধারণা স্পষ্ট নয়। সময় যে উল্টো দিকে প্রবাহিত হতে পারে আমাদের বাস্তব জগতেই, সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে সেটা বোঝা অসম্ভব।

এ বিষয়ে একটা দারুণ উদাহরণ দিয়েছেন কার্লো রোভেল্লি তাঁর ‘হোয়াইট হোলস’ বইয়ে। ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় অতীত ও বর্তমানকে আলাদা করে বোঝার ক্ষমতা নেই আমাদের।

রোভেল্লি একটি পানির ট্যাংকের উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, পানির ট্যাংকের মাঝখানটা একটা পানিরোধক ব্ল্যাকহেড দিয়ে আলাদা করা। ব্ল্যাকহেড সরিয়ে দিয়ে ট্যাংকে পানি ঢালুন। ট্যাংকের সব দিকে পানির উচ্চতা সমান। পানি দেখে স্থিতিশীল মনে হবে। এ অবস্থায় ট্যাংকের পানির দিকে ক্যামেরা তাক করে ভিডিও করুন। তারপর সেই ভিডিও রিভার্স মোডে চালু করে দেখুন, স্বাভাবিক মোড আর রিভার্স মোডের মধ্যে কোনো পার্থক্যই পাবেন না।

মহাবিশ্ব যদি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে, তাহলে সময়ের সামনে চলা আর পেছনে চলার মধ্যে কোনো পার্থক্যই পাবেন না আপনি।

পানির ট্যাংকের মাঝখানটা একটা পানিরোধক ব্ল্যাকহেড দিয়ে আলাদা করা। ব্ল্যাকহেড সরিয়ে দিয়ে ট্যাংকে পানি ঢালুন। ট্যাংকের সব দিকে পানির উচ্চতা সমান। পানি দেখে স্থিতিশীল মনে হবে।

এবার ব্ল্যাকহেডটা দিয়ে ট্যাংকের দুই পাশ আলাদা করে ফেলুন। পানি ঢালুন ট্যাংকের এক পাশে। আরেক পাশে পুরোপুরি ফাঁকা রাখুন। একদিকে পানির উচ্চতা অনেক বেশি, আরেক দিকে পানি একদম নেই। এবার ব্ল্যাকহেড খুলে দিন। পানি ধীরে ধীরে ট্যাংকের ভরা অঞ্চল থেকে খালি অঞ্চলের দিকে ধাবিত হবে। একসময় পুরো ট্যাংকে পানির স্তর সমান হলে পানির প্রবাহ বন্ধ হবে, ট্যাংক এসে যাবে ভারসাম্যে। ব্ল্যাকহেড খোলার পর পানি ভারসাম্যে আসার আগপর্যন্ত মাঝের সময়টিকে ভিডিও করুন। তারপর স্বাভাবিক ও রিভার্স মোডে চালিয়ে দেখুন, স্পষ্ট পার্থক্য দেখতে পাবেন।

রোভেল্লি বলেছেন, মহাবিশ্ব যখন ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে, তখন অতীত আর ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্য করা মুশকিল—ট্যাংকের পানির মতোই। সময়ে বিপরীতমুখী প্রবাহ তাই বোঝা একেবারে অসম্ভব। আমাদের মহাবিশ্ব এখন এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের মধ্যে যাচ্ছে, যার শুরুটা হয়েছিল বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে। তাই এখন সময়ের ভবিষ্যৎ আর অতীতের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। এনট্রপির বেড়ে চলা সময়কে সামনের দিকেই এগিয়ে নিচ্ছে, পেছন দিকে চলতে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু কোয়ান্টাম লেভেলে সময় পেছন দিকেও চলতে পারে। কিন্তু সেই জগতে সময়ের ভারসাম্য রয়েছে। তাই অতীত ও ভবিষ্যতের পার্থক্য করা মুশকিল।

কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত একটা ব্ল্যাকহোল সময়ের পেছন দিকে প্রবাহিত হলেও সেটাকে সাধারণ একটা ব্ল্যাকহোলের সঙ্গে পার্থক্য করা মুশকিল।

রোভেল্লি বলেছেন, মহাবিশ্ব যখন ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে, তখন অতীত আর ভবিষ্যতের মধ্যে পার্থক্য করা মুশকিল—ট্যাংকের পানির মতো। সময়ে বিপরীতমুখী প্রবাহ তাই বোঝা একেবারে অসম্ভব।

আরেকটা বড় সমস্যা হলো, সময়ের ধীর হয়ে যাওয়া। কোনো নভোচারী যদি ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্তের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন, আমরা দেখব তিনি যত এগোচ্ছেন, সময় তত ধীর হচ্ছে। ঘটনা দিগন্তের রেখায় পৌঁছে গেলে সময় অত্যন্ত ধীর হয়ে যাবে। সেখানকার এক সেকেন্ড আমাদের কাছে এক কোটি বছরের সমান হয়ে যাবে। তাই নভোচারীকে তো বটেই, আমাদের কয়েক প্রজন্মও দেখবে নভোচারী ঘটনা দিগন্তের রেখায় গিয়ে জমে গিয়েছেন। তারপর হয়তো এক কোটি বছরের পরের প্রজন্ম দেখবে একজন নভোচারীকে ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্ত পেরিয়ে যেতে।

হোয়াইট হোলের ভেতর থেকে ঘটনা দিগন্ত থেকে বেরিয়ে আসা কোনো বস্তুকে দেখতে হলে কোটি কোটি বছর অপেক্ষা করতে হবে

তেমনি হোয়াইট হোলের ঘটনা দিগন্তের কাছেও সময় আমাদের জন্য খুব ধীরে চলবে। তাই হোয়াইট হোলের ভেতর থেকে ঘটনা দিগন্ত থেকে বেরিয়ে আসা কোনো বস্তুকে দেখতে হলে কোটি কোটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। ঠিক এ কারণেই আমরা এখন কোনো হোয়াইট হোল যদি শনাক্তও করতে পারি, সেটাকে ব্ল্যাকহোল ভেবে ভুল করার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

কোনো নভোচারী যদি ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্তের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন, আমরা দেখব তিনি যত এগোচ্ছেন, সময় তত ধীর হচ্ছে। ঘটনা দিগন্তের রেখায় পৌঁছে গেলে সময় অত্যন্ত ধীর হয়ে যাবে।

তাই হোয়াইট হোলের তত্ত্বকে যেমন উড়িয়ে দিতে পারবেন না, তেমনি এটার অস্তিত্ব আছে—এটার প্রমাণও দেওয়া সম্ভব নয়। রোভেল্লি মনে করেন, হোয়াইট হোল নিয়ে তাঁরা যে তত্ত্বটা গড়ে তুলেছেন, সেটা একদম খাঁটি। ব্ল্যাকহোল প্রথম শনাক্ত করার বহু আগেই যেমন এর তাত্ত্বিক ও গাণিতিক কাঠামো ছিল, হোয়াইট হোলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাদের হাতে তত্ত্ব আছে, সুন্দর গাণিতিক কাঠামো আছে, কিন্তু পরীক্ষামূলক প্রমাণ নেই।

কত দিনে মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তুটির সন্ধান মিলবে, সে কথা এখনই কেউ জোর দিয়ে বলতে পারেন না।

লেখক: সাংবাদিক

সূত্র: ১. হোয়াইট হোলস: হোয়াট উই নো অ্যাবাউট ব্ল্যাকহোলস নেগলেটেড টুইনস/চার্লি উড/অল অ্যাবাউট স্পেস ১১ জুলাই ২০২৩

২. হোয়াইট হোলস /কার্লো রোভেল্লি/ অনুবাদ: আবুল বাসার

*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১০০ টাকার বেশি বিল আদায় বন্ধ হয়নি, নিয়মিতও নিচ্ছে না ময়লা
১০০ টাকার বেশি বিল আদায় বন্ধ হয়নি, নিয়মিতও নিচ্ছে না ময়লা

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ময়লার বিলের রসিদ আসে ১২০ টাকার। কিন্তু তাঁকে আরও ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়। এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।একই এলাকার আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করলেন স্থানীয় বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়াও হয় না। দু–তিন মাস ধরে দুই বা তিন দিন পরপর ময়লা নিতে আসছেন কর্মীরা।বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে বিভিন্ন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।মো. আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। এতে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ময়লা সংগ্রহের বাণিজ্য নিয়ে গত মে মাসে প্রথম আলোয় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা; কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাঁদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।বেশি টাকার নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেছিলেন, বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় করা হলে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।নগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা বাণিজ্য চলতেই থাকবে।গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।আদেশে বলা হয়, পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বরাবর সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দিতে হবে।১০০ টাকার বেশি বর্জ্য ফি আদায় হচ্ছে কি না, দেখবে তদারকি কমিটিকিন্তু তিন মাস পরও এই আদেশের প্রভাব মাঠপর্যায়ে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা নিয়মিত জমা পড়ছে না। ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না, কোন ওয়ার্ডে কোন প্রতিষ্ঠান শর্ত ভাঙছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি হয়নি।আদিল মুহাম্মদ খান, নগর–পরিকল্পনাবিদরসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–১–এর আওতায়। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা উত্তরে চাঁদা নেওয়ার লোক পাল্টেছে, ‘অদৃশ্য শক্তির’ বাধাও আছেডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে অনিয়ম ধরা কঠিন। অনেকে রসিদের বাইরে টাকা নিচ্ছেন। এ হিসাব কাগজে থাকছে না। আবার অভিযোগ করলে ময়লা নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায় কি না, এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ময়লা নিতে আসে। নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় এ মাস থেকে তাঁরা নিজেরাই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে রেখে আসছেন।ডিএসসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, তাঁদের ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়।ক্ষমতার ‘আশীর্বাদে’ চলে ময়লা–বাণিজ্যঅবশ্য সব জায়গার চিত্র একই নয়। ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগে তাঁদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে নেওয়া হতো। গত পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্ধারিত ফি যে কার্যকর করা যায়, তেমন নজিরও আছে।ঢাকা সিটির বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে ময়লা নেওয়ার ফি আদায় বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিটতবে মীর হাজীরবাগের বাসিন্দা আরভীন সোনিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তাঁর বাসা থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।মীর হাজীরবাগসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–৫–এর মধ্যে পড়েছে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে। সবকিছু সার্বিক তদারকির মধ্যে আছে। অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ময়লা–বাণিজ্যে আ.লীগের দেখানো ‘বনানী মডেল’ বহালনগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না; ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা–বাণিজ্য চলতেই থাকবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল–পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।’১০০ টাকার বেশি বিল নিলে, নিয়মিত ময়লা না সরালে লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসকময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
খালি পায়ে রোম জয়, যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন আবেবে বিকিলা

খালি পায়ে রোম জয়, যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন আবেবে বিকিলা

আমীরুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমির শোক ও শ্রদ্ধা

আমীরুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমির শোক ও শ্রদ্ধা

দূর-দূরান্ত থেকে এসে জাদুঘরের গেটে অপেক্ষা, খুলবে বিকেল ৩টায়

দূর-দূরান্ত থেকে এসে জাদুঘরের গেটে অপেক্ষা, খুলবে বিকেল ৩টায়

কঙ্গোর স্কুলে আগুন ও পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু
কঙ্গোর স্কুলে আগুন ও পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলনে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি স্কুলে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে একটি বসতিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের একটি বসতিও আগুনে পুড়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বের হওয়ার সময় পদদলন আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। কেউ কেউ বের হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করেন। অনেকে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। অন্য কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ২৯ জন, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তার ক্লিনিকে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। কানিউকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রভিন্সিয়াল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুড়ে গেছে শত শত কাঠের ঘর আগুনে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপগভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে। আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতেও বেশ কয়েকটি কাঠের ঘর পুড়ে যেতে দেখা গেছে। পরে আগুন দুটি স্কুলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণ এখনো অজানা অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফসি/এম২৩। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুকাভুতে আগেও অগ্নিকাণ্ড বুকাভুতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার একটি আগুনে ৪৫টির বেশি ঘর পুড়ে যায়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে বুকাভু ডিআর কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশটির পূর্বাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি সামরিক অভিযান জোরদার করার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সূত্র: আল জাজিরা এমআরএইস/এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ধনিয়াপাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের

ধনিয়াপাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানিতে যা বলল ফিফা

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানিতে যা বলল ফিফা

২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র

২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র

দুই ফুল ও টাঙ্গনপারের উদ্যান
দুই ফুল ও টাঙ্গনপারের উদ্যান

ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) অতিথি নিবাসে সকালেই ঘুম ভাঙে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। দূরে কয়েকটি বুদ্ধনারকেল চোখে পড়ে। মনে পড়ে রংপুর শহরের কথা। প্রায় দুই দশক আগে কাইজেলিয়া দেখতে এসে রংপুর শহরে প্রচুর বুদ্ধনারকেল দেখেছিলাম। বারান্দায় আরও অনেক সুসজ্জিত উদ্ভিদের সমারোহ। বিচিত্র ও বহুবর্ণিল ফুলের উপস্থিতি জানান দিল কেউ একজন বৃক্ষপ্রেমী আছেন এখানে। কিন্তু কে এই মহানুভব পুষ্পপ্রেমী?আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এই ঝটিকা সফরের প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ জানালেন স্বয়ং এই প্রাঙ্গণের অধিপতি ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান একজন বৃক্ষদরদি মানুষ। তাঁর অনুমতি ছাড়া এখানে একটি গাছের পাতাও স্পর্শ করা নিষেধ। তিনি আরও জানালেন, এই পরিপাটি ভবনের প্রতি তলায় সুপরিসর বারান্দায় বিচিত্র পুষ্প-উদ্ভিদের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। ভবনের চারপাশেও অনেক অপ্রচলিত বৃক্ষ রয়েছে। এ তথ্য যে অমূলক নয়, তা রাতেই গাড়িবারান্দার কাছে একটি মুচকুন্দগাছ দেখে বেশ বুঝতে পেরেছিলাম। হাতে খুব বেশি সময় নেই, দ্রুত রেডি হয়ে নিচে নামতে হবে। কিন্তু সময় যত কমই থাকুক বারান্দাগুলো তো একঝলক দেখতেই হবে। আরেক তলা নিচের বারান্দায় উঁকি দিতেই চোখ আটকে গেল একটি ফুলে। ফুলটি চেনা মনে হচ্ছে, দেখতে অনেকটা টাইগার লিলি বা সুখদর্শনের মতো; কিন্তু পাতার রং আর গড়ন তো ভিন্ন! ধাঁধায় পড়লাম। পরে অবশ্য পরিচয় শনাক্ত করেছি। ইংরেজি নাম রেড বগ লিলি। বৈজ্ঞানিক নাম Crinum menehune। আগে কোথাও চোখে পড়েনি।ঝটপট নিচে নেমে এলাম। গাড়িতে উঠব। ঠিক তখনই দেখতে পেলাম দেয়াল ঘেঁষে লাগানো ভিন্ন রঙের এক সারি কলাবতীর ফুল। সচরাচর এই রঙের কলাবতী চোখে পড়ে না। কলাবতীর এই রকমফের অ্যাপ্রিকট ড্রিম নামে পরিচিত। অপ্রচলিত এই দুই ফুল দেখে বেশ চমৎকৃত হলাম। পাশেই পাওয়া গেল পিনাট বাটারগাছ। গাছে ফুল-ফল দুটোই আছে। এই ফুল-ফলের ছবি তোলায় মনোযোগ দিলেন কথাসাহিত্যিক, ভ্রমণলেখক ও অনুবাদক ফারুক মঈনউদ্দীন। আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এসব পাগলামিতে অংশ নিতে তিনিও ঢাকা থেকে এসেছেন। এসব বিশেষ উদ্ভিদের সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকা গেল না। যেতে হবে টাঙ্গন নদীর পারে। সেখানে মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘরে বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণের বিপুল এক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। গত বছর এখানে প্রথম দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতির ২০০ উদ্ভিদ রোপণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর আরও গাছ রোপণ করা হবে। তবে টাঙ্গনপারের বৃক্ষবৃত্তান্ত শোনানোর আগে আপনাদের দুই চমৎকার ফুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানিয়ে রাখি। রেড বগ লিলিলম্বাটে পাতার ঝোপালো এই গাছের নামকরণ করা হয়েছে হাওয়াইয়ের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতি মেনেহুনদের নামে। এ গাছের পাতা গাঢ় মেরুন-লাল রঙের। এক থেকে দুই ইঞ্চি চওড়া এবং ২৪ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। পাতা সাধারণত বিবর্ণ হয় না এবং গাঢ় লালই থাকে। পাতার কোল থেকে গাঢ় লাল ডাঁটায় গোলাপি-লাল রঙের ফুল ফোটে। ফুল লম্বা, দলনলের আগায় ছড়ানো ছয়টি পাপড়ির ওপরটা সাদাটে, নিচের দিক গাঢ় লাল। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম। গাছটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি ছয় ইঞ্চি গভীর পানিতেও জন্মাতে পারে। আবার আশ্চর্যজনকভাবে শুষ্ক অবস্থাও সহ্য করতে পারে। তবে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে উঁচু জমিতেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। লাল পাতার গোলাপি রঙের এই লিলি মূলত একটি আবাদিত জাত। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিগ আইল্যান্ডের ‘হাওয়াই ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের’ শ্যান ক্যালাহান গাছটি প্রবর্তন করেন। এই উদ্ভিদ প্রজাতির নামের উৎস হাওয়াইয়ান পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া যায়, যেখানে মেনেহুনদের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাতা ও ফুলের সর্বোত্তম রং এবং বেশিসংখ্যক ফুল উৎপাদনের জন্য গাছটির পূর্ণ সূর্যালোক প্রয়োজন।ইএসডিওর অতিথি আবাসে অ্যাপ্রিকট ড্রিম কলাবতীঅ্যাপ্রিকট ড্রিম কলাবতীক্যানা বা কলাবতী এমন একটি ফুল, যা বর্ণবৈচিত্র্যের জন্য বেশ সমাদৃত। এই ফুলের বাহারি রঙের শেষ নেই। বহুবর্ণিল অসংখ্য কলাবতীর ভিড়ে যদি নতুন কোনো রং বাগানকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে তাহলে তো অনেক আনন্দ! কলাবতীর এই অ্যাপ্রিকট ড্রিম রকমফের দেখে তেমন আনন্দই অনুভব করেছি। ফুলটির গোলাপি আভার রেশমি পাপড়িগুলো উষ্ণ অ্যাপ্রিকট রঙে আবৃত থাকে। ফুলের মাঝখানে একটি লালচে ছোপ থাকে। এটি পাপড়ির রঙের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে। প্রায় এক মিটার লম্বা নলাকার ডাঁটার শীর্ষে প্রায় পাঁচটি ফুলের গুচ্ছে বড় বড় ফুলগুলো ফোটে। চওড়া আলংকারিক পাতাগুলো গাছটিতে একটি আভিজাত্যপূর্ণ আবহ যোগ করে। অ্যাপ্রিকট ড্রিম উন্মুক্ত সবুজ চত্বর এবং টবে লাগানোর জন্য উপযুক্ত। চমৎকার এই ফুল জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফোটে।কলাবতী মূলত (Canna spp.) কন্দজ গাছ। শীতকালে গাছ শুকিয়ে গেলেও মাটির নিচে কন্দ সতেজ থাকে। গাছ দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। নতুন জাতের গাছ ৪৫ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ছোট জাতের গাছ ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি উঁচু হয় না।টাঙ্গনপারে লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখি সেখানে রীতিমতো উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। কেউ কেউ টুকরিতে করে গাছ নিয়ে আসছে, কেউ গর্ত করছে, কেউ গাছগুলো গর্তের পাশে সাজিয়ে রাখছে। আবার এই স্মরণীয় মুহূর্তের অংশী হতেও অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। কয়েকজন সাংবাদিক এসেছেন। গত বছরের গাছগুলো বেশ তরতাজা হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো গাছে ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। দেখে মন ভরে গেল। আমরা প্রথমেই একটি দুর্লভ পাহাড়ি কদমগাছ রোপণ করি। শান্ত নদীর শীতল হাওয়ায় দুলছে কচি গাছগুলো। গাছের এই মিছিলে যোগ হচ্ছে আরও অনেক নতুন প্রাণ।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের

মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের

0 Comments