ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) অতিথি নিবাসে সকালেই ঘুম ভাঙে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। দূরে কয়েকটি বুদ্ধনারকেল চোখে পড়ে। মনে পড়ে রংপুর শহরের কথা। প্রায় দুই দশক আগে কাইজেলিয়া দেখতে এসে রংপুর শহরে প্রচুর বুদ্ধনারকেল দেখেছিলাম। বারান্দায় আরও অনেক সুসজ্জিত উদ্ভিদের সমারোহ। বিচিত্র ও বহুবর্ণিল ফুলের উপস্থিতি জানান দিল কেউ একজন বৃক্ষপ্রেমী আছেন এখানে। কিন্তু কে এই মহানুভব পুষ্পপ্রেমী?
আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এই ঝটিকা সফরের প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ জানালেন স্বয়ং এই প্রাঙ্গণের অধিপতি ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান একজন বৃক্ষদরদি মানুষ। তাঁর অনুমতি ছাড়া এখানে একটি গাছের পাতাও স্পর্শ করা নিষেধ। তিনি আরও জানালেন, এই পরিপাটি ভবনের প্রতি তলায় সুপরিসর বারান্দায় বিচিত্র পুষ্প-উদ্ভিদের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। ভবনের চারপাশেও অনেক অপ্রচলিত বৃক্ষ রয়েছে। এ তথ্য যে অমূলক নয়, তা রাতেই গাড়িবারান্দার কাছে একটি মুচকুন্দগাছ দেখে বেশ বুঝতে পেরেছিলাম। হাতে খুব বেশি সময় নেই, দ্রুত রেডি হয়ে নিচে নামতে হবে। কিন্তু সময় যত কমই থাকুক বারান্দাগুলো তো একঝলক দেখতেই হবে। আরেক তলা নিচের বারান্দায় উঁকি দিতেই চোখ আটকে গেল একটি ফুলে। ফুলটি চেনা মনে হচ্ছে, দেখতে অনেকটা টাইগার লিলি বা সুখদর্শনের মতো; কিন্তু পাতার রং আর গড়ন তো ভিন্ন! ধাঁধায় পড়লাম। পরে অবশ্য পরিচয় শনাক্ত করেছি। ইংরেজি নাম রেড বগ লিলি। বৈজ্ঞানিক নাম Crinum menehune। আগে কোথাও চোখে পড়েনি।
ঝটপট নিচে নেমে এলাম। গাড়িতে উঠব। ঠিক তখনই দেখতে পেলাম দেয়াল ঘেঁষে লাগানো ভিন্ন রঙের এক সারি কলাবতীর ফুল। সচরাচর এই রঙের কলাবতী চোখে পড়ে না। কলাবতীর এই রকমফের অ্যাপ্রিকট ড্রিম নামে পরিচিত। অপ্রচলিত এই দুই ফুল দেখে বেশ চমৎকৃত হলাম। পাশেই পাওয়া গেল পিনাট বাটারগাছ। গাছে ফুল-ফল দুটোই আছে। এই ফুল-ফলের ছবি তোলায় মনোযোগ দিলেন কথাসাহিত্যিক, ভ্রমণলেখক ও অনুবাদক ফারুক মঈনউদ্দীন। আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এসব পাগলামিতে অংশ নিতে তিনিও ঢাকা থেকে এসেছেন। এসব বিশেষ উদ্ভিদের সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকা গেল না। যেতে হবে টাঙ্গন নদীর পারে। সেখানে মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘরে বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণের বিপুল এক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। গত বছর এখানে প্রথম দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতির ২০০ উদ্ভিদ রোপণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর আরও গাছ রোপণ করা হবে। তবে টাঙ্গনপারের বৃক্ষবৃত্তান্ত শোনানোর আগে আপনাদের দুই চমৎকার ফুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানিয়ে রাখি।
লম্বাটে পাতার ঝোপালো এই গাছের নামকরণ করা হয়েছে হাওয়াইয়ের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতি মেনেহুনদের নামে। এ গাছের পাতা গাঢ় মেরুন-লাল রঙের। এক থেকে দুই ইঞ্চি চওড়া এবং ২৪ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। পাতা সাধারণত বিবর্ণ হয় না এবং গাঢ় লালই থাকে। পাতার কোল থেকে গাঢ় লাল ডাঁটায় গোলাপি-লাল রঙের ফুল ফোটে। ফুল লম্বা, দলনলের আগায় ছড়ানো ছয়টি পাপড়ির ওপরটা সাদাটে, নিচের দিক গাঢ় লাল। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম। গাছটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি ছয় ইঞ্চি গভীর পানিতেও জন্মাতে পারে। আবার আশ্চর্যজনকভাবে শুষ্ক অবস্থাও সহ্য করতে পারে। তবে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে উঁচু জমিতেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। লাল পাতার গোলাপি রঙের এই লিলি মূলত একটি আবাদিত জাত। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিগ আইল্যান্ডের ‘হাওয়াই ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের’ শ্যান ক্যালাহান গাছটি প্রবর্তন করেন। এই উদ্ভিদ প্রজাতির নামের উৎস হাওয়াইয়ান পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া যায়, যেখানে মেনেহুনদের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাতা ও ফুলের সর্বোত্তম রং এবং বেশিসংখ্যক ফুল উৎপাদনের জন্য গাছটির পূর্ণ সূর্যালোক প্রয়োজন।
ক্যানা বা কলাবতী এমন একটি ফুল, যা বর্ণবৈচিত্র্যের জন্য বেশ সমাদৃত। এই ফুলের বাহারি রঙের শেষ নেই। বহুবর্ণিল অসংখ্য কলাবতীর ভিড়ে যদি নতুন কোনো রং বাগানকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে তাহলে তো অনেক আনন্দ! কলাবতীর এই অ্যাপ্রিকট ড্রিম রকমফের দেখে তেমন আনন্দই অনুভব করেছি। ফুলটির গোলাপি আভার রেশমি পাপড়িগুলো উষ্ণ অ্যাপ্রিকট রঙে আবৃত থাকে। ফুলের মাঝখানে একটি লালচে ছোপ থাকে। এটি পাপড়ির রঙের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে। প্রায় এক মিটার লম্বা নলাকার ডাঁটার শীর্ষে প্রায় পাঁচটি ফুলের গুচ্ছে বড় বড় ফুলগুলো ফোটে। চওড়া আলংকারিক পাতাগুলো গাছটিতে একটি আভিজাত্যপূর্ণ আবহ যোগ করে। অ্যাপ্রিকট ড্রিম উন্মুক্ত সবুজ চত্বর এবং টবে লাগানোর জন্য উপযুক্ত। চমৎকার এই ফুল জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফোটে।
কলাবতী মূলত (Canna spp.) কন্দজ গাছ। শীতকালে গাছ শুকিয়ে গেলেও মাটির নিচে কন্দ সতেজ থাকে। গাছ দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। নতুন জাতের গাছ ৪৫ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ছোট জাতের গাছ ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি উঁচু হয় না।
টাঙ্গনপারে লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখি সেখানে রীতিমতো উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। কেউ কেউ টুকরিতে করে গাছ নিয়ে আসছে, কেউ গর্ত করছে, কেউ গাছগুলো গর্তের পাশে সাজিয়ে রাখছে। আবার এই স্মরণীয় মুহূর্তের অংশী হতেও অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। কয়েকজন সাংবাদিক এসেছেন। গত বছরের গাছগুলো বেশ তরতাজা হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো গাছে ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। দেখে মন ভরে গেল। আমরা প্রথমেই একটি দুর্লভ পাহাড়ি কদমগাছ রোপণ করি। শান্ত নদীর শীতল হাওয়ায় দুলছে কচি গাছগুলো। গাছের এই মিছিলে যোগ হচ্ছে আরও অনেক নতুন প্রাণ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কমিটি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই সুপারিশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটিকে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি সেই কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে। জাতীয় কমিটিতে মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালককে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি ও ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে। নির্বাহী কমিটিতে ভূমি, আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনএসআই'র পরিচালককে (সীমান্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম) সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটিতে ডিজিএফআই মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন; পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়নে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। এ কবে থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। পরামর্শক কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স কমিটির চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি কমিটি কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এই দুই কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তী সময়ে অন্য যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থা নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অন্যদিকে, পরামর্শক কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। আরএমএম/এমকেআর
শিখো–প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন উপলক্ষে সাংগঠনিক সভা করেছে পঞ্চগড় বন্ধুসভা। ৯ সেপ্টেম্বর এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় আসন্ন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান পরিচালনা, দায়িত্ব বণ্টন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কার্যক্রম ও প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ ছাড়া পঞ্চগড় বন্ধুসভার পরবর্তী কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন বন্ধুরা।সাধারণ সম্পাদক, পঞ্চগড় বন্ধুসভা
কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর ফের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করে। সূত্র বলছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে এক ইউনিট বন্ধ হওয়ার পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। এতে লোডশেডিং বাড়ছে। আরও পড়ুন আদানির এক ইউনিট বন্ধ, দেশে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্যে দেখা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পিক রাত ৯টায় আদানি থেকে বিদ্যুৎ এসেছে ১৪৩০ মেগাওয়াট। এর দুই ঘণ্টা পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পিকে ৬৯১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে। আজও ৭০০ মেগাওয়াট এর কমবেশি বিদ্যুৎ আসছে। যেখানে বিদ্যুৎ আসতো ১২০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আদানির কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে জাতীয় গ্রিডে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে। কেন্দ্রটির কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে ইউনিটটি দ্রুত চালু করা গেলে উৎপাদন আবার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন ঢাকায় চরম লোডশেডিং, দিনে ও রাতে একাধিকবার থাকছে না বিদ্যুৎ ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে সেখানে। একটি ইউনিট বন্ধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমনিতেই জ্বালানি সংকটকালীন উৎপাদন ধরে রেখে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমায় চাপ আরও বেড়েছে। এনএস/এমকেআর