সড়ক, মহাসড়ক, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিন্না ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৩৪ সদস্যের কারিগরি কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন।
পরিকল্পনা বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে, কমিটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দুই পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় বিন্না ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কিলোমিটারে বিন্না ঘাস রোপণে বাস্তবভিত্তিক কত খরচ হবে, তা–ও যাচাই করবে কমিটি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাস্তা ও বাঁধের দুই পাশে কতটুকু জায়গা ফাঁকা রেখে এবং কত জায়গাজুড়ে বিন্না ঘাস লাগানো যাবে, সে বিষয়ে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। পার্বত্য তিন জেলায় রাস্তার দুই পাশে, লেকের পাড়ে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বিন্না ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
কমিটিতে পানিসম্পদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, সেতু, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম কমিটির সদস্য।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে এটি কার্যকর হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফিলিপাইনের পশ্চিমাঞ্চলের পালাওয়ান দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লেগে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পালাওয়ানের কোরন এলাকার কাছে পানিতে ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’ নামের ফেরিটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর বুধবার রাতেই ৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াবিয়াব ডিজেডএক্সএল রেডিওকে জানান, ফেরিটির যাত্রী তালিকায় ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্যের নাম ছিল। অর্থাৎ ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। উদ্ধার হওয়া এবং নিহতদের সংখ্যা বিবেচনায় ৮০ জনের বেশি মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় নিখোঁজ, উদ্ধার ও হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কায়াবিয়াব। তিনি জানান, ফেরিটি ম্যানিলার বেসেকো এলাকা থেকে ছেড়ে কোরনের দিকে যাচ্ছিল। ফেরিটিতে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনো জানা যায়নি। আগুনের কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। সূত্র: রয়টার্স এমএসএম
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ১৪২। আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ৬ অক্টোবর।চাকরির বিবরণ ১. পদের নাম: উপসহকারী কেমিস্টপদসংখ্যা: ১বেতন স্কেল ও গ্রেড:১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা (গ্রেড–১১)।২. পদের নাম: সিনিয়র টেকনিশিয়ানপদসংখ্যা: ৯বেতন স্কেল ও গ্রেড:১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড–১৪)।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বড় নিয়োগ, পদ ১১২ ৩. পদের নাম: গেইট ইন্সপেক্টরপদসংখ্যা: ১বেতন স্কেল ও গ্রেড:১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড–১৪)।৪. পদের নাম: সুপারভাইজারপদসংখ্যা: ১বেতন স্কেল ও গ্রেড:১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড–১৪)।৫. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকপদসংখ্যা: ৮বেতন স্কেল ও গ্রেড:৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড–১৬)।প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম স্থগিত৬. পদের নাম: মেটল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টপদসংখ্যা: ৪বেতন স্কেল ও গ্রেড:৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড–১৬)।৭. পদের নাম: গোডাউনকিপারপদসংখ্যা: ৪বেতন স্কেল ও গ্রেড:৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড–১৬)।৮. পদের নাম: ড্রাইভারপদসংখ্যা: ৭বেতন স্কেল ও গ্রেড:৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড–১৬)।৯. পদের নাম: স্কিল্ড টেকনিশিয়ানপদসংখ্যা: ৩বেতন স্কেল ও গ্রেড:৯,০০০–২১,৮০০ টাকা (গ্রেড–১৭)।ওয়ান ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, স্নাতক পাসে আবেদন১০. পদের নাম: টেকনিশিয়ানপদসংখ্যা: ১১বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,৮০০–২১,৩১০ টাকা (গ্রেড–১৮)।১১. পদের নাম: নিরাপত্তাকর্মীপদসংখ্যা: ১বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা (গ্রেড–১৯)।১২. পদের নাম: জুনিয়র টেকনিশিয়ানপদসংখ্যা: ২২বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা (গ্রেড–১৯)।১৩. পদের নাম: ফায়ারম্যানপদসংখ্যা: ১বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা (গ্রেড–১৯)।১৪. পদের নাম: টেকনিক্যাল হেলপারপদসংখ্যা: ৫৩বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড–২০)।১৫. পদের নাম: আরদালিপদসংখ্যা: ৭বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড–২০)।১৬. পদের নাম: নিরাপত্তা প্রহরীপদসংখ্যা: ৪বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড–২০)।১৭. পদের নাম: লেবারপদসংখ্যা: ৩বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড–২০)।১৮. পদের নাম: পরিচ্ছন্নতাকর্মীপদসংখ্যা: ২বেতন স্কেল ও গ্রেড:৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড–২০)।আবেদনের নিয়মপরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তি ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন।আবেদন ফি ১ নম্বর পদ: ১৬৮ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)।২ থেকে ৭ নম্বর পদ: ১৬৮ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)।৮ থেকে ১৮ নম্বর পদ: ১৬৮ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)।আবেদনের সময়সীমা আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা।আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা।বিস্তারিত দেখুন এ ঠিকানায়।
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটি মনে করে, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানো হলে সরকারি চাকরির নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়বে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাফিকুজ্জামান ফরিদ। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় বিভিন্ন গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫, ৪০ ও ৫০ করার কথা বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের প্রস্তাবনা অযৌক্তিক ও দুরভিসন্ধিমূলক। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আগে থেকেই সংশয় রয়েছে। অতীতে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তারা বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করবে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি, প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে এসব অনিয়মকে কারণ দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন নেতারা। ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা আরও বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। পড়াশোনা শেষ করে তাদের চাকরির পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বেকারত্বমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও বেকারত্ব নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিবৃতিতে অবিলম্বে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল এবং বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। আরটি/এমকেআর