উপকূলীয় অঞ্চলে সমন্বিত ম্যানগ্রোভ–ভিত্তিক মৎস্য চাষ নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও প্রথম আলো।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বেড়ে চিংড়ির উৎপাদন কমছে। জলবায়ুর সে ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বিকল্প হতে পারে ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষ। উপকূলীয় অঞ্চলে এ পদ্ধতিতে চিংড়ির চাষ হলে চিংড়ির ওপর তাপমাত্রার প্রভাব পড়ে কম। উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের বাইরে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি নীতি কাঠামোর পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলে সমন্বিত ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন জলবায়ু পরিবর্তন, বন ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও প্রথম আলো।
গোলটেবিলের শুরুতে ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের ওপর একটি গবেষণা উপস্থাপন করেন এক্সেমপ্লেরি কনসাল্টিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আজম।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে চিংড়ি চাষে। সনাতন পদ্ধতির চাষে চিংড়ির মৃত্যুহার ৬৪ শতাংশ। ম্যানগ্রোভভিত্তিক চাষে সেটা কমিয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে আসা যায়। খুলনার পাইকগাছায় একটি পরীক্ষায় এ ফলাফল উঠে এসেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১০০ হেক্টর জমিতে এ পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। আগামী ২০ বছরে ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে ম্যানগ্রোভভিত্তিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে গবেষণায়।
ম্যানগ্রোভভিত্তিক এ পদ্ধতি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের বাইরে করার পরামর্শ দিয়ে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, চিংড়িঘের যেখানে আছে, সেখানে কী পরিমাণ মাটির বাঁধ আছে, আগে সেটার একটা প্রকৃত চিত্র (ম্যাপিং) করতে হবে। এ চিত্র পাওয়ার পর কী পরিমাণ ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ করা যাবে, সেটা ঠিক করতে হবে।
প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, চিংড়িঘেরে এ ধরনের ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ একদিকে মাছকে ছায়া দেবে, গাছের পাতা পানিতে পড়ে প্লাংকটনের জোগান বাড়াবে। সব মিলিয়ে চিংড়ির জন্য একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। যেহেতু এখানে কীটনাশক, ফিড ও সারের ব্যবহার হবে কম, ফলে এখানে অর্গানিক চিংড়ির উৎপাদন বাড়বে। তাতে হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট (উচ্চ মূল্যের) হিসেবে চিংড়ির রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ আছে। প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভকে রক্ষা করেই এটা করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি ম্যানগ্রোভভিত্তিক এ পদ্ধতি ভালো ফল দেয়। এখন মাঠপর্যায়ে চাষিদের আগ্রহী করতে হলে এটার দৃশ্যমান ফলাফল দেখাতে হবে।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের উপকূলে যেখানে চিংড়ির চাষ হয়, সেখানে সবগুলো জমি ম্যানগ্রোভ চাষের উপযোগী কি না, সেটা আগে দেখতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের চিংড়ির জোনিং (চিংড়ির জন্য নির্ধারিত অঞ্চল) করতে হবে।’
চিংড়ি একসময় রপ্তানি পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল জানিয়ে মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে রপ্তানিতে চিংড়ি এখন চতুর্থ বা পঞ্চম অবস্থানে। চিংড়িকে রপ্তানির তালিকায় এক নম্বরে নিয়ে উৎপাদন বাড়াতে আমাদের আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তিতে কাজে লাগাতে হবে। এ বিষয়ে মৎস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সকল অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
ম্যানগ্রোভভিত্তিক চিংড়ি চাষ করে সফল হয়েছেন, এ রকম দুজন উদ্যোক্তা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতিকা বালা বৈদ্য ও তুষার কান্তি মন্ডল নিজেদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন গোলটেবিল বৈঠকে।
সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া, কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) সেলিম রেজা হাসান বলেন, ‘ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একদিকে রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড (অভিঘাত–সহনশীল জীবিকা)। একই সঙ্গে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনা। এটার ইমিডিয়েট বেনিফিটটা ধীরে আসে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে লাভ বেশি।’
ম্যানগ্রোভভিত্তিক চাষের মডেলটা অবলম্বন করলে সুন্দরবনের ওপর চাপটাও কমবে বলে মনে করেন তিনি।
গোলটেবিলে এইচএসবিসি ব্যাংক, বাংলাদেশের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা বলেন, ‘আমরা প্রথম ম্যানগ্রোভ বনায়নে অর্থায়ন করি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে। যেহেতু ম্যানগ্রোভ অন্যান্য প্রজাতির গাছের চেয়ে চার গুণ বেশি কার্বন শোষণ করে, আমাদের বৈশ্বিক কৌশল ছিল আমাদের মানবকল্যাণ তহবিল থেকে প্রকৃতি সংরক্ষণ ও ম্যানগ্রোভ বনায়নে তহবিল দেব। ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষে আমরা সলিডারিডাডের সঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করছি।’
মৎস্য অধিদপ্তরের ব্লু ইকোনমি সেলের পরিচালক মো. সাজদার রহমান বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ গাছ থাকলে চিংড়ির জন্য ছায়া ও প্রাকৃতিক খাদ্যের একটা আধার তৈরি হয়। আমাদের উপকূলের একেক এলাকার একেক ধরন। কোন এলাকায় ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষ উপযুক্ত হবে এবং সর্বোচ্চ সুফল আসবে, সেটা নির্ধারণে একটা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার (কৃষি) এ কে ওসমান হারুনী বলেন, ‘গাছ থাকলে মাছ ছায়ায় আশ্রয় নেয়, তাপ কমে। এটা ভালো দিক। তবে আমাদের উন্নত আধুনিক প্রযুক্তিতে যেতে হবে, যেটা মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে ব্যবসাকে যেমন লাভজনক করবে, একই সঙ্গে প্রকৃতির জন্যও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র ডিরেক্টর ও হেড অব স্ট্রাটেজি প্ল্যান অ্যান্ড ক্লাইমেট কাজী এমদাদুল হক বলেন, টেকসই জীবিকা ও ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার এ দুটোর মধ্যে একটা সমন্বয় করতে হবে।
প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দীপু ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের উদ্যোগে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের (নেচার–বেইজড সল্যুশন) সমন্বয় করার তাগিদ দেন।
ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন ও মৎস্য খাতের বিশেষজ্ঞ কানিজ ফাতেমা–তুজ–জোহরা উপকূলে অঞ্চলভিত্তিক লবণাক্ততার মাত্রা নির্ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাকুয়াকালচার ও ভ্যালু চেইন এক্সপার্ট মইন উদ্দিন আহমদ নতুন যে চর জেগে উঠছে, সেখানে ম্যানগ্রোভভিত্তিক মৎস্য চাষের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কের জেরে রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দফায় দফায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে ফুটবল খেলা নিয়ে বিকেলে দুই কিশোরের মধ্যে তর্ক হয়। সংঘর্ষে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হওয়া খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আরও পড়ুন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী / বিএনপি কেবল কথা বলার দল নয়, কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটা থেকে স্বল্পনোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শুরু হয়। খেলা চলাকালীন নতুন হাবেলিপাড়া গ্রামের এক কিশোর স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের এক কিশোরকে মারধর করে বলে অঅভিযোগ উঠে। এর জের ধরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে চালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ছুটে আসেন জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা। এ সময় ইটের ঢিলের আঘাতে আহত হয়েছেন সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। এই ঘটনায় তারা দুজনসহ আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। সংঘর্ষ থামাতে বিএনপি নেতা আনোয়ার মাস্টার মাইক হাতে অনুরোধ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাও আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এনএইচআর
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার রেকর্ডসংখ্যক পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন জমা পড়ে। পুনর্নিরীক্ষণের পর প্রকাশিত ফলাফলেও রেকর্ড ফল হয়েছে। এবার সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৫৬ হাজার ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, এর আগে কোনো বছর এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেনি। এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এএএইচ/ইএ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়। বিস্তারিত আসছে... এএএইচ/বিএ