বাংলাদেশের একমাত্র লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। মাঝেমধ্যে টি-টুয়েন্টি সংস্করণে হলেও লিগটা মূলত ৫০ ওভারের ম্যাচেরই। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বাকি তিন স্তর প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটেও হতো শুধু ৫০ ওভারের আসরই।
তবে আগামী মৌসুম থেকে এই ধারায় বদল আসছে। এখন থেকে প্রতি মৌসুমেই প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ লিগে ৫০ ওভারের সংস্করণের পাশাপাশি একটি করে টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে সিসিডিএম।
প্রথম বিভাগে ২০টি এবং দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগে ২৪টি করে দল নিয়ে আগের মতোই ৫০ ওভারের লিগ হবে। ৫০ ওভারের লিগের শীর্ষ ৮ থেকে ১০টি দল নিয়ে প্রতিটি লিগে হবে একটি করে টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এ ছাড়া ৭০টি দল নিয়ে হতে যাওয়া তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্ট হবে শুধু টি-টুয়েন্টি সংস্করণেই।
বর্তমান সময়ের টি-টুয়েন্টিমুখী চিন্তার সঙ্গে তাল মেলাতেই এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন সিসিডিএমের প্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী, ‘আমরা চেয়েছি টি-টুয়েন্টির ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করতে। এখন তো সব জায়গায়ই টি-টুয়েন্টি। প্রিমিয়ার লিগ যেসব ক্রিকেটাররা খেলে, তারা ঘরোয়ায় আরও টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্ট পায়। আমরা চাই নিচের স্তরগুলোর ক্রিকেটাররাও যেন নিজেদের প্রমাণ করার একটা প্ল্যাটফর্ম পায়।’
৫০ ওভারের ম্যাচের লিগের জন্য বিসিবি আগে থেকেই ঢাকার ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়ে আসছে। আলাদা অনুদান থাকবে টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্যও।
নভেম্বরে প্রথম বিভাগ লিগ দিয়ে শুরু হবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট, এরপর হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ। এই তিন বিভাগের ক্লাবগুলোর সেরা পারফরমারদের দিয়ে সিসিডিএম কাপ আয়োজন করতে চায় বিসিবি। তবে সেটি এই মৌসুমে না–ও হতে পারে।
গত বছর ক্লাবগুলোর বয়কটের কারণে প্রিমিয়ার লিগ পিছিয়ে শুরু হয়েছিল এপ্রিলে। এবার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিই শুরু হবে লিগ। আম্পায়ারিং বিতর্ক এড়াতে লিগে ডিআরএস রাখারও পরিকল্পনা আছে বিসিবির।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আম পাকে বৈশাখে—এ ধারণা বদলে দিয়েছে কাটিমন। বৈশাখ পেরিয়ে ভাদ্রও শেষের পথে, তবু বাজারে পাকা কাটিমনের সরবরাহ আছে; আশ্বিনেও থাকবে। বছর দুয়েকের মধ্যে সারা বছরই দেশের বাজারে পাকা কাটিমন পাওয়া যেতে পারে। বিলম্বিত জাতের আম হিসেবে এরই মধ্যে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়। রাজধানী থেকে দেশের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সুদর্শন ও মোটামুটি সুস্বাদু এই আম দ্রুত বাজার দখল করছে। অচিরেই কাটিমন দেশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।দ্রুত বাজার দখলজুলিয়াস সিজার পন্টাস রাজ্য জয় করে বলেছিলেন, ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। আক্ষরিকভাবে না হলেও দেশের আমের বাজারে কাটিমনের আগমনের প্রভাব অনেকটা তেমন। রূপে ক্রেতার মন, স্বাদে রসনা এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাজার—সবই জয় করেছে কাটিমন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কাটিমন উৎপাদিত হয়, যা মোট আম উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।আমের বার্ষিক উৎপাদনে তারতম্য থাকে। বেশি ফলনের বছরকে বলা হয় ‘অন সিজন’; পরের ‘অফ সিজনে’ ফলন প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন কমে যায়। মোটাদাগে দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। শীর্ষে থাকা আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।এই হিসাব শিগগিরই বদলে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক (হর্টিকালচার) কৃষিবিজ্ঞানী মো. মেহেদী মাসুদের ভাষ্য, কাটিমনের উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। বাংলাদেশে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষের প্রচলনকারী হিসেবে পরিচিত মেহেদী মাসুদ এখন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এর আগে এক দশকের বেশি সময় তিনি ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ছিলেন। তখন তাঁর উদ্যোগেই কাটিমনের চাষ শুরু হয়। গত রোববার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তাঁর সঙ্গে কাটিমনের বাণিজ্যিক উৎপাদন, গুণমান ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তাঁর কাছ থেকেই দেশে আম উৎপাদনের এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।গাছে ধরে আছে কাটিমন আম। নওগাঁর সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার বাগান থেকে তোলাবারোমাসি আমের খোঁজকাটিমন থাইল্যান্ডের একটি বারোমাসি আম; এটি হাইব্রিড নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৪ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে জাতটি চাষ করে। সফলভাবে চারা উৎপাদন ও গাছে মুকুল আসার পর ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে চারা উৎপাদন এবং চাষিদের নিবিড় প্রশিক্ষণ শুরু হয়।বারোমাসি আম নিয়ে মেহেদী মাসুদের ভাবনা অবশ্য আরও আগের। ২০০২ সালে এফএও, কমনওয়েলথ ও গাম্বিয়া সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় একটি কৃষি গবেষণা প্রকল্পে তিন বছর কাজ করতে তিনি গাম্বিয়ায় যান। সেখানে তিনি দেখেন, বাংলাদেশে মোট ফলের ৬০ শতাংশ মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে এবং বাকি আট মাসে ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। তখনই সারা বছর ফলের উৎপাদন বাড়ানোর ভাবনা থেকে তিনি ‘বছরব্যাপী ফল চাষ’ নামে একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় বছরে প্রায় ১০ মাস আম হয়। এ দেশের জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম প্রথম হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে সফল ও বারোমাসি একটি জাত খুঁজছিলেন।দেশে ফিরে মেহেদী মাসুদ দুটি বারোমাসি জাতের সন্ধান পান। ‘বরিশালী বারোমাসি’র রং সুন্দর হলেও আকার ছোট, ফলন কম এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ছিল না। কুমিল্লায় পাওয়া ‘নীলুদ্দিন’ কুমিল্লা ও নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেও সাফল্য মেলেনি। নোয়াখালীতে এক উদ্যোক্তার বাণিজ্যিক বাগানও সফল হয়নি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ‘বারি-১১’ জাতটির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, পরিচর্যা বেশি লাগে এবং আমের নিচের অংশ কিছুটা টক। তাই এটিও বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। শস্য বা ফসলের তুলনায় ফলদ গাছের গবেষণায় সময় বেশি লাগে। ফলে প্রায় ২০১০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও কোনো জাতই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।সফল হলো কাটিমনরাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি দোকান থেকে কাটিমন আম কিনছেন এক ক্রেতা। ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের সুপারশপে প্রথম কাটিমন দেখেন মেহেদী মাসুদ। আমটি দেখতে চমৎকার; সুপারশপে বিক্রি হওয়ায় নিম্নমানের হওয়ার শঙ্কাও ছিল না। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, এটি থাইল্যান্ডের বিশ্বমানের একটি বারোমাসি জাত—ঠিক যে ধরনের আম তিনি খুঁজছিলেন। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।২০১৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে কাটিমনের দুই হাজার চারা আনা হয়। এর আগে কয়েকটি বাণিজ্যিক নার্সারি চারা আনলেও বাণিজ্যিকভাবে প্রচলন হয়নি। আমদানি করা চারা থেকে মাতৃগাছ তৈরি করে ২০১৬ সালে দেশের ৬৪ জেলার হর্টিকালচার সেন্টারে ১০টি করে রোপণ করা হয়। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার আমচাষি আবুল কাশেম পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন চাষ করে সফল হন। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ৫০ হাজার চাষিকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ থেকে এক একর জমিতে ‘বাণিজ্যিক ফলবাগান’ নামে প্রদর্শনী বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় সাত হাজার বাগান গড়ে ওঠে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।কাটিমনের ফলন ও সম্ভাবনা দেখে চাষিদের আগ্রহ বাড়ে। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সাংবাদিক শাইখ সিরাজের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে মেহেদী মাসুদ কাটিমন চাষের পদ্ধতি তুলে ধরেন—কখন মুকুল ভাঙতে হবে, শাখায় কতটি পাতা রাখতে হবে এবং কী সার দিতে হবে। ছাদবাগান পরিচর্যার কয়েকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করে এর আগেই তিনি ‘গাছের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কাটিমন নিয়ে অনুষ্ঠানটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁরা উৎসাহ নিয়ে চাষে নামেন। ২০২৩ সাল থেকে কাটিমন বাজারে উঠতে শুরু করে। এখন সারা দেশে এর বিস্তারই চাষিদের আগ্রহের প্রমাণ।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।নওগাঁর সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার বাগানে কাটিমন আমের চাষ করা হচ্ছে ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো এভাবেই ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়চাষ, ফলন ও লাভকাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হয় দুইভাবে। ‘গ্রাফটিং’ পদ্ধতিতে কলমের চারা রোপণ করলে ভালো পরিচর্যায় ছয় মাসেই মুকুল আসে। তবে গাছের বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফলনের জন্য অন্তত দুই বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙে দিতে হয়। মুকুল রাখলে গাছের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি ‘টপ ওয়ার্কিং’; এতে বড় গাছের শাখা কেটে সেখানে কাটিমনের কলম জুড়ে দেওয়া হয়।কাটিমনে বছরে অন্তত দুবার ফলন হয়। দুই বছর বয়সী গ্রাফটিং কলমের গাছে প্রতিবার প্রায় ২০ কেজি করে বছরে ৪০ কেজি আম ধরে। বয়সের সঙ্গে ফলন বাড়ে। প্রতি বিঘায় ১০০টি গাছ রোপণ করলে মোট ফলন হয় প্রায় চার হাজার কেজি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে দাম দাঁড়ায় প্রায় আট লাখ টাকা। সব খরচ বাদে পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা ধরলেও বিঘাপ্রতি আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কাটিমন ছাড়া এখন কোনো ফলে এত আয় হয় না। এটাই এর দ্রুত সাফল্যের মূল কারণ।ক্ষেত্রবিশেষে কাটিমনের গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ভালো ফলন দেয়। বিশেষ পরিচর্যা না করলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্বাভাবিক মুকুল আসে। বারোমাসি ফলনের জন্য এই মুকুল ভেঙে দিতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে আসা মুকুলের ফলন হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে—এখন বাজারে থাকা আম এই ফলন। জুন-জুলাইয়ে আবার মুকুল এলে ফলন হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। অক্টোবরের শেষে আসা মুকুলের ফলন হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। তবে ভালো ফলন ও গাছের স্বাস্থ্যের জন্য চাষিরা পরিকল্পনা করে বছরে দুবার ফলন নেন। সঠিক পরিকল্পনায় সারা বছরই কাটিমন বাজারে পাওয়া সম্ভব।কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।পাকা কাটিমনের রং সোনালি হলুদ। তবে রং দেখে বিভ্রান্তি হতে পারে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়। সরাসরি সূর্যের আলো না পাওয়ায় কাঁচা অবস্থায়ও অন্য আমের মতো গাঢ় সবুজ হয় না; হলদে আভা থাকে। সুপক্ব আম পুরোপুরি সোনালি হলুদ। ভালো মানের তিনটি কাটিমনে এক কেজি হয়; গড় ওজন ৩৯৬ গ্রাম। বেশি লাভের আশায় ছোট অবস্থায় পেড়ে আনা আমের স্বাদ পানসে হয়। কাটিমনের শাঁস সোনালি হলুদ, আঁটি খুব পাতলা এবং স্বাদ মিষ্টি; তবে আম্রপালির চেয়ে কিছুটা কম। আম্রপালির মিষ্টতা ২৬ ব্রিকস, কাটিমনের ২০ ব্রিকস।কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।কাচা কাটিমন আম বাজার ও ভবিষ্যৎকাটিমনের বাজার এখন বেশ ভালো। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ফলের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার মোড়, ফুটপাত ও ভ্যানগাড়ি—সবখানেই অন্যান্য মৌসুমি ফলের সঙ্গে এটি বিক্রি হচ্ছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের ফল বিক্রেতা দেলোয়ার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি কাটিমন বিক্রি হয়। সবচেয়ে ভালো মানের তিনটি আমে এক কেজি হয়; বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয়টি ধরে—এমন ছোট আমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বড় দোকানের বাইরে ভ্যান বা ফুটপাতে ১৬০ টাকা কেজির আমগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের—আকারে ছোট ও কম মিষ্টি, তবে টক নয়। কাঁচা কাটিমনও খুব টক নয়।অনলাইনেও কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ভালো মানের আম পৌঁছে দিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ী শাহিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রাজধানীর পাইকারি বাজার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে কাটিমন পাঠান। তাঁর নিজের বাগান রোহনপুরে। নিজের বাগানের পাশাপাশি অন্য বাগানির কাছ থেকেও আম সংগ্রহ করেন। এখন প্রতিদিন প্রায় এক ট্রাক কাটিমন বিক্রি করেন।কাটিমনের দ্রুত বিস্তার দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী প্রজাতি হয়ে উঠবে কি না। মেহেদী মাসুদ বলেন, কাটিমন নিয়ে বলতে গেলে যুদ্ধ হয়েছে। কৃষিবিদদের দূরদর্শী চিন্তার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজাতির সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এখন বিশ্বায়নের যুগ, প্রযুক্তিরও বিস্তার ঘটছে। যেখানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে, মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেবে। আজ বা কাল কাটিমনের মতো জাত আসবেই। এর ইতিবাচক গুণগুলো নিয়ে নিজস্ব জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ করে নতুন ভালো জাত উদ্ভাবন করতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ধনকুবের ইলন মাস্ক। তিনি কি সত্যিই একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা, নাকি নিজের তৈরি গল্প ও প্রভাবের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করা প্রতারক এক ‘কনফিডেন্স ম্যান’? এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’। প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রটি ২০২৬ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে ব্যবসা, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ- বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাস্কের বিপুল প্রভাব এবং তার ব্যক্তিজীবনের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্যচিত্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গিবনি বলেন, তিনি বুঝতে চেয়েছেন ‘মাস্ক আসলে কী খেলা খেলছেন।’ দীর্ঘদিন ধরে মাস্ককে নিয়মভাঙা প্রতিভাবান উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা হলেও তার আচরণ, রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন এবং ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অনেককেই বিভ্রান্ত করেছে। গিবনির ভাষ্য, মাস্কের গল্প তার আগের কিছু আলোচিত চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। এনরন কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও তিনি মাস্কের গল্পের মিল খুঁজে পেয়েছেন। নির্মাতার দাবি, মাস্কের অনেক বক্তব্যের মধ্যেই ‘অবাস্তবতার ছাপ’ রয়েছে। তার ভাষায়, মাস্কের গল্প অনেকটা পুরোনো কনফিডেন্স ম্যান বা শেয়ারবাজারে অতিরঞ্জিত প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের গল্পের মতো। ইলন মাস্কের ‘কাল্ট’তথ্যচিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাস্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া এক ধরনের ‘কাল্ট’। টেসলার ভক্তদের উচ্ছ্বাস থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা MAGA সমর্থকদের সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠতা। সবই তুলে ধরা হয়েছে এতে। মাস্কের সিলিকন ভ্যালির শুরুর সময় থেকে শুরু করে স্পেসএক্স ও টেসলার উত্থান এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ডানপন্থি রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার সম্পর্ক, সবকিছুরই ধারাবাহিক বিশ্লেষণ রয়েছে তথ্যচিত্রে। গিবনি মনে করেন, মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাস্তববাদী ও স্বার্থনির্ভর দিক রয়েছে। তার দাবি, মাস্কের অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তথ্যচিত্রে টেসলার বহুল প্রচারিত অটোপাইলট প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোও আলোচনায় এসেছে। একইভাবে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা DOGE-এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির ফটোসেশনে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ও জো শিফার। - রয়টার্স মাস্ক অবশ্য তথ্যচিত্রটিকে আগে থেকেই ‘হিট পিস’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণাত্মক কাজ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এতে অংশ নেওয়ার জন্য গিবনির আহ্বানও গ্রহণ করেননি। ব্যক্তিজীবনও আলোচনায়ইলন মাস্কের ব্যক্তিজীবনও বাদ যায়নি এই তথ্যচিত্রে। তার একাধিক সম্পর্ক এবং অন্তত ১৪ সন্তানের বাবা হওয়ার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে। মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিনও তথ্যচিত্রে কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে মাস্কের ক্রমবর্ধমান সন্তানসংখ্যাকে অনেকটা ‘অ্যাসেম্বলি লাইন’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মাস্কের সাবেক প্রেমিকা ও তার এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও তথ্যচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সম্পর্কের অবসানের পর মাস্কের কাছ থেকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। সেন্ট ক্লেয়ার আরও বলেন, একসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনীতির প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এখন সেই ভূমিকার জন্য তার অনুশোচনা রয়েছে। মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ ব্যবহারের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তার মতে, মাস্কের বিতর্কিত মন্তব্যগুলো এমন বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সবশেষে গিবনি বলেন, তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রে ইলন মাস্ক থাকলেও এই গল্পে সমাজের সবাই কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তার মতে, মাস্কসহ প্রযুক্তিখাতের বড় বড় ধনকুবেরকে বিপুল ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ সমাজই তৈরি করে দিয়েছে। এলআইএ
শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব কে পালন করবেন—এ নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দলটির ভেতরে নতুন করে নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে। সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সক্রিয়তা ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও আস্থার সংকটের কথাও জানা যাচ্ছে। তবে দলটির মুখপাত্র বলছেন, নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকট বা দ্বন্দ্ব নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল জানিয়েছে, তাদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতিমন্ডলীর জ্যেষ্ঠতম সদস্য শেখ সেলিম দায়িত্ব পালন করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর শেখ সেলিমকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে বিরোধিতা ও সংকট তৈরি হয়েছে বলে আভাস দিচ্ছে। ভারতের কলকাতায় অবস্থান করা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এই ধরনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে দলটির সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিবে মিল্লাতকে। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, ‘শেখ হাসিনা দলের সভাপতি। তিনি দেশে ফেরার কথা বলেছেন। এখানে অন্য কাউকে নেতৃত্ব দেওয়া বা এ ধরনের কোনো আলোচনা দলীয় পরিমণ্ডলে হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’ আরও পড়ুন দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকার / শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম ভারত থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি নেই শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলছেন, দলের নেতৃত্ব নিয়ে ‘সংকট বা দ্বন্দ্বের কোনো প্রশ্নই নেই, কারণ আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্রের বাইরে কিছু হয় না’। ‘শেখ হাসিনা সভানেত্রী আছেন ও থাকবেন। কোনো পরিবর্তন বা নতুন সিদ্ধান্ত হলে সেটির একমাত্র ফোরাম দলের কাউন্সিল। এখন যা প্রচারণা হচ্ছে পুরোটাই গুজব,’ বলেছেন আরাফাত। তবে কলকাতায় অবস্থান করা দলটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, শেখ সেলিমকেই ভবিষ্যতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে- এমন কিছু শেখ হাসিনা না বললেও সেলিম সম্প্রতি যে দলে সক্রিয় হয়েছেন তা নিয়েই দলের মধ্যে অসন্তোষ আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলছেন, আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকে দুই ভাগে হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও ইতিহাস আছে। ‘নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক না হলে ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দল খুঁজে নিতে না পারলে নেতৃত্বের সংকট তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি। আরও পড়ুন দেশে দণ্ডিত, বিদেশে সুরক্ষিত: শেখ হাসিনা ও আসাদের মধ্যে যত মিল শেখ হাসিনার অনুষ্ঠান নিয়ে মুখ খুলল ভারত সরকার দলের ভেতরে কী হচ্ছে কলকাতায় অবস্থান করা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনাসহ যেসব নেতা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে শুরুতে অনেক দিন পারস্পারিক যোগাযোগ ছিল খুবই কম। পরে ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার তৎপরতাতেই দলের একটি অংশ কলকাতায় থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকে পূর্ব কলকাতার টেংরা এলাকায় বসবাস করা দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বাসাতেই সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়মিত বৈঠক হয়ে আসছিল। মূলত এসব বৈঠকে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কলকাতায় সক্রিয় নেতারা নিয়মিত যোগ দিয়ে আসছিলেন। কখনো কখনো এসব বৈঠকে ভার্চুয়ালি শেখ হাসিনাও অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এ মুহূর্তে সভাপতিমণ্ডলীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম কলকাতার নিউটাউন এলাকায় বসবাস করলেও তিনি দলীয় এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এমনকি দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কলকাতা যাওয়ার পরেও অনেকদিন দলীয় কোনো বৈঠকে অংশ নেননি বা নিতে পারেননি। পরে ভার্চুয়াল সভাগুলোতে শেখ হাসিনাই তাকে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন। আরও পড়ুন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জাহেদ উর রহমান / হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে অনড় সরকার, ভারতের কাছে প্রত্যাশা ‘মুখ বন্ধ রাখা’ এখন সম্প্রতি শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হলে তিনি কিছু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন এবং তিনি সিনিয়র হওয়ার কারণে বৈঠকগুলো তার নিউটাউনের বাসাতেই হয়েছে- এমন ধারণাই পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়েও দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ আছে বলে দলের সূত্রগুলো জানাচ্ছে। কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ‘শেখ সেলিম তো গত প্রায় দুই বছর এখানেই ছিলেন। কিন্তু দলের কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত হননি। এর আগেও দল ক্ষমতায় থাকার সময়েও তিনি বহু বছর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন না। আবার তার একাধিক আত্মীয় তারেক রহমানের মন্ত্রিসভাতেই আছে। ফলে তাকে নিয়ে একটা আস্থার সংকট আছেই।’ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত গত মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন যে, ‘শেখ হাসিনা নেতৃত্ব ইস্যুতে দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি বলেছেন মাত্র। শেখ হাসিনা যোগ দেননি এমন কিছু বৈঠকে শেখ সেলিম সভাপতিমণ্ডলীর সিনিয়র সদস্য হিসেবে কিছু বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। দলের নেতৃত্ব নিয়ে সংকট বা দ্বন্দ্বের কোনো প্রশ্নই নেই, কারণ আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্রের বাইরে কিছু হয় না।’ হাবিবে মিল্লাত বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যে কাউকেই দায়িত্ব দিতে পারেন। তবে এখন দলের প্রস্তুতির বিষয় হলো শেখ হাসিনার ফেরা এবং তিনিই দলের সভাপতি আছেন। এর বাইরে আর কোনো আলোচনা দলের ভেতরে হয়েছে বলে জানি না।’ আরও পড়ুন শেখ হাসিনার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডিসেম্বরের হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ: আসিফ মাহমুদ এরইমধ্যে বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লেটার হেড প্যাডে তার নাম ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে যা ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক’। যে প্রেস বিজ্ঞপ্তির কথা তিনি লিখেছেন, সেটার একটি ছবিও সঙ্গে যুক্ত করা হয় যেখানে লেখা রয়েছে যে, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগে বিরোধ নতুন কিছু? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলছেন, মূল নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব নিয়ে সংকটের উদাহরণ আওয়ামী লীগে আগেও আছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দল হিসেবে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল আওয়ামী লীগ। নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (মিজান) ও আওয়ামী লীগ (মালেক) নামে ভাগ হয়ে অংশ নিয়েছিল। মূলত নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণেই শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় ১৯৮১ সালে, যদিও তিনি তখনও বিদেশেই নির্বাসনে ছিলেন। কিছু নেতা দলটিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় তাকে আওয়ামী লীগের প্রধান করা হয়। এমনকি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরেও দীর্ঘদিন দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিরোধ ছিল অনেকটাই স্পষ্ট। তখন দলের অন্যতম নেতা আব্দুর রাজ্জাক আলাদা রাজনৈতিক দল বাকশাল সক্রিয় রেখেছিলেন। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছিলেন। আরও পড়ুন শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, যা বললেন আইনমন্ত্রী সাহস থাকলে দেশে আসুন, শেখ হাসিনাকে দুলু এরপর ক্রমান্বয়ে দলটিতে শেখ হাসিনার একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে দলটিতে সংস্কার ইস্যুতে আবারো নেতৃত্বের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখন শেখ হাসিনা জেলে থাকা অবস্থায় দলের ভেতরে সংস্কার ইস্যুতে সামনে এসেছিলেন কয়েকজন সিনিয়র নেতা। যদিও তাদের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, যা দলে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ব আরও সুদৃঢ় করে। এরপর ২০০৯ সালের সংসদ নির্বাচনে দল ক্ষমতায় এলেও ওই সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভায় নেননি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর্যন্ত তিনিই ছিলেন দলটির একক নেতা। তিনিই তার মতো করে দলের সাংগঠনিক কাঠামো সাজিয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরেও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি দলের ভেতর থেকে। তবে দ্য ওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শেখ সেলিমের নাম আনায় দলের ভেতরে অসন্তোষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ‘নেতৃত্ব যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত না হয়, তা হলে যে কোনো সময়েই এ নিয়ে দ্বন্দ্ব, সংকট বা গ্রুপিং তৈরি হতে পারে। আওয়ামী লীগে যদি শেখ সেলিমের বিষয়টি সত্য হয়, তাহলে তা নিয়েও সংকটের আশঙ্কা থাকাটাই স্বাভাবিক,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা এমএমএআর