জাতীয়

চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে
চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। দলের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

এনসিপি নেতারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসার পর নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাবো না।’ এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসিত ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তাদের অভিযোগ, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘শিরোধার্য’ হিসেবে মেনে নেওয়া কমিশনের স্বাধীন ভূমিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারের প্রভাব ও চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। এতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম নিশ্চয়তাও নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতারা।

আরও পড়ুন

ইউপি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: ইসি সচিব

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ।

এনসিপি আরও অভিযোগ করে, সরকার দলের নির্বাচনি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলটি বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি নির্বাহী বিভাগের সামনে নতি স্বীকার করে কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার মতো অবস্থানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

আরও পড়ুন

মীর শাহে আলম / ইউপি ভোটের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে কিছু জানে না সরকার

বিবৃতিতে দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো ‘মেরুদণ্ডহীন’ ও সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নেবে না। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালিত করার পথে এগোয়, তাহলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এনএস/এমআইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিইউএফএল চালুর দুই দিনের মাথায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ
সিইউএফএল চালুর দুই দিনের মাথায় আবার সার উৎপাদন বন্ধ

টানা ছয় মাস গ্যাস–সংকটের কারণে বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু চালুর দুই দিনের মাথায় আবারও কারখানাটির ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি বন্ধ করে দিতে হয়। কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম।সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানাটিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়। এরপর গত মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। দুই দিন পর আজ ভোর চারটার দিকে আরসি পাম্পের সিল লিকেজ দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।কারখানার কর্মকর্তারা জানান, আরসি পাম্পের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ আগামী শনিবার পর্যন্ত কম থাকবে। এ কারণে ত্রুটি মেরামত হলেও শনিবারের আগে সিইউএফএলে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না।সিইউএফএল চালু থাকলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৩৮ হাজার টাকা হিসাবে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে কারখানাটি।সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত দুই বছরে কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, আবার কখনো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মাত্র পাঁচ দিন কারখানাটি চালু ছিল। এরপর ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ১৩ অক্টোবর আবার উৎপাদন শুরু হয়।তবে ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামতের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে কারখানাটি চালু করা হয়। এরপর প্রায় দেড় মাস চালু থাকার পর ১১ এপ্রিল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।সূত্র জানায়, এরপর টানা প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ২ নভেম্বর কারখানাটি চালু করা হয়। কিন্তু চালুর দিনই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ২ মার্চ আবার উৎপাদন শুরু হলেও গ্যাস–সংকটের কারণে ৪ মার্চ কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবশেষে টানা ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু দুই দিনের মাথায় আজ ভোর চারটার দিকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।সিইউএফএল সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র ৬৫ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে।সিইউএফএলে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কারখানাটি পুরোপুরি গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।সিইউএফএল সূত্র জানায়, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন কারখানাগুলো, সিইউএফএলসহ প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করে। চাহিদার বাকি প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয়।সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। চালুর সময় কারখানাটির দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক ৫ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে কারখানাটি।এ ছাড়া দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন ও বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে সিইউএফএলের।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মাকসুদ কামাল নজরদারিতে আছেন, দেশে থাকলে পালানোর সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

মাকসুদ কামাল নজরদারিতে আছেন, দেশে থাকলে পালানোর সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন, কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল রাজউক

কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন, কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল রাজউক

প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের মাঝে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এডিস মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন বাড়ছে এডিস মশার প্রকোপ? নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন? বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে—

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মেঘনায় ধরা পড়ল ৭ মণের শাপলা পাতা মাছ, বিক্রি ৯০ হাজারে

মেঘনায় ধরা পড়ল ৭ মণের শাপলা পাতা মাছ, বিক্রি ৯০ হাজারে

বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

বাংলা কিউআরে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন বিক্রেতা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল

খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ শেষে স্লেজিং (কটুকথা) ও জয় উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফুটবল দলের গোলরক্ষক।শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ম্যাচের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পায়। এ সময় দুই বিভাগের দর্শকদের মধ্যে স্লেজিং নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রাফসান আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়েরা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদ্‌যাপন করছিলাম। তখন তাঁদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের একজনের হাতে থাকা ইটের আঘাতে আমাদের ডিফেন্ডার জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিক্যালে নেওয়া হয়েছে।’ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।তবে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, পেনাল্টি শুটআউটের সময় গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগ জয়ী হওয়ার পর গ্যালারি থেকে তাঁদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। বিষয়টি জানাতে গেলে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। এতে তাঁদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন।শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা বেগম (টুকটুকি) বলেন, মারামারি শুরু হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।’এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
৫০০ কুমিরের আবাস, সেই ফিটজরয় নদীতেই অলিম্পিকের রোয়িং

৫০০ কুমিরের আবাস, সেই ফিটজরয় নদীতেই অলিম্পিকের রোয়িং

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য জমা পড়েছে কোন ৫ সিনেমা

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য জমা পড়েছে কোন ৫ সিনেমা

হাতিয়ায় জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের বিক্রিনিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ

হাতিয়ায় জেলেদের জালে ৭ মণ ওজনের বিক্রিনিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ

0 Comments