সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এডিস মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন বাড়ছে এডিস মশার প্রকোপ? নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন? বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে—
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর তিন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ। হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৪৮ ও অন্যান্য খবর শুনুন অডিও সংবাদে…
১৯৯৮ সালে পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন, যা ২০১১ সালে তিনি মারা গেলেও শোধ হয়নি। ২৮ বছর পর, ৪৫ বছর বয়সী ছেলে কাঞ্চন শিকদার বাবার সেই অসমাপ্ত দায় শোধ করতে পাওনাদারকে খুঁজছেন। রণজিত ঘোষের ওয়াইজঘাটের ‘প্রদীপ ভান্ডার’ ১০ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর খোঁজ মিলছে না। কাঞ্চন বলেন, ‘বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’
রাস্তার মাঝখানে রোড ডিভাইডারে সবুজ গাছপালা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। তবে আজকাল কিছু রিলসে অন্য রকম এক দৃশ্য দেখা যায়। রোড ডিভাইডারের খালি জায়গায় কেউ লাগিয়েছেন ডাঁটাশাক, লাল-সবুজ শাক, আবার কেউ লাগিয়েছেন মরিচ কিংবা টমেটো।রাস্তার পাশের দোকানদারেরা নিয়মিত এসব গাছের যত্ন নেন। উৎপাদিত সবজি তাঁরা যেমন নিজেরা খান, তেমনি বাজারে বিক্রিও করেন। বিষয়টি একটু অদ্ভুত হলেও এখন অনেকেই এমনটা করছেন। কারণ, শহরে নিজেদের ইচ্ছামতো চাষবাস করার মতো ফাঁকা জায়গা খুব একটা মেলে না। তাই অনেকে রাস্তার মাঝের খালি কিংবা পরিত্যক্ত জায়গাগুলোকেই চাষের জন্য বেছে নিচ্ছেন। তবে এমন ঘটনা যে শুধু আমাদের দেশেই ঘটছে, তা কিন্তু একেবারেই নয়।যুক্তরাজ্যেও এখন শহরের নানা ফাঁকা জায়গায় ফল ও সবজি ফলানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লন্ডনে তো এখন বাসস্টপের খালি জায়গায় পর্যন্ত খাদ্য ফলাচ্ছেন স্থানীয়রা। দিনে দিনে শহরাঞ্চলে নিজেদের খাবার নিজে ফলানোর আগ্রহ বেশ বাড়ছে।তবে জার্মানির ‘আন্ডারনাখ’ শহরের উদ্যোগটি সবচেয়ে চমকপ্রদ। তারা শহরের পার্ক ও চত্বর থেকে শুধু সৌন্দর্য বাড়ানো গাছপালা কেটে ফেলে সেখানে ফলমূল ও সবজির বাগান বানিয়ে ফেলেছে।চ্যাটজিপিটিতে সেলফি আপলোড করা কতটা নিরাপদএক বছর তাঁরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ৪০০ জাতের ভিন্ন ভিন্ন টমেটো ফলায়। মানুষ তা খেয়ে রং, স্বাদ আর আকারের চমৎকার পার্থক্য বুঝতে পারতনগরবাসীরা কীভাবে নিজেদের খাবার নিজেরাই ফলাবেনপ্রথম বিশ্বযুদ্ধের অনেক আগে থেকেই জার্মানির মানুষের মধ্যে শহরে কৃষিকাজ করার ধারণাটি রয়েছে। ২০১০ সালে গড়ে ওঠা ‘আন্ডারনাখ’ শহরটি খাদ্য উৎপাদনকারী শহর হিসেবে সবচেয়ে বড় উদাহরণ। গাজর আর রঙিন ফুলে সাজানো এখানকার সুন্দর রাস্তাঘাট দেখতে এখন বহু পর্যটক ভিড় জমান।প্রকল্পটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও বাগান প্রকৌশলী হাইকে বুমগার্ডেন জানান, চতুর্থ বছরে পা দিয়ে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো শহরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ফসল তোলা ও বাগানের যত্নের সময় সবাই একসঙ্গে জড়ো হন এবং নানা নতুন বুদ্ধি শেয়ার করেন। চমৎকার পরিবেশ আর পারস্পরিক বন্ধনের কারণেই স্থানীয়রা এই শহরে থাকতে ভালোবাসেন। এখানে ৮ হাজার বর্গমিটার জায়গায় সবজি চাষ হয়। এ ছাড়া শহরের পাশে ১৩ হেক্টর সরকারি জমিতে হাঁস-মুরগি, গরু, ভেড়া পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল ফলানো হয়। দীর্ঘদিন বেকার থাকা মানুষজন এসব খামারের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন।সাধারণত শহরের বিনোদনকেন্দ্র বা পার্কে এমন সব গাছ লাগানো হয়, যা নষ্ট হয় না এবং বহু বছর টিকে থাকে। দেখতে সবুজ হলেও এগুলো প্রায় তেমন কোনো কাজে আসে না। তাই পার্কে সেইসব গাছ কমিয়ে সবজিগাছ লাগানো হয়। সবজি চাষ কিন্তু পার্কের গাছের মতো নয়। এর জন্য দরকার নিয়মিত যত্ন ও সঠিক পরিকল্পনা। তা না হলে সঠিক সময়ে ফলন নাও মিলতে পারে।দাবানল থামাতে ছাগল যেভাবে কাজ করেবিনা মূল্যে তাজা সবজি ও ফলের শহর আন্ডারনাখআন্ডারনাখ শহরে নানা ধরনের শাকসবজি, ফল ও ফুলের চাষ যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি দেখতেও খুব সুন্দর। স্থানীয় মানুষজন নিজেরাই সামনে এসে উৎসাহের সঙ্গে এই কাজে অংশ নেন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা শহরটিকে সুন্দর রাখতে সব সময় নতুন নতুন পরিকল্পনা করছেন।তাঁদের একটি নতুন উদ্যোগ হলো ‘দ্য বিগ বি প্রজেক্ট’। এর আওতায় তাঁরা বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে মিলে মধু তৈরির উপযোগী গাছ ও মৌচাক বসাচ্ছেন। পাশাপাশি শিশুদের চাষবাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চালকের ট্রেলারে করে একটি ভ্রাম্যমাণ স্কুল-বাগান বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শহরের মাঝখানে ফাঁকা জমি কম থাকায় তাঁরা চমৎকার একটি বুদ্ধি বের করেন। বাড়ির দেয়ালে আঙুরলতা লাগিয়ে দেওয়া। আঙুরলতাগুলো অনেক দিন বাঁচে, দেখতে সুন্দর লাগে এবং খুব কম পরিচর্যাতেই প্রচুর ফল দেয়। শুরুতে শহরের বাসিন্দারা ভাবতেন রাস্তার গাছ বা ফল সব সরকারের, তাই তাঁরা হাত দিতেন না। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ প্রবেশ নিষেধ সাইনবোর্ড সরিয়ে সেখানে লিখে দেয়, নিঃসংকোচে ছিঁড়ে নিয়ে খান।শুধু খাবার ফলানোই নয়, মানুষকে বিভিন্ন জাতের উদ্ভিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল তাঁদের বড় উদ্দেশ্য। এক বছর তাঁরা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ৪০০ জাতের ভিন্ন ভিন্ন টমেটো ফলায়। মানুষ তা খেয়ে রং, স্বাদ আর আকারের চমৎকার পার্থক্য বুঝতে পারত। অন্য এক বছর বিভিন্ন ধরনের শিম চাষ করা হয়। যার মধ্যে স্প্যাগেটি বিনের মতো মজার জাতও ছিল। একইভাবে আরেক বছর সাজানো হয়েছিল হরেক পদের স্ট্রবেরি দিয়ে।শহরের মধ্যযুগীয় এক পুরোনো দুর্গের পরিখাতেও এখন নানা পদের সবজি চাষ হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বাগানের রূপও বদলে যায়, যা দেখতে সারা বছর একই রকম থাকা সাধারণ গাছের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এ ছাড়া শহরের বাইরের বড় খামার থেকে উৎপাদিত সবজি, ফল, ডিম ও মাংস কম দামে নিজেদের দোকানে বিক্রি করা হয়।জার্মানির পাশাপাশি ব্রিটেনেও এখন এমন নগর কৃষির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ইনক্রেডিবল এডিবলের মতো সংস্থাগুলো লিডস ও ব্রিস্টলের মতো শহরগুলোতে সবাইকে নিয়ে যৌথভাবে ফলমূল ও সবজি চাষের বড় বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য টেলিগ্রাফচাঁদের পাশে শুক্র গ্রহ কেন দেখা গেল