শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলায় ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ পড়া মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর ঘোষণা দিয়েছেন, এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলার তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করবেন। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মার্কিন শিল্পী ফিনিয়াস, ড্যানিশ শিল্পী লুকাস গ্রাহাম, ব্রিটিশ-আইরিশ সংগীতশিল্পী অ্যারন রো এবং আইরিশ ব্যান্ড বিওগাও ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান। এসবের মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ দানের এই ঘোষণা দিলেন ম্যাকলমোর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত বুধবার দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ম্যাকলমোর জানান, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া তাঁর পুরো ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করবেন। অর্থ যাবে ছয়টি সংগঠনের কাছে—প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি ও আনেরা। পোস্টে ম্যাকলমোর বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটেছে, তারপর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনের মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘যে বিষয়েই আমাদের মতপার্থক্য থাকুক না কেন, অন্তত এ বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি যে ফিলিস্তিনের মানুষের জীবন রক্ষা করা জরুরি। পৃথিবীর অন্য যেকোনো মানুষের জীবনের চেয়ে একজন ফিলিস্তিনির জীবনের মূল্য কম নয়।’ তিনি আরও বলেন, আলোচনার কেন্দ্রে তিনি নিজে থাকতে চান না। তাঁর মনোযোগ থাকবে সেই বাবা-মায়েদের দিকে, যাঁরা সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন অথচ চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সেখানে নেই; চিকিৎসক, প্যারামেডিক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের দিকে, যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।ম্যাকলমোর শুধু নিজের অর্থ দানের ঘোষণা দিয়েই থামেননি। তিনি ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়াম ও আমেরিকান ফুটবল দল নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটকেও সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। ম্যাকলমোরের এই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফটের পক্ষ থেকে নতুন ঘোষণা আসে। তাঁকে ফোন করে মানবিক সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলার দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এড শিরান বলেও জানান ক্রাফট। শিরান ও ক্রাফট মিলে মোট ৪০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই অর্থ কোন কোন সংগঠনের হাতে যাবে, তা ম্যাকলমোরের অনুদানের মতো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। ক্রাফট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, সব মানুষের জীবন রক্ষা করা উচিত।’ ফিলিস্তিনিদের জন্য কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।শিরানের সমালোচনায় রজার ওয়াটার্সম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন ব্রিটিশ ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স। ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সরব এই সংগীতশিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে ম্যাকলমোরের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ‘এড হু’ শিরোনামের ভিডিওতে এড শিরানের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে। একধরনের মানুষ ‘সঠিক কাজটি করেন’, উদাহরণ হিসেবে তিনি ম্যাকলমোরের কথা বলেন। এরপর আছেন অন্য ধরনের মানুষ, যাঁরা ‘সঠিক কাজটি করতে পারেন না’। ‘সঠিক কাজটি করতে পারেন না’ বলে রজার শিরানের দিকে ইঙ্গিত করেন।ম্যাকলমোর। রয়টার্স ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারকাদের বিভাজন নতুন নয়ম্যাকলমোরের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তারকাদের বিভাজন কয়েক বছর ধরেই স্পষ্ট। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হলিউড ও সংগীতাঙ্গনের বহু তারকা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলেছেন। কেউ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন, কেউ গাজায় মানবিক সহায়তার দাবি তুলেছেন, আবার কেউ ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন।ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে মেক্সিকান অভিনেত্রী মেলিসা বারেরাকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে স্ক্রিম ৭ থেকে বাদ দেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে গাজাকে ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ ও ‘জাতিগত নির্মূল’ বলার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। স্পাইগ্লাস জানায়, তাদের ‘ইহুদিবিদ্বেষ ও ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’ নীতি রয়েছে। বারেরা অবশ্য বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা আর ইহুদিবিদ্বেষ এক না। ঘটনাটি তখন হলিউডে বড় বিতর্ক তৈরি করে। কারণ, বারেরা ছিলেন ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর বাদ পড়ার পর পরিচালক ক্রিস্টোফার ল্যান্ডনও প্রকল্পটি ছেড়ে দেন।অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন বহু বছর ধরেই রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যুতে সরব। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁর ট্যালেন্ট এজেন্সি ইউটিএ তাঁকে বাদ দেয়। তাঁর বক্তব্য নিয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও ওঠে। সারান্ডন পরে নিজের একটি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়া—দুটিরই বিরোধিতা করার কথা বলেন। তবে তাঁর ক্ষেত্রে বিতর্ক সেখানেই থামেনি। সদ্য শেষ হওয়া ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সারান্ডন জানান, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থানের কারণে এখনো তিনি সিনেমার কাজ হারাচ্ছেন। তাঁর দাবি, হলিউডের বড় স্টুডিওগুলো ইসরায়েলের সমালোচনা করেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করতে অনীহা দেখাচ্ছে।ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বলার পর শুধু অভিনেতারাই পেশাগত চাপে পড়েননি। এড শিরান। রয়টার্স হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী এজেন্সি সিএএর এজেন্ট মাহা দাখিলও বিতর্কে পড়েছিলেন। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করার পর তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে সিএএর নেতৃত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।ব্রিটিশ-আলবেনীয় পপ তারকা দুয়া লিপাও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলপন্থী মহল থেকে সমালোচনা আসে।ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মডেল বেলা হাদিদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগ, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলেছেন বেলা। ২০২৪ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিলিস্তিনি পাতাকার কেফিয়াহ পরে আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন সময়ে তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। সুসান সারান্ডন। এএফপি অ্যাভেঞ্জার্স তারকা মার্ক রাফালোও গাজা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তিনি যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অভিনেতা ও কমেডিয়ান র্যামি ইউসুফও ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব। ২০২৪ সালের অস্কারে তিনি ‘আর্টিস্ট ফর সিজফায়ার’ লেখা পিন পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। ওই প্রচারণার মূল দাবি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি।স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম ২০২৪ সালের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার গ্রহণের সময় গাজায় যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানান। পরেও বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে অনেকবারই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান, তারপর এড শিরানের সফরে যা ঘটল ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’ ও ‘স্নো হোয়াইট’ অভিনেত্রী র্যাচেল জেগলারও প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লিখেছেন। তাঁর এই অবস্থান বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কারণ, ‘স্নো হোয়াইট’-এ তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ইসরায়েলি অভিনেত্রী গাল গ্যাদত।ফিলিস্তিনপন্থী তারকাদের বিপরীতে বহু হলিউড তারকা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানান। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর সাত শতাধিক হলিউড অভিনেতা, নির্মাতা ও বিনোদনজগতের ব্যক্তিত্ব একটি খোলাচিঠিতে হামাসের হামলার নিন্দা এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির দাবি জানান। এই তালিকায় ছিলেন গাল গ্যাদত, মাইকেল ডগলাস, মার্ক হ্যামিল, জেমি লি কার্টিস, হেলেন মিরেন, জেরি সাইনফেল্ড, ক্রিস পাইন, জ্যাকরি লেভিসহ আরও অনেকে। অভিনেত্রী-কমেডিয়ান অ্যামি শুমারও ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মার্কিন নাগরিকদের। সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের কারণে দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ সতর্কতা জারি করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আরও পড়ুন মক্কার দক্ষিণে ড্রোন হামলা, সৌদির হুঁশিয়ারি একই সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্থানীয় আইন নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু এলাকায় ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। পাশাপাশি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে হুথিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পাইপলাইন বন্ধ / সৌদির তেল ফুরিয়ে যেতে পারে কয়েক দিনের মধ্যেই সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুথিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। তবে, ড্রোনটি দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় পবিত্র মক্কা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও (ওআইসি) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি ঘটনাটিকে গুরুতর হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এজন্য হুথিদের দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব এদিকে, হুথিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন হয়। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর লোহিত সাগরপথে তেল পরিবহন নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভ্রমণ সতর্কতা এখনো ‘লেভেল ৪—ভ্রমণ করবেন না’ পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে সৌদি আরব। এর মধ্যেই দেশটির মদিনা অঞ্চলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ ১১ কোটি টন কাঁচামালের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জাতীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে। দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পারমাণবিক শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও শিল্পের প্রসারের কারণে বিশ্বে জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। আরও পড়ুন সৌদি আরবে হুথিদের হামলা, লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম প্রিন্স বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে বিনিয়োগও অব্যাহত রেখেছে দেশটি। এসব সম্পদ কাজে লাগিয়ে পারমাণবিক শক্তিসহ একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে সৌদি আরব জানান প্রিন্স আজিজ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে না দেশটি। বরং নিজেদের পারমাণবিক জ্বালানি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ খাতে অংশীদারদের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে। এদিকে, মাত্র দুই মাস আগেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি একটি ‘বেসামরিক পারমাণবিক’ সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে দেশটি। গত ২২ জুলাই সই হওয়া ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনায় রয়েছে। আরও পড়ুন ইয়েমেনে তাইজের দিকে এগোচ্ছে সরকারি বাহিনী, বাড়ছে মানবিক সংকট তবে, সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো কিছু গোপন করা হচ্ছে না বলেও জানান প্রিন্স আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, এটি পাহাড়ের গভীরে বা বাঙ্কারে লুকানো কোনো কর্মসূচি নয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও মানদণ্ড মেনেই পারমাণবিক শক্তিকে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, নিজেদের খনিজ সম্পদও আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাইছে সৌদি আরব। এ জন্য খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করার পাশাপাশি নতুন নতুন বিরল খনিজের মজুত খুঁজে বের করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি। একই সঙ্গে, এসব সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রিন্স আবদুল আজিজ। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি এমডিআরএইচ/