আন্তর্জাতিক

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

Jamil Saxona সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, মহাকাশে তাদের অস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি (বাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা) ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন,‘বরাবরের মতো আজও আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত থাকি।’

মেইঙ্ক আরও বলেন, ‘এ কারণেই এখন স্পেস ফোর্সের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যেটি শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম। প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে মেইঙ্ক নিজের ওই বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু জোর দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন ‘খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে’।

ট্রয় মেইঙ্কের বরাতে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।

মেইঙ্ক বলেন, ‘শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকেও ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে সেগুলো গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইটকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।

গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সময় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের চালু করা স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকল্পটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।

গোল্ডেন ডোম কর্মসূচির বিষয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পাশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস, ওয়াশিংটন ডিসি, ২০ মে ২০২৫

রিগ্যানের উচ্চাভিলাষী এ কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিত্যক্ত হয়। এ কর্মসূচির অধীন প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।

গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

গত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনাকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ বলে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘গোল্ডেন ডোম’ কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।

২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া—এ চার দেশ স্যাটেলাইট–বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সফলভাবে সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। সে সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

আন্তর্জাতিক

View more
ইমরান খানের জন্য মানবিক আবেদন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের
ইমরান খানের জন্য মানবিক আবেদন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাত অধিনায়কের

পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে তাঁর এই বন্দিজীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক।পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁরা ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’।চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন।নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।ওরা বাবাকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলতে চায়: শঙ্কা ইমরান খানের দুই ছেলেরচলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানের সাবেকদের মধ্যে জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।The Australian government has been urged to contact Pakistan officials over the treatment of cricket legend Imran Khan, with his detention labelled a “matter of basic humanity”.LATEST ▶️ https://t.co/yHPnt6QaQz pic.twitter.com/Gyx7zlo73m— CODE Cricket (@codecricketau) September 15, 2026 অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।ইমরানের পক্ষে দাঁড়িয়ে হোল্ডিং বললেন, ‘কেউ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে না’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কাল হলো গায়কের

ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই কাল হলো গায়কের

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার কি ‘স্টার ওয়ার্স’ শুরু করবে দেশটি

মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব

মদিনায় বিপুল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, জানাল সৌদি আরব

এমিতে না গিয়েও টেলর সুইফটের চমক, টম ক্রুজের সঙ্গে দেখা গেল তাকে
এমিতে না গিয়েও টেলর সুইফটের চমক, টম ক্রুজের সঙ্গে দেখা গেল তাকে

এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে ছিলেন না টেলর সুইফট। তবে অনুষ্ঠানে তাকে নিয়ে ছিল বিশেষ চমক। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে স্বামী ট্রাভিস কেলসির দল কানসাস সিটি চিফসের খেলা দেখতে দেখা গেছে তাকে। সেখানে তার সঙ্গী ছিলেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ। ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এমি অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে মারিসকা হারগিটের উপস্থাপনায় ‘ল অ্যান্ড অর্ডার: স্পেশাল ভিকটিমস ইউনিট’র আদলে একটি বিশেষ হাস্যরসাত্মক পর্ব প্রচার করা হয়। সেটি আগে ধারণ করা হয়েছিল। ওই পর্বে টেলর সুইফটকে দেখা যায়, যদিও তিনি সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। পর্বটিতে মূলত টেলর সুইফট এমিতে আসবেন কি না, তা নিয়েই মজা করা হয়। মারিসকা হারগিটে ধারাবাহিকটির চরিত্র অলিভিয়া বেনসন হিসেবে হাজির হয়ে বলেন, টেলর সুইফটের ভক্তরা তার প্রতিটি কাজের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত খুঁজে নেন। এরপর সুইফটও সেই মজায় যোগ দিয়ে নানা ইঙ্গিত ও সম্ভাবনার কথা বলেন। এদিকে এমি অনুষ্ঠানের সময়ই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে দেখা যায় সুইফটকে। সেখানে তিনি তার স্বামী ট্রাভিস কেলসির দল কানসাস সিটি চিফসের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ দেখতে যান। চিফসের প্রতিপক্ষ ছিল ডেনভার ব্রঙ্কোস। এটি বিয়ের পর কেলসির কোনো ম্যাচে সুইফটের প্রথম উপস্থিতি। সুইফটের পাশের আসনে ছিলেন টম ক্রুজ। দুজনকে পাশাপাশি বসে কথা বলতেও দেখা যায়। এই উপস্থিতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টেলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি ২০২৩ সাল থেকে সম্পর্কের কারণে আলোচনায়। গত গ্রীষ্মে তাদের বিয়ের খবরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর কেলসির খেলার মাঠে সুইফটের উপস্থিতি নতুন করে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এদিকে এমিতে না থাকলেও অনুষ্ঠানে সুইফটের সেই বিশেষ পর্বটি দর্শকদের জন্য ছিল বড় চমক। ফলে একই রাতে একদিকে এমির পর্দায় সুইফটের উপস্থিতি, অন্যদিকে মাঠে টম ক্রুজের সঙ্গে তার ছবি। দুই ঘটনাতেই আলোচনায় উঠে আসেন এই সংগীত তারকা।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন মামদানি

ট্রাম্পের ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন মামদানি

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত

ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

একটি কালো পোশাক। অথচ ফ্যাশনের ইতিহাসে এর গল্প শুধু পোশাকের মধ্যে আটকে নেই। রাজপরিবারের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক মুহূর্ত এবং নিজের উপস্থিতি দিয়ে নীরব বার্তা দেওয়ার সাহস-সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পোশাকটি। প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত কালো পোশাক, যা পরবর্তীকালে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়, এবার আবারও আলোচনায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে সদবি’স । প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর দাম উঠতে পারে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯ ডিসেম্বর। যে রাত বদলে দিয়েছিল পোশাকটির গল্প সময়টা ১৯৯৪ সাল। স্থান লন্ডন। সন্ধ্যার কিছু আগে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স চার্লস তার ক্যামিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। ঠিক সেই সন্ধ্যাতেই লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রিন্সেস ডায়ানা। রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সেদিন তাঁর উপস্থিতি এমনিতেই ছিল আলোচনার বিষয়। কিন্তু ডায়ানার পোশাক সেই আলোচনাকে নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। তার পরনে ছিল ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের নকশা করা একটি কালো, স্ট্র্যাপবিহীন সিল্কের সান্ধ্য পোশাক। পোশাকটির কাটিং ছিল শরীরের সঙ্গে মানানসই, আর নকশায় ছিল সেই সময়ের প্রচলিত রাজকীয় পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ভাব। কালো রঙ, খোলা কাঁধ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সব মিলিয়ে ডায়ানাকে সেদিন অন্যরকম লাগছিল। পরে ফ্যাশন দুনিয়ায় পোশাকটির নাম হয়ে যায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাক যখন হয়ে ওঠে বার্তা ডায়ানার স্টাইল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বারবার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন-তিনি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য পোশাক বেছে নিতেন না। তার পোশাক অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস কিংবা পরিস্থিতির প্রতি তার অবস্থানও প্রকাশ করত। সদবি’স-এর হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের গ্লোবাল হেড মর্গেন হালিমির ভাষ্যেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। তার মতে, ডায়ানা বুঝতেন ফ্যাশনকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই রাতের পোশাকটিও যেন তারই একটি উদাহরণ। ডায়ানা সেদিন কোনো বক্তব্য দেননি, কিন্তু তার পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে যে বিপুল আলোচনা তৈরি হয়, তা প্রমাণ করে ফ্যাশন কখনো কখনো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। দ্বিতীয়বার নিলামে কালো সেই পোশাক পোশাকটির নিলামের ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজের পোশাকের একটি বড় সংগ্রহ নিলামে তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই নিলামে মোট ৭৯টি পোশাক বিক্রি হয়। ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টি তখন প্রায় ৫২ হাজার ৯১৭ মার্কিন ডলারে কিনে নেন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিগ ও গ্রেম ম্যাকেঞ্জি। দীর্ঘদিন তাদের সংগ্রহে থাকার পর এবার পোশাকটি আবার নিলামের বাজারে ফিরছে। এবার পোশাকটির মালিক গ্রেম ম্যাকেঞ্জি সেটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক পর ফের নতুন কোনো সংগ্রাহকের হাতে যেতে পারে ফ্যাশন ইতিহাসের এই আলোচিত পোশাক। শুধু পোশাক নয়, থাকছে স্মৃতিও নিলামে পোশাকটির সঙ্গে বিক্রি হবে আরও একটি বিশেষ স্মারক। ডায়ানা ও ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর করা ১৯৯৭ সালের নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও থাকবে এর সঙ্গে। আরও পড়ুন দুরে ফিশানের উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা হলেও তার স্টাইলে মুগ্ধ দর্শক   নিলামের আগে পোশাকটি সরাসরি দেখার সুযোগও পাবেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে প্রদর্শনীর পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। এরপর ডিসেম্বরের নিলামে উঠবে সেই ঐতিহাসিক কালো পোশাক। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ এডিনবরা হাসপাতালের জন্য দেওয়া হবে। আরও পড়ুন ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা ডায়ানা হয়তো জানতেন না, সেই এক সন্ধ্যার পোশাক একদিন ফ্যাশনের ইতিহাসে এত বড় গল্প হয়ে উঠবে। কিন্তু তিন দশক পরও তার কালো পোশাকটি প্রমাণ করছে- ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও নীরব প্রতিবাদের ভাষাও। সূত্র: বিবিসি এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

0 Comments