প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটির (এবিসি) যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে শুরু হয়েছে উপস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শিরোনামে কর্মশালার প্রথম সেশন অনুষ্ঠিত হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এতে ‘সংবাদ উপস্থাপনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন স্টার নিউজের জ্যেষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপক ফারাবী হাফিজ। এই লেখা তাঁর বক্তব্যের প্রতিলিপি। সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।
বাংলাদেশে বিটিভি যখন শুরু হয়, তখন বিটিভিতে যাঁরা খবর পড়তেন, তাঁদের একধরনের লিগেসি তৈরি হয়েছে। তাঁদের হাত ধরেই বাংলাদেশে সংবাদ উপস্থাপনার কয়েকটি মডিউল তৈরি হয়েছে। যাঁরা খবর পড়েন, তাঁরা পার্টটাইম, ফুলটাইম কিংবা চুক্তিভিত্তিক—এই তিন ধরনের ব্যবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন।
বিটিভির ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি, কেউ সরকারি চাকরি করেন, কেউ ডাক্তার, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ আবার শিক্ষার্থী। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তখন থেকেই মিডিয়ায় কাজ শুরু করি। সুতরাং আপনি যদি শিক্ষার্থী হন, আপনার জন্যও এখানে দারুণ সুযোগ আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করতে পারেন।
নিউজ প্রেজেন্টেশন কেন শিখবেন
নিউজ প্রেজেন্টেশন সাংবাদিকতারই একটি অংশ। সারা দিন যা ঘটে, সেসব বিষয়ে একটু চোখ বোলানো, একটু বোঝা—এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সারা দিন ফেসবুকে আছেন, অথবা আপনার ফোনে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, যুগান্তর, সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর আসছে। ফেসবুক ফিডেও আপনি জানতে পারছেন আজকে এটা ঘটছে, ওটা ঘটছে। অর্থাৎ তথ্য সম্পর্কে আপনি সমৃদ্ধ হচ্ছেন, আপনি জানছেন।
যখন আপনি ঘটনা সম্পর্কে জানেন, তখন সেটা ডেলিভার করতে কোনো অসুবিধা হয় না। খবর পড়তেও সুবিধা হয়।
তবে শুধু টেলিভিশনের উপস্থাপক হওয়ার জন্যই উপস্থাপনা শেখার দরকার নেই। আপনি উপস্থাপনা শিখবেন নিজের জন্য, চাকরির জন্য, কমিউনিকেশন দক্ষতা বাড়ানোর জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য কিংবা বিসিএসের ভাইভার জন্য। সব জায়গাতেই উপস্থাপনার দক্ষতা দরকার।
উপস্থাপক হতে কী লাগে
এমন যোগ্যতা যদি আপনার থাকে যে আপনি স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন, আপনার প্রতিটি শব্দ বোঝা যায় এবং আপনি কমিউনিকেট করার যোগ্যতা রাখেন, তাহলে টেলিভিশনে উপস্থাপক হওয়ার জন্য আপনার অনেকটাই প্রস্তুতি হয়ে যায়।
কমিউনিকেশন শুধু মুখ দিয়ে হয় না। আপনার হাত, চোখ, নাক, কান, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও আপনি কমিউনিকেট করেন।
আপনি যদি বাংলা দেখে পড়তে পারেন, স্টোরি টেলিং কীভাবে করতে হয়, একটা গল্প কীভাবে বলতে হয়—এটা যদি বোঝেন; একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন, খারাপ অবস্থায় আমার মুখের অভিব্যক্তি কেমন হবে, ভালো অবস্থায় মুখের অভিব্যক্তি কেমন হবে, বাংলাদেশ জিতে গেলে কেমন হবে—এ ধরনের বিষয় সামান্য বুঝতে পারলেও এই পেশা আপনার জন্য।
উপস্থাপকদের জন্য আমরা মূলত দুটি বিষয় অনুসরণ করি—এক. ভার্বাল কমিউনিকেশন, দুই. নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন।
ভার্বাল কমিউনিকেশন: উচ্চারণ ও কণ্ঠ
ভার্বাল কমিউনিকেশন হচ্ছে মূলত আপনার কথার মাধ্যমে যোগাযোগ। এখানে শুদ্ধ উচ্চারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে আপনার কথা পৌঁছাতে হবে। তাই প্রমিত বাংলায় কথা বলতে হবে। এই জায়গাটি ঠিক করতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়।
আমরা কমিউনিকেশনে মোটাদাগে কয়েক ধরনের যোগাযোগ করি। একটি হচ্ছে ইন্ট্রাপারসোনাল কমিউনিকেশন; ইন্টারপারসোনাল কমিউনিকেশন; গ্রুপ কমিউনিকেশন; সোশ্যাল কমিউনিকেশন ও মাস কমিউনিকেশন।
মাস কমিউনিকেশন হচ্ছে টেলিভিশন বা পত্রিকার মাধ্যমে যোগাযোগ। সোশ্যাল কমিউনিকেশন হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার যোগাযোগ। গ্রুপ কমিউনিকেশন হচ্ছে একসঙ্গে একাধিক মানুষ বসে আছি, এর মধ্যে আমি কথা বলছি।
তবে ইন্টারপারসোনাল কমিউনিকেশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা হচ্ছে, আমি এই মুহূর্তে ঠিক আপনার সঙ্গে কথা বলছি। আপনি যদি আমার চোখের দিকে তাকানোর পর কোনো একটা কারণে মনে করেন, ‘না, আমি তার কথা বুঝতে পারছি না, আমি কানেক্ট করতে পারছি না’, তাহলে এটাকে কমিউনিকেশন ফেইলিওর বলা হয়। এটাকে ডিজঅর্ডার বা নয়েজও বলা হয়।
সুতরাং আপনাকে সবার আগে প্রমিত উচ্চারণ ঠিক করতে হবে। আর যদি আপনার এক্সট্রা-অর্ডিনারি কণ্ঠ থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। তবে সাধারণ ভয়েসেও খবর পড়া যায়।
কণ্ঠ সুন্দর ও স্পষ্ট করার অনুশীলন
ভয়েস সুন্দর করার কিছু ব্যায়াম আছে। ইউটিউবে খুঁজলে এসব ব্যায়াম পাবেন। নিশ্বাস বড় করা, ঠোঁটকে ফ্লেক্সিবল করা, জিবের আড়ষ্টতা কমানো—এসব অনুশীলন করতে হবে।
আপনি যে স্পষ্ট কথা বলতে পারেন না, তার একটি কারণ জিবের আড়ষ্টতা। এই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে।
জিবকে যদি আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারেন, ঠোঁটকে যদি কথা শোনাতে পারেন, তখন আপনি আপনার কণ্ঠকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন।
উচ্চারণ ঠিক রাখতে আমি এখনো প্রতিদিন কবিতা আবৃত্তি করি। আমি প্রতিদিন পত্রিকা পড়ি। জোরে জোরে পড়ি। জোরে জোরে পড়লে ভয়েসটা খোলে।
অডিশনের প্রস্তুতি
আমি ১৬টা সিভি দেওয়ার পর একটি টেলিভিশনে অডিশন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।
সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসলে এটাই—আপনি স্পষ্ট উচ্চারণ করে কথা বলতে পারেন কি না। চেহারা যেমনই হোক, মেকআপ করে হয়তো আপনাকে আরেকটু সুন্দর বা গ্রহণযোগ্য করে তোলা যাবে; কিন্তু স্পষ্টভাবে কথা বলার দক্ষতা আপনাকেই তৈরি করতে হবে।
অডিশন দেওয়ার আগে আপনাকে একটি স্ক্রিপ্ট দেওয়া হবে। সেই স্ক্রিপ্ট ভালোভাবে পড়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনাকে এর পেছনে লেগে থাকতেই হবে। কারও ক্ষেত্রে এক মাস, কারও ক্ষেত্রে তিন মাস, কারও ক্ষেত্রে ছয় মাস সর্বোচ্চ সময় লাগতে পারে।
নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন। শব্দ ছাড়া স্ক্রিনের সামনে একজন উপস্থাপকের যা কিছু আছে, সবই নন-ভার্বাল কমিউনিকেশন।
হাত নাড়াচাড়া করা, চুল, পোশাকসহ আপনার শরীর ও মুখের অঙ্গভঙ্গি—সবকিছুই নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনের অংশ। আপনাকে দেখে মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়। আপনি কথা না বলেও অনেক কিছু বলতে পারেন।
নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনে জড়সড় হওয়া যাবে না। হাত সব সময় খোলা রাখতে হবে। কোন সময়ে হাত কোথায় থাকা দরকার, কোন সময় কপালটা কুঁচকানো দরকার, কোন সময় কাঁধ নাড়ানো দরকার—এসব কিছু আপনাকে কমিউনিকেট করে। আপনার আত্মবিশ্বাস কমায় অথবা বাড়ায়। হাত খোলা রাখাকে বলে ‘ওপেন পালম থিওরি’।
কীভাবে নিজেকে দেখাবেন এবং কীভাবে দেখাবেন না—একজন ভালো কমিউনিকেটর হিসেবে আপনার এই বোধটুকু থাকতে হবে। কমিউনিকেশনের ব্যাপারটাই হচ্ছে কীভাবে মানুষের ভেতরে ঢুকতে হয়। মানুষকে কানেক্ট করতে পারতে হবে।
নিউজ প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে হাত খোলা রাখতে হবে। পা দুটি কাছাকাছি না রেখে একটু ফাঁকা করে দাঁড়াতে হবে। এভাবে দাঁড়ালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
নন-ভার্বাল কমিউনিকেশনে সবচেয়ে বড় আয়না বা টুলস আপনার চোখ। আপনি যদি মিথ্যা বলেন, দর্শক বুঝে ফেলবে। তাই তথ্যটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডেলিভারি দিতে হবে।
ক্যামেরার সামনে কীভাবে উপস্থাপন করবেন
টেলিভিশনে ইন্টারভিউতে প্রথমে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা হয়। আপনাকে জানতে হবে।
দ্বিতীয় পরীক্ষাটি ক্যামেরার সামনে, অর্থাৎ অডিশন। খবর পড়ার সময় প্রতিটি শব্দ ধরে ধরে ডেলিভারি দিতে হবে, যাতে দর্শক আপনার বার্তাটা বুঝতে পারে। ক্যামেরার সামনে কমফোর্টেবলভাবে বসতে হবে। ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হবে।
শেষ পর্যন্ত একজন ভালো নিউজ প্রেজেন্টারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপনি কী বলছেন, সেটা যেমন জানতে হবে, তেমনি কীভাবে বলছেন, সেটাও জানতে হবে। স্পষ্ট উচ্চারণ, কণ্ঠের নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস, চোখের যোগাযোগ এবং শরীরের সঠিক অঙ্গভঙ্গি—সবকিছু মিলিয়েই একজন ভালো উপস্থাপক তৈরি হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অল্প বয়সে ছোট্ট সোনামণির দাঁত যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। দাঁতের যন্ত্রণায় ছোট শিশুরা প্রচণ্ড কান্নাকাটি করে এবং ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। এমনকি কেবল পেট ব্যথা কিংবা দাঁত ব্যথার কারণেই অনেক শিশুর পড়াশোনা ও ফলাফল আশানুরূপ হয় না। তাই প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত শুরু থেকেই শিশুর মুখের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া এবং নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কখন এবং কেন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? শিশুর বয়স চার মাস হওয়ার পর যখন থেকে প্রথম দাঁত উঠতে শুরু করে; ঠিক তখন থেকেই দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় দাঁত ওঠার পরপরই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ছোট বাচ্চাদের বোতলে ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়ানো পরিহার করা প্রয়োজন, কারণ ফিডারে দুধ খাওয়ালে দাঁত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দুধ খাওয়ার পর শিশুর মুখে তা লেগে থাকলে অ্যাসিড ফারমেন্টেশন হয় এবং এই অ্যাসিড ফারমেন্টেশনের কারণে দাঁত গলে নষ্ট হয়ে যায়। আরও পড়ুন স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে যেভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন শিশুর দুধের দাঁতের যত্ন নেওয়া কেন জরুরি? অনেকের মনেই একটি ভুল ধারণা থাকে যে, শিশুর দুধের দাঁত তো একসময় পড়েই যাবে। তাই এতে চিন্তার কী আছে! কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিশুর শরীর ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দুধের দাঁত সুস্থ রাখা অপরিহার্য। দাঁতে ব্যথা বা সমস্যা থাকলে শিশু ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারে না। ফলে পুষ্টির অভাবে শিশুর শরীরে নানা ধরনের রোগবালাই দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতি ৬ মাস পরপর তাকে অভিজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে শিশুর দাঁতে কোনো প্রকারের ক্যারিজ (ক্ষয়) তৈরি হয়েছে কি না কিংবা মুখে কোনো ঘা বা ইনফেকশন হয়েছে কি না, তা সময়মতো ধরা পড়ে। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় এ বিষয়ে ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ কনসালটেন্ট ডা. তামিজুল আহসান রতন বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি বাবা-মায়ের মূল দায়িত্ব হলো শিশুর জন্মের চার মাস পর থেকেই তাকে নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।’ শিশুর প্রাথমিক বয়স থেকেই দাঁতের যত্ন নিলে সে থাকবে হাসিখুশি, রোগমুক্ত ও প্রাণবন্ত। এসইউ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা ছবি তৈরি করার প্রযুক্তি নয়। কোড লেখা, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এআই। আর এই দ্রুত অগ্রগতিই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে প্রযুক্তি গবেষকদের মধ্যে। অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা গবেষক ইভান হাবিঙ্গারের দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানুষের অস্তিত্ব ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমনকি মানবজাতির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি বলেও তিনি মনে করেন। তবে এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একজন গবেষকের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। বর্তমানে ব্যবহৃত এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটি কত দ্রুত এবং কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেটিই তার মূল উদ্বেগ। কী নিয়ে এত ভয়? ইভান হাবিঙ্গার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যটি করেন অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জেকব কক্সনের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায়। কক্সন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এআই কোম্পানিগুলো এমন সিস্টেম তৈরি করছে, যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। আরও পড়ুন এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো? এ ধরনের অতিমানবীয় এআই যদি নিজে থেকে সাইবার হামলা চালাতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিংবা নিজের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজ করতে পারে, তাহলে পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ঠিক কোন পথে এআই মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে হাবিঙ্গার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’ এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ‘এআই অ্যালাইনমেন্ট’। সহজভাবে বললে, এআইকে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে তার আচরণ মানুষের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। হাবিঙ্গারের মতে, সুপারইন্টেলিজেন্স বা মানুষের তুলনায় অত্যন্ত শক্তিশালী এআই তৈরি হলে সেটিকে কীভাবে নিরাপদ ও মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, সেই সমস্যার পূর্ণ সমাধান এখনও নেই। তার আশঙ্কা, প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি যদি নিরাপত্তা গবেষণার চেয়ে দ্রুত হয়, তাহলে পরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। শুধু একজন গবেষকের আশঙ্কা নয় এআই নিয়ে এমন সতর্কবার্তা অবশ্য নতুন নয়। ওপেনআই, অ্যানথ্রোপিক এবং মেটা-সহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকেরাও এআইয়ের অপব্যবহার এবং অত্যন্ত শক্তিশালী মডেলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এআই এজেন্টের সক্ষমতা বাড়ার কারণে। এআই এজেন্ট শুধু নির্দেশের উত্তর দেয় না; নির্দিষ্ট অনুমতি পেলে নিজে থেকে একাধিক ধাপে কাজও করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই যদি অপরাধীদের হাতে যায়, তাহলে সাইবার আক্রমণের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। আরও পড়ুন ট্রেন্ডে গা না ভাসালেই কি আপনি ব্যাকডেটেড? সরকারগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব নয়, সরকারের ভূমিকাও সামনে এসেছে। সাবেক ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তা ড্যারেন জোন্স এআইয়ের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তার যুক্তি, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি এখন থেকেই এআইয়ের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ না করে, তাহলে প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ই আর থাকবে না। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউড বা এআইএসআই-এর কাছে অ্যানথ্রোপিকের সর্বশেষ মডেল যথেষ্ট তথ্যসহ সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অ্যানথ্রোপিক এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এআই মডেলকে নিরাপদ করার বিষয়ে তারা অ্যানথ্রোপিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। এআই কি সত্যিই মানবজাতিকে ধ্বংস করবে? এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখন কারও কাছে নেই। এআই নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কও এখন আর শুধু প্রযুক্তিটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে নয়; বরং ঝুঁকির মাত্রা কতটা এবং সেটি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে। অ্যানথ্রোপিকের নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, অত্যন্ত সক্ষম এআইয়ের কিছু ঝুঁকি এখনও কম বলে মনে হলেও ভবিষ্যতের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে আগের তুলনায় তাদের আত্মবিশ্বাস কমেছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য দ্রুত অগ্রগতির কিছু প্রাথমিক লক্ষণের কথাও উল্লেখ করেছে। আরও পড়ুন চ্যাটজিপিটি-জেমিনির লিমিট শেষ? ফ্রিতে ব্যবহারের কৌশল জানুন তাই ‘এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবেই’ এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ এখন নেই। তবে প্রযুক্তির ক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা তৈরি না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে গবেষকদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার মূল বার্তা সেটিই। সূত্র: বিবিসি কেএসকে
আমীরুল ইসলাম (১৯৬৪-২০২৬)।সহজ ব্র্যাকেট। ব্র্যাকেটে ৬২ বছরের হিসাব। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, চোখের সমস্যা—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে মৃত্যু হয়ে গেল আমীরুল ইসলামের। এটা কী হলো? শামীম ভাই (ইমতিয়ার শামীম) মেসেজ দিয়েছে, ‘ধ্রুব, এইটা কী হলো! আমাদের গালাগালি করার আর তারপরেই শৈশবের জগতে ফিরে যাওয়ার মানুষটা হাওয়া হয়ে গেল! ‘বেমালুম হাওয়া। এই মানুষটাকে আমরা আর কোনো দিন দেখব না! আর কোনো তুমুল হইহল্লা নাই, হা হা হাসির হররা নাই পৃথিবীর কোথাও? নিরর্থক শূন্যতা শুধু, একটা মানুষ আর পৃথিবীতে নাই।’ শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম। প্রয়াত সাইফুর রহমান ও আনজিরা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় পুত্র। কবি ও শিশুসাহিত্যিক হাবীবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র—এটা এখানে বিশেষভাবে এ জন্য উল্লেখ করলাম যে শিশুসাহিত্যিক হিসেবে আমীরুল ইসলামের দিগদর্শন ধ্রুবতারা ছিলেন তাঁর এই পিতৃব্য।নির্ভেজাল শিশুসাহিত্যিক। বহুপ্রজ। আমীরুল ইসলাম সম্ভবত তিন শতাধিক বই লিখে রেখে গেছেন। দাবা থেকে গণিত থেকে হেঁশেল, বিচিত্র বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন, লেখালেখিতেও প্রকাশ ঘটেছিল তার। ছড়া, কবিতা, গল্প, উপন্যাসের বাইরেও বিচিত্র বিষয় নিয়ে ছোটদের জন্য লিখেছেন। বিজ্ঞান, গণিত, ভ্রমণ, জীবনী, অনুবাদ, নাটক, গান, খেলাধুলা, স্মৃতিগদ্য, গদ্যছড়া—এমন কত কী! উইকিপিডিয়ায় বা বাংলাপিডিয়ায় নিশ্চয়ই এসব তথ্য আছে।প্রথম বই ‘খামখেয়ালি’। ছড়ার বই। প্রথম বইয়ের জন্যই কনিষ্ঠতম শিশুসাহিত্যিক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেয়ে গিয়েছিলেন আমীরুল ইসলাম। পরবর্তীকালে শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পদক পান ২০০৬ সালে। আরও পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন জীবনে। সে হিসাব দিয়ে কী হবে এখন?আমাদের সম্পর্ক ছিল। ইমতিয়ার শামীমের একটা উপন্যাস আছে ‘আমরা হেঁটেছি যারা।’ সেইমতো আমরা একসঙ্গে হেঁটেছি। অনেক দিন ধরে, অনেক বছর ধরে। আমরা সব সময় ‘আমরা’ই ছিলাম, তেড়েফুঁড়ে উঠে আমাদের কেউ কখনোই ‘আমি’ হয়ে ওঠে নাই। সেই আমাদের গালাগালি করার আর শৈশবের জগতে ফিরে যাওয়ার মানুষ ছিল আমীরুল ভাই।সেই আমীরুল ভাই নাই। আমরা আছি!যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটাবোন দিল ভাইকে ফোঁটাআমীরুল ইসলাম (১৯৬৪-২০২৬)। আমীরুল ভাইকে কেউ একবার ভাইফোঁটা দিয়েছিল। শামীম ভাই, তারা (শওকত আলী তারা) ভাই, আমি তখন একসঙ্গে থাকি ৩৬৮ এলিফ্যান্ট রোডে। কপালে চন্দনের ফোঁটা, হাতে বাঁধা মাঁদার ফুল রঙের রাখি, প্রসন্ন আমীরুল ভাই ৩৬৮–তে উপস্থিত হয়েছিল সেই সন্ধ্যায়।বিচিত্র বিষয়ে আগ্রহ যেমন ছিল, তেমন ছিল আমীরুল ভাইয়ের অগাধ পাণ্ডিত্য। পূর্ণবয়স্ক কিছু মানুষকে শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পাণ্ডিত্য লাগে। জ্ঞান লাগে। কাণ্ডজ্ঞান লাগে। সঙ্গে মানবিক কিছু ত্রুটিও লাগে। আমীরুল ভাই ছিল সেই সম্পূর্ণ প্যাকেজ। আমরা পেয়েছিলাম, হারিয়ে ফেললাম!তিন শতাধিক বই আমীরুল ইসলামের, আমি কটা বইয়ের প্রচ্ছদ করেছি? আড়াই শতাধিক।সর্বশেষ আমীরুল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো কোন দিন? মাস হয় নাই। মনির ভাই (প্রকাশক মনিরুল হক) আর আমি সেদিন চ্যানেল আই অফিসে গিয়েছিলাম। আমীরুল ভাইয়ের কার্যালয়। চ্যানেল আইয়ের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল আমীরুল ভাই।আমীরুল ইসলাম ও ধ্রুব এষআমীরুল ভাইয়ের ডাকনাম টুলু। বন্ধুদের ‘টুইলা’। আমারও বন্ধু হলেও বড় ভাই। আমি কখনো টুইলা ডাকার প্রশ্নই ওঠে না। তবে একবার বেশ কিছুদিন ধরে দেখা নাই, আমি একটা ছড়া বানিয়েছিলাম :‘টুইলা রে টুইলাকত দিন দেখা নাইতোরে গেছি ভুইলা’সেই ভুইলা যাওয়া কি সম্ভব? যার সঙ্গে একবার অন্তত দেখা হয়েছে আমীরুল ভাইয়ের, সে কখনো ভুলতে পারবে এই বিশ্বভরা-প্রাণ-মানুষটাকে? আশ্বিন আমীরুল ভাইকে দেখেছে কতবার? দুই-তিনবার। আশ্বিন এখন থাকে চীনে, পড়াশোনা করে। সেই আশ্বিন মেসেজ দিয়েছে, ‘আমীরুল ভাই কি হাওয়ায় মিলায় যাবে?’শামীম ভাইয়ের মেসেজের উত্তর দিই নাই। আশ্বিনের মেসেজের উত্তর দিই নাই। The Answer is কি Blowing in the wind?সেই হাওয়াতেই?