ফাইনালের লাইনআপ এর চেয়ে ভালো হতে পারে না।
সেটা মেয়েদের এককের ফাইনালে। এমন দুজন মুখোমুখি হবেন, যাঁদের একজনের মনে নিশ্চিতভাবে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ফাইনালেরই প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে। আর যিনি সেই সিংহাসনের দখল নিয়েছেন, তাঁর চ্যালেঞ্জও তো কম নয়। সিংহাসনটায় যে যোগ্যতাবলেই বসছেন, সেটা সেই রাজপাট হারানো প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে তো তাঁকে প্রমাণ করতে হবে!
ভণিতা রেখে সরাসরি বলাই ভালো। ইউএস ওপেনে আগামীকালের ফাইনালে শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হবেন দ্বিতীয় বাছাই ইয়েলেনা রিবাকিনা। বাছাইয়ের ক্রমে তাকালেও কিন্তু ফাইনালের জন্য এর চেয়ে ভালো লাইনআপ হতে পারে না। তবে আসল লড়াইটা অন্য জায়গায়।
ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর তৃতীয় নারী হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় ট্রফি জয়ের চ্যালেঞ্জ সাবালেঙ্কার সামনে। ফ্লাশিং মিডোজে এ নিয়ে টানা চতুর্থ ফাইনাল খেলবেন বেলারুশ তারকা। সব মিলিয়ে রিবাকিনার সামনে ফাইনালে আসলে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া কাজাখস্তানের এই তারকাও কম কী!

রিবাকিনার সামনে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সুযোগ। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে রিবাকিনার। গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এ নিয়ে সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবেন দুজন। ২০২৩ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে রিবাকিনাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে সাবালেঙ্কারও।
কিন্তু রিবাকিনাকে নিয়ে এখন সাবালেঙ্কার মনের ভেতরের কাটা ঘা-টা বেশ দগদগে। সেমিফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কার কাছ থেকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা কেড়ে নেওয়া আগেই নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। নিউইয়র্কের বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আজ সেই সেমিফাইনালেই যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বাছাই কোকো গফকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রিবাকিনা। তাতে কি সাবালেঙ্কার খুশি হওয়ার কথা? সম্ভবত।
যে প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর কাছ থেকে শীর্ষস্থানের সিংহাসন কেড়েছেন, তাঁকে ফাইনালে পেয়ে দেখিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সাবালেঙ্কার আর যা–ই হোক, মন খারাপ হওয়ার কথা নয়।

বরং জেদটা মনের ভেতর চেপেই সেমিফাইনালের কোর্টে নেমেছিলেন সাবালেঙ্কা। তাতে ঝড়টা গেছে জেসিকা পেগুলার ওপর দিয়ে। সরাসরি সেটে জয়ের পথে আজ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পাত্তাই দেননি সাবালেঙ্কা। ৭-৫, ৬-২ গেমে জয়ের পথে পাওয়ার টেনিস এবং শক্তিশালী গ্রাউন্ড স্ট্রোকে পেগুলাকে স্রেফ উড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের সামনে পেগুলাকে অসহায়ে লেগেছে। সাবালেঙ্কা যেখানে ২৯টি উইনার হাঁকান, সেখানে পেগুলা মাত্র ১২টি। এ জয়ে ওপেন–যুগে টানা সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম হার্ডকোর্ট ফাইনালে ওঠার রেকর্ড নিজের করে নিলেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ইউএস ওপেনে প্রতিটি ফাইনালে উঠলেন।
ম্যাচ আগে হওয়ায় সাবালেঙ্কা রিবাকিনার আগে ওঠেন ফাইনালে, তারপর রিবাকিনা। অর্থাৎ ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাকে পান, সেটাই দেখার অপেক্ষা ছিল তাঁর। সেখানে রিবাকিনাকে পেয়ে যাওয়ায় আসলে সিংহাসন হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও পেলেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু সেই সুযোগটা নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে সবার আগে তাঁকে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হতো। সে জন্য সাবালেঙ্কা কতটা মরিয়া ছিলেন শুনুন তাঁর মুখেই, ‘ভীষণ ব্যাকুল ছিলাম। খুব করে ফাইনালে উঠতে চেয়েছি এবং এখন ট্রফিও নিজের করে নিতে চাই। তৈরি হয়েই ছিলাম। থাকা। জিততে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলাম।’

সেই প্রস্তুতি কতটা ছিল, তা বুঝে নিতে পারেন পেগুলার মুখেই, ‘সত্যি বলতে, আজ আমার তেমন কিছু করার ছিল কি না, জানি না। আমার মনে হয়, আজ সে যেভাবে খেলেছে, তাতে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ খেলোয়াড়কে হারিয়ে দিত। সম্ভবত চলতি বছরে তার সেরা পারফরম্যান্স।’
সাবালেঙ্কা যে প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসছেন, রিবাকিনা তা সম্ভবত আন্দাজ করে নিয়েছেন। ফাইনাল সামনে রেখে তাই বলেছেন, ‘আমার মনে হয় খেলার ধার অবশ্যই আরও বাড়াতে হবে। আজকের চেয়ে অনেক ভালো সার্ভিস করতে হবে এবং আক্রমণাত্মক খেলা ধরে রাখতে হবে।’
২০১৩ সালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-সেরেনা উইলিয়ামস ফাইনালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নারী এককের দুই শীর্ষ বাছাই। এবারের ফাইনালের ফল যা–ই হোক না কেন, আগামী সোমবার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠবেন রিবাকিনা। তার আগে ট্রফি জয়ের এই ম্যাচটা জিততে পারলে রিবাকিনার জন্য সেটা হবে সোনায় সোহাগা। আর সাবালেঙ্কা জিতলে?
অনেকের মনে হয়তো তিনিই র্যাঙ্কিংয়ের সেরা হয়ে টিকে থাকবেন!
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ময়লার বিলের রসিদ আসে ১২০ টাকার। কিন্তু তাঁকে আরও ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়। এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।একই এলাকার আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করলেন স্থানীয় বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়াও হয় না। দু–তিন মাস ধরে দুই বা তিন দিন পরপর ময়লা নিতে আসছেন কর্মীরা।বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে বিভিন্ন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।মো. আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। এতে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ময়লা সংগ্রহের বাণিজ্য নিয়ে গত মে মাসে প্রথম আলোয় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা; কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাঁদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।বেশি টাকার নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেছিলেন, বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় করা হলে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।নগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা বাণিজ্য চলতেই থাকবে।গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।আদেশে বলা হয়, পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বরাবর সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দিতে হবে।১০০ টাকার বেশি বর্জ্য ফি আদায় হচ্ছে কি না, দেখবে তদারকি কমিটিকিন্তু তিন মাস পরও এই আদেশের প্রভাব মাঠপর্যায়ে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা নিয়মিত জমা পড়ছে না। ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না, কোন ওয়ার্ডে কোন প্রতিষ্ঠান শর্ত ভাঙছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি হয়নি।আদিল মুহাম্মদ খান, নগর–পরিকল্পনাবিদরসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–১–এর আওতায়। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা উত্তরে চাঁদা নেওয়ার লোক পাল্টেছে, ‘অদৃশ্য শক্তির’ বাধাও আছেডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে অনিয়ম ধরা কঠিন। অনেকে রসিদের বাইরে টাকা নিচ্ছেন। এ হিসাব কাগজে থাকছে না। আবার অভিযোগ করলে ময়লা নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায় কি না, এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ময়লা নিতে আসে। নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় এ মাস থেকে তাঁরা নিজেরাই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে রেখে আসছেন।ডিএসসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, তাঁদের ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়।ক্ষমতার ‘আশীর্বাদে’ চলে ময়লা–বাণিজ্যঅবশ্য সব জায়গার চিত্র একই নয়। ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগে তাঁদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে নেওয়া হতো। গত পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্ধারিত ফি যে কার্যকর করা যায়, তেমন নজিরও আছে।ঢাকা সিটির বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে ময়লা নেওয়ার ফি আদায় বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিটতবে মীর হাজীরবাগের বাসিন্দা আরভীন সোনিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তাঁর বাসা থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।মীর হাজীরবাগসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–৫–এর মধ্যে পড়েছে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে। সবকিছু সার্বিক তদারকির মধ্যে আছে। অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ময়লা–বাণিজ্যে আ.লীগের দেখানো ‘বনানী মডেল’ বহালনগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না; ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা–বাণিজ্য চলতেই থাকবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল–পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।’১০০ টাকার বেশি বিল নিলে, নিয়মিত ময়লা না সরালে লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসকময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলনে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি স্কুলে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে একটি বসতিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের একটি বসতিও আগুনে পুড়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বের হওয়ার সময় পদদলন আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। কেউ কেউ বের হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করেন। অনেকে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। অন্য কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ২৯ জন, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তার ক্লিনিকে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। কানিউকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রভিন্সিয়াল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুড়ে গেছে শত শত কাঠের ঘর আগুনে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপগভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে। আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতেও বেশ কয়েকটি কাঠের ঘর পুড়ে যেতে দেখা গেছে। পরে আগুন দুটি স্কুলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণ এখনো অজানা অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফসি/এম২৩। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুকাভুতে আগেও অগ্নিকাণ্ড বুকাভুতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার একটি আগুনে ৪৫টির বেশি ঘর পুড়ে যায়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে বুকাভু ডিআর কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশটির পূর্বাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি সামরিক অভিযান জোরদার করার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সূত্র: আল জাজিরা এমআরএইস/এমএসএম
ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) অতিথি নিবাসে সকালেই ঘুম ভাঙে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। দূরে কয়েকটি বুদ্ধনারকেল চোখে পড়ে। মনে পড়ে রংপুর শহরের কথা। প্রায় দুই দশক আগে কাইজেলিয়া দেখতে এসে রংপুর শহরে প্রচুর বুদ্ধনারকেল দেখেছিলাম। বারান্দায় আরও অনেক সুসজ্জিত উদ্ভিদের সমারোহ। বিচিত্র ও বহুবর্ণিল ফুলের উপস্থিতি জানান দিল কেউ একজন বৃক্ষপ্রেমী আছেন এখানে। কিন্তু কে এই মহানুভব পুষ্পপ্রেমী?আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এই ঝটিকা সফরের প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ জানালেন স্বয়ং এই প্রাঙ্গণের অধিপতি ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান একজন বৃক্ষদরদি মানুষ। তাঁর অনুমতি ছাড়া এখানে একটি গাছের পাতাও স্পর্শ করা নিষেধ। তিনি আরও জানালেন, এই পরিপাটি ভবনের প্রতি তলায় সুপরিসর বারান্দায় বিচিত্র পুষ্প-উদ্ভিদের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। ভবনের চারপাশেও অনেক অপ্রচলিত বৃক্ষ রয়েছে। এ তথ্য যে অমূলক নয়, তা রাতেই গাড়িবারান্দার কাছে একটি মুচকুন্দগাছ দেখে বেশ বুঝতে পেরেছিলাম। হাতে খুব বেশি সময় নেই, দ্রুত রেডি হয়ে নিচে নামতে হবে। কিন্তু সময় যত কমই থাকুক বারান্দাগুলো তো একঝলক দেখতেই হবে। আরেক তলা নিচের বারান্দায় উঁকি দিতেই চোখ আটকে গেল একটি ফুলে। ফুলটি চেনা মনে হচ্ছে, দেখতে অনেকটা টাইগার লিলি বা সুখদর্শনের মতো; কিন্তু পাতার রং আর গড়ন তো ভিন্ন! ধাঁধায় পড়লাম। পরে অবশ্য পরিচয় শনাক্ত করেছি। ইংরেজি নাম রেড বগ লিলি। বৈজ্ঞানিক নাম Crinum menehune। আগে কোথাও চোখে পড়েনি।ঝটপট নিচে নেমে এলাম। গাড়িতে উঠব। ঠিক তখনই দেখতে পেলাম দেয়াল ঘেঁষে লাগানো ভিন্ন রঙের এক সারি কলাবতীর ফুল। সচরাচর এই রঙের কলাবতী চোখে পড়ে না। কলাবতীর এই রকমফের অ্যাপ্রিকট ড্রিম নামে পরিচিত। অপ্রচলিত এই দুই ফুল দেখে বেশ চমৎকৃত হলাম। পাশেই পাওয়া গেল পিনাট বাটারগাছ। গাছে ফুল-ফল দুটোই আছে। এই ফুল-ফলের ছবি তোলায় মনোযোগ দিলেন কথাসাহিত্যিক, ভ্রমণলেখক ও অনুবাদক ফারুক মঈনউদ্দীন। আমাদের উদ্ভিদবিষয়ক এসব পাগলামিতে অংশ নিতে তিনিও ঢাকা থেকে এসেছেন। এসব বিশেষ উদ্ভিদের সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকা গেল না। যেতে হবে টাঙ্গন নদীর পারে। সেখানে মুহম্মদ শহীদ উজ জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘরে বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণের বিপুল এক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। গত বছর এখানে প্রথম দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতির ২০০ উদ্ভিদ রোপণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর আরও গাছ রোপণ করা হবে। তবে টাঙ্গনপারের বৃক্ষবৃত্তান্ত শোনানোর আগে আপনাদের দুই চমৎকার ফুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানিয়ে রাখি। রেড বগ লিলিলম্বাটে পাতার ঝোপালো এই গাছের নামকরণ করা হয়েছে হাওয়াইয়ের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতি মেনেহুনদের নামে। এ গাছের পাতা গাঢ় মেরুন-লাল রঙের। এক থেকে দুই ইঞ্চি চওড়া এবং ২৪ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। পাতা সাধারণত বিবর্ণ হয় না এবং গাঢ় লালই থাকে। পাতার কোল থেকে গাঢ় লাল ডাঁটায় গোলাপি-লাল রঙের ফুল ফোটে। ফুল লম্বা, দলনলের আগায় ছড়ানো ছয়টি পাপড়ির ওপরটা সাদাটে, নিচের দিক গাঢ় লাল। গ্রীষ্মের শুরু থেকে শরৎকাল পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম। গাছটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি ছয় ইঞ্চি গভীর পানিতেও জন্মাতে পারে। আবার আশ্চর্যজনকভাবে শুষ্ক অবস্থাও সহ্য করতে পারে। তবে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে উঁচু জমিতেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। লাল পাতার গোলাপি রঙের এই লিলি মূলত একটি আবাদিত জাত। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিগ আইল্যান্ডের ‘হাওয়াই ট্রপিক্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের’ শ্যান ক্যালাহান গাছটি প্রবর্তন করেন। এই উদ্ভিদ প্রজাতির নামের উৎস হাওয়াইয়ান পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া যায়, যেখানে মেনেহুনদের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের গভীর জঙ্গলে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র জাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাতা ও ফুলের সর্বোত্তম রং এবং বেশিসংখ্যক ফুল উৎপাদনের জন্য গাছটির পূর্ণ সূর্যালোক প্রয়োজন।ইএসডিওর অতিথি আবাসে অ্যাপ্রিকট ড্রিম কলাবতীঅ্যাপ্রিকট ড্রিম কলাবতীক্যানা বা কলাবতী এমন একটি ফুল, যা বর্ণবৈচিত্র্যের জন্য বেশ সমাদৃত। এই ফুলের বাহারি রঙের শেষ নেই। বহুবর্ণিল অসংখ্য কলাবতীর ভিড়ে যদি নতুন কোনো রং বাগানকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে তাহলে তো অনেক আনন্দ! কলাবতীর এই অ্যাপ্রিকট ড্রিম রকমফের দেখে তেমন আনন্দই অনুভব করেছি। ফুলটির গোলাপি আভার রেশমি পাপড়িগুলো উষ্ণ অ্যাপ্রিকট রঙে আবৃত থাকে। ফুলের মাঝখানে একটি লালচে ছোপ থাকে। এটি পাপড়ির রঙের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে। প্রায় এক মিটার লম্বা নলাকার ডাঁটার শীর্ষে প্রায় পাঁচটি ফুলের গুচ্ছে বড় বড় ফুলগুলো ফোটে। চওড়া আলংকারিক পাতাগুলো গাছটিতে একটি আভিজাত্যপূর্ণ আবহ যোগ করে। অ্যাপ্রিকট ড্রিম উন্মুক্ত সবুজ চত্বর এবং টবে লাগানোর জন্য উপযুক্ত। চমৎকার এই ফুল জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফোটে।কলাবতী মূলত (Canna spp.) কন্দজ গাছ। শীতকালে গাছ শুকিয়ে গেলেও মাটির নিচে কন্দ সতেজ থাকে। গাছ দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। নতুন জাতের গাছ ৪৫ থেকে ১৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ছোট জাতের গাছ ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি উঁচু হয় না।টাঙ্গনপারে লোকায়ন উদ্ভিদ জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখি সেখানে রীতিমতো উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। কেউ কেউ টুকরিতে করে গাছ নিয়ে আসছে, কেউ গর্ত করছে, কেউ গাছগুলো গর্তের পাশে সাজিয়ে রাখছে। আবার এই স্মরণীয় মুহূর্তের অংশী হতেও অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। কয়েকজন সাংবাদিক এসেছেন। গত বছরের গাছগুলো বেশ তরতাজা হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো গাছে ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। দেখে মন ভরে গেল। আমরা প্রথমেই একটি দুর্লভ পাহাড়ি কদমগাছ রোপণ করি। শান্ত নদীর শীতল হাওয়ায় দুলছে কচি গাছগুলো। গাছের এই মিছিলে যোগ হচ্ছে আরও অনেক নতুন প্রাণ।