জাতীয়

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

তবে ঠিক কোন ঘটনার কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো, তা নির্দিষ্ট করে বলেনি আলজেরিয়া।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আলজেরিয়ার এ সিদ্ধান্ত সাময়িক হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। দুই দেশের সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থরক্ষায় আবুধাবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আলজেরিয়া ও আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করা হয়। আবুধাবি আঞ্চলিক বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও আমিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রদ্ধা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে বন্ধন, তা নিয়েও আমরা গর্বিত। বিশেষ করে আমিরাতে বসবাসরত আলজেরীয় সম্প্রদায় ও আলজেরীয় পর্যটকদের মাধ্যমে এ বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।’

তবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেগুলো আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব জায়গা তারা নষ্ট করে ফেলেছে।

এদিকে আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে আরব আমিরাতের নিবন্ধিত সামরিক ও বেসামরিক সব উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেবে আলজেরিয়া। তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ও আরব আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থান

আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ও আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

পশ্চিম সাহারা নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলমান উত্তেজনায়ও দেশ দুটির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমিরাত মনে করে, পশ্চিম সাহারা অঞ্চলটি মরক্কোর অংশ এবং তারা মরক্কোর এ দাবিকে সমর্থন করে। এমনকি ওই এলাকায় আমিরাতের একটি কনস্যুলেটও (কূটনৈতিক কার্যালয়) রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে আলজেরিয়া।

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে আমিরাত। অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন গত বছর বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের সঙ্গেই তাঁর দেশের সম্পর্ক খুব ভালো। তিনি সরাসরি সেই দেশের নাম না বললেও ইশারা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দিকে।

তেবউন সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে নাম না নেওয়া ওই দেশটির বিরুদ্ধে তিনি আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে সই হওয়া বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ঢাকায় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স
ঢাকায় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স

শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড ‘অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ অথবা বিএ ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড বিভাগের নাম গ্রাফিক ডিজাইনার পদের নাম অফিসার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ অথবা বিএ অভিজ্ঞতা ২-৫ বছর। তবে ফ্রেশার প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২৫-৩৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, আবেদন ফি ১০০ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে, ইসরাত পায়েলের স্বামী কে?

পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে, ইসরাত পায়েলের স্বামী কে?

মেঘদূতের ছয় বছর পূর্তিতে লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা

মেঘদূতের ছয় বছর পূর্তিতে লেখক-সুহৃদ মিলনমেলা

জ্ঞান ও আমলের সম্পর্ক: ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রের কর্মতত্ত্ব

জ্ঞান ও আমলের সম্পর্ক: ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রের কর্মতত্ত্ব

ব্রিকস কি সত্যিই পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প? যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবারের সম্মেলন
ব্রিকস কি সত্যিই পশ্চিমা আধিপত্যের বিকল্প? যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ এবারের সম্মেলন

নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। রাশিয়া, চীন, ইরানসহ ১১ সদস্যদেশের নেতাদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন অংশীদার ও আমন্ত্রিত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব কতটা বাড়ছে, আর পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে জোটটির সীমাবদ্ধতা কোথায়? বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া মিমের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাওয়া মিমের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে বারবার বিতর্কে, ৫০০ কোটি টাকার মালিক কে এই অভিনেত্রী

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে বারবার বিতর্কে, ৫০০ কোটি টাকার মালিক কে এই অভিনেত্রী

নাব্যতা ফিরলেও ফেরি সংকটে অচল চিলমারী-রৌমারী নৌপথ

নাব্যতা ফিরলেও ফেরি সংকটে অচল চিলমারী-রৌমারী নৌপথ

সাগর-রুনি হত্যায় কারাবন্দি এনামুলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পিবিআই
সাগর-রুনি হত্যায় কারাবন্দি এনামুলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পিবিআই

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের বড়লেখার এনামুল আহমেদকে। তবে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে এনামুলের সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনামুল আহমেদ প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে বর্তমানে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। এনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবীর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব-দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত মকবুল আলী ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকা প্রহরী এনামুল আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীরের মা ফাতেমা বেগম বলেন, আমার ছেলে এনামুল যদি দোষী হয়ে থাকে, আমরা তার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু সাড়ে ১৩ বছরেও তার অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। শুধু সন্দেহের কারণে আমার ছেলে ও আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক। সাগর-রুনি হত্যার অপবাদ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। আমাদের পরিবারকে একটু শান্তি দেওয়া হোক। জানা গেছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সময় রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ভবনে নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন এনামুল। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই বাসা থেকে সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে এনামুলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ফাতেমা বেগম আরও বলেন, আমরা টিভিতে খবর দেখে জানতে পেরেছি, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে এনামুলের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। এখন তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। আমরা এতদিন ভয়ে তার সাথে যোগাযোগ করিনি। আমার ছেলের জীবন নষ্ট করার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। অতীতের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, এনামুলকে গ্রেফতািরের আগে তার স্বামী কালা মিয়াকেও র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। আনুমানিক ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দোকানে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। ফাতেমার দাবি, কালা মিয়াকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। স্বামীর খোঁজে তারা থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থও ব্যয় করেন। পরে একদিন কালা মিয়ার মোবাইলফোন থেকে পরিবারের কাছে ফোন আসে। সেখানে তিনি এনামুলের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রায় ২১ দিন পর তাকে ভৈরবের কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে জানান ফাতেমা। ফাতেমার ভাষ্য, বাড়িতে ফিরে কালা মিয়া জানিয়েছিলেন, সেখানে তাকে নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বললে তাকে আবারও তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের কাছে জানিয়েছিলেন তিনি। ফাতেমা বলেন, ওই ঘটনার পর তার স্বামী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসার পেছনে পরিবারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। প্রায় ছয়-সাত মাস আগে কালা মিয়া মারা যান। এনামুলের বড় ভাই শাহিন আহমদ বলেন, ভাই গ্রেফতারের পর তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকায় তারা নিয়মিতভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারেননি। বিপদে পড়ার আশঙ্কায় মামলা চালানোর ক্ষেত্রেও তাঁরা অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন বলে জানান তিনি। শাহিনের দাবি, তাদের বাবাকেও তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে এনামুলের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের আদেশের পর গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনাম আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। অনেক বিষয় মনে করতে পারছিলেন না এবং এলোমেলো উত্তর দিচ্ছিলেন। এসব কারণে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তাঁকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দী থাকার কারণে এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তাঁকে সাধারণ বন্দীদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। শুরুতে মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চারদিন পর তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে তদন্তে ব্যর্থতার কথা জানায় ডিবি। এরপর মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র‌্যাবকে। দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও র‌্যাব প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এ সময় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়। পরে মামলাটির তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। মাহিদুল ইসলাম/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সার চাইতে গিয়ে হলেন আসামি, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কৃষক

সার চাইতে গিয়ে হলেন আসামি, গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কৃষক

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষজ্ঞ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, সাড়া মেলেনি: শফিকুর রহমান

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষজ্ঞ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, সাড়া মেলেনি: শফিকুর রহমান

লেমুর চুরির ঘটনায় ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের বনতারা কর্তৃপক্ষ

লেমুর চুরির ঘটনায় ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের বনতারা কর্তৃপক্ষ

0 Comments