সিডনি সুইনি মানেই যেন আলোচনা। কখনো তাঁর পর্দার নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়, কখনো আবার জিনসের বিজ্ঞাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ‘দ্য হাউসমেইড’ থেকে ‘ইউফোরিয়া’—গত এক বছরে দুটি আলোচিত প্রকল্প দিয়ে নিজের জনপ্রিয়তা যেন আরও বাড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। আজ ১২ সেপ্টেম্বর, সিডনি সুইনির জন্মদিন। এ উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।
গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা
১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনে জন্ম সিডনি বার্নিস সুইনির। তাঁর শৈশব কেটেছে স্পোকেনের কাছাকাছি, ওয়াশিংটন-আইডাহো সীমান্তের গ্রামীণ পরিবেশে। মা ছিলেন ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী, বাবা কাজ করতেন হসপিটালিটি ইন্ডাস্ট্রিতে। ছোটবেলায় খেলাধুলায়ও বেশ আগ্রহী ছিলেন সিডনি। ফুটবল, সফটবল, স্কি, ওয়েকবোর্ডিংয়ের পাশাপাশি তায়কোয়ান্দো, জুজিৎসু, গ্র্যাপলিং ও কিকবক্সিংও শিখেছেন। স্কুলে পড়াশোনাতেও ছিলেন মেধাবী; গণিত ও রোবোটিকসের মতো বিষয়েও আগ্রহ ছিল তাঁর।
অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ অবশ্য আরও ছোটবেলা থেকেই। পরিবারের কাছে নানা চরিত্রে অভিনয় করতেন, নিজের কল্পনার জগৎ তৈরি করতেন। কিন্তু মা–বাবার কাছে অভিনয় ছিল অনেকটা শিশুর ‘রাজকন্যা হওয়ার’ স্বপ্নের মতো—সত্যিকারের পেশা হিসেবে তাঁরা শুরুতে বিষয়টি দেখেননি।
পরিস্থিতি বদলে যায় যখন তাঁদের এলাকায় একটি ছোট বাজেটের সিনেমার শুটিং শুরু হয়। তখন সিডনির বয়স ১০ থেকে ১২ বছর। সিনেমাটিতে অডিশন দেওয়ার অনুমতি পেতে তিনি মা–বাবার সামনে রীতিমতো একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন। সেখানে পাঁচ বছরের একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মতো করে বুঝিয়েছিলেন—কীভাবে অডিশন দেবেন, কীভাবে বিজ্ঞাপন ও ছোট চরিত্রে কাজ করবেন, এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং ধীরে ধীরে হলিউডে পৌঁছাবেন।
অভিনয়ের জন্য একটি শিশুর এমন পরিকল্পনা দেখে শেষ পর্যন্ত রাজি হন তাঁর বাবা-মা। সেই ছোট সিনেমায় সুযোগও পান সিডনি। এরপর আর থামেননি।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে পরিবার নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের শহরে পৌঁছানো মানেই সাফল্য নয়—বরং শুরু হয় কঠিন সংগ্রাম। একের পর এক অডিশন, প্রত্যাখ্যান আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। বহু বছর ধরে ছোট চরিত্রে কাজ করেছেন। ‘প্রিটি লিটল লায়ার্স’, ‘গ্রেস অ্যানাটমি’, ‘ক্রিমিনাল মাইন্ডস’, ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’সহ বিভিন্ন সিরিজে দেখা গেলেও বড় সুযোগ আসতে সময় লেগেছে।
সিডনি নিজেই বলেছেন, তাঁর পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবে পূরণ হতে সময় লেগেছিল প্রায় ১০ বছর। কিশোরী বয়সে বারবার ‘না’ শুনতে হওয়া ছিল কঠিন। ছোট শহর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে তিনি দেখেছেন, একই স্বপ্ন নিয়ে হাজারো তরুণ-তরুণী প্রতিদিন অডিশন দিচ্ছেন। ফলে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র।
এ সময় সিডনির পরিবারের ওপরও আর্থিক চাপ তৈরি হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা, অডিশন দেওয়া ও অভিনয়ের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। একপর্যায়ে তাঁর মা–বাবার বিচ্ছেদ হয় এবং পরিবার দেউলিয়াত্বের আবেদনও করে। সিডনি পরে বলেছেন, সেই সময়টা পরিবারের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু এই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দৃঢ় করে।
ধীরে ধীরে বড় সুযোগ আসতে শুরু করে। ২০১৮ সালে ‘এভরিথিং সাক্স!’ ও ‘শার্প অবজেক্টস’-এ অভিনয় সিডনিকে দর্শকের নজরে আনে। এরপর ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’-এ কাজ করে পরিচিতি বাড়ান। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৯ সালে এইচবিওর ‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে।

‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে আলোচনায়
প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার হলেও সিডনি সুইনি আলোচনায় এসেছেন বছর পাঁচেক হলো। এইচবিওর সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দেয়। সিরিজটিতে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন সিডনি। চরিত্রটি ছিল আবেগপ্রবণ, ভঙ্গুর, প্রেম ও আত্মপরিচয়ের সংকটে থাকা এক তরুণীর। সিডনি চরিত্রটির জটিলতা পর্দায় এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে তিনি দ্রুত প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।
একই প্ল্যাটফর্মের আরেক সিরিজ ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ তাঁর পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে সিরিজে অভিনীত চরিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করা মন্তব্য নিয়ে বরাবরই সমালোচনা ও বিদ্রূপের শিকার হন ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী। ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিডনি জানিয়েছেন, নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে নতুন উপলব্ধির কথা। সিডনি জানান, বিনোদন–দুনিয়া নিয়ে এখন তাঁর ধারণা আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের শক্তির জায়গা খুঁজে পেয়েছি। প্রতিদিন যা করি, তা থেকে শেখার চেষ্টা করি, মাথা খাটাই। এভাবে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।’
শুরুতে অনেকের ধারণা ছিল যে কেবল গ্ল্যামারাস, আবেদনময় চরিত্রেই ভালো করতে পারেন সিডনি। তবে গত মে মাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘রিয়েলিটি’তে তাঁকে দেখা গেছে একেবারেই গ্ল্যামারহীন চরিত্রে, যা তাঁর খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে খ্যাতি নিয়ে ভাবেন না সিডনি। নিজেকে এখনো বড় অভিনেত্রী মনে করেন না।
এখন ভক্তদের সামনে যতটা সম্ভব ঠিকঠাকভাবে চরিত্রটি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন সিডনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হলিউডে কাজের সুযোগ পেয়েছেন, নিজের অভিনয়দক্ষতা আরও বাড়িয়ে ক্যারিয়ারকে পরের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান তিনি।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে সিডনি বলেন, ‘এমন সময় গেছে যখন সপ্তাহে ৫ থেকে ১০টি অডিশন দিতাম, একটা থেকেও ডাক পেতাম না। তবে আপনার যদি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি থাকে, ব্যর্থতায় ভয় পাবেন না। তাই আমি হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে গেছি।’ ভ্যারাইটির সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি কথা বলেন তাঁকে ঘিরে নানা সমালোচনা নিয়েও। অভিনেত্রী মন্তব্য করেন, তাঁকে নিয়ে মানুষের বেশির ভাগ ধারণাই ভুল।
‘ইউফোরিয়া’র পাশাপাশি ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এ অলিভিয়া মোসবাখার চরিত্রও তাঁর ক্যারিয়ারে বড় মাইলফলক। দুটি সিরিজের জন্যই এমি মনোনয়ন পান তিনি। ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’-এর জন্য ২০২২ সালে এমিতে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন তাঁর অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতি আরও শক্ত করে।
সিনেমাতেও আছেন
টেলিভিশনের পাশাপাশি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন সিডনি। কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম...ইন হলিউড’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয় থেকে শুরু করে ‘দ্য ভয়েড’, ‘ইম্যাকুলেট’, ‘ম্যাডাম ওয়েব’—বিভিন্ন ঘরানার সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে ২০২৩ সালের রোমান্টিক কমেডি ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’ তাঁকে বক্স অফিসের বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। গ্লেন পাওয়েলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ছবিটির সাফল্য সিডনির চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে।
তবে শুধু জনপ্রিয় চরিত্রে আটকে থাকতে চাননি তিনি। ‘রিয়েলিটি’ সিনেমায় রিয়েলিটি উইনারের চরিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। পরে পেশাদার বক্সার ক্রিস্টি মার্টিনের জীবনের ওপর নির্মিত ‘ক্রিস্টি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শারীরিকভাবে কঠোর প্রস্তুতি নেন। এই চরিত্রের জন্য বক্সিং প্রশিক্ষণও নেন এবং নিজের চেহারা ও শরীরেও বড় পরিবর্তন আনেন। শুধুই তারকা-ইমেজ নয়, অভিনেত্রী হিসেবেও নিজেকে প্রমাণ করতে চান তিনি।

আলোচনায় নগ্ন দৃশ্য
পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে সিডনি সুইনির পরিচিতি এইচবিওর দুই আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ ও ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ দিয়ে। এ দুই সিরিজে, বিশেষ করে ‘ইউফোরিয়া’য় সুইনির নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে।
তবে ডেডলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক, নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় বন্ধ করবেন না তিনি। ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের স্রষ্টা স্যাম লেভিনসন। সুইনি সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নির্মাতার কাজ তাঁর খুবই পছন্দের। তাই তিনি যে চিত্রনাট্যে যা রাখবেন, সে অনুযায়ী অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই।
পর্দায় নগ্ন দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে সিডনি বলেন, ‘এটা তো অদ্ভুত একটা কথা। আমি একজন অভিনয়শিল্পী, যাকে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়।’ ক্রাইম ড্রামা ঘরানার সিনেমা ‘রিয়েলিটি’তে একেবারে গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় করেন সুইনি। এ ছবিতে কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যও নেই। তবে সিডনি সুইনি জানেন, তিনি যত ভালোই অভিনয় করেন না কেন, মানুষ কেবল তাঁর শরীর নিয়েই কথা বলে। এ জন্য কৈশোর থেকেই চেষ্টা করেছেন এমন কিছু করতে, যাতে মানুষ তাঁর কাজ নিয়েই কেবল কথা বলে। তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলে যত বেশি সম্ভব খেলায় অংশ নিতাম, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতাম, যাতে মানুষ ভাবতে না পারে যে আমি শরীরসর্বস্ব।’
সাক্ষাৎকারে সুইনি আরও বলেন, আলোচনা-সমালোচনা যা-ই হোক, চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি পর্দায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করা বন্ধ করবেন না।

প্রযোজনাতেও সক্রিয়
অভিনয়ের পাশাপাশি সিডনি এখন প্রযোজনাতেও সক্রিয়। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফিফটি-ফিফটি ফিল্মসের মাধ্যমে ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’ ও ‘ইম্যাকুলেট’-এর মতো প্রকল্পে প্রযোজকের ভূমিকায় ছিলেন। এর ফলে শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, ক্যামেরার পেছনেও নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
সিডনির তারকাখ্যাতির আরেকটি বড় উৎস বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড। আরমানি বিউটি, মিউ মিউ, লেনিজ, ফোর্ড, স্যামসাং, আমেরিকান ইগলসহ বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২৫ সালে আমেরিকান ইগলের ‘সিডনি সুইনি হ্যাজ গ্রেট জিন্স’ প্রচারণা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক হলেও সেটি তাঁকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে।
২০২৬ সালে নিজের অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড ‘সির্ন’ চালু করেছেন সিডনি। ব্র্যান্ডটির প্রচারণাতেও নিজের তারকাখ্যাতি ব্যবহার করেছেন তিনি। চলতি বছর জন্মদিনের আগে ‘বার্থডে বুবস’ নামে নতুন কালেকশনের প্রচারণা নিয়েও আলোচনায় এসেছেন।
সম্পদের হিসাব নিয়েও কম আলোচনা হয় না। ২০২৬ সালে বিভিন্ন প্রকাশনায় সিডনি সুইনির মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা। অভিনয়, প্রযোজনা, বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রিয়েল এস্টেট—সব মিলিয়েই তাঁর এই সম্পদের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
সিডনি এরই মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফ্লোরিডা কিজে একাধিক সম্পত্তি কিনেছেন। গাড়ির প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এমনকি নিজের ফোর্ড ব্রঙ্কো নিজেই সংস্কার করেছেন—ইঞ্জিন থেকে ব্রেক, গাড়ির নানা কাজে হাত লাগিয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনেও গত কয়েক বছরে আলোচনায় ছিলেন সিডনি। ব্যবসায়ী জোনাথন দাভিনোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল এবং ২০২২ সালে তাঁদের বাগ্দান হয়। ২০২৫ সালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে সংগীত ব্যবসায়ী স্কুটার ব্রাউনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০২৬ সালে তাঁদের সম্পর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ্য হয়েছে।
সামনে কী
৯ বছরে পা দেওয়া সিডনি সুইনির ক্যারিয়ারে এখন যেন নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। ‘ইউফোরিয়া’ ও ‘অ্যানিবডি বাট ইউ’-এর সাফল্যের পর শুধু তারকা হিসেবে নয়, প্রযোজক হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করছেন তিনি। সামনে তাঁর ঝুলিতে আছে বড় বাজেটের সিনেমা, সাহিত্যনির্ভর গল্প, জনপ্রিয় গেম অ্যানিমের চলচ্চিত্র রূপান্তর এবং পুরোনো ক্ল্যাসিকের নতুন সংস্করণ।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘গানডাম’। জাপানি মেচা অ্যানিমে ও ফ্র্যাঞ্চাইজির হলিউড সংস্করণে নোয়াহ সেন্টিনিওর সঙ্গে অভিনয় করবেন সুইনি। ছবিটি বর্তমানে পোস্ট–প্রোডাকশনে এবং ২০২৭ সালে মুক্তির কথা রয়েছে। ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত তিনি।
এরপর আছে ‘দ্য হাউসমেইডস সিক্রেট’। পল ফিগ পরিচালিত ছবিটি ‘দ্য হাউসমেইড’-এর পরবর্তী কিস্তি। প্রথম ছবিতে মিলি ক্যালোওয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুইনি, নতুন ছবিতেও সেই চরিত্রে ফিরছেন। তাঁর সঙ্গে থাকছেন কার্স্টেন ডানস্ট। এবার অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্বেও থাকছেন সুইনি।
সাহিত্যনির্ভর ‘দ্য কাস্টম অব দ্য কান্ট্রি’তেও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এডিথ ওয়ার্টনের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি লিখছেন ও পরিচালনা করছেন জোসি রুর্ক। সুইনি অভিনয় করবেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সামাজিক উচ্চতায় ওঠার আকাঙ্ক্ষায় ছুটতে থাকা আন্ডিন স্প্র্যাগ চরিত্রে। ছবিটির প্রযোজনাতেও আছেন তিনি। বর্তমানে এটি পোস্ট-প্রোডাকশনে।
এ ছাড়া ‘স্ক্যান্ডালাস!’-এ অভিনেত্রী কিম নোভাকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যুক্ত হয়েছেন সুইনি। কলম্যান ডমিঙ্গো পরিচালিত এই ছবিতে নোভাক ও ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার সম্পর্কের গল্প উঠে আসবে। সব মিলিয়ে সামনে ব্যস্ত সময় পার করবেন তিনি।
দ্য হলিউড রিপোর্টার, ভ্যারাইটি ও ভোগ অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইয়েমেনের হুথিদের দ্রুত অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। একই সময়, ড্রোন হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। ফলে এখন শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও সবার নজর রিয়াদের দিকে। প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরব কীভাবে হুথিদের ঠেকাবে? তেল রপ্তানি কি চালু রাখতে পারবে? আর পরিস্থিতি খারাপ হলে শেষ পর্যন্ত কি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হবে? হুথিদের বড় অগ্রগতি গত কয়েকদিনের অভিযানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে। এরপর কৌশলগত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর এসেছে। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ পেরিম দ্বীপটির অবস্থান বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাঝামাঝি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে হুথিদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও। সৌদির জন্য নতুন বিপদ হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরমুখী পথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়েছে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করার জন্য পাইপলাইনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন সেই বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় পাইপলাইনের পাশের পাম্প স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার উৎস হিসেবে ইরাক থেকে আসা ড্রোনের কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি। তেল রপ্তানি কতটা ঝুঁকিতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। অর্থাৎ পাইপলাইনে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন হুথির হাতে পেরিম দ্বীপ, বন্ধ হবে লোহিত সাগরও? এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রগতি। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাধা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথে নতুন ঝুঁকি তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলো আরও সংকুচিত হবে। আর তার প্রভাব শুধু রিয়াদেই সীমাবদ্ধ থাকবে না ছড়িয়ে, পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। এতে তেলের দাম বাড়তে পারে। বাড়তে পারে জাহাজের বিমা ব্যয়। জাহাজ চালাতে হবে দীর্ঘ বিকল্প পথে। তাতে বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়ও। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। সৌদি তেল না পেলে বিশ্ব অর্থনীতির কী হবে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। তাই দেশটির সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে শিল্প উৎপাদনে। বাড়বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়। খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। তাই সৌদি তেল রপ্তানি দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সৌদি আরব কী করছে রিয়াদ এখনো সরাসরি বড় ধরনের পাল্টা যুদ্ধের পথে যায়নি। পাইপলাইন হামলার পর সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দেশের ভূখণ্ড থেকে হামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে তারা আপাতত পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আরও পড়ুন তেল পাইপলাইনে হামলা, কী করবে সৌদি ইরাকও হামলার নিন্দা করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলা হুথিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার সহায়তা চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হামলায় সম্মতি দেননি। যুক্তরাষ্ট্র বরং গোয়েন্দা ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার দিকে এগোতে চায়। মক্কা চুক্তি কি সক্রিয় হবে? এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশ এই চুক্তি সই করে। আরও পড়ুন হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি! চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু চুক্তিটি এখনই সামরিকভাবে সক্রিয় হচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই। গত ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের হামলার পর চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে চুক্তির কাঠামো এরই মধ্যে গড়ে উঠছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আগস্টের শেষদিকে ইস্তাম্বুলে চুক্তির কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক করেছে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তও হয়েছে। আরও পড়ুন ঝুঁকিতে তেল বাণিজ্য / যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে? অর্থাৎ মক্কা চুক্তি এখনো কাগুজে ঘোষণা হয়ে নেই। কিন্তু হুথিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়লে এই জোটের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা। কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব, ইয়েমেনের উপকূল এবং সৌদি তেল অবকাঠামো— সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ইয়েমেনে অগ্রগতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ঝুঁকি। আরও পড়ুন লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়? ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন শুধু সামরিক শক্তির হিসাব নয়। জ্বালানি, সমুদ্রপথ, আঞ্চলিক জোট এবং কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের কাছে দীর্ঘমেয়াদি চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে সৌদি আরবকে নতুন নিরাপত্তা কৌশল নিতে হবে। আর সৌদি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপরও আরও সক্রিয় হওয়ার চাপ বাড়বে। তাই এখন সত্যিই সবার নজর সৌদি আরবে। রিয়াদ কি একাই পরিস্থিতি সামলাবে, নাকি মক্কা চুক্তির অংশীদারদের সামনে আনবে? আর যুক্তরাষ্ট্র কত দূর পর্যন্ত সৌদির পাশে দাঁড়াবে? এই দুই প্রশ্নের উত্তরই মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী অধ্যায়ের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, এপি, দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়। বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীনকে ঢাকার এসবিতে, পাবনা বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবীব আবদুল্লাহকে ট্যুরিস্ট পুলিশে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাককে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এছাড়াও নওগাঁ সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তা আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন অন্যথায় আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন। টিটি/জেএইচ
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী মো. সফিকুল ইসলামের (৪২) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরে শুক্রবার রাত ১০টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সংলগ্ন মসজিদের সামনে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ গোপালগঞ্জের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিরাপত্তা প্রহরী সফিকুল ইসলামের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। এক শোকবার্তায় উপাচার্য মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পৃথক শোকবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন এবং নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এসজেডএইচ/এএসএম