জাতীয়

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা?
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত, কার কী ভূমিকা?

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে একাধিক পক্ষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কার কী ভূমিকা, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

হুথি

হুথিরা ‘আনসার আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক জোট ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর অন্যতম অংশ হিসেবে তাদের দেখা হয়। ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বড় একটি অংশ বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক দশকের বেশি সময়ের বিমান হামলা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলার পরও হুথিরা তাদের সামরিক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে আরও আলোচনায় আসে হুথিরা। তারা এসব হামলাকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

সৌদি আরব

২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। সে সময় রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করা।

তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আগের তুলনায় বাস্তবভিত্তিক ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। ইয়েমেনের সংঘাতেও এর প্রভাব পড়ে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল

সৌদি আরব-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল বা পিএলসি গঠিত হয় ২০২২ সালে। এটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।

দেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামরিক বিষয় পরিচালনা করা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার পথ তৈরি করাই কাউন্সিলের অন্যতম দায়িত্ব।

পিএলসিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হুথিবিরোধী বিভিন্ন শক্তিকে এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যেই এই কাঠামো তৈরি করা হয়।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনি কনগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, সংক্ষেপে ইসলাহ, একটি সুন্নি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলন। ঐতিহাসিকভাবে সংগঠনটির সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলাহ বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি অংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

হুথিবিরোধী রাজনীতিতে ইসলাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীঘনিষ্ঠ একটি সামরিক গোষ্ঠী। সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

কেন এই যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের যুদ্ধকে শুধু হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা কঠিন। দেশটির ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ নিয়ে সক্রিয়। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তিও এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

ফলে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আনতে হলে শুধু সামরিক সংঘাত বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মেঘনায় আবারও বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ-ইকোনমিক জোন
মেঘনায় আবারও বালু উত্তোলন, হুমকিতে বেড়িবাঁধ-ইকোনমিক জোন

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে আবারও ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের আঁধারেই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। সন্ধ্যার পর নদীতে নামানো হয় ড্রেজার, চলে রাতভর বালু উত্তোলন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মেঘনা নদী থেকে নিয়মিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) এলাকাও। স্থানীয় সূত্র জানায়, মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় নাছিরাকান্দি, বোরচর, চরওয়েস্টারসহ মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নদীতে ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু তোলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এদিকে গত ৩১ আগস্ট উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় নাছিরাকান্দি, বোরচর ও চরওয়েস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে প্রকল্পের ভেতরে বসবাসরত মানুষের পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন যোগদান করেছি। নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‌‌‘মতলব উত্তরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’ শরীফুল ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

নিরপরাধ কৃষকদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধের দাবি

নিরপরাধ কৃষকদের গ্রেফতার-হয়রানি বন্ধের দাবি

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা, রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা, রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে

সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প ও কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন গড়ে তোলার উদ্যোগ
সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প ও কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন গড়ে তোলার উদ্যোগ

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন ও সবুজায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চায়নাসহ কয়েকটি দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ইকোনোমিক জোন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের আশা, সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমাদের দেশে এখন খুবই প্রয়োজন। এক সময় তেল-গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। সোলারের মাধ্যমে যদি আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ হবে। এখন পাঁচ পার্সেন্ট পূরণ হচ্ছে। আশা করি যে খুব তাড়াতাড়ি আমরা ৪০ পার্সেন্ট এ উন্নীত করতে পারবো। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে সোলারের মাধ্যমে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়াতে পারি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারি, তাহলে এ এলাকায় কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে, এলাকার মানুষের উন্নয়ন হবে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা আরও স্বাবলম্বী করবে ইনশাল্লাহ।’ চায়না ব্যবসায়িক প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে জানান, জমি প্রাকৃতিকভাবে ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। তারা নিজ দেশে ফিরে বোর্ড সভায় বিষয়টি আলোচনা করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এসময় দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন করেন। সফিকুল আলম/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তান

সৌদির তেল পাইপলাইনে হামলা, যা বলল পাকিস্তান

জাতীয় নিরাপত্তায় বাংলাদেশের কাঠামোগত সংস্কার দরকার

জাতীয় নিরাপত্তায় বাংলাদেশের কাঠামোগত সংস্কার দরকার

৩১ বছর পরও মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট, রহস্য জানালেন সানী

৩১ বছর পরও মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট, রহস্য জানালেন সানী

0 Comments