জাতীয়

অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন
অবহেলিত কবি-গীতিকার আজিজুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন

‘তারা ভরা রাতে তোমার কথা যে মনে পড়ে বেদনায়’ কিংবা ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা/ রূপের জাদু এনেছি’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাকে ভর্তি করা হয় তৎকালীন ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১২ সেপ্টেম্বর গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দেশের কাব্য এবং সংগীত রচনায় এক অবিস্মরণীয় নাম কবি আজিজুর রহমান। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষটি কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু করলেও গানই তাকে সবার মাঝে সমাদৃত করে। বাঙালি মুসলমান গীতিকারদের মধ্যে গানের সংখ্যায় কবি নজরুলের পরই তাঁর স্থান। কবি আজিজুর রহমান ৩ হাজারেরও বেশি গান এবং তিনশর বেশি কবিতা লিখেছেন। ঢাকার প্রায় প্রখ্যাত সব সুরকাররা তাঁর লেখা গানে সুর দিয়েছেন, আবার গেয়েছেনও খ্যাতনামা প্রায় সব শিল্পীই।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের মৃত্যুর প্রায় অর্ধশত বছর হতে চললেও সরকারিভাবে স্মৃতি সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবহেলিত অবস্থায় আছে তাঁর বসতভিটা ও সমাধি চত্বর। নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে সমাধিস্থলসহ স্মৃতিচিহ্ন। প্রতি বছর নীরবে-নিভৃতে চলে যায় কবির জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী। স্থানীয় বা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবস দুটি উদযাপন করা হয় না। এবারও ১২ সেপ্টেম্বর কবির মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নেই কোনো আয়োজন। তাই কবির পরিবার এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী-সুধীজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।

তাঁর বাস্তুভিটায় সরকারি উদ্যোগে অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও মাজারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ছাড়া কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসী মনে করেন, সরকারের গ্রহণকৃত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য সহজেই কবির জীবনকর্ম ও সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি তাকে নিয়ে গবেষণার অপার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারি এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র।

জানা যায়, ১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গড়াই নদীর তীরে হাটশ হরিপুর গ্রামে কবি আজিজুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা বশির উদ্দিন প্রামানিক, মা সবুরুন নেছা। ১৯৩১ সালে ঝিনাইদহ জেলার ফুল হরিগ্রামের আজহার সিকদারের মেয়ে ফজিলাতুন্নেসাকে বিয়ে করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ের জনক।

aziz

কিশোর আজিজুর রহমান মাত্র ১০-১২ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। সহায়-সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে দিতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও প্রবল ইচ্ছা ও অনুসন্ধিৎসু মানসিকতার কারণে বিভিন্ন বই পড়ে স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। একাধারে কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া (নদীয়া) ফুড কমিটির সেক্রেটারি, বেঞ্চ অ্যান্ড কোর্ট ডিভিশনের চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া জেলা বোর্ড ও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যের পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। ছাত্রাবস্থায় মুসলিম ছাত্র আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

স্মৃতির অ্যালবামে নীললোহিত ও সাহিত্য পুরুষ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই আজিজুর রহমান গান রচনা শুরু করেন। তিনি একইসঙ্গে সাহিত্যচর্চা ও নাট্যাভিনয়ের সঙ্গেও জড়িত হন এবং নাটকের জন্য অনেক গান রচনা করেন। ১৯৩৮ সালে আজিজুর রহমান সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন এবং সওগাত, মোহাম্মদী, আজাদ, নবশক্তি, আনন্দবাজার, ভারতবর্ষ, বুলবুল, শনিবারের চিঠি ইত্যাদি পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। ১৯৫৪ সালে নিজস্ব শিল্পী হিসাবে তিনি ঢাকা বেতারে যোগদান করেন।

এ সময় বেতার-শিল্পীদের জন্য তিনি অনেক গান লিখেছেন। বিশেষত দেশাত্মবোধক ও ইসলামি গান রচনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তাঁর রচিত ‘পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা আমার এ দেশ ভাইরে’ গানে বাংলাদেশের শস্যশ্যামল প্রকৃতি অত্যন্ত সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর রচিত গানে পল্লি গায়ক আব্বাস উদ্দীন আহমদও কণ্ঠ দিয়েছেন। আজিজুর রহমান রচিত আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠে ‘কারও মনে দিও না ব্যথা’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

সাংবাদিক হিসেবেও তার খানিকটা পরিচিতি ছিল। অধুনালুপ্ত দৈনিক পয়গম পত্রিকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক ছিলেন তিনি। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কিশোর মাসিক ‘আলপনী’রও সম্পাদক ছিলেন একনিষ্ঠ এই কবি। সাহিত্যচর্চা শুরুর আগে নাটকে অভিনয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল বেশি। ফলে শিলাইদহের ঠাকুর বাড়িতে তিনি গড়ে তোলেন একটি নাট্যদল। কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি ও তাঁর দলের ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সমাজসেবায় তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ।

১৯৩৪ সালে তার দাদা চাঁদ প্রামানিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন ‘চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার’। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বইয়ের খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল প্রবল। কবি আজিজুর রহমানই প্রথম তাঁর জন্মস্থান কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস রচনায় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- তোমার নামে তসবিহ খোদা/ লুকিয়ে যেন রাখি, পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা/ আমার এদেশ ভাইরে, রক্ত রঙিন উজ্জ্বল দিন/ বৃক্ষ শিখায় জ্বলছে, তারা ভরা রাতে তোমার কথা যে/ মনে পড়ে বেদনায়, মনরে এই ভবের নাট্যশালায়/ মানুষ চেনা দায়, আমি রূপনগরের রাজকন্যা/ রূপের জাদু এনেছি, এই সুন্দর পৃথিবীতে/ আমি এসেছিনু কিছু নিতে, এই রাত বলে ওগো তুমি আমার/ ওই চাঁদ বলে ওগো তুমি আমার, দেখ ভেবে তুই মন/ আপন চেয়ে পর ভালো তোর/ এই রাজধানীর বুকে/কত জীবনের আশা ভেঙে যায়।

aziz

এ ছাড়াও তিনশর ওপরে কবিতা রচনা করেছেন। তার মধ্যে ‘নৈশনগরী’, ‘মহানগরী’, ‘সান্ধ্যশহর’, ‘ফেরিওয়ালা’, ‘ফুটপাত’, ‘তেরশপঞ্চাশ’, ‘সোয়ারীঘাটের সন্ধ্যা’, ‘বুড়িগঙ্গার তীরে’, ‘পহেলা আষাঢ়’, ‘ঢাকাই রজনী’, ‘মোয়াজ্জিন’, ‘পরানপিয়া’ উল্লেখযোগ্য। কবিতাগুলো একসময় নবযুগ, নবশক্তি, আনন্দবাজার পত্রিকা, শনিবারের চিঠি, সওগাত, মোহাম্মাদী, আজাদ, বুলবুল পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হতো।

আরও পড়ুন

মহানন্দা নদী এবং আমিনুল ইসলামের কবিতায় জীবন-ভূগোল

গ্রন্থের মধ্যে ডাইনোসরের রাজ্যে (১৯৬২), জীবজন্তুর কথা (১৯৬২), ছুটির দিনে (১৯৬৩), এই দেশ, আবহাওয়ার পয়লা কেতাব তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদগ্রন্থ। তাঁর প্রকাশিত আরও কিছু গ্রন্থ হচ্ছে ‘আজাদীর বীর সেনানী: কুমারখালীর কাজী মিয়াজান’, পাঁচমিশালী গানের সংকলন, দেশাত্মবোধক নিজস্ব গানের সংকলন ‘এই মাটি এই মন’, উপলক্ষের গান (১৯৭০) ইত্যাদি। এ ছাড়া কবির লেখা হামদ, নাত ও গজলের বইও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বহুগুণে গুণান্বিত একুশে পদকপ্রাপ্ত কবির শেষ অস্তিত্বটুকু হুমকির মুখে। দিন আসে দিন যায়, কবি আজিজুর রহমানের শেষ স্মৃতিটুকু ক্ষয়ে যায়। সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের বাজারের পাশে রয়েছে কবির সমাধিস্থল। কবির মাজার রক্ষায় নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। কবি আজিজুর রহমান আরও অনেকের মতো আমাদের সমাজের ভাগ্যহীন সাহিত্যশিল্পী। জীবনের শেষ দিনগুলোতে নানা দুশ্চিন্তা, আর্থিক অনটন ও রোগব্যাধিতে জর্জরিত ছিলেন তিনি। অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারেননি। গ্যাংগ্রিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

হাটশ হরিপুরে প্রায় এক একর জায়গা নিয়ে কবির বাস্তুভিটায় বর্তমানে কবির দুই ভাইয়ের সন্তান এবং কবির বড় ছেলে মৃত ফজলুর রহমান মনি মিয়ার ছোট ছেলে আশফাকুর রহমান লিটন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বসবাস করছেন। ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করে কবির নাতি আশফাকুর রহমান লিটন বলেন, ‘কবির স্মৃতি রক্ষায় এখানে একাডেমি, মিউজিয়াম নির্মাণসহ সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি জন্ম এবং মৃত্যু বার্ষিকীও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয় না। যা অত্যন্ত বেদনার এবং লজ্জার। আমদের দাবি, কালজয়ী এই ব্যক্তিত্বের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কবি আজিজুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় যা রচনা করেছেন; তাঁর অধিকাংশই অগ্রন্থিত এবং আজও অনেক কিছুই অপ্রকাশিত রয়েছে। যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এগুলো এখনো যদি প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তাঁর প্রতি সামান্য শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

কবি আজিজুর রহমান ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং জনপ্রতিনিধি। তাঁর সৃষ্টির পরিধি ও বৈচিত্র্য কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর লেখা অনেক কালজয়ী গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, গুণী মানুষটির স্মৃতি ও বাস্তুভিটা আজ অবহেলিত; জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও স্মরণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়।

aziz

সম্মিলিত সামাজিক জোটের চেয়ারম্যান লেখক-গবেষক ড. আমানুর আমান বলেন, ‘সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার জন্য এ বাস্তবতা নিঃসন্দেহে বেমানান। আমার বিবেচনায়, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নাগরিক উদ্যোগ। কবি আজিজুর রহমানের বাস্তুভিটা সংরক্ষণ, তাঁর সাহিত্য ও সংগীতকর্মের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।’

আরও পড়ুন

মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে নজরুল সমতুল্য কেউ নেই: আবদুল হাই শিকদার

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো দিবস উদযাপন করতে হলে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। আমরা কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’

এএমএস/এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ঢাকায় ব্যাগ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
ঢাকায় ব্যাগ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর আদাবর থেকে দুই হাত ও গলাকাটা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদাবর ১০ নম্বরের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, এক নারীর দুই হাত ও মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। টিটি/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
শত শত ডিসেম্বর চলে যাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেনা : রাশেদ খাঁন

শত শত ডিসেম্বর চলে যাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেনা : রাশেদ খাঁন

ইয়াবা ঠেকাতে এআই ক্যামেরা বসাতে চায় পুলিশ, কীভাবে কাজ করবে এটি

ইয়াবা ঠেকাতে এআই ক্যামেরা বসাতে চায় পুলিশ, কীভাবে কাজ করবে এটি

দারিদ্র্য জয় করে নার্সিং পড়ছেন আলোর পাঠশালার লিটন

দারিদ্র্য জয় করে নার্সিং পড়ছেন আলোর পাঠশালার লিটন

সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চতুর্থ এসডিএস ডিবেট ফেস্টিভ্যাল
সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো চতুর্থ এসডিএস ডিবেট ফেস্টিভ্যাল

যুক্তি, বাগ্মিতা ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘চতুর্থ এসডিএস ডিবেট ফেস্টিভ্যাল অ্যান্ড ওয়ার্কশপ ২০২৬’। আজ শনিবার উৎসবের সমাপনী দিনে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয় ২৭০ শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।সোনাহার বিতর্ক পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিল ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি), স্টুডেন্ট ফোর্স বিডি ও গোল্ডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড মডেল মাদ্রাসা।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনাহার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সোনাহার বিতর্ক পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন এনডিএফ বিডির জয়েন্ট সেক্রেটারি নাহিদুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ পাঠক ও জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক জয় লালা, সোনাহার ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও উৎসবের আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ, নীলফামারী সরকারি কলেজের সাইফুল হোসেন আনোয়ার, দিনাজপুর সরকারি কলেজের সেলিম ইসলাম আশিক, সোনাহার বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মো. মাহাবুল ইসলাম, রংপুর সরকারি কলেজের আহনাফ তাজওয়ার রিয়ান ও বীথি রায়। এ ছাড়া অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন গুঞ্জন রায়, টুম্পা সরকার, রুবেল ইসলাম, ইমরান হোসেন, মিজানুর হক, নীরব রায়, বাঁধন রায়, সৌরভ ইসলাম, আবু আহাদ, অদ্রিতা রায়, সুমাইয়া আক্তার, ওরিন মুত্তাকীসহ সিনিয়র বিতার্কিকেরা।দিনব্যাপী কর্মশালায় সংসদীয় বিতর্ক, রম্য বিতর্ক, শুদ্ধ উচ্চারণ, নিউজ প্রেজেন্টেশন, র‍্যাম্প শোসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা রাজ্জাক দুলাল বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এর মাধ্যমে নেতৃত্বগুণ ও বাস্তব জীবনে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়ে। নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।আয়োজকেরা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন এনডিএফ বিডির ডিরেক্টর জেনারেল ও রেক্টর লায়ন এম আলমগীর। তিনি ট্রেইনার হিসেবেও প্রশিক্ষণ দেন। এ ছাড়া সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ও রংপুর জোনের প্রধান মো. শিয়াবুজ্জামান চঞ্চল ও খুলনা জোনের অ্যাক্টিং ডিরেক্টর তরিকুল ইসলামও প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নেন।*লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, সোনাহার বিতর্ক পরিষদ, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ঝরঝরে ভাতের জন্য কতবার চাল ধোয়া উচিত

ঝরঝরে ভাতের জন্য কতবার চাল ধোয়া উচিত

সম্ভাবনা সত্ত্বেও কমছে কৃষিপণ্য রপ্তানি, নীতি সহায়তার তাগিদ

সম্ভাবনা সত্ত্বেও কমছে কৃষিপণ্য রপ্তানি, নীতি সহায়তার তাগিদ

0 Comments