ইয়েমেনের হুথিদের দ্রুত অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। একই সময়, ড্রোন হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন।
ফলে এখন শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও সবার নজর রিয়াদের দিকে। প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরব কীভাবে হুথিদের ঠেকাবে? তেল রপ্তানি কি চালু রাখতে পারবে? আর পরিস্থিতি খারাপ হলে শেষ পর্যন্ত কি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হবে?
গত কয়েকদিনের অভিযানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে। এরপর কৌশলগত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর এসেছে।
পেরিম দ্বীপটির অবস্থান বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাঝামাঝি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ফলে হুথিদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয় নয়। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও।

হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরমুখী পথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়েছে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করার জন্য পাইপলাইনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু এখন সেই বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় পাইপলাইনের পাশের পাম্প স্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হামলার উৎস হিসেবে ইরাক থেকে আসা ড্রোনের কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এর দায় স্বীকার করেনি।

ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। অর্থাৎ পাইপলাইনে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রগতি। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাধা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথে নতুন ঝুঁকি তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথগুলো আরও সংকুচিত হবে।
আর তার প্রভাব শুধু রিয়াদেই সীমাবদ্ধ থাকবে না ছড়িয়ে, পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। এতে তেলের দাম বাড়তে পারে। বাড়তে পারে জাহাজের বিমা ব্যয়। জাহাজ চালাতে হবে দীর্ঘ বিকল্প পথে। তাতে বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়ও।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ। তাই দেশটির সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে শিল্প উৎপাদনে। বাড়বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়। খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিগুলো বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
তাই সৌদি তেল রপ্তানি দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

রিয়াদ এখনো সরাসরি বড় ধরনের পাল্টা যুদ্ধের পথে যায়নি।
পাইপলাইন হামলার পর সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দেশের ভূখণ্ড থেকে হামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে তারা আপাতত পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ইরাকও হামলার নিন্দা করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
অন্যদিকে হুথিদের অগ্রগতি ঠেকাতে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলা হুথিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি।
এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার সহায়তা চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হামলায় সম্মতি দেননি। যুক্তরাষ্ট্র বরং গোয়েন্দা ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার দিকে এগোতে চায়।

এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া সাম্প্রতিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশ এই চুক্তি সই করে।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
কিন্তু চুক্তিটি এখনই সামরিকভাবে সক্রিয় হচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই।
গত ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের হামলার পর চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়নি।
তবে চুক্তির কাঠামো এরই মধ্যে গড়ে উঠছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক আগস্টের শেষদিকে ইস্তাম্বুলে চুক্তির কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক করেছে। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
অর্থাৎ মক্কা চুক্তি এখনো কাগুজে ঘোষণা হয়ে নেই। কিন্তু হুথিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়লে এই জোটের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।
বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব, ইয়েমেনের উপকূল এবং সৌদি তেল অবকাঠামো— সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
একদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ইয়েমেনে অগ্রগতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির ঝুঁকি।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন শুধু সামরিক শক্তির হিসাব নয়। জ্বালানি, সমুদ্রপথ, আঞ্চলিক জোট এবং কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের কাছে দীর্ঘমেয়াদি চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে সৌদি আরবকে নতুন নিরাপত্তা কৌশল নিতে হবে। আর সৌদি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপরও আরও সক্রিয় হওয়ার চাপ বাড়বে।
তাই এখন সত্যিই সবার নজর সৌদি আরবে। রিয়াদ কি একাই পরিস্থিতি সামলাবে, নাকি মক্কা চুক্তির অংশীদারদের সামনে আনবে? আর যুক্তরাষ্ট্র কত দূর পর্যন্ত সৌদির পাশে দাঁড়াবে? এই দুই প্রশ্নের উত্তরই মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী অধ্যায়ের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, এপি, দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে আবারও ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের আঁধারেই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। সন্ধ্যার পর নদীতে নামানো হয় ড্রেজার, চলে রাতভর বালু উত্তোলন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মেঘনা নদী থেকে নিয়মিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি ও বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) এলাকাও। স্থানীয় সূত্র জানায়, মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় নাছিরাকান্দি, বোরচর, চরওয়েস্টারসহ মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নদীতে ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু তোলা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এদিকে গত ৩১ আগস্ট উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় নাছিরাকান্দি, বোরচর ও চরওয়েস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সভায় দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে মেঘনা-ধনাগোদা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে প্রকল্পের ভেতরে বসবাসরত মানুষের পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন যোগদান করেছি। নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলব উত্তরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’ শরীফুল ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন ও সবুজায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চায়নাসহ কয়েকটি দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা ইকোনোমিক জোন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের আশা, সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি আমাদের দেশে এখন খুবই প্রয়োজন। এক সময় তেল-গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। সোলারের মাধ্যমে যদি আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ হবে। এখন পাঁচ পার্সেন্ট পূরণ হচ্ছে। আশা করি যে খুব তাড়াতাড়ি আমরা ৪০ পার্সেন্ট এ উন্নীত করতে পারবো। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে সোলারের মাধ্যমে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়াতে পারি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারি, তাহলে এ এলাকায় কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে, এলাকার মানুষের উন্নয়ন হবে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা আরও স্বাবলম্বী করবে ইনশাল্লাহ।’ চায়না ব্যবসায়িক প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে জানান, জমি প্রাকৃতিকভাবে ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। তারা নিজ দেশে ফিরে বোর্ড সভায় বিষয়টি আলোচনা করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এসময় দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন করেন। সফিকুল আলম/কেজে/এএসএম