ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার দৃষ্টিতে জ্ঞান কখনোই নিজেকে দিয়েই কামিল হয় না। জ্ঞানের স্বাভাবিক নতিজা কর্ম আর কর্মের অন্তর্নিহিত বনিয়াদ জ্ঞান।
উভয়কে বিচ্ছিন্ন করা মানে মানুষের অস্তিত্বকেই খণ্ডিত করা। কারণ, মানুষ এমন কোনো সত্তা নয়, যে শুধু জানার জন্য জানে; আবার এমনও নয় যে না জেনেই যথার্থভাবে কাজ করতে পারে। তার জ্ঞান কর্মের মধ্যে পূর্ণতা লাভ করে, আর কর্ম জ্ঞানের মধ্যে হেদায়েত হাসিল করে। এই পারস্পরিক সম্পর্কই ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রের কর্মতত্ত্বের ভিত্তি।
আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের একটি বড় প্রবণতা হলো জ্ঞানকে নিরপেক্ষ বলে কল্পনা করা। যেন জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের আখলাকি জিম্মাদারির কোনো রিশতা নেই।
একটি তত্ত্ব সত্য কি না, সেটিই যেন একমাত্র সওয়াল। সেই তত্ত্ব মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়, সমাজে কী ধরনের সম্পর্ক সৃষ্টি করে, প্রকৃতির প্রতি কী আচরণ পয়দা করে—এসব যেন জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়।
ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্র এই বিচ্ছিন্নতাকে এনকার করে। কারণ, কোনো জ্ঞান যদি মানুষের জীবনে, চরিত্রে এবং সভ্যতায় কোনো ইতিবাচক রূপান্তর কায়েম না করে, তবে সেই জ্ঞান এখনো তার পূর্ণ উদ্দেশ্যে পৌঁছেনি।
এই দর্শনে ইলম একটি আমানত। আমানতের বৈশিষ্ট্য হলো তাকে ধারণ করলেই দায়িত্ব জন্ম নেয়। অতএব, মানুষ যখন কোনো সত্য জানতে পারে, তখন সে শুধু নতুন একটি তথ্য অর্জন করে না, বরং একটি নতুন দায়িত্বও গ্রহণ করে।
যে কৃষক জানেন মাটি কীভাবে উর্বর থাকে, তাঁর ওপর সেই জ্ঞান অনুযায়ী মাটির হেফাজতের জিম্মাদারি বর্তায়। যে শাসক ন্যায়ের নীতি জানেন, তাঁর ওপর ইনসাফ কায়েমের দায়িত্ব বর্তায়।
যে আলেম সত্য জানেন, তাঁর ওপর সেই সত্যের সাক্ষ্য বহনের জিম্মা বর্তায়। ফলে জ্ঞান কখনো খালি অধিকার নয়, জ্ঞান সর্বদা দায়িত্বের সূচনা।
আমল আবার জ্ঞানকে পরিশুদ্ধও করে। মানুষ যখন সত্য অনুযায়ী জীবনযাপন শুরু করে, তখন এমন অনেক বাস্তবতা তার সামনে উন্মোচিত হয়, যা শুধু তাত্ত্বিক চিন্তায় ধরা পড়ে না।
ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্র জ্ঞানকে স্থবির অবস্থা হিসেবে ভাবে না। বরং দেখে একটি চলমান রূপান্তর হিসেবে। সত্য পয়লা দাখিল হয় মানুষের বোধে, তারপর তার বিবেকে, এরপর তার ফয়সালায় এবং সর্বশেষে তার আচরণে। এই ধারাবাহিকতার কোনো একটি স্তর ভেঙে গেলে জ্ঞানের পূর্ণতা নস্যাৎ হয়।
যে জ্ঞান ফয়সালাকে পরিবর্তন করে না, তা এখনো হৃদয়ে প্রবেশ করেনি, আর যে সিদ্ধান্ত আচরণে প্রতিফলিত হয় না, তা এখনো আখলাকে রূপান্তরিত হয়নি। অতএব, আমল জ্ঞানের বহিরাবরণ নয়, তার অস্তিত্বগত নতিজা।
এখানেই ‘জানা’ ও ‘উপলব্ধি করা’র মধ্যে ফারাক স্থাপন করে ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্র। অনেক বিষয় মানুষ জানে, কিন্তু উপলব্ধি করে না। সে জানে অপচয় অন্যায়, কিন্তু তার জীবন অপচয়ে পরিপূর্ণ, সে জানে জুলুম অন্যায়, কিন্তু সুবিধা পেলেই অন্যায়ের অংশ হয়ে যায়; সে জানে প্রকৃতি আমানত, কিন্তু এস্তেমাল করে মালিকের মতো।
এই অবস্থায় জ্ঞান স্মৃতিতে হাজির থাকে, কিন্তু অস্তিত্বে থাকে গরহাজির। প্রকৃত ইলম তখনই জন্ম নেয়, যখন জানাটুকু মানুষের জীবনযাপনের রীতিতে পরিণত হয়।
আমল আবার জ্ঞানকে পরিশুদ্ধও করে। মানুষ যখন সত্য অনুযায়ী জীবনযাপন শুরু করে, তখন এমন অনেক বাস্তবতা তার সামনে উন্মোচিত হয়, যা শুধু তাত্ত্বিক চিন্তায় ধরা পড়ে না।
ন্যায়বিচার নিয়ে শত গ্রন্থ পাঠ করা যায়, কিন্তু ন্যায় প্রতিষ্ঠার বাস্তব সংগ্রাম মানুষকে ন্যায়ের নতুন মাত্রা শিক্ষা দেয়। পরিবেশনীতি নিয়ে গবেষণা করা যায়, কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে দীর্ঘ সহাবস্থান মানুষকে তার সূক্ষ্ম ভারসাম্য অনুভব করতে শেখায়। অর্থাৎ আমল শুধু জ্ঞানের ফল নয়, জ্ঞানের নতুন উৎসও।
একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, একটি বন সংরক্ষণ করা, একটি ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কিংবা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার সংস্কারও ইলমের বাস্তবায়ন।
এই কারণে ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রে জ্ঞান ও কর্ম একটি চক্রাকার সম্পর্কের মধ্যে আবদ্ধ। জ্ঞান কর্ম সৃষ্টি করে, কর্ম আবার জ্ঞানকে গভীরতর করে।
এই দর্শনে সভ্যতার সংকটও মূলত জ্ঞান ও আমলের বিচ্ছেদ। মানুষ আজ পরিবেশের বিপর্যয় সম্পর্কে জানে, কিন্তু তার অর্থনীতি সেই জ্ঞানের বিপরীতে পরিচালিত হয়। মানবাধিকারের বয়ান জানে, কিন্তু রাজনীতি তার বিপরীত পথে চলে। নৈতিকতার পাঠ দেয়, কিন্তু বাজার তার উল্টো সংস্কৃতি নির্মাণ করে। ফলে সমস্যা তথ্যের নয়, জ্ঞানের সামাজিক অবতারণার।
ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্র মনে করে, কোনো সভ্যতা তখনই প্রাজ্ঞ হয়, যখন তার জ্ঞান তার প্রতিষ্ঠান, আইন, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির মধ্যে জীবন্ত রূপ ধারণ করে।
এ জন্য আমল শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত বা নৈতিক আচরণের নাম নয়, সমাজ নির্মাণও আমলের অন্তর্ভুক্ত।
একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, একটি বন সংরক্ষণ করা, একটি ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কিংবা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার সংস্কারও ইলমের বাস্তবায়ন। কারণ, সত্যের পূর্ণতা মানুষের অন্তরে রূপায়িত হতে চায়, একই সঙ্গে মানুষের সম্মিলিত জীবনেও প্রতিফলিত হতে চায়।
অতএব, ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রে ইলম ও আমল পৃথক নয়। তারা একই জীবন্ত সত্যের দুটি অবস্থা। ইলম দিকনির্দেশনা দেয়, আমল তাকে বাস্তবে রূপ দেয়, ইলম উদ্দেশ্য উন্মোচন করে, আমল সেই উদ্দেশ্যকে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করে।
ফলে জ্ঞানের সর্বোচ্চ সাফল্য এমন মানুষ ও সমাজ নির্মাণ, যেখানে সত্য চিন্তার বিষয় হওয়ার পাশাপাশি জীবনে, প্রতিফলিত হাকিকতে রূপায়িত হয়।
মুসা আল হাফিজ: লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কোনো কোনো জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ব্যক্তিগত গল্প, যেখানে প্রথম যাওয়ার দিনটা মনে থাকে আজীবন। বারবার সেখানে ফিরে যেতে চায় মন। প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়াপত্র ‘ছুটির দিনে’র নিয়মিত বিভাগ ‘ফিরে ফিরে যাই’-তে প্রিয় ভ্রমণস্থানের গল্প বলেন নানা ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তিরা। আজ বলেছেন সংগীতশিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব মিয়াপ্রিয় বেড়ানোর জায়গা?গান গাইতে গিয়ে দেশের ৫২ জেলায় যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ভ্রমণ বলতে যা বোঝায়, ঠিক সেটা হয়েছে কম। দেশের মধ্যে বান্দরবান আর কক্সবাজার আমার প্রিয়। এই দুটি জায়গায় আমাকে যতবার যেতে বলবে, ততবারই যেতে রাজি। যদি একটি বলেন… বান্দরবান। কেন? ছোটবেলা থেকে মনে করে এসেছি, সাগর আমাকে বেশি টানে। কারণ, তখনো পাহাড় দেখিনি। একটা বয়সে এসে প্রথমবার যখন বান্দরবান গেলাম, তখন মনে হলো, সাগর–পাহাড়—দুটোই আমাকে টানে। এরপর সাগরকে ছাপিয়ে পাহাড় আমার একটু বেশি প্রিয় হয়ে উঠল। বান্দরবান ভ্রমণে ঐশীর অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আছেপ্রথম কবে গিয়েছিলেন?ওই যে বললাম, সব সময় আসলে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি, তাই একটু কমই ঘোরা হয়েছে। গত দুই–তিন বছরে আমার মধ্যে একটা পরিবর্তন এসেছে। মনে হয়েছে, শুধু কাজ করলেই হবে না, একটু ঘুরতেও হবে। সেই সুবাদেই বান্দরবান প্রথম গিয়েছি কয়েক বছর আগে।বান্দরবান ঘোরার পর এখন মনে হয়, আমাকে যতবার অপশন দেওয়া হবে, আমি ততবারই বান্দরবান যেতে চাইব।জায়গাটা ঘিরে স্মরণীয় কোনো স্মৃতি? বান্দরবানে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আছে। এর মধ্যে স্বামীর সঙ্গে যখন গিয়েছিলাম, তখন একেবারেই অন্য রকম একটা হানিমুন ফেজ ছিল। ফলে বান্দরবানে আমরা অনেক অনেক স্মৃতি তৈরি করেছি।তার মধ্যে একটা ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে। পাহাড়ের ওপর দোলনায় দোল খেতে খেতে চা খেয়েছি। আমি একটু টংয়ে চা খাওয়া, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া—এ ধরনের একেবারে সাধারণ, স্বাভাবিক জীবনের বিষয়গুলো খুব পছন্দ করি। ব্যক্তিগতভাবে এভাবে থাকতে আমার ভালো লাগে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে দোলনায় দোল খেতে খেতে চা খাওয়া, এটা আমার জন্য খুব স্পেশাল একটা মুহূর্ত ছিল।হাওরে বেড়াতে যাচ্ছেন? প্রশাসনের এই ১৩ নির্দেশনা জেনে রাখুনগায়িকা ফাতিমা তুয জাহরা ঐশীআমরা বাইক নিয়ে ঘুরতেও খুব পছন্দ করি। পাহাড়ের উঁচু-নিচু রাস্তায় বাইকে করে ঘুরেছি। অভিজ্ঞতাটা খুবই থ্রিলিং ছিল।বিদেশে প্রিয় গন্তব্য?ফ্রান্স।কারণ সেখানে গিয়ে মনে হয়েছে, এটা একেবারে পিওরলি একটা ভালোবাসার শহর। তবে আমার একটা আক্ষেপ আছে। আমি যখন ফ্রান্সে গিয়েছি, সেটাও অনুষ্ঠানের সুবাদে। আমার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারিনি। আমার ইচ্ছা আছে, আবার কোনো এক সময় প্যারিসে যাব, স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে।এই দেশে কারাগার আছে একটি, বন্দী মাত্র ১১ জন—সবাই বিদেশি নাগরিক
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচি থেকে উৎসাহিত হয়ে ফ্যাসিস্টদের দোসররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। যারা এতে উৎসাহ দিচ্ছে, তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চায় না। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন চারতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তি বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে। বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে। যদি চলে যেতে হয়, তাহলে জনগণের সমর্থনের মাধ্যমেই চলে যাবে। আমাদের এই সাহস ও শক্তি রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। তেল ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ-ছয় মাসের মাথায় হঠাৎ এমন কী সমস্যা হয়েছে যে লাখ লাখ লিটার তেল ও গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ করতে হবে? এতে কি রাষ্ট্রের সম্পদের অপচয় হয়নি? তবে দেশে তেল-গ্যাসের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত এর স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছে। জনগণের সাময়িক অসুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিকে বলেছেন, আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল-গ্যাস সরবরাহ দিতে পারছি না। কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমাদের সরকার অল্প সময়ের মধ্যে দেশের তেল-গ্যাসের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করবে। পরে ভৈরবের স্টেডিয়ামসংলগ্ন হাইওয়ে থানার পেছনে একটি সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে গোছামারা গ্রামে তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। দুপুর ১২টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শরীফুল আলম। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজীবুল হাসান/কেএইচকে/এএসএম