জাতীয়

সম্ভাবনাময় ভোজ্যতেল পেরিলা চাষ করবেন যেভাবে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সম্ভাবনাময় ভোজ্যতেল পেরিলা চাষ করবেন যেভাবে
সম্ভাবনাময় ভোজ্যতেল পেরিলা চাষ করবেন যেভাবে

ভোজ্যতেল পেরিলা বাংলাদেশে অভিযোজিত একটি নতুন ফসল। ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) নামে বাংলাদেশে প্রথম পেরিলার একটি জাত নিবন্ধিত করে।

পেরিলা মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার জাত, যা কোরিয়ান পেরিলা নামে পরিচিত। পেরিলা তেল দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে ব্যবহার করা হয়। পেরিলা তেলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—এটি উচ্চমাত্রার ৫০-৬০% ওমেগা-৩ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড বা লিনোলিনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ও ২২-২৩% ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বা লিনোলিক এসিড এবং ক্ষতিকারক ইরোসিক অ্যাসিডমুক্ত। এই তেলের ৯২%-ই অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় পেরিলা তেল মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি কমাতে এ তেলের অসাধারণ ভূমিকা আছে।

ভোজ্যতেলের গড় চাহিদা

বাংলাদেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের গড় চাহিদা প্রায় ২.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২.০-২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন ক্রুড সয়াবিন তেল এবং পাম ওয়েল আমদানি করা হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব তেল ফসল আছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম ইত্যাদি। এসব তেল ফসল থেকে নিজস্ব চাহিদার মাত্র ১০% পূরণ করে থাকে। বাংলাদেশে তেল ফসলের মধ্যে তিল ছাড়া অন্যান্য ফসল রবি মৌসুম বা শীতকালে হয়ে থাকে। রবি মৌসুমে আন্তঃফসলের প্রতিযোগিতার জন্য চাইলেও তেল ফসলের জমি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

ভোজ্যতেলের চাহিদা কমাবে ‘পেরিলা’, হতে পারে রপ্তানি

পেরিলার জীবনকাল

ভোজ্যতেল পেরিলার জীবনকাল ১০০-১০৫ দিন (বীজতলা ২৫-৩০ দিন এবং মূল জমি ৭০-৭৫ দিন)। পেরিলা বীজে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪০%। বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়। আউশ ধান কাটার পর বেশিরভাগ জমি প্রায় আড়াই মাস পতিত থাকে। এরপর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সরিষা বপন করা শুরু হয়। মূল জমিতে পেরিলার জীবনকাল মাত্র ৭০-৭৫ দিন হওয়ায় সহজেই এর বেশিরভাগ জমিতে সরিষা লাগানোর পূর্বে পেরিলা রোপণ করে কর্তন করা যায়। লবণ সহনশীল হওয়ায় উপকূলীয় বন্যামুক্ত পতিত জমি সহজেই পেরিলার আওতায় আনা সম্ভব। এ ছাড়া আমন ধান হয় এমন উঁচু জমি যেখানে সম্পূরক সেচের প্রয়োজন হয় এবং খরচ অপেক্ষাকৃত বেশি সেসব জমি পেরিলার আওতায় নিয়ে এলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমন ধান রোপণ করার পর পতিত বীজতলাসমূহ পেরিলা চাষের আওতায় আনলে দেশে তেল ফসলের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে।

ভোজ্যতেলের ভোক্তা

বাংলাদেশে একটি সামর্থবান বড় ভোক্তা শ্রেণি আছেন, যারা দেশের বাইরে থেকে আগত অলিভ তেল, ক্যানোলা তেল, সূর্যমুখি তেল খেয়ে থাকেন। এগুলোর বাজারমূল্যও অনেক বেশি। পেরিলা তেলের আবাদ যদি বাংলাদেশে বাড়ানো যায়, তাহলে সামর্থবান ভোক্তা শ্রেণির মধ্যে এই উচ্চ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ পেরিলা তেলে আগ্রহ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে দেশের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকও তার ফসল অধিক লাভে বিক্রি করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকার যুবক শ্রেণি যারা আছেন; তাদের পেরিলা ফসলের চাষ এবং তেলের ব্যবসায় স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ আছে। তাছাড়া পেরিলার বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় দেশে এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ের বাজারজাতকরণে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সন্তোষজনক মুনাফা লাভের সুযোগ আছে। পেরিলা তেল ক্রুড বা রিফাইন ছাড়া খাওয়া যায়। ফলে কৃষক বা গ্রামের জনগণ দেশে প্রচলিত যন্ত্র থেকে সহজেই পেরিলা বীজ থেকে তেল আহরণ করে খেতে পারবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেরিলা চাষের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে উচ্চ গুণাগুণ সমৃদ্ধ পেরিলা তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

সাউ পেরিলা-১ (গোল্ডেন পেরিলা বিডি) উৎপাদন

পানি জমে থাকে না এমন প্রায় সব ধরনের মাটি এ ফসল চাষের উপযোগী। তবে বেলে দোঁআশ বা দোঁআশ মাটি পেরিলা চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে ত্বীন ফলের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা কেমন?

বীজতলা তৈরি, বীজ বপন ও জমি তৈরি

খরিপ-২ মৌসুম, বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১০ জুলাই-২৫ জুলাই। পেরিলা অত্যন্ত ফটোসেনসেটিভ ফসল। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে পেরিলা গাছে ফুল আসা শুরু হয়। কাজেই গাছের পর্যাপ্ত অঙ্গজ বৃদ্ধি এবং কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ফলন পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশ্যই বীজ বপন করতে হবে। প্রতি হেক্টরে ১-১.৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজতলার প্রস্থ ১-১.৫ মিটার এবং দৈর্ঘ জমির আকার অনুযায়ী যে কোনো পরিমাণ নেওয়া যাবে। বীজতলায় জৈব সারের ব্যবস্থা করলে স্বাস্থ্যবান চারা পাওয়া যাবে। বীজতলায় দুই বেডের মাঝে নালার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেন বৃষ্টি হওয়ার পর অতিরিক্ত পানি বীজতলায় জমে না থাকতে পারে।

বীজের আকার ছোট হওয়ায় মাটি যথাসম্ভব ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। পিঁপড়ার আক্রমণ যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খরিপ-২ মৌসুমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বীজ বপনের পর প্রথম ১৫ দিন পর্যন্ত বীজতলার চারপাশে খুঁটি দিয়ে উঁচু করে পলিথিন দেওয়া যেতে পারে। ১/৪ ইঞ্চি গভীর লাইন করে বীজ বপন করলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বাড়ে। অথবা বীজ ছিটিয়ে দিয়ে ঝুরঝুরে মাটি ওপর দিয়ে দিতে হবে। বীজ বপনের পর বীজতলায় হালকা করে পানি দিতে হবে। বীজতলা যেন একেবারে শুকিয়ে না যায়; সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

৪-৫টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে। জমির চারপাশে নালার ব্যবস্থা করলে পানি নিষ্কাশনের জন্য সুবিধা হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৩০-৪০ সেন্টিমিটার এবং লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৩০-৪০ সেন্টিমিটার বজায় রেখে চারা রোপণ করতে হয়।

আরও পড়ুন

চরাঞ্চলে যে পদ্ধতিতে মসলার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব

বীজ বা ফসল পরিপক্বতার সময়

চারা রোপণের ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে পেরিলা ফসল সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত বীজ পরিপক্বতার সময় গাছের পাতা ঝরে যায়। গাছের পাতা যদি কমপক্ষে ৮০% হলুদ হয়; তখনই বীজ ধূসর রং ধারণ করে এবং বীজ সংগ্রহের উপযোগী হয়। বাহির দিক থেকে বীজ দেখা যায় বিধায় বীজের পরিপক্বতা সহজেই বোঝা যায়।

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দূর-দূরান্ত থেকে এসে জাদুঘরের গেটে অপেক্ষা, খুলবে বিকেল ৩টায়
দূর-দূরান্ত থেকে এসে জাদুঘরের গেটে অপেক্ষা, খুলবে বিকেল ৩টায়

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকেল ৩টা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। তবে জাদুঘর খোলার সময় না জেনে সকালেই দূর-দূরান্ত থেকে সেখানে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক দর্শনার্থী। কড়া রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জাদুঘরের বাইরে অপেক্ষা করতে না পেরে অনেককে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সময় কাটাতে চলে যেতে দেখা যায়। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া অনেকের গন্তব্য ছিল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। কিন্তু সেখানে পৌঁছে টিকিট কাউন্টার বন্ধ এবং প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে হতাশ হতে দেখা যায় তাদের। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শনার্থীরা এসে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে সেখানে টিকিট বিক্রেতা ছিলেন না। নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকে জাদুঘরের গেটসংলগ্ন ছায়ায় অপেক্ষা করছিলেন। কেউ কেউ জাদুঘরের ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জানতে চাইছিলেন, কখন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, জাদুঘর বন্ধ কি না বা কেন বন্ধ। অনেক দর্শনার্থী জাদুঘর খোলার সময় না জানায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অন্যত্র চলে যান। কেউ কেউ সময় কাটাতে পাশের চন্দ্রিমা উদ্যান ও সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে সাত বন্ধুকে নিয়ে জাদুঘরে আসেন জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘জানতাম না এটি বিকেল ৩টায় খোলা হয়। এত দূর থেকে এসে আমরা বিপদে পড়েছি।’ মিরপুর-১ নম্বর থেকে তিন বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত। তিনি বলেন, ‘আমরা শুক্রবার ছুটি পাই। সন্ধ্যার আগেই মাদরাসায় ফিরতে হয়। এখন এসে দেখি জাদুঘর খুলবে বিকেল ৩টায়। আশপাশের কোনো মসজিদে গিয়ে তারপর আসবো ভাবছি।’ দর্শনার্থীরা জানান, শুক্রবারের মতো ছুটির দিনে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে জাদুঘর দেখতে আসেন। তাই সকাল থেকেই জাদুঘর খোলা রাখলে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পুরান ঢাকা থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে জাদুঘরে আসেন সিরাজুল। এক্সিট গেটে থাকা নিরাপত্তাকর্মী তাকে জানান, জাদুঘর বিকেল ৩টায় খুলবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরে চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে চলে যান তিনি। সিরাজুল বলেন, ‘ছুটির দিন সকাল থেকে খোলা রাখা যেত। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভোগান্তিতে পড়ছে।’ এদিকে, জাদুঘর সংলগ্ন গেটে দর্শনার্থীদের কাছে আইসক্রিম, আখের শরবত ও লেবুর পানি বিক্রি করতে একাধিক হকারকে দেখা যায়। তারা জানান, দুপুর ২টার পর থেকে জাদুঘর এলাকায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। এসএম/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
কঙ্গোর স্কুলে আগুন ও পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

কঙ্গোর স্কুলে আগুন ও পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

ধনিয়াপাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের

ধনিয়াপাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানিতে যা বলল ফিফা

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানিতে যা বলল ফিফা

২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র
২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যার পেছনের সামরিক ব্যবস্থাকে অনুসন্ধান করেছে ইসরায়েলি তথ্যচিত্র ‘নাজা’। গতকাল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ারের পর ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছেন দর্শকেরা। এটি উৎসবের অন্যতম দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশন হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ৮০ মিনিটের এই তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর। দুজনই ২০২৫ সালে অস্কারে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার পাওয়া ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর পরিচালক। সেই ছবিতে ফিলিস্তিনি সহপরিচালক বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে তাঁরা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন।‘নাজা’র দৃশ্য। আইএমডিবি ‘নাজা’ নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় নিয়েছেন আব্রাহাম ও সোর। তথ্যচিত্রটির জন্য তাঁরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তাঁদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটালি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তেল আবিবের ছাদে রাতের আঁধারে ধারণ করা হয়েছে এসব সাক্ষাৎকার।ছবিটির নাম ‘নাজা’ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি শব্দ, যা কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া সামরিক কর্মকর্তারা গাজায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি এবং এআইনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে কথা বলেছেন।তথ্যচিত্রে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের একটি এআইসহায়ক ব্যবস্থা। নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, গাজায় নজরদারি করা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে ফোনকল, মানুষের চলাচল ও পারস্পরিক যোগাযোগের মতো তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে।এক সাক্ষাৎকারদাতা ছবিতে বলেন, এই প্রক্রিয়া ছিল ‘কারখানার মতো’, অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা। আরেকজন বলেন, দূর থেকে সবকিছু পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি অনেকটা ভিডিও গেমের মতো মনে হতো।ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি সামরিক সদস্য বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস, মানবিক আইন উপেক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সামরিক বাহিনীর মধ্যে তৈরি হওয়া ঘৃণার পরিবেশের কথাও বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতেন, যেসব বাড়িকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই পরিবার বসবাস করত।নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যেন ইসরায়েলকে দেওয়া সমর্থন পুনর্বিবেচনা করে এবং নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। তাঁর মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার ও রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।আব্রাহাম ও সোর ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’-এ যৌথভাবে লিখেছেন, তাঁদের অনুসন্ধানে এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের হত্যাকে শুধু যুদ্ধের ‘দুঃখজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে দেখা যায় না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ও হিসাব করে করা কর্মকাণ্ড, এমনটাই তাঁদের তথ্যচিত্রের উপসংহার।ভেনিসে প্রথমবার বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, দেখে কী বললেন সমালোচকেরা ছবিটি ভেনিসের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে শেষ মুহূর্তে যুক্ত করা হয়। জুলাইয়ে উৎসবের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার প্রায় এক মাস পর ‘নাজা’কে প্রতিযোগিতায় নেওয়া হয়। নির্মাতারা জানিয়েছেন, তিন বছর ধরে ছবিটির কাজ চলার কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা এটি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছিলেন।ভেনিসে প্রদর্শনীর পর নির্মাতাদের আবেগপ্রবণ দেখা যায়। দর্শকদের মধ্যেও ছিল প্রবল আবেগ। কেউ কেউ ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেন। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক ও অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে করতালিতে অংশ নেন। ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর প্রযোজক জেমস উইলসনের সঙ্গে গ্লেজারই এই ছবির প্রযোজনায় যুক্ত।গতকাল ভেনিস উৎসবে র‍্যাচেল সোর ও ইউভাল আব্রাহাম। এএফপি ভেনিসে এর আগের দীর্ঘতম স্ট্যান্ডিং ওভেশনের রেকর্ড ছিল ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’-এর দখলে। ২০২৫ সালে গাজাভিত্তিক সেই ছবির প্রদর্শনী শেষে প্রায় ২২-২৩ মিনিট করতালি পেয়েছিলেন নির্মাতা কাউথের বেন হানিয়া। ছবিটি পরে উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারও জিতেছিল। এবারের ভেনিস প্রতিযোগিতায় বেন হানিয়া বিচারকমণ্ডলীর সদস্য।এবারের উৎসবে ‘নাজা’ একমাত্র তথ্যচিত্র, যা মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছে। আগামীকাল শনিবার উৎসবের পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা। এর আগে দর্শকদের প্রায় ২৫ মিনিটের এই অভ্যর্থনা ছবিটিকে উৎসবের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।গাজা যুদ্ধ নিয়ে তৈরি এই তথ্যচিত্র শুধু চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, যুদ্ধের প্রযুক্তি, এআইয়ের ব্যবহার এবং বেসামরিক মানুষের জীবন নিয়ে একটি তীব্র রাজনৈতিক দলিল হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। ভেনিসে দীর্ঘ করতালি সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।ভ্যারাইটি ও আল–জাজিরা অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
দুই ফুল ও টাঙ্গনপারের উদ্যান

দুই ফুল ও টাঙ্গনপারের উদ্যান

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে

মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের
মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার ঘটনায় আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। কারা এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।পরিবারের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অবস্থান, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এর আগে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় হামলার শিকার হন ফরহাদ। শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তিনি পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরহাদের মৃত্যু হয়।মৃত্যুর আগে হাসপাতালে ফরহাদের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছিল জানিয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম আজ সকাল প্রথম আলোকে বলেন, ফরহাদ জানিয়েছিলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে দুজন ব্যক্তি তাঁকে আক্রমণ করেন। একজন তাঁর শরীরে পেট্রল ছিটিয়ে দেন এবং অন্যজন ম্যাচ জ্বালিয়ে আগুন ধরান। তবে হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি।আবদুল খালেক, ফরহাদের চাচা ফরহাদ সামাজিক অনাচার ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।ওসির ভাষ্য, ফরহাদ সামাজিক বিভিন্ন ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বেকারত্ববিরোধী আন্দোলনেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ফরহাদের মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন ফরহাদের চাচা আবদুল খালেক। তিনি বলেন, ফরহাদ সামাজিক অনাচার ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।ময়মনসিংহে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু : শরীরে পেট্রল ছিটায় একজন, আগুন দেয় আরেকজনপরিবার সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ আগে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতেন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের মৌশাদিয়া গ্রামে। পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। দুই সংসারে তাঁর তিন সন্তান আছে।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, ফরহাদের বাড়ির পাশে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। তিনি তাদের সেখানে আড্ডা দিতে বাধা দিতেন।ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা আড়াইটার দিকে ফরহাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ফরহাদ বিভিন্ন ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জানিয়ে তাঁর বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, তাঁর ছেলেকে যারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচার চান।এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা আড়াইটার দিকে ফরহাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নাগেশ্বরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার মাদকসেবীর কারাদণ্ড

নাগেশ্বরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার মাদকসেবীর কারাদণ্ড

ইতালির সমুদ্রে আকাশ থেকে নেমে এল ফানেল

ইতালির সমুদ্রে আকাশ থেকে নেমে এল ফানেল

জন্মদিনে বিশেষ পরিকল্পনা নেই কনক চাঁপার

জন্মদিনে বিশেষ পরিকল্পনা নেই কনক চাঁপার

0 Comments