জাতীয়

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকারী দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকারী দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণকারী দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্টের সড়কসংলগ্ন মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে বিস্ফোরণকারী দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁরা আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কেউ হতে পারেন। সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায়ের পর বেলা ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে সড়কে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায়ের পর এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। সাতজনের ফাঁসির রায়ের প্রতিক্রিয়ায় একটা ককটেল ফুটেছে। এটা বড় কোনো বিষয় নয়।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে রায় ঘোষণা করেছেন সুবিচার পেয়েছি বলে আমরা মনে করি। আদালতের রায়ের ওপরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’

আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা শহরের মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধসংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করেন।

গত শুক্রবার গুলশানে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মিছিলে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা ছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে অপতৎপরতা চালায়। তারা বিভিন্ন স্থানে ফজরের নামাজের পর মিছিল করে। শুক্রবারে মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, তবে পুলিশ আন্দাজ করতে পারেনি ওই সময়েই সেখানে কেউ মিছিল করতে পারে। এটাকে ব্যর্থতা বলা যাবে না। সরকার পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুই ধরনের তথ্যের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন সোমবার একটি সম্ভাব্য সময় দিয়েছে। পরিকল্পনার কথা বলেছে। এটাকে গণমাধ্যমে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে এটা সম্ভাব্য পরিকল্পনা, চূড়ান্ত কিছু নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয়ের সভা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে নির্বাচনের সময় ঠিক করা হবে। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ
কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এমন কিছু শিক্ষার্থী আছে, যাদের জীবনের গল্প অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। অদম্য মেধাবীদের নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে থাকছে চার শিক্ষার্থীর কথা।অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছে তারা। কারও বাবা নেই, কারও বাবা প্রবাসে গিয়েও কাজ পাননি। কারও পরিবারের সম্বল সামান্য জমি। আবার কারও সংসার চলে মায়ের একার প্রচেষ্টায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা থামায়নি তারা। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চারজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।ভালো ফলের পর তাদের চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়; কিন্তু কলেজে পড়াশোনার খরচ কীভাবে চলবে, সেই দুশ্চিন্তাও আছে।স্কুলে একমাত্র সাদিকাই জিপিএ–৫ পেয়েছেফরিদপুর শহরের জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। তার নাম সাদিকা আক্তার। তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার; কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে হলে প্রচুর খরচ, এ খরচ বহন করার ক্ষমতা তার মায়ের নেই। এ কথা ভেবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার চিন্তা করছে সাদিকা।সাদিকা পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় থাকে। পাঁচ বছর আগে তার মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর থেকে সাদিকা ও আনিশা দুই মেয়েকে কোলেপিঠে করে গড়ে তোলার সংগ্রামে নামেন মা মোহসিনা বেগম। অভাবের সংসার, দুই মেয়ের জন্য বাবার সামান্য টাকা এবং আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দুই মেয়েকে পড়াশোনা করান।সাদিকা আক্তার বলেন, ‘মা-ই আমাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আমি জানি, কত অভাব– অনটনের মধ্যে আমাদের চলতে হচ্ছে। গরিব মানুষদের স্বপ্ন দেখাও যেন বিলাসিতা। সংসারের অবস্থা বুঝেই আমি উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক বিভাগে পড়ার কথা ভাবছি।’অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় স্বপ্ন সাদিকার মা মোহসিনা আক্তার বলেন, আমার মেয়ে স্বপ্ন দেখেছিল চিকিৎসক হওয়ার। এ জন্য রাত–দিন পরিশ্রম করে সে জিপিএ–৫ পেয়েছে; কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে আমার পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না।জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা খানম বলেন, ‘চলতি বছর এ বিদ্যালয় থেকে সে–ই একমাত্র ছাত্রী, যে জিপিএ–৫ পেয়েছে; কিন্তু আর্থিক কারণে যদি আগামীতে তার পড়াশোনা ব্যাহত হয়, তবে একজন শিক্ষক হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে এ দায় আমরা এড়াতে পারব না।’অনলাইনে ফ্রি ক্লাস করত সানজিনাঅর্থের অভাবে নিয়মিত প্রাইভেট পড়া সম্ভব হতো না। যে কারণে ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে ফ্রি ক্লাস করত সানজিনা ইসলাম। স্কুলেও ছিল নিয়মিত। কোথাও আটকে গেলেই শ্রেণিশিক্ষকের সহযোগিতা নিত। পাশাপাশি বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা করত। এভাবেই এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সানজিনা।সানজিনা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাকের ফকিরপাড়ার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী ছিল।রফিকুল ইসলাম হাটের ইজারাদারের আদায়কারী হিসেবে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে ছোট্ট একটি দোকান করেছিলেন। প্রায় আট মাস আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান; কিন্তু সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি।রফিকুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দুই মেয়েকে নিয়ে দিন পার করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভেবেছিলাম, সানজিনার বাবা বিদেশে রোজগার করতে পারলে দেনা শোধ করার পর আমাদের দিন ঘুরে যাবে; কিন্তু এখন একদিকে পাওনাদারের টাকা পরিশোধের চাপ, পাশাপাশি দুই সন্তানের পড়ালেখা চালানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’সানজিনা ইসলাম বলে, ‘পরিবারের অভাব দূর করতে অনেক কষ্টে বাবা সৌদি আরবে গিয়েও ভালো নেই। মায়ের পক্ষে আমার প্রাইভেটের টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। উপায় না পেয়ে বাবার রেখে যাওয়া ফোন দিয়ে ইউটিউব ঘাঁটাঘাঁটি করে পড়াশোনার বিষয় খোঁজ নিতাম, অনলাইনে ফ্রি ক্লাস করতাম।’ ভালো ফল করার পেছনে মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে সানজিদা আরও বলে, ‘গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা আছে; কিন্তু পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে চায় রুবাইয়াকৃষক বাবার সম্বল বলতে সামান্য কিছু জমি। সেই জমির ফসলেই চলে সংসার। এর মধ্যেই দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হয়। অভাবের এই সংসারে বড় মেয়ে মোছা. রুবাইয়া খাতুন রাকা পড়ালেখায় ভালো ফল করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।রুবাইয়া সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের তবারিপাড়া গ্রামের কৃষক মো. রাসেল হোসেন সরকার ও গৃহিণী মোছা. ছালমা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে উপজেলা সদরের ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অভাবের সংসারে মেয়ের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। এ দম্পতির আরেক সন্তান রেজোয়ান সরকার ধানগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।রুবাইয়ার মা মোছা. ছালমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েটা পড়ালেখায় ছোটবেলা থেকেই ভালো। এসএসসি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছে। এখন কলেজে পড়ালেখার জন্য খরচ জোগানো নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়েছি।’পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই কোনো স্বপ্ন দেখে না জিপিএ-৫ পাওয়া ফারজানারুবাইয়ার ইচ্ছা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো পড়ালেখা করে আরেকটি জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। পড়ালেখা শেষ করে মা–বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করবে।রুবাইয়ার বাবা কৃষক মো. রাসেল হোসেন সরকার বলেন, সম্বল বলতে সামান্য কিছু জমি। তা চাষ করে সংসার চালানোই কঠিন। তারপর মেয়ে ও ছেলের পড়ালেখার খরচ চালানো খুবই কঠিন।ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনাতন কুমার বলেন, ‘রুবাইয়ার মতো অদম্য মেধাবীর পাশে কোনো হৃদয়বান মানুষ সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবেন বলে আশা করি।’প্রয়াত বাবার ইচ্ছাপূরণে সুমাইয়ার সংগ্রামবাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কেউ একজন চিকিৎসক হবে; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে মারা যান বাবা। এরপর অভাবের সংসারের হাল ধরেন দুই ভাই। তাঁদের টিউশনির আয়ে চলে মা ও পাঁচ ভাই-বোনের সংসার। সেই সংসারেই বেড়ে ওঠা সুমাইয়া আক্তার সুমী এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।সুমাইয়া শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া ফটিয়ামারী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার ফটিকমারী গ্রামে। পরিবারের ৬ শতাংশ জমি ছাড়া আর কোনো আবাদি জমি নেই।সুমাইয়ার বাবা তোফাজ্জল হোসেন পল্লিচিকিৎসক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর অসুস্থ থাকার পর সুমাইয়া যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তখন তিনি মারা যান। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন মা শাহিনা বেগম। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। পরে শাহিনা বেগম তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া ওয়ারিশি জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।সুমাইয়ার বড় দুই ভাই টিউশনি করে নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচও চালান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ বোন তাসলিমা ইয়াসমিন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন।অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও পড়াশোনা থামেনি সুমাইয়ার। সে বলে, ‘বাবার স্বপ্ন ছিল আমাদের মধ্যে যে কেউ যেন চিকিৎসক হয়। আমি চিকিৎসক হয়ে বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই; কিন্তু আমাদের যে অবস্থা, তাতে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে চালাব, সেটিই বুঝতে পারছি না।’সুমাইয়ার মা শাহিনা বেগম বলেন, ‘সুমাইয়া বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চায়; কিন্তু টাকার অভাবে সেই স্বপ্ন দেখতেও ভয় লাগে। মেয়ের কলেজে পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে চিন্তায় আছি।’হালগড়া ফটিয়ামারী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ এইচ মুরাদ বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুমাইয়া ও তার ভাই-বোনেরা কষ্ট করে পড়াশোনা করছে। সুমাইয়া অত্যন্ত মেধাবী। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই তাকে সহযোগিতা করেছেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে সে ভালো করবে।[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর, প্রতিনিধি, রাজবাড়ী, শেরপুর ও রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ]মা-বাবার কষ্ট দেখেই বড় স্বপ্ন তাদের

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি, বড় সামরিক উপস্থিতির ঘোষণা ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি, বড় সামরিক উপস্থিতির ঘোষণা ট্রাম্পের

শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যে জোর দিন

শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যে জোর দিন

লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে
লংমার্চের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর নজর রাখছে বিএনপি। পাশাপাশি বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তাঁরা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না। পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না।বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো মাঠের কর্মসূচি পালন করছে। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা। বিপরীতে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এ অবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে।বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’তবে বিএনপির এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদবিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেইএর আগে প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীআমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’সরকারি দলের অন্য নেতারাও বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে।পাল্টা কর্মসূচির প্রয়োজন দেখছে না বিএনপিবিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করছেন না।দলটির নেতাদের মতে, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি।বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই।তবে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করেন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে।সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও আলোচনাবিরোধী দলগুলো যখন ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মাঠে রয়েছে, তখন বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা অনেকটাই সীমিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রস্তুতির বড় কোনো কর্মসূচি এখনো দৃশ্যমান নয়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের উদ্যোগে এলাকায় সক্রিয় আছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ গোছানোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে

দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে

শেপলেস সময়

শেপলেস সময়

তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে যাবেন: নাহিদ ইসলাম

তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে যাবেন: নাহিদ ইসলাম

ইরান কি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, দেশ চালাচ্ছে কে?
ইরান কি হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, দেশ চালাচ্ছে কে?

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই এখন ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ইরান কি এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণে দুর্বল হয়ে পড়ছে? বিস্তারিত ভিডিওতে…

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়

নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়

মিরসরাইয়ে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

মিরসরাইয়ে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত

আট দফা যেকােনো সময় এক দফা হতে পারে: শফিকুর রহমান

আট দফা যেকােনো সময় এক দফা হতে পারে: শফিকুর রহমান

0 Comments