সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় পটকা মাছ খেয়ে একই পরিবারের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আজহারুল ইসলাম (৩৭) নামের এক মুদিদোকানি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর আট বছরের ছেলে, ১১ বছরের মেয়ে ও ৬০ বছর বয়সী মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গতকাল সোমবার উপজেলার বড়দল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজহারুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে। বড়দল বাজারে তাঁর মুদিদোকান ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে বড়দল বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে আজহারুল বাড়িতে নিয়ে যান। মাছ খাওয়ার পরপরই আজহারুল ইসলাম ও তাঁর আট বছরের ছেলে রামিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের বমি হয়। পরে আজহারুলের ১১ বছরের মেয়ে স্বর্ণালী ও তাঁর মা রাশিদাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজহারুলের স্ত্রী ওই মাছ খাননি।
গুরুতর অবস্থায় আজহারুলকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য রেহেনা খাতুন বলেন, পটকা মাছ খাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু আজহারুল বলেছিলেন, ‘এতে কিছু হবে না।’ মাছ খাওয়ার পরই পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে এনে রান্না করে খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুলের মৃত্যু হয়।
ইউপি সদস্য রেহেনা খাতুন বলেন, আজহারুলের বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর মা বিধবা। দুই সন্তানও ছোট। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আজহারুল। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার আজহারুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। চাচাতো ভাই ও চাচারা তাঁর দাফনের আয়োজন করছেন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অজয় কুমার সাহা বলেন, পটকা মাছে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে। এ বিষ মানুষের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। পটকা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বুন্দেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড গড়েছেন হ্যারি কেইন। গতকাল রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইউনিয়ন বার্লিনের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের ৭-০ গোলের জয়ে রেকর্ডটি গড়েন ইংলিশ স্ট্রাইকার।ক্লাব ক্যারিয়ারে মাইকেল ওলিসের প্রথম হ্যাটট্রিক, কেইনের জোড়া গোল এবং জামাল মুসিয়ালা এবং ইসমায়েল সাইবারির গোলে বার্লিনকে বিধ্বস্ত করে বায়ার্ন। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের প্রথম গোলে বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ডও গড়েন কেইন।সত্তর দশকে কোলন স্ট্রাইকার দিয়েতার মুলারের রেকর্ডটি ভাঙলেন বায়ার্ন তারকা। বুন্দেসলিগায় ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোলের দেখা পেয়েছিলেন মুলার। সেটা ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে, কেইনের জন্মের প্রায় ১৬ বছর আগে।বুন্দেসলিগায় নিজের ৯৮তম ম্যাচে শততম গোল করে মুলারের সেই রেকর্ড ভাঙলেন কেইন। এই পথে মুলারের চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলেছেন—যা বুন্দেসলিগায় প্রায় একটি মৌসুমের সমান।দিয়েতের মুলার। যখন খেলতেনকেইন কত দ্রুত এগোচ্ছেন তা বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের তালিকাতে তাকালে বোঝা যায়। তালিকায় পরের নামটি বায়ার্ন কিংবদন্তি গার্ড মুলারের—১০০ গোল করতে খেলেন ১৩৬ ম্যাচ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড লোথার এমেরিখের লেগেছিল ১৪০ ম্যাচ এবং হামবুর্গের হয়ে উয়ে সিলার খেলেন ১৫৭ ম্যাচট্রান্সফারমার্কেট জানাচ্ছে, বুন্দেসলিগায় ৮ম বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে শততম গোলের দেখা পেলেন কেইন। জার্মানির শীর্ষ এ লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল রবার্ট লেভানডফস্কির। বায়ার্ন ও বরুসিয়ার হয়ে মোট ৩৮৪ ম্যাচে ৩১২ গোল করেন পোলিশ স্ট্রাইকার।গত মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করা কেইন এই মৌসুমে ৭ ম্যাচে করলেন ৬ গোল। এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে থাকা কেইন জয়ের পর স্কাই জার্মানিকে বলেন, ‘বুন্দেসলিগায় ১০১ গোল করে খুব গর্ব লাগছে। এখানে আসার পর থেকে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত দারুণ উপভোগ করেছি। এমন সতীর্থদের সঙ্গে খেললে গোলের সুযোগ তৈরি হবেই। ম্যাচ সংখ্যার চেয়ে গোলের সংখ্যা বেশি থাকাটা নিঃসন্দেহে এক দুর্দান্ত পরিসংখ্যান।’টটেনহাম ছেড়ে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কেইন আসলে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন। বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড গড়তে তাঁর লাগল তিন বছরের একটু বেশি সময়। এই প্রতিযোগিতায় আগের তিনটি মৌসুমেই হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। বায়ার্নও টানা দুবার জিতেছে লিগ শিরোপা।বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুর্দান্ত সময় কাটছে কেইনেরমিউনিখের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কেইন যে গোলবন্যা শুরু করেছেন, বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের সাফল্য তাতে নতুন সংযোজন। গত বছর ভেরডার ব্রেমেনের বিপক্ষে বায়ার্নের হয়ে শততম গোল করেন কেইন। সেটা ছিল ক্লাবটির হয়ে তাঁর ১০৪তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো ক্লাবের হয়ে দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ডও গড়েন কেইন। পেছনে ফেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ) ও আর্লিং হলান্ডকে (ম্যানচেস্টার সিটি)। দুজনেরই লেগেছিল ১০৫ ম্যাচ।বার্লিনের বিপক্ষে ৫৪ মিনিটে ওলিসের দুর্দান্ত ক্রসে দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। বায়ার্নে এ নিয়ে ১৫৪ ম্যাচে ১৫২ গোল হয়ে গেল তাঁর। ৩৪ অ্যাসিস্টও (গোল করানো) আছে। অর্থাৎ বায়ার্নে কেইন ১৫৪ ম্যাচে ১৮৬ গোলে অবদান রেখেছেন! 100 BUNDESLIGA GOALS!⚽️ In the 39th minute, Harry Kane converted from the penalty spot against Union Berlin to reach 100 Bundesliga goals. The English striker reached the milestone in just 98 appearances, etching his name into German football history with Bayern… pic.twitter.com/hc5IMpAHXu— beIN SPORTS USA (@beINSPORTSUSA) September 18, 2026 আগের মৌসুমগুলোর মতো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে চলতি মৌসুমেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে ২০০ গোলের দেখা পাওয়া কেইনের জন্য অসম্ভব কিছু নয়। চলতি মৌসুম শেষে বায়ার্নের সঙ্গে কেইনের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে। নতুন চুক্তি সই করলে বুন্দেসলিগায় নিজের গোলসংখ্যাকে ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কেইন বলেন, ‘আমি এখানে ভীষণ সুখে আছি। (চুক্তি নবায়ন নিয়ে) আলোচনা চলছে এবং সামনের দিনগুলোতেও চলবে। আমার খেলা এবং সমর্থকদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের রসায়ন দেখলেই তা বোঝা যায়।’
পোশাক কারখানাগুলোয় বিভিন্ন সময়ে ‘ভূত’ বা ‘জিন’-আতঙ্কে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আমাদের শ্রমিকদের জীবনযাপনের এক করুণ ও আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।সাম্প্রতিক কয়েকটি কারখানাসহ অতীতে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যেমন গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউএইজ গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার বাথরুমে দুজন নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়লে কারখানাটিতে ‘জিন-আতঙ্ক’ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে এমন একই ধারা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ঘটনাগুলোকে অনেকে অলৌকিক বলে দাবি করলেও বা অপপ্রচারের চেষ্টা হলেও এর নেপথ্যে শ্রমপরিবেশ ও শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপনের নিদারুণ বাস্তবতা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এসব ঘটনার পেছনে নানা ষড়যন্ত্র বা স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনের কথা বলে থাকে, তবে এসব সংকটকে শুধু ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ দিয়ে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এবং আড়ালে পড়ে থাকা জটিল সামাজিক ও শারীরিক সমস্যার উপসর্গ হিসেবেই এগুলোকে দেখা উচিত। এই সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিতকরণ ও টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শ্রমিকদের হতাশা, পুষ্টিহীনতা, শারীরিক দুর্বলতা, কুসংস্কার ও গুজবে বিশ্বাস করার প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মনোরোগ চিকিৎসার ভাষায় মাথা ঘোরানো, বমি ভাব, পেটব্যথার উপসর্গগুলোকে কনভারশন ডিজঅর্ডার বলা হয়। যখন এ ধরনের উপসর্গ একজনের থেকে অন্য অনেকের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটিকে বলা হয় ‘গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ’। সাধারণত স্কুল, হোস্টেল বা কারখানার মতো যেসব স্থানে একই সঙ্গে অনেকে অবস্থান করেন বা কাজ করেন, সেখানে এ ধরনের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে এ ধরনের আলামত দেখা দেয়। বাংলাদেশের পোশাক খাতের শ্রমিকদের দৈনন্দিন কষ্টের জীবন সর্বজনবিদিত। আমরা মনে করি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার চাপ, অপর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিম্ন মজুরির কারণে সুষম খাদ্যের অভাব এবং পারিবারিক বা মানসিক উদ্বেগ শ্রমিকদের শারীরিকভাবে দুর্বল ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এটি কোনো একক শ্রমিকের সংকট নয়; বরং কারখানার সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক প্রায় একই ধরনের মানসিক ও শারীরিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করেন। ফলে তাঁদের অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টিকে ভূতের আসর হিসেবে না দেখে শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ফল হিসেবে দেখাটা জরুরি। লক্ষ করা গেছে, কর্তৃপক্ষ জিন তাড়াতে কারখানায় মিলাদের আয়োজন করেছে, তান্ত্রিক এনে ঝাড়ফুঁকও করানো হয়েছে। সাধারণ শ্রমিকদের একটি অংশের এমন সংস্কারকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখা যেতে পারে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেবল এগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে মূল সংকটের গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রমপরিবেশ ও শ্রমিকদের জীবনযাপনের পরিবর্তনের প্রশ্নও। কারখানা মালিক, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং সরকারকেই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের জন্য জীবনধারণের উপযোগী উপযুক্ত মজুরি ও নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মানসিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জোরদার করতে হবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। যারা অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। তারেক রহমানকে নির্ধারণ করতে হবে, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন।আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঢাকা টু রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে। এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। তারেক রহমানকে তাঁর যাওয়ার রাস্তা নিজেকে বাছাই করে নিতে হবে।’১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে আসা নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরাসমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে সরকার গুম আইন, মানবাধিকার আইন পাস করেছে। র্যাবের নাম বদলে এসআরবি করেছে। সরকারের কাজ মানবাধিকারের সুরক্ষা দেওয়া, কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণ করার সব ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।শেখ হাসিনার সরকার যেসব আইন ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে, বর্তমান সরকারও একই আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।লংমার্চের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, গণজোয়ার প্রতিরোধ করতে গতকাল রাত থেকে লংমার্চের পথে থাকা ১১–দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এই কাজে যোগ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চে দফা বাড়ছে। তবে সব দফা গিয়ে ঠেকবে এক দফায়। এ জন্য প্রস্তুতি নিতে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) প্রমুখ।আট দফা যেকােনো সময় এক দফা হতে পারে: শফিকুর রহমান