জাতীয়

নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়

RIPOTER NEWS সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়
নগরের পর দুই উপজেলায় ‘এশিয়ান টাইগার মশা’, কোন ধরনের রোগ ছড়ায়

চট্টগ্রামে গত দেড় মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগর এবং নগরসংলগ্ন সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলার রোগী বেশি। আর এই তিন স্থানে পৃথক দুটি জরিপ চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জরিপে এই তিন এলাকায় দুই ধরনের মশার লার্ভার উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত জুন মাসে চট্টগ্রাম নগরে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর গত জুলাই-আগস্ট মাসে দুই উপজেলায় আক্রান্ত বাড়লে সেখানেও জরিপ চালানো হয়। দুই জরিপে প্রাপ্ত লার্ভার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক ‘এডিস ইজিপ্টাই’ বা পীত জ্বরের মশা এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ‘এডিস অ্যালবোপিকটাস’ বা ‘এশিয়ান টাইগার’ মশা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

যেভাবে চিনবেন টাইগার মশা

এশিয়ান টাইগার মশা বা এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপ্টি দেখতে অনেকটা একই হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। অ্যালবোপিকটাসের কালো বক্ষের মাঝখানে একটি সাদা সরল দাগ থাকে, আর এডিস ইজিপ্টির বক্ষে বীণার মতো সাদা নকশা দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টি মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে বেশি থাকে এবং মানুষের রক্তে বেশি আকৃষ্ট হয়। অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরের বাগান-ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।

কীটতত্ত্ববিদেরা জানান, দেশে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টাই। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ার বাহক। অর্থাৎ দুটির কামড়েই ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি রয়েছে। কোনো এলাকায় এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়ারও ঝুঁকি থাকে।

২০১৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ লার্ভা বাড়ির বাইরে পাওয়া গেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রজননস্থলের এই পার্থক্যকে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

জরিপে নগর ও দুই উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ির আশপাশের পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। গত জুন মাসের জরিপে নগরের প্রতি চার বাড়ির একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যায়। তবে দুই উপজেলায় চালানো জরিপের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন সৌনম বড়ুয়া বলেন, কর্ণফুলীতে বিভিন্ন বাড়ির উঠান এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন দোকানের সামনে ফেলে রাখা যন্ত্রাংশ, কৌটা ও টায়ারে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এডিস এজিপ্টাইয়ের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি এডিস অ্যালবোপিকটাসের লার্ভাও পাওয়া গেছে। এসব স্থান পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বলা হয়েছে। প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভিড় বাড়ছে

কোথায় থাকে এই মশা, কখন কামড়ায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। ভোরের পর এবং সন্ধ্যার আগে এদের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি। এডিস ইজিপ্টাই সাধারণত মানুষের বসতির আশপাশে এবং ঘরের ভেতর ও বাইরে থাকে। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরে, বিশেষ করে ঝোপঝাড় ও গাছপালার আশপাশে বেশি দেখা যায়।

ঢাকায় পরিচালিত এক গবেষণায় বাড়িঘরের আশপাশের পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণসামগ্রী ও যানবাহনের পরিত্যক্ত অংশকে এডিস মশার গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিডিডিআরবি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে ১২ হাজার ৬৮০টি লার্ভা ও পিউপা সংগ্রহ করেন। এর প্রায় ৮২ শতাংশ ছিল এডিস ইজিপ্টাই।

২০১৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ লার্ভা বাড়ির বাইরে পাওয়া গেছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় ও কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাসের প্রজননস্থলের এই পার্থক্যকে মশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

জেলা কীটতত্ত্ববিদ (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন বলেন, এডিস সাধারণত পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় জাহাজের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকানের সামনে ফেলে রাখা ফ্রিজ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও কৌটায় বৃষ্টির পানি জমে ছিল। এসব জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। কর্ণফুলী উপজেলায় বিভিন্ন বাড়ির উঠান ও সামনের অংশে রাখা পাত্র, পুরোনো টায়ার ও ফুলের টবে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

এশিয়ান টাইগার মশা বা এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপ্টি দেখতে অনেকটা একই হলেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। অ্যালবোপিকটাসের কালো বক্ষের মাঝখানে একটি সাদা সরল দাগ থাকে, আর এডিস ইজিপ্টির বক্ষে বীণার মতো সাদা নকশা দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টি মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে বেশি থাকে এবং মানুষের রক্তে বেশি আকৃষ্ট হয়। অ্যালবোপিকটাস সাধারণত ঘরের বাইরের বাগান-ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।

‘সকালেও মশারি টানাতে হবে’

কীটতত্ত্ববিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এডিস মশা ঠিক কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি কামড়ায় বা কোন এলাকায় এর কামড়ের ঝুঁকি বেশি—তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সন্ধ্যা বা রাতের কথা মাথায় রেখে মশারি ব্যবহার করলেই হবে না। দিনের বেলাতেও বিশ্রাম নেওয়ার সময় মশারি টানিয়ে শোয়া উচিত। পাশাপাশি সম্ভব হলে ফুলহাতা জামাকাপড় পড়তে হবে।

কীটতত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, এডিস মশা সাধারণত দিনের আলো ফোটার পর এবং সূর্য ডোবার কয়েক ঘণ্টা আগে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে রাতে ঘরের আলোতেও সক্রিয় হয়ে কামড়াতে পারে। এডিস ইজিপ্টাই সাধারণত মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকতে বেশি পছন্দ করে। এডিস অ্যালবোপিকটাস গাছপালা ও ঘরের বাইরের পরিবেশে বেশি থাকে। এই প্রজাতি মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীকে কামড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। মোট আক্রান্ত ৩ হাজার ২৭০ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, দিনের বেলাতেও ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়ার সময় মশারি টানাতে হবে। প্রয়োজন হলে এবং সম্ভব হলে ফুলহাতা জামাকাপড় পরতে হবে। একই সঙ্গে ঘরের আশপাশ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে এডিস মশার কোনো প্রজননস্থল তৈরি না হয়। যেহেতু ভাইরাসের বাহক চিহ্নিত করা গেছে, এখন সচেতনতা মুখ্য।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জাতীয়

View more
মেঘনা আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা, বিএনপিকে নিয়ে যা বললেন
মেঘনা আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা, বিএনপিকে নিয়ে যা বললেন

বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ তাকে নিজের মেয়ে, কেউ বোন, আবার কেউ পরিবারের সদস্য হিসেবে আপন করে নিচ্ছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই তৃণমূলের মানুষের স্লোগান, ভালোবাসা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পাচ্ছেন।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে এক মাসে জামিন পেল ৫২ শিশু

ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে এক মাসে জামিন পেল ৫২ শিশু

সাভার-আশুলিয়ায় ৮৮ কারখানা খোলা, কাজে যোগ দিয়েছে শ্রমিকরা

সাভার-আশুলিয়ায় ৮৮ কারখানা খোলা, কাজে যোগ দিয়েছে শ্রমিকরা

প্রথম দিনে বক্স অফিসে কতটা ঝড় তুলল আলোচিত ‘রামায়ণ’?

প্রথম দিনে বক্স অফিসে কতটা ঝড় তুলল আলোচিত ‘রামায়ণ’?

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ১৭ বছর পর চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ১৭ বছর পর চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জসিমকে (৫০) ১৭ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৬, ২০২৬ 0
সাজেক অবরোধ: একটি বিহারে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব

সাজেক অবরোধ: একটি বিহারে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব

ভাইরাল ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর কী বলেছেন?

ভাইরাল ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর কী বলেছেন?

সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে

সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা, স্বস্তি নেই মাছ-মাংসে

নতুন বলে হাসানের জোড়া আঘাত
নতুন বলে হাসানের জোড়া আঘাত

প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের সকালে নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন হাসান মাহমুদ।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৬, ২০২৬ 0
ইতিহাস, রেকর্ড আর অর্জনের চূড়ায় বসে রোনালদোর বিদায়

ইতিহাস, রেকর্ড আর অর্জনের চূড়ায় বসে রোনালদোর বিদায়

হাসানের পাঁচে উ.ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ

হাসানের পাঁচে উ.ইন্ডিজকে দ্রুত গুটিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জে ৫ ঘণ্টার সংঘর্ষে আহত শতাধিক

কিশোরগঞ্জে ৫ ঘণ্টার সংঘর্ষে আহত শতাধিক

0 Comments