জাতীয়

দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে
দেশে বিভিন্ন গাড়ির টায়ার আমদানি দুই বছরে ৫০% বেড়েছে

দেশে হঠাৎ করেই গাড়ির টায়ার আমদানি বেড়ে গেছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। যদিও দেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টায়ার উৎপাদন করে। বছর দুয়েক আগে গাজী গ্রুপের কারখানা বন্ধের পর অন্য কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশীয় কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির পরও আমদানি বাড়ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস ও ট্রাকের ৬৪ লাখ টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৯৬ লাখে দাঁড়িয়েছে।

বিদেশ থেকে টায়ার আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে আমদানি খরচও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টায়ার আমদানিতে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকায়। তার মানে দুই বছরের ব্যবধানে টায়ার আমদানিতে খরচ বেড়েছে ৪২৪ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক উদ্যোক্তা জানান, দেশীয় টায়ার উৎপাদকের মধ্যে গাজী গ্রুপের হিস্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর উৎপাদনে নেই। তাদের শূন্য স্থান অন্য কারখানাগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। সে কারণেই টায়ারের আমদানি বাড়ছে।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, রূপসা টায়ারস অ্যান্ড কেমিক্যালস, এপেক্স হোসেন টায়ার, যমুনা গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানি টায়ার উৎপাদন করে। কোম্পানিগুলো রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের টায়ার বেশি উৎপাদন করে। তবে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও পিকআপের টায়ারও তৈরি হচ্ছে এসব কারখানায়।

এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর ৩৯ লাখ পিস বাস-ট্রাকের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে ৫৭ লাখ ৫১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমদানি বেড়েছে ৪৭ শতাংশ।

মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানি বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬৩ হাজার মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৪১ হাজার পিস। এ ছাড়া বাইসাইকেলের টায়ার আমদানি বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ ৫৫ হাজার বাইসাইকেলের টায়ার আমদানি হয়েছিল। গত অর্থবছর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ পিসে।

আগে রিকশা, তিন চাকার যান ও ছোট বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যবহৃত টায়ারের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ করত গাজী টায়ার। এ ছাড়া বাস ও ট্রাকের টায়ারের বাজারের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং মিনিবাসের ৬৫ শতাংশ টায়ারের চাহিদা গাজী টায়ার পূরণ করত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গাজী টায়ারের দুই কারখানায় লুট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। গাজী গ্রুপের মালিকানায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি গাজী গ্রুপের দুই টায়ার কারখানা।

গাজী টায়ারের কারখানায় বছরে ৪৫-৫০ লাখ টায়ার ও টিউব উৎপাদন সক্ষমতা ছিল। দেশের বাজারে রিকশা ভ্যানের টায়ারের প্রায় অর্ধেক এবং বাস-ট্রাক ও অটোর টায়ার-টিউবের প্রায় ৪০ শতাংশ তাদের দখলে ছিল। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৯১ কোটি টাকার টায়ার-টিউব বিক্রি করেছিল গাজী টায়ারের দুই প্রতিষ্ঠান-গাজী টায়ার ও গাজী অটো টায়ার।

জানা যায়, উৎপাদনে ফিরতে না পারলেও আমদানি করে ব্যবসায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে গাজী টায়ার ও গাজী অটো টায়ার।

আরএফএল গ্রুপ তাদের হবিগঞ্জ শিল্পপার্কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজি, মিশুক এবং দেড় টনের ট্রাকের টায়ার উৎপাদন করে। মাসে তাদের ৮ লাখ পিস টায়ার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই শিল্পগ্রুপ যেসব টায়ার উৎপাদন করে, তার ৮০ শতাংশই সাইকেল, রিকশা ও ভ্যানের টায়ার।

চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস ও ট্রাকের টায়ার উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে আরএফএল গ্রুপ—এমন তথ্য দিয়ে শিল্পগোষ্ঠীটির বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বাজারে চাহিদা বিশ্লেষণ করে দেখছি। ইতিবাচক ফিডব্যাক পেলে দ্রুতই উৎপাদনে যাব।’

টায়ার আমদানি কেন বাড়ছে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায় অটোরিকশার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই তুলনায় উৎপাদন খুব বেশি বাড়েনি। আর্থসামাজিক কারণেও গত দুই বছরে এই খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ হয়নি। আবার টায়ার উৎপাদনে গ্যাসও লাগে। সব মিলিয়ে আমরা একটু পিছিয়ে রয়েছি।’

১৯৯১ সালে টায়ারের ব্যবসায় নামে রূপসা টায়ারস অ্যান্ড কেমিক্যালস। ২০১৭ সালের আগপর্যন্ত তারা রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের টায়ার উৎপাদন করত প্রতিষ্ঠানটি। তারপর মোটরচালিত যান বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার টায়ার উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে তাদের দিনে ৮ হাজার টায়ার ও ৩০ হাজার টিউব উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। দুই বছর আগে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩০ শতাংশ কম।

জানতে চাইলে রূপসা টায়ারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিরাজ রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেল টায়ারের বাজার বড় হচ্ছে। বাজার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে। একইভাবে বিদেশি টায়ারও প্রচুর আসছে। তার অন্যতম কারণ ভারতীয় মোটরসাইকেল দেশে উৎপাদন হচ্ছে। তারা ভারত থেকে টায়ার নিয়ে আসছে। আবার ক্রেতাদের মধ্যে বিদেশি টায়ারের চাহিদা বেশি।

মিরাজ রহমান আরও বলেন, ‘বাস-ট্রাকের টায়ার উৎপাদনে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। তবে সে অনুযায়ী আমাদের বাজার অত বড় নয়। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পিকআপ ও মিনিবাসের টায়ার আমদানিতে কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। আমরা এখন এই দুই ধরনের টায়ারের উৎপাদনে বিনিয়োগ করব।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া', ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন
'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া', ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন। স্লিভলেস লুকের ছবি শেয়ার করেছেন তিনি সম্প্রতি। সাজপোশাকে আবেদনের সঙ্গে আছে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। ক্যাপশনে ভাবনা লিখলেন, 'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া'। সোনালি ব্লক করা মভ-সাদা সুতির শাড়ি পরেছেন ভাবনা সঙ্গে গোলাপি স্লিভলেস ভেলভেট ব্লাউজে আবেদন ছড়াচ্ছেন তিনি সফট গ্ল্যাম মেকওভারে ফলস ল্যাশ, লেন্স আর গোলাপি লিপটিন্ট নজর কাড়ছে সফট কার্লসে ছেড়ে রেছেন চেস্টনাট হাইলাইট করা চুল নাকফুলটি জ্বলজ্বল করছে পুরো লুকের মাঝে হাতে আছে সোনালি চেনের ঘড়ি হালকা রোদে ফুরফুরে স্নিগ্ধ লাগছেন এই লুকে ভাবনা। হাতে আংটি আর কানে ঝোলানো দুল দেখা যাচ্ছে। শাড়ি, ব্লাউজ আর সাজ মিলিয়ে বেশ নজর কেড়েছেন তিনি ছবি: ভাবনার ইন্সটাগ্রাম

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন  চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন
ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ভিড় দেখলেই কি আপনার বুকে চাপ লাগে, বা অস্বস্তি হয়? কেন কিছু মানুষ ভিড় এড়িয়ে চলেন? এর পেছনে কি কোনো মানসিক কারণ আছে? বিস্তারিত ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

0 Comments