বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে জর্ডানের আটলান্টা গার্মেন্টস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে ‘মেশিন অপারেটর’ পদে ২০০ জন দক্ষ নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ১১ সেপ্টেম্বর মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত তারিখে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত থাকতে পারবেন। থাকা, খাওয়া ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা, চাকরিতে যোগদানের বিমান ভাড়া এবং তিন বছর চাকরি শেষে দেশে ফেরত আসার বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা বহন করবে।

সরাসরি সাক্ষাৎকারের স্থান: মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দারুস সালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
এমআইএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফ্লাশিং মিডোজে অ্যান্ডি রডিকের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সময় বেন শেলটন ১১ মাসের শিশু। সেটা ২০০৩ সালের কথা। এরপর কেটে গেল দীর্ঘ ২৩ বছর। গ্র্যান্ড স্লামে ছেলেদের এককে আর কোনো ঘরের ছেলেকে শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে দেখেনি আমেরিকা। বেন শেলটনে এবার কাটবে কি সেই অপেক্ষা?জার্মানরা বলতে পারেন ‘না’। কারণ, এবার ইউএস ওপেনে ছেলেদের এককের ফাইনালে কোর্টে শেলটনের ওপাশে দাঁড়াবেন একজন জার্মান। আলেক্সান্দার জভেরেভ। শীর্ষ বাছাই এ তারকার প্রতিজ্ঞাও সেটা। ফাইনালে ওঠার পর অপর সেমিফাইনালে ‘অল–আমেরিকান’ লড়াই দেখে প্রতিজ্ঞাটা তখনই জানিয়ে দেন জভেরেভ, ‘আশা করি, রোববার আমি আমেরিকান স্বপ্নটাকে সত্যি হতে দেব না।’কে কী হবেন, আর কে কী হতে পারবেন না—সেটা আগামীকাল ছেলেদের এককের ফাইনাল শেষেই জানা যাবে। আপাতত এটা নিশ্চিত যে শিরোপাটা জিততে ফাইনালে ওঠা দুই খেলোয়াড়েরই প্রেরণা নেওয়ার যথেষ্ট জায়গা আছে।এই ইউএস ওপেনে ছয় বছর আগের ফাইনালে ডমিনিক থিয়েমের কাছে হেরে যাওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি জভেরেভের। এবার শেষ চারের লড়াইয়ে রাশিয়ার অবাছাই কারেন খাচানভকে ৬–৩, ৭–৬ (৯–৭), ৭–৬ (৯–৬) হারিয়ে টানা তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে ওঠা জভেরেভের সামনে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের হাতছানি।আলেক্সান্দার জভেরেভ। ফাইনালে ওঠার পরজভেরেভ ফাইনালে ওঠার পর সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার আশায় অপর সেমিফাইনালে বন্ধু ও ‘বড় ভাই’ ফ্রান্সিসকো তিয়াফোর মুখোমুখি হন শেলটন। তিয়াফো বয়সে তাঁর পাঁচ বছরের বড়, কোর্টের বাইরে দুজন ভালো বন্ধুও। শেলটন যদিও বন্ধুত্বের মোড়কে তাঁকে ‘বড় ভাই’ও বলেন। কিন্তু শেলটন যে সেই সম্পর্ক কোর্টের বাইরে রেখে নেমেছিলেন সেটা বোঝা গেল ম্যাচের কিছু সময় উত্তেজনার ঝাঁজ ও আম্পায়ারের সঙ্গে কথা–কাটাকাটিতে।কার্লোস আলকারাজকে বিদায় করে সেমিফাইনালে শেলটন আছেন জীবনের সেরা ফর্মে। কোর্টে তাঁর ক্ষিপ্রতা এবং গতিময় সার্ভিসের জবাবে তিয়াফো বেশ ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত স্বদেশির কাছে হেরে যান। ৪-৬, ৬-৩, ৬-৩, ৭-৫ গেমের জয় তুলে নেন শেলটন। তখন কি আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের স্বাগতিক সমর্থকদের টেলর ফ্রিটজকে মনে পড়েছে? রডিকের সেই শিরোপা জয়ের পর এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ছয়বার কোনো মার্কিন পুরুষ খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠতে পেরেছেন। যার সর্বশেষ উদাহরণ ছিলেন দুই বছর আগে নিউইয়র্কে ফাইনালে খেলা টেলর ফ্রিটজ।শৈশবে না দেখা স্বপ্নই এখন মেয়েটির হাতের মুঠোয়৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের লড়াই জিতে শেলটন ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠার পর স্মরণ করেন প্রয়াত দাদি এবং ২৫ বছর আগে নাইন-ইলেভেনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের। এরপর তিয়াফোকে নিয়ে বলেন, ‘ফ্রান্সিস আমার বড় ভাইয়ের মতো। যখনই আমাদের এই কোর্টে একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়, মুহূর্তটি বিশেষ হয়ে ওঠে।’সেমিফাইনালে এ দুই কৃষ্ণাঙ্গের লড়াই কিন্তু বিশেষ হয়ে উঠেছিল ঐতিহাসিকভাবেও, যেটা মার্কিন পুরুষ টেনিস সর্বশেষ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় দেখেনি। ইউএস ওপেনে পুরুষ একক সেমিফাইনালে এই প্রথম দুই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান একে অপরের মুখোমুখি হন। তাতে যে ফলই হোক, সবারই জানা ছিল ১৯৭২ সালে আর্থার অ্যাশের পর এই প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান পুরুষ ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠবেন। ৫৪ বছর আগের সেই ফাইনালে রোমানিয়ার ইলি নাসতাসের কাছে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হারেন আর্থার অ্যাশ।The top seed will compete for the US Open title!Alexander Zverev defeats Khachanov in straight sets, 6-3, 7-6, 7-6. pic.twitter.com/3HxgWDkFyv— US Open Tennis (@usopen) September 11, 2026 এই আর্থার অ্যাশ আবার ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জেতেন ১৯৬৮ সালে ইউএস ওপেনেই। ১৯৮৩ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে তাঁর সঙ্গী হন ফরাসি ইয়ানিক নোয়া। তাহলে শেলটন যদি জভেরেভকে হারান? ঠিকই ধরেছেন। ইতিহাসের তৃতীয় কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের খাতায় লেখা হবে তাঁর নাম। সেটাও কোথায়? আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামেই!কিন্তু প্রশ্ন হলো জভেরভ কি তা হতে দেবেন? ‘আমেরিকান ড্রিম’কে হাডসন নদীর জলে ডোবানোর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে এই জার্মান!‘সিংহাসন’ হারানো ও জয়ের হিসাব চুকানোর লড়াই ফাইনালে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন গনাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে আছেন সাধারণ কৃষকেরা।রৌমারীতে জমির তুলনায় সারের বরাদ্দ কম, বিতরণেও সমস্যা, সমন্বয়হীনতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এহন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আহে। সারা দিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমামু, সেই উপায় নাই।’এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের শহীদ মোড় এলাকায় এক সার ডিলারের গুদামের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়া হচ্ছিল না। আবার পরিচিত ও পছন্দের লোকজনকে বেশি সার দেওয়া হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।আজিম উদ্দিন, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।পুলিশ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দিন সকাল থেকে শহীদ মোড়ের ডিলার পয়েন্টে সার নিতে কয়েক শ কৃষক জড়ো হন। সার বিতরণে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন কৃষক একাধিকবার গিয়েও সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে কৃষকেরা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের একাংশ তাঁকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন কৃষি কর্মকর্তা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন।রৌমারীতে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা, ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভমামলার বিষয়ে জানতে বাদী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাদী আবদুল জব্বারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।তবে সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ জানিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন। আজ শনিবার সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।কুড়িগ্রামে সারের জন্য পরিবেশকের গুদাম ভাঙচুর, লালমনিরহাটে সড়ক অবরোধ
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসক মাঠপর্যায়ে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ও সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। আরও পড়ুন ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ৩ মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু তারা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এর আগে, তারা রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এমএমএ/এএমএ