জাতীয়

এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন নিয়ে যে তথ্য দিল বোর্ড

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন নিয়ে যে তথ্য দিল বোর্ড
এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ: ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন নিয়ে যে তথ্য দিল বোর্ড

এসএসসি ও সমমানের পুনর্মূল্যায়নে পরিবর্তিত ফল শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে আবেদনের পোর্টালে (xiclassadmission.gov.bd) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) একাদশ শ্রেণির আবেদনের পোর্টালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবির্তিত ফলাফল আবেদনের পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অতএব যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছেন, তাঁরা এখন আবেদন করতে (ইতিমধ্যে আবেদন না করে থাকলে), কিংবা ইতিমধ্যেই করা আবেদন পরিমার্জন করতে পারবেন। এবার একাদশ শ্রেণি ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে যাঁরা ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে ভর্তি আবেদন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁরাও এ সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন ভর্তি–ইচ্ছুকরা।

ভর্তি ওয়েবসাইট এ দেওয়া পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। আবেদন ফি ২২০ টাকা।

আবেদন করার জন্য যা যা লাগবে—

আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখা ভালো। যেমন: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, নিজের সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা, যে বিভাগে ভর্তি হতে চান সেই বিভাগের তথ্য। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার তথ্য ভুল দেওয়া হয়েছে কি না, সাবমিট করার আগে ভালোভাবে মিলিয়ে নিতে হবে।

ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসনের ৭ শতাংশ কোটায় রাখা হয়েছে। কলেজগুলোর মোট আসনের বাকি ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ—

২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তিসংক্রান্ত পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়। ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়নের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সব শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে, ৭ শতাংশ কোটা—

নীতিমালা অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র–কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর–সংস্থার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র–কন্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট আসন খালি রাখা যাবে না। মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

জিপিএ সমান হলে যেভাবে মেধাক্রম দেওয়া হবে

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।

বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বরপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে। যদি প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বিদ্যুৎ ও সার সংকটে পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে
বিদ্যুৎ ও সার সংকটে পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে

জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় বিদ্যুৎ ও সার সংকট নিরসন, পোশাক খাতের সমস্যা সমাধান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত অবহেলিত বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউজে জেলা ও মহানগরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও শিল্প খাতের সংকট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মালয়েশিয়া বা জাপানের মতো দেশগুলো স্বাধীনতার পর স্বল্প সময়ে অভাবনীয় উন্নতি করলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমাদের অবকাঠামো ও শিল্পখাত পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি। বিদ্যুৎ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বায়াররা অন্য দেশের দিকে চলে যাচ্ছে। এই সংকট কাটাতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া সহায়তার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশকে ভালোবাসার জায়গা থেকেই আমরা দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি টিমের মাধ্যমে সরকারকে বিনামূল্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সংকটের কথা স্বীকার না করে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছে। বাধ্য হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছি। বগুড়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গের নাভি ও সাত মাথার ঐতিহাসিক সংযোগস্থল। এটি আগে একটি মিনি শিল্পনগরী ও এডুকেশন ভিলেজ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরে একটি মেডিকেল কলেজ ছাড়া শিক্ষার বড় কোনো অগ্রগতি এখানে হয়নি, শিল্পকারখানাও টিকে থাকেনি। আজ ধুনট যাওয়ার পথে রাস্তার যে জরাজীর্ণ চিত্র দেখলাম, তাতে স্পষ্ট যে এটি কতটা উপেক্ষিত। আওয়ামী লীগসহ বিগত কোনো সরকারই বগুড়াকে তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন দেয়নি। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বগুড়ার অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন সারা বাংলাদেশ দেখবেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সারা দেশের মানুষের অধিকারের চৌকিদারি ও পাহাদারি করার দায়িত্ব আমার। ভোলা, যশোর, সাতক্ষীরা কিংবা তিস্তা পাড়ের মানুষের অধিকার নিয়ে যেমন সংসদে কথা বলেছি, তেমনি বগুড়া যেন আলোচনার আগেই তার ন্যায্য পাওনাটুকু পেয়ে যায়-সে জন্য আমরা রাজপথ ও সংসদে আমাদের জোর দাবি বজায় রাখব। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটে ৮২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসেই সে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। সত্তরের নির্বাচনে জনগণের রায় অমান্য করার পরিণতি শুভ হয়নি-ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত। সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। সাংবাদিকরা সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ থাকলে অন্য সব বিভাগ সঠিকভাবে চলতে বাধ্য হয়। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাংবাদিকদের ইতিবাচক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে?

যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে?

‘ফারদীন-ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি’, বললেন ওমর সানি

‘ফারদীন-ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি’, বললেন ওমর সানি

সিলেটে তীব্র গরমের পর পাঁচ ঘণ্টায় ঝরল ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি

সিলেটে তীব্র গরমের পর পাঁচ ঘণ্টায় ঝরল ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি

কামের কাম বাদ দিয়ে খালি আকাম, বাবা-মাকে সম্পতি দান প্রসঙ্গে মাদানী
কামের কাম বাদ দিয়ে খালি আকাম, বাবা-মাকে সম্পতি দান প্রসঙ্গে মাদানী

মা-বাবার যত্ন নেওয়ার সঙ্গে সন্তানের কাছে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে আইন করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে সম্পত্তি না থাকা বা সন্তানকে সম্পত্তি না দেওয়া মা-বাবার সুরক্ষা এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণকারী সন্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আরও পড়ুন দরদ দেখিয়ে হেবা আইন পরিবর্তনের সুযোগ নেই: রফিকুল ইসলাম মাদানী স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘সম্পত্তি দলিল করে দিয়ে দিলেও যেন সন্তান মা-বাবার যত্ন নেয়—এই অজুহাত দিয়ে আইন পাস করা হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন—যারা সন্তানকে সম্পত্তি দলিল করে দিবে না, সে সমস্ত মা-বাবার সঙ্গে যদি খারাপ আচরণ হয়, তখন কী হবে? কিংবা যাদের সম্পত্তি লিখে দেওয়ার মতো অবস্থানই নাই, সেই মা-বাবার কী হবে?’ তিনি আরও লেখেন, ‘আল্লাহর বিধান পরিবর্তনের এই জগাখিচুড়ি বাদ দিয়ে, যে সমস্ত সন্তান পিতা-মাতার সঙ্গে অসদাচরণ করে, তাদের জন্য শক্ত বিচারের ব্যবস্থা প্রয়োজন!’ নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘কামের কাম বাদ দিয়ে খালি আকাম! আমাদের আঞ্চলিক একটা প্রবাদ আছে—বুঝেনা কামের বাও, খালি ক, বেতন বাড়াও!’ এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের

সম্পদ বিক্রি করে আরও ৫৮৬৮ গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ

সম্পদ বিক্রি করে আরও ৫৮৬৮ গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ

ইনস্টাগ্রামে নতুন সুবিধা

ইনস্টাগ্রামে নতুন সুবিধা

যেখান থেকে ল্যাংট্যাং ট্রেক শুরু করেছিলাম, সেই সাব্রুবেসির ৫৫৯টি ভবনের ৪৩৩টিই ধ্বংস হয়ে গেছে
যেখান থেকে ল্যাংট্যাং ট্রেক শুরু করেছিলাম, সেই সাব্রুবেসির ৫৫৯টি ভবনের ৪৩৩টিই ধ্বংস হয়ে গেছে

মার্চের শেষে নেপালে ল্যাংট্যাং ট্রেকে গিয়েছিলাম। কথা ছিল ওই ট্রেকের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা, আনন্দের অভিজ্ঞতা আর রোমাঞ্চকর ঘটনা নিয়ে লিখব। কিছুটা লেখার পর দেখি, অভিযানের চেয়ে পাহাড়ি নদীর রূপ ও চঞ্চলতা নিয়েই লেখা হয়েছে বেশি। তখন লেখাটা ওখানেই থামিয়ে রেখে অন্য কিছু লেখালেখির কাজ শেষ করি। তারপর একটা দীর্ঘ ভ্রমণে চলে যাই আমেরিকা ও কানাডায়।সেখানে বসেই নেপালের দুর্যোগের খবরটা পাই। খবরের সঙ্গে অথবা অন্যান্য মাধ্যমে যেসব ভিডিও ক্লিপ দেখি, তার পটভূমি, পর্বত, নদী ও তীরের জনপদ আমার মনে হয় চেনা। কিছু ভিডিওতে যা দেখি তা আগে কোনো দিন দেখা হয়নি। মনে হয় কৃত্রিম ও অবিশ্বাস্য। রাতে ঘুমাতে পারি না। ঘুমের মধ্যে ত্রিশূলী বা ল্যাংট্যাং নদীর গর্জন শুনে জেগে উঠি।ট্রেকিংটা করেছিলাম গত বসন্তে, রডোডেনড্রন ফোটার সময়। অথচ পাহাড়ে তখন শীত ছিল। আকাশ পরিষ্কার থাকলে তুষারশৃঙ্গগুলো অসাধারণ উজ্জ্বল দেখাত। মনে হতো, এই পৃথিবীতে স্থিরতার কোনো চেহারা যদি থাকে, তবে তার নাম হিমালয়। এখন দেখছি, হিমালয়ের স্থিরতাও আসলে আমাদের দেখার বিভ্রম। আসলে পাহাড়ের ভেতরে সব সময় কিছু না কিছু ঘটছে। বরফ জমছে, বরফ গলছে। পাথর ভাঙছে। ঢাল ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। হিমবাহ এগোচ্ছে, পেছাচ্ছে, বড় হচ্ছে অথবা গলে যাচ্ছে। নতুন পথ কাটছে নদী। পাহাড়ের শরীরের এই পরিবর্তন মানুষের জীবনের তুলনায় এত ধীর যে আমরা তাকে স্থিরতা বলে ভুল করি। তারপর কোনো একদিন সেই ধীর পরিবর্তন হঠাৎ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। একটি বরফের অংশ ভেঙে পড়ে। একটি পাথরের ঢাল নড়ে যায়। একটি নদী বাধা পায়। তৈরি হয় জলাধার। তারপর সেই জলাধার ভেঙে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে বহু বছরের পরিচিত ভূগোল বদলে যায়।সাব্রুবেসি—আগে, পরেনদী ও পাহাড়ের দিকে মুখ করে থাকা একলা চেয়ার, সেলস-গার্ল, মেয়েটির বাবা, তিব্বতি প্রবীণার মুখের ভাঁজ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প—সবকিছু মিশে থাকে আমার দুচোখ থেকে নেমে আসা দুই ফোঁটা জলে।২৬ আগস্ট ঠিক এমনই এক ভয়াবহ রূপ আমরা দেখলাম।খবরের ছবিতে ধ্বংস দেখা যায়। ধ্বংসের আগের জীবন দেখা যায় না। একটি বাড়ি ভেঙে গেল। সেই বাড়ির রান্নাঘরের গন্ধ মুছে যায়। দেয়ালে ঝোলানো ছবি? শিশুর বই? কাঠের দরজায় বছরের পর বছর হাতের ছাপ? বিকেলে বসে চা খাওয়ার জায়গা? এগুলো কোনো স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় না। একটি লজ ভেসে গেলে আমরা দেখি তার টিনের চাল, কাঠ, মাটি ও পাথর। একজন ট্রেকারের কাছে সেই লজ হয়তো ছিল একটি রাতের আশ্রয়। লজ–মালিকের কাছে সেটিই ছিল সংসার। যে লজগুলো আমার ভ্রমণকাহিনির চরিত্র হয়ে উঠেছিল, সেগুলো এখন আমার কাছে মানুষ হয়ে উঠেছে। আমি লিখতে শুরু করেছিলাম—‘লজের বারান্দায় ভেজা কাপড় শুকাতে দিই। পাশের দেশের অভিযাত্রীর সঙ্গে গল্প করি। শেখর বললেন, ল্যাংট্যাং উপত্যকা এভারেস্ট বেজক্যাম্পের চেয়েও বেশি সুন্দর। ওর কথা সত্য কি না জানি না।’আমি লিখি—‘নদীর পাশে ছোট্ট একটি লজে রাত কাটালাম।’এখন সেই বাক্য লিখতে গিয়ে থমকে থাকি। ভাবি, কোন লজ? কোন নদী? কোথায় ছিল সেটি? এখনো আছে কি? খবর দেখতে চাই না, তবু রয়টার্সের খবর থেকে জেনেছি, রাসুয়া জেলার যে এলাকা থেকে ল্যাংট্যাং ট্রেক শুরু হয়, সেই সাব্রুবেসির ৫৫৯টি ভবনের ৪৩৩টিই ধ্বংস হয়ে গেছে। ২৬ আগস্ট সকাল থেকেই কয়েকবার আমার গাইড তেজ, নির্মল ও সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। অনেকটা সময় অচেতনের মতো হয়ে থাকি। জেগে উঠে আবার মার্চের ছবিগুলো খুলে বসি।পুণ্যার্থীদের সঙ্গে মানস সরোবর ও কৈলাস পর্বতে ঘুরতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিলসাব্রুবেসিতে লেখক। পেছনের এই ভবনটি এখন হয়তো আর টিকে নেইএকটি ছবিতে পাহাড়ের ঢালে কয়েকটি বাড়ি। লামা হোটেল থেকে ফিরে আসার সময় নদীর কিনারে যে গেস্টহাউসটায় থেকেছিলাম, সেখানকার কোনো ছবি নেই। তবে নদীর ছবি আছে। সেতু আছে। পথের ধারে লজের বেঞ্চিতে বসে আছে অচেনা কোনো মানুষ। তখন ছবি তুলেছিলাম দৃশ্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে। সেই ছবিগুলোই এখন অন্য ভাবনা নিয়ে আসে। ছবির পেছনে যে পর্বতটি দেখা যাচ্ছে, সেটি থেকেই ধসে পড়েছে হিমবাহের টুকরা। ছবির নিচ দিয়ে যে নদী বয়ে গেছে, সেটিই এখন অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী। একটি সেতু, যার ওপর দিয়ে আমি হেঁটেছিলাম, তা এখন আর নেই। এভাবেই পুরোনো ছবি বদলে যায়।স্থির ছবি অনেক কিছু লুকিয়ে রাখতে পারে। ভিডিও পারে না। সেখানে পাহাড় নড়ে। জলধারা এগিয়ে আসে। পাথর গড়িয়ে আসে। মানুষ দৌড়ায়। কেউ চিৎকার করে। ক্যামেরা কেঁপে যায়। একটি মুহূর্তের মধ্যে বোঝা যায়, প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে যে দূরত্বটাকে আমরা নিরাপদ ভেবেছিলাম, তা আসলে ছিল খুবই সামান্য। কিছু ভিডিওতে ধ্বংসের গতি দেখে মনে হয়, পৃথিবী যেন কয়েক মিনিটের জন্য তার স্বাভাবিক নিয়ম ভুলে গেছে। আসলে পৃথিবী কোনো নিয়ম ভুলে যায়নি। আমরাই হয়তো তার নিয়মকে খুব সরল করে বুঝেছিলাম। ভেবেছিলাম পাহাড় মানেই নিরাপদ। নদী মানেই পথ। হিমবাহ মানেই বরফে ঢাকা সৌন্দর্য। আমরা বিপদের আশঙ্কাকে দৃশ্যের সৌন্দর্যের পেছনে সরিয়ে রেখেছিলাম।২৬ আগস্ট পাথুরে শান্ত নদীটির ভিন্ন রূপ দেখেছে নেপালের মানুষ পাঁচ–ছয় বছর পরপর একটি করে দুর্যোগ আসে, আর থমকে দাঁড়ায় নেপালের পর্যটনশিল্প। নতুন করে বিপর্যস্ত হয় আমাদের পরিচিত এজেন্সি, শেরপা ও গাইডদের জীবন। এবারের খবরের কোনো কোনো দৃশ্য ও কিছু তথ্য অবিশ্বাস্য লাগে। তেজকে আবার জিজ্ঞেস করি, ওরা সবাই কেমন আছে। কেমন আছেন লজ-দিদি, যিনি আমাকে উপত্যকা থেকে বিদায় জানানোর জন্য উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছিলেন। এমনটি আর কেউ করেননি কখনো। আর তারপর খুব ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করি সাব্রুবেসির খবর কি সত্য? কতটা ক্ষতি হয়েছে?‘ইয়েস, সাব্রুবেসি কমপ্লিটলি কলাপসড,’ তেজের উত্তর শুনে আমার শরীর ও মন অবশ হয়ে যায়। আমি চুপ করে বসে থাকি। নদী ও পাহাড়ের দিকে মুখ করে থাকা একলা চেয়ার, সেলস-গার্ল, মেয়েটির বাবা, তিব্বতি প্রবীণার মুখের ভাঁজ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প—সবকিছু মিশে থাকে আমার দুচোখ থেকে নেমে আসা দুই ফোঁটা জলে।নেপালের দুর্গত ত্রিশূলী বাজার এলাকায় গিয়ে যা দেখলেন বাংলাদেশের ত্রাণকর্মী

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস ও সেরা বোলিং নিয়ে কতটা জানেন?

অভিষেকে সর্বোচ্চ ইনিংস ও সেরা বোলিং নিয়ে কতটা জানেন?

দুই হাত ছাড়াই ২০ কিমি সাঁতার

দুই হাত ছাড়াই ২০ কিমি সাঁতার

নবীজি যেভাবে হাসতেন

নবীজি যেভাবে হাসতেন

0 Comments