জাতীয়

নবীজি যেভাবে হাসতেন

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
নবীজি যেভাবে হাসতেন
নবীজি যেভাবে হাসতেন

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান; আর তিনিই মৃত্যু দান করেন এবং তিনিই জীবন দেন।’ (সুরা নাজম, আয়াত: ৪৩-৪৪)

নবীজির পবিত্র জীবনেও ছিল আনন্দ-বেদনা, হাসি ও কান্নার মানবিক অনুভূতি; তবে তাঁর সেই হাসি ছিল সংযম, গাম্ভীর্য ও মার্জিত রূপের এক অনুপম বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তোমার মুচকি হাসি দেওয়াও একটি সদকা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬)

ইসলামে হাসির তিন স্তর

ইসলামি আইনশাস্ত্র ও ভাষার বিশ্লেষণে মানুষের হাসিকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:

১. মুচকি হাসি: এটি হাসির সর্বোত্তম স্তর। এতে কোনো শব্দ বা আওয়াজ হয় না; কেবল মুখমণ্ডলে মৃদু প্রসন্নতা ও ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। নবীজির অধিকাংশ হাসিই ছিল তাবাসসুম বা মুচকি হাসি। এটি উম্মতের জন্য অন্যতম প্রিয় সুন্নাত।

২. সাধারণ হাসি: এ ধরনের হাসিতে মানুষের মুখ কিছুটা প্রসারিত হয় এবং দাঁত বা মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হতে পারে, কিন্তু দূর থেকে শোনা যায় এমন কোনো বিকট শব্দ হয় না। বিশেষ আনন্দঘন বা চমকপ্রদ পরিস্থিতিতে নবীজি (সা.) থেকে এমন হাসিও কদাচিৎ প্রকাশ পেয়েছে। এটি শরিয়তে সম্পূর্ণ জায়েজ।

৩. অট্টহাসি: বিকট শব্দ করে পেট কাঁপিয়ে হাসা, যাতে চেহারার স্বাভাবিক গাম্ভীর্য নষ্ট হয়। ইসলামে এভাবে অট্টহাসি দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; কারণ এটি অন্তরের আধ্যাত্মিক সজীবতা বিনষ্ট করে। হানাফি ফিকহের বিধান অনুযায়ী, রুকু-সিজদাবিশিষ্ট নামাজে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে অট্টহাসি দিলে তার নামাজ ও অজু উভয়টিই ভেঙে যায়। (আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ১/২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

নবীজির হাসির ধরন

হাদিস শরিফে নবীজির প্রাত্যহিক হাসির ধরন নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি কখনোই মুখ ব্যাদান করে অট্টহাসি দিতেন না।

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি নবীজি কখনো এমনভাবে মুখ খুলে অট্টহাসি দিতে দেখিনি, যাতে তাঁর আলজিভ দেখা যায়; বরং তিনি সর্বদা মৃদু মুচকি হাসতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯২)

কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)

নবীজি (সা.) কোনো রুক্ষ, কঠোর বা কৃত্রিম গাম্ভীর্যের মানুষ ছিলেন না; তিনি সবসময় সাহাবিদের মাঝে প্রফুল্ল বদনে উপস্থিত হতেন। সাহাবি জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে নবীজি কখনো আমাকে তাঁর দরবারে প্রবেশে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন, তখনই তাঁর পবিত্র মুখে মুচকি হাসি লেগে ছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৭৬)

তবে বিশেষ কোনো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলে নবীজি (সা.) এমনভাবে হাসতেন যে তাঁর দাঁত প্রকাশিত হতো। এক সাহাবি ‘কাফফারা’ আদায়ে অপারগতা প্রকাশ করলে নবীজি তাঁকে এক ঝুড়ি খেজুর দেন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য।

খেজুর পেয়ে সাহাবি বললেন, ‘আল্লাহর রাসুল, আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী কি এই মদিনার দুই প্রান্তের মাঝে কেউ আছে?’ তাঁর অকপট সারল্য দেখে নবীজি এমনভাবে হেসেছিলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত (নাওয়াজিজ) পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৩৬)

এক বৃদ্ধ নারী নবীজির কাছে এসে আবেদন করলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) স্বভাবসুলভ মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’

নবীজির নির্মল কৌতুক

নবীজি (সা.) বিভিন্ন সময়ে সাহাবিদের সঙ্গে স্নেহমাখা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌতুক করতেন—যা পারস্পরিক ভালোবাসাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিত:

আবু তুরাব সম্বোধন: একবার আলী (রা.)-এর ওপর কিছুটা মান অভিমান হলে তিনি মসজিদে এসে মাটির ওপর শুয়ে পড়েন। এতে তাঁর পিঠের চাদর সরে গিয়ে শরীরে ধুলাবালি লেগে যায়। রাসুল (সা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে পরম স্নেহে নিজ হাতে তাঁর পিঠের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে মুচকি হেসে বললেন, ‘ওঠো, হে মাটির পিতা (আবু তুরাব), ওঠো, হে আবু তুরাব!’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৪১)

এই স্নেহমাখা সম্বোধন আলীর কাছে আজীবন সবচেয়ে প্রিয় উপাধি ছিল।

বিড়ালের ছানা: সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে সাখর (রা.) একটি ছোট বিড়ালছানাকে নিজের কাপড়ের আস্তিনে পরম যত্নে রাখতেন। নবীজি একদিন তা দেখে ভালোবেসে তাঁকে ‘ইয়া আবা হুরাইরাহ’ (হে বিড়ালের পিতা) বলে ডাকলেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৪০)

নবীজির এই ভালোবাসাময় ডাকটিই ইতিহাসে তাঁর স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়। তিনি খ্যাত হন আবু হোরাইরা নামে।

বৃদ্ধাদের জান্নাতে প্রবেশ: এক বৃদ্ধা নারী নবীজির কাছে এসে আবেদন করলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) স্বভাবসুলভ মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’ বৃদ্ধা নারী এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করলেন। তখন নবীজি বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বেহেশতের যাওয়ার সময় কেউ আর বৃদ্ধ থাকবে না; বরং আল্লাহ সবাইকে তরুণ ও চিরসবুজ রূপ দান করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১)

হাস্যরসে ভারসাম্য

হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় অতিরিক্ত হাসাহাসি নিষেধ করা হয়েছে। যেমন রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অতিরিক্ত হেসো না; কেননা অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে নির্জীব ও মৃত করে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৩)

এই দুই ধরনের হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘যে কৌতুক সীমা ছাড়িয়ে যায়, মানুষের অন্তরে কাঠিন্য তৈরি করে, আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করে কিংবা অন্যের আত্মসম্মানে আঘাত হানে—ইসলামে সেই অসংযত হাস্যরসই নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে মানুষের মন প্রফুল্ল রাখা, ক্লান্ত হৃদয়কে স্বস্তি দেওয়া এবং সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে পারস্পরিক হৃদ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিমিত হাস্যরস করা কেবল জায়েজই নয়; বরং এটি একটি প্রশংসনীয় সুন্নাত।’ (ইমাম নববি, আল-আজকার আল-মুন্তাখাবাহ মিন কালামি সাইয়্যিদিল আবরার, পৃষ্ঠা: ৩২৬, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৪)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘নবীজির সাহাবিরা কি কখনো নিজেদের মাঝে হাসাহাসি ও কৌতুক করতেন?’ তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জবাব দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, তাঁরা অবশ্যই হাসতেন ও আনন্দ করতেন; কিন্তু তাঁদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ইমান ছিল পর্বতসম সুদৃঢ় ও অটল।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৮১২২)

হাস্যরস ও কৌতুকের নবীজির সীমারেখা

ইসলাম আনন্দ ও নির্দোষ কৌতুককে নিষেধ করে না; কিন্তু কৌতুকের নামে মিথ্যা বলা, কারও দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করা কিংবা গীবত করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

একবার সাহাবিরা কিছুটা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি আমাদের সঙ্গে কৌতুক ও পরিহাস করেন?’ তখন রাসুল (সা.) হাসির মূলনীতি জানিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমিও হাসি-আনন্দ করি; তবে আমি মুখ দিয়ে সত্য ছাড়া অসত্য বা অনর্থক কোনো কথা বলি না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৯০)

মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে বানোয়াট গল্প ফাঁদার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে; তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস!’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯০)

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে আধিপত্য বাড়াচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মোখা বন্দর দখলের পর কৌশলগত পেরিম দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের প্রভাব আরও বেড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নতুন চাপের মুখে পড়েছে। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ কিন্তু হুথিদের এই অগ্রযাত্রায় ইরানের লাভ কোথায়? বাব আল-মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই সংকীর্ণ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য লোহিত সাগর দিয়ে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া সম্প্রতি ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ দখলের পর এই নৌপথের কাছাকাছি হুথিদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। সৌদি তেলের জন্য কেন বিপদ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পাইপলাইনটি দেশটির পূর্বাঞ্চলের আবকাইক তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এর ফলে পারস্য উপসাগরের বদলে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করা সম্ভব হয়। ফলে আগে তুলনায় সৌদি তেলের আরও বড় অংশ এখন বাব আল-মান্দেব হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে। আরও পড়ুন সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, এখন কী করবে তুরস্ক-পাকিস্তান? কিন্তু বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। অর্থাৎ একই সময়ে হরমুজে বাধা এবং বাব আল-মান্দেবে ঝুঁকি সৌদি তেল রপ্তানির ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি করেছে। ইরানের লাভ কোথায়? ইরান সরাসরি বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণ করছে না। তবে ইরান-সমর্থিত হুথিদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত হলে তেহরানের হাতে বাড়তি চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আসে। আরও পড়ুন ঝুঁকিতে তেল বাণিজ্য / যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে? হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে তেলের দামেও। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দাম সাপ্তাহিক হিসাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ ইরানের মিত্ররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি চাপ তৈরি করতে পারলে তেহরানের দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়তে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্সকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দামে রেকর্ড

গুচ্ছ ভর্তি: যুক্ত হতে পারে নতুন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, এবার নেতৃত্বে পবিপ্রবি

গুচ্ছ ভর্তি: যুক্ত হতে পারে নতুন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, এবার নেতৃত্বে পবিপ্রবি

১০ অফিসার নিয়োগ দেবে রানার গ্রুপ, ফ্রেশাররাও পাবেন আবেদনের সুযোগ

১০ অফিসার নিয়োগ দেবে রানার গ্রুপ, ফ্রেশাররাও পাবেন আবেদনের সুযোগ

ফেসবুকে লেখা ‘সবাই ক্ষমা কইরেন’, সেলুনে ঝুলছিল তরুণের লাশ
ফেসবুকে লেখা ‘সবাই ক্ষমা কইরেন’, সেলুনে ঝুলছিল তরুণের লাশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সেলুন থেকে এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বটতলীর রুস্তমহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণের নাম নেপাল রবি দাশ। তিনি উপজেলার পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। নেপাল ও তাঁর এক বড় ভাই মিলে রুস্তমহাটে একটি সেলুন পরিচালনা করতেন।বাজারের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে নেপালের ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট করা হয়। এতে লেখা: ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন।’ এটি দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা রুস্তমের খোঁজ করতে থাকেন, পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই সেলুন যায়। সেলুনটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে নেপাল রবি দাশের লাশ দেখতে পায়। ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, গতকাল রাতের খাবার খেয়ে নেপাল ওই সেলুনে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। পরে নেপালের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ব্রিকস সম্মেলন: দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন মোদি-সি, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক আসলে কেমন

ব্রিকস সম্মেলন: দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন মোদি-সি, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক আসলে কেমন

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

একঝলক (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

একঝলক (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি তাদের রিটেইল বিজনেস বিভাগে চুক্তির ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ডাইরেক্ট সেলস অফিসার’ ক্যাটাগরিতে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ অফিসার, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট রিলেশনশিপ অফিসার এবং টিম লিডার পদে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।সংক্ষিপ্ত তথ্যপ্রতিষ্ঠানের নাম: আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিপদের নাম: ডাইরেক্ট সেলস অফিসার (টিএআরও/এআরও/এসএআরও/টিএম)চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিককর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানেশিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/সম্মান বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।অভিজ্ঞতা: ‘টিএআরও’ পদে নতুন স্নাতকদের (ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট) আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অন্য পদগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।অন্যান্য যোগ্যতা: ইসলামি ব্যাংকিং ও সেলস সম্পর্কে ধারণা, ভালো যোগাযোগের দক্ষতা, কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শিতা এবং গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক মানসিকতা থাকতে হবে।বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ প্রধান দায়িত্বগুলোব্যাংকের শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন রিটেইল প্রডাক্ট সম্পর্কে গ্রাহকদের তথ্য দেওয়া এবং রিটেইল বিজনেসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। নতুন গ্রাহক তৈরি ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। গ্রাহকদের ফরম পূরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সহায়তা করা। দৈনন্দিন সেলস প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ব্যাংকের শরিয়াহ নীতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে কাজ করা।আবেদনপ্রক্রিয়া ও সময়সীমাআগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।আবেদনের শেষ তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগদায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ব্রিকসের হাত ধরে বদলাচ্ছে বিশ্ব, বাংলাদেশ কী করবে

ব্রিকসের হাত ধরে বদলাচ্ছে বিশ্ব, বাংলাদেশ কী করবে

আপনার বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন

আপনার বাচ্চাকে অঙ্কটার সঙ্গে একটু থাকতে দিন

সংকট নেই, একটি দুষ্টচক্র সার মজুতের চেষ্টা করছে: কৃষিমন্ত্রী

সংকট নেই, একটি দুষ্টচক্র সার মজুতের চেষ্টা করছে: কৃষিমন্ত্রী

0 Comments