স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেছেন, যে কোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধানমন্ডিতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। তারা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, যে কোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা তৈরি করা। তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবহেলা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে তিনি শাস্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থেই সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গঠনে তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএমএ/এসএনআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সিলেটে তীব্র গরমের পর নেমে এল স্বস্তির বৃষ্টির। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। এদিকে বৃষ্টিতে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক-এলাকায় জলাবদ্ধতাও দেখা দেয়। তবে বৃষ্টি থামার পরপরই পানি নেমে গেছে বলে জানা গেছে। গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা ছিল। অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। গরমের তীব্রতায় দিনের বেলা বাইরে বের হওয়া মানুষের ভোগান্তি বেড়েছিল। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষকে তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। শুক্রবার সিলেটে তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বুধবার ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশ্য শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই রাত ১টা থেকে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়। শনিবার সকাল থেকেও বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তীতে শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ১০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সে হিসাবে বৃষ্টি শুরুর প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আহমেদ জামিল/এফএ
অন্যদের ট্যাগ করা পোস্টগুলো নিজের প্রোফাইলের মূল গ্রিডে প্রদর্শনের সুযোগ চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম। নতুন এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিরা তাঁদের কোনো পোস্টে ট্যাগ করলে সেটি নতুন করে প্রকাশ না করেই সরাসরি নিজের প্রোফাইলে প্রদর্শন করা যাবে। ইনস্টাগ্রামের তথ্যমতে, ডিরেক্ট মেসেজের নোটিফিকেশন থেকে ট্যাগ করা পোস্ট সরাসরি প্রোফাইল গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে ট্যাগ করা পোস্ট খুলে বা প্রোফাইলের ‘ট্যাগড’ অপশন থেকেও ট্যাগ করা পোস্ট নিজেদের প্রোফাইল গ্রিডে প্রদর্শন করতে পারবেন। পরে পোস্টটি প্রোফাইলে রাখতে না চাইলে সেটি গ্রিড থেকে সরিয়ে ফেলা গেলেও পোস্টটি মূল জায়গাতেই থাকবে। অর্থাৎ গ্রিড থেকে সরিয়ে দিলেও মূল পোস্ট মুছে যাবে না এবং নতুন কোনো কপিও তৈরি হবে না।নতুন সুবিধাটি বন্ধুদের সঙ্গে তোলা ছবি দ্রুত শেয়ার করার ক্ষেত্রে বেশ কাজে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা কোনো ছবি কেউ প্রকাশ করলে এত দিন সেই ছবি নিজের প্রোফাইলে প্রদর্শন করতে হলে পুনরায় পোস্ট করতে হতো। নতুন এই সুবিধা চালুর ফলে একই ছবি পুনরায় প্রকাশ না করেই সেটি নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের মূল গ্রিডে প্রদর্শন করা যাবে।আধেয় বা কনটেন্ট নির্মাতাদের (ক্রিয়েটর) জন্যও নতুন সুবিধাটি বেশ কার্যকর হতে পারে। কারণ, একজন নির্মাতা অন্য কোনো নির্মাতাকে ট্যাগ করে পোস্ট প্রকাশ করলে ট্যাগ করা নির্মাতা সেটি নিজের প্রোফাইলের মূল গ্রিডে প্রদর্শন করতে পারবেন। এমনকি একই পোস্টে একাধিক নির্মাতার নাম ট্যাগ করা হলে তাঁরা চাইলে সেই পোস্ট নিজেদের প্রোফাইলে প্রদর্শন করতে পারবেন। ফলে যেকোনো প্রচারণামূলক পোস্ট একাধিক নির্মাতার প্রোফাইলের মাধ্যমে সহজে প্রচার করা যাবে।ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল সাজানোর সুযোগ বাড়াতে সম্প্রতি ‘রি–অর্ডার ইয়োর গ্রিড’ সুবিধা চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম। সুবিধাটি কাজে লাগিয়ে প্রোফাইলের মূল গ্রিডে থাকা পোস্টগুলোর অবস্থান নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। দ্রুত কনটেন্ট তৈরির সুযোগ দিতে ‘ফার্স্ট ড্রাফট’ টুলও চালু করেছে ইনস্টাগ্রাম।সূত্র: টেক ক্রান্চ
আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান; আর তিনিই মৃত্যু দান করেন এবং তিনিই জীবন দেন।’ (সুরা নাজম, আয়াত: ৪৩-৪৪)নবীজির পবিত্র জীবনেও ছিল আনন্দ-বেদনা, হাসি ও কান্নার মানবিক অনুভূতি; তবে তাঁর সেই হাসি ছিল সংযম, গাম্ভীর্য ও মার্জিত রূপের এক অনুপম বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে তোমার মুচকি হাসি দেওয়াও একটি সদকা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫৬)ইসলামে হাসির তিন স্তর ইসলামি আইনশাস্ত্র ও ভাষার বিশ্লেষণে মানুষের হাসিকে প্রধানত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে:১. মুচকি হাসি: এটি হাসির সর্বোত্তম স্তর। এতে কোনো শব্দ বা আওয়াজ হয় না; কেবল মুখমণ্ডলে মৃদু প্রসন্নতা ও ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটে ওঠে। নবীজির অধিকাংশ হাসিই ছিল তাবাসসুম বা মুচকি হাসি। এটি উম্মতের জন্য অন্যতম প্রিয় সুন্নাত।আয়েশা (রা.), সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯২‘আমি নবীজি কখনো এমনভাবে মুখ খুলে অট্টহাসি দিতে দেখিনি, যাতে তাঁর আলজিভ দেখা যায়; বরং তিনি সর্বদা মৃদু মুচকি হাসতেন।২. সাধারণ হাসি: এ ধরনের হাসিতে মানুষের মুখ কিছুটা প্রসারিত হয় এবং দাঁত বা মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হতে পারে, কিন্তু দূর থেকে শোনা যায় এমন কোনো বিকট শব্দ হয় না। বিশেষ আনন্দঘন বা চমকপ্রদ পরিস্থিতিতে নবীজি (সা.) থেকে এমন হাসিও কদাচিৎ প্রকাশ পেয়েছে। এটি শরিয়তে সম্পূর্ণ জায়েজ।৩. অট্টহাসি: বিকট শব্দ করে পেট কাঁপিয়ে হাসা, যাতে চেহারার স্বাভাবিক গাম্ভীর্য নষ্ট হয়। ইসলামে এভাবে অট্টহাসি দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; কারণ এটি অন্তরের আধ্যাত্মিক সজীবতা বিনষ্ট করে। হানাফি ফিকহের বিধান অনুযায়ী, রুকু-সিজদাবিশিষ্ট নামাজে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উচ্চৈঃস্বরে অট্টহাসি দিলে তার নামাজ ও অজু উভয়টিই ভেঙে যায়। (আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ১/২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)নবীজি (সা.)-এর হাসিনবীজির হাসির ধরন হাদিস শরিফে নবীজির প্রাত্যহিক হাসির ধরন নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি কখনোই মুখ ব্যাদান করে অট্টহাসি দিতেন না।আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি নবীজি কখনো এমনভাবে মুখ খুলে অট্টহাসি দিতে দেখিনি, যাতে তাঁর আলজিভ দেখা যায়; বরং তিনি সর্বদা মৃদু মুচকি হাসতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯২)কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)নবীজি (সা.) কোনো রুক্ষ, কঠোর বা কৃত্রিম গাম্ভীর্যের মানুষ ছিলেন না; তিনি সবসময় সাহাবিদের মাঝে প্রফুল্ল বদনে উপস্থিত হতেন। সাহাবি জারির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে নবীজি কখনো আমাকে তাঁর দরবারে প্রবেশে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন, তখনই তাঁর পবিত্র মুখে মুচকি হাসি লেগে ছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৭৬)তবে বিশেষ কোনো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলে নবীজি (সা.) এমনভাবে হাসতেন যে তাঁর দাঁত প্রকাশিত হতো। এক সাহাবি ‘কাফফারা’ আদায়ে অপারগতা প্রকাশ করলে নবীজি তাঁকে এক ঝুড়ি খেজুর দেন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য।খেজুর পেয়ে সাহাবি বললেন, ‘আল্লাহর রাসুল, আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী কি এই মদিনার দুই প্রান্তের মাঝে কেউ আছে?’ তাঁর অকপট সারল্য দেখে নবীজি এমনভাবে হেসেছিলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত (নাওয়াজিজ) পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৩৬)এক বৃদ্ধ নারী নবীজির কাছে এসে আবেদন করলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) স্বভাবসুলভ মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’নবীজির নির্মল কৌতুক নবীজি (সা.) বিভিন্ন সময়ে সাহাবিদের সঙ্গে স্নেহমাখা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কৌতুক করতেন—যা পারস্পরিক ভালোবাসাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিত:আবু তুরাব সম্বোধন: একবার আলী (রা.)-এর ওপর কিছুটা মান অভিমান হলে তিনি মসজিদে এসে মাটির ওপর শুয়ে পড়েন। এতে তাঁর পিঠের চাদর সরে গিয়ে শরীরে ধুলাবালি লেগে যায়। রাসুল (সা.) সেখানে উপস্থিত হয়ে পরম স্নেহে নিজ হাতে তাঁর পিঠের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে মুচকি হেসে বললেন, ‘ওঠো, হে মাটির পিতা (আবু তুরাব), ওঠো, হে আবু তুরাব!’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৪১)এই স্নেহমাখা সম্বোধন আলীর কাছে আজীবন সবচেয়ে প্রিয় উপাধি ছিল।বিড়ালের ছানা: সাহাবি আবদুর রহমান ইবনে সাখর (রা.) একটি ছোট বিড়ালছানাকে নিজের কাপড়ের আস্তিনে পরম যত্নে রাখতেন। নবীজি একদিন তা দেখে ভালোবেসে তাঁকে ‘ইয়া আবা হুরাইরাহ’ (হে বিড়ালের পিতা) বলে ডাকলেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৪০)নবীজির এই ভালোবাসাময় ডাকটিই ইতিহাসে তাঁর স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়। তিনি খ্যাত হন আবু হোরাইরা নামে।মহান আল্লাহর হাসিবৃদ্ধাদের জান্নাতে প্রবেশ: এক বৃদ্ধা নারী নবীজির কাছে এসে আবেদন করলেন, ‘আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে বেহেশতবাসী করেন।’ নবীজি (সা.) স্বভাবসুলভ মৃদু হেসে বললেন, ‘কোনো বৃদ্ধা তো বেহেশতে যাবে না।’ বৃদ্ধা নারী এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করলেন। তখন নবীজি বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বেহেশতের যাওয়ার সময় কেউ আর বৃদ্ধ থাকবে না; বরং আল্লাহ সবাইকে তরুণ ও চিরসবুজ রূপ দান করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ২৪১)হাস্যরসে ভারসাম্য হাদিসের কোনো কোনো বর্ণনায় অতিরিক্ত হাসাহাসি নিষেধ করা হয়েছে। যেমন রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অতিরিক্ত হেসো না; কেননা অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে নির্জীব ও মৃত করে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৩)এই দুই ধরনের হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘যে কৌতুক সীমা ছাড়িয়ে যায়, মানুষের অন্তরে কাঠিন্য তৈরি করে, আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করে কিংবা অন্যের আত্মসম্মানে আঘাত হানে—ইসলামে সেই অসংযত হাস্যরসই নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে মানুষের মন প্রফুল্ল রাখা, ক্লান্ত হৃদয়কে স্বস্তি দেওয়া এবং সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে পারস্পরিক হৃদ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিমিত হাস্যরস করা কেবল জায়েজই নয়; বরং এটি একটি প্রশংসনীয় সুন্নাত।’ (ইমাম নববি, আল-আজকার আল-মুন্তাখাবাহ মিন কালামি সাইয়্যিদিল আবরার, পৃষ্ঠা: ৩২৬, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৪)সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৯০নিশ্চয়ই আমিও হাসি-আনন্দ করি; তবে আমি মুখ দিয়ে সত্য ছাড়া অসত্য বা অনর্থক কোনো কথা বলি না।আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘নবীজির সাহাবিরা কি কখনো নিজেদের মাঝে হাসাহাসি ও কৌতুক করতেন?’ তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জবাব দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, তাঁরা অবশ্যই হাসতেন ও আনন্দ করতেন; কিন্তু তাঁদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ইমান ছিল পর্বতসম সুদৃঢ় ও অটল।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ৮১২২)হাস্যরস ও কৌতুকের নবীজির সীমারেখা ইসলাম আনন্দ ও নির্দোষ কৌতুককে নিষেধ করে না; কিন্তু কৌতুকের নামে মিথ্যা বলা, কারও দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করা কিংবা গীবত করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।একবার সাহাবিরা কিছুটা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি আমাদের সঙ্গে কৌতুক ও পরিহাস করেন?’ তখন রাসুল (সা.) হাসির মূলনীতি জানিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমিও হাসি-আনন্দ করি; তবে আমি মুখ দিয়ে সত্য ছাড়া অসত্য বা অনর্থক কোনো কথা বলি না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৯০)মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে বানোয়াট গল্প ফাঁদার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে; তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস!’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯০)ইসলামে হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুকের রূপরেখা