একটি ফুল কখনো কখনো অনেক কথার চেয়েও বেশি কিছু বলে। একটি ছোট্ট ফুলের তোড়ায় মিশে থাকে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতি। চীনে শিক্ষক দিবসের ফুল আমার কাছে ঠিক তেমনই এক স্মৃতির প্রতীক।
তবে এই ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার জীবনের একটি বিশেষ যাত্রা। একসময় চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ছিলাম সেই শিক্ষার্থী, যে শিক্ষকের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানাত। আজ আমি নিজেই একজন শিক্ষক; আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
সময়ের এই পরিবর্তন আমাকে বারবার ভাবায়। একজন শিক্ষার্থীর হাতে থাকা ফুল কীভাবে একদিন একজন শিক্ষকের হাতে ফিরে আসে? আর সেই ফুল কীভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রদ্ধা, শিক্ষা ও মানবিকতার একটি সুন্দর সম্পর্ক বহন করে?
চীনে প্রথম আসি ২০১৮ সালে, একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে। চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় চীনের শিক্ষক দিবস আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আমিও সেই সময় শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দিয়েছি এবং বলেছি, “চিওশি চিয়ে খুয়াইলা” অর্থাৎ “শুভ শিক্ষক দিবস।”
তখন বিষয়টি আমার কাছে ছিল একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রিয় শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুন্দর দিন। কিন্তু কখনো ভাবিনি, কয়েক বছর পর একই দেশের অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে আমিই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করব।
আজ আমি ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। এবারের শিক্ষক দিবসে যখন আমার শিক্ষার্থীরা ফুল হাতে এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানাল, তখন অনুভূতিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফুল একই, কিন্তু তার অর্থ যেন বদলে গেছে। ফুল হাতে নিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে গেল চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোর কথা। যখন আমি ছিলাম একজন শিক্ষার্থী, আর আমার সামনে ছিলেন আমার শিক্ষক।
তখন বুঝলাম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান দেওয়া ও নেওয়ার সম্পর্ক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, উৎসাহ, অনুপ্রেরণা এবং এক ধরনের গভীর মানবিক বন্ধন।
এবারের শিক্ষক দিবসে আরেকটি বিষয় আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেছেন। তারা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষক ও গবেষক হিসাবে একাডেমিক গবেষণাপত্র প্রকাশ, “সানমিং ইউনিভার্সিটি লেই ফাং ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার টিম” গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য কৃতিত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি জানিয়েছেন।
একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব যখন শিক্ষকদের কাজকে স্বীকৃতি দেয়, তখন তা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা থাকে না। বরং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আত্মমর্যাদাকে শক্তিশালী করে।
শিক্ষক দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পালিত হলেও এর মূল উদ্দেশ্য একই, তা হলো শিক্ষকদের অবদান ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। ইউনেস্কো ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যা ১৯৯৪ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। তবে অনেক দেশে নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী ভিন্ন দিনে দিবসটি পালন করা হয়।
চীনে ১০ সেপ্টেম্বর, ভারতে ৫ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসের প্রথম পূর্ণ সপ্তাহের মঙ্গলবার, ব্রাজিলে ১৫ অক্টোবর, মেক্সিকোতে ১৫ মে, তুরস্কে ২৪ নভেম্বর, থাইল্যান্ডে ১৬ জানুয়ারি, ভিয়েতনামে ২০ নভেম্বর এবং মালয়েশিয়ায় ১৬ মে শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
শিক্ষক দিবসে দেশগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে ফুল ও উপহার দেওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা কিংবা প্রাক্তন শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো নানা আয়োজন থাকে। আয়োজনের ধরন ভিন্ন হলেও এর মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
তবে চীনের শিক্ষক দিবসের বিশেষত্ব আমার কাছে অন্য জায়গায়। দিবসটিতে শুধু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের শুভেচ্ছা জানানোর একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, কৃতী শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের সম্মান জানায় এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরে।
এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকারী নন; বরং তারা জ্ঞান ও মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে একটি প্রজন্মের চিন্তা, চরিত্র ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষার্থী থাকাকালীন মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অফ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন
চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক দিবস চালু হয় ১৯৮৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানো নয়; বরং সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানো এবং শিক্ষক, জ্ঞান ও প্রতিভাকে সম্মান করার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করা। পরবর্তীতে চীনে শিক্ষক আইনেও ১০ সেপ্টেম্বরকে শিক্ষক দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এ বছর ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চীনে পালিত হয়েছে ৪২তম শিক্ষক দিবস। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দিনটি চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণ করার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিক্ষকতার প্রতি সামাজিক সম্মানকে আরও গভীর করেছে।
চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপকতাও এই গুরুত্বকে বোঝায়। দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন স্তর ও ধরনের প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি। ১৯৮৫ সালে চীনে পূর্ণকালীন শিক্ষক ছিলেন প্রায় ৯৩ লাখ ২০ হাজার। চার দশক পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষকের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়; এটি চীনের শিক্ষা ও শিক্ষকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব দেওয়ার একটি চিত্রও তুলে ধরে। শিক্ষক দিবসকে তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এর পেছনে রয়েছে জ্ঞান, শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি সম্মানের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
চীনা সভ্যতায় শিক্ষককে সম্মান করার ঐতিহ্য বহু পুরোনো। আধুনিক শিক্ষক দিবস সেই ঐতিহ্যকে নতুন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ, শ্রদ্ধা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা ধীরে ধীরে একটি সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক দিবসের সবচেয়ে অর্থবহ দিকগুলোর একটি হলো প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের অংশগ্রহণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব যখন শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন, ফুল দেন, শুভেচ্ছা জানান কিংবা তাদের কাজের স্বীকৃতি দেন, তখন একজন শিক্ষক বুঝতে পারেন যে তার শ্রম ও অবদান মূল্যায়িত হচ্ছে।
একজন শিক্ষক বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেন, সময় দেন, ধৈর্য ধরেন, উৎসাহ দেন। অনেক সময় শুধু পাঠদান নয়, একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সংকটেও তাকে সাহস দিতে হয়। তাই বছরের একটি দিন যদি শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান মিলে শিক্ষককে বলে যে “আমরা আপনার কাজকে মূল্য দিই।” তাহলে সেই কথার আবেগ ও প্রভাব অনেক গভীর হতে পারে।
আমার কাছে শিক্ষক দিবসের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো এর একটি অবিরাম বৃত্ত রয়েছে। একসময় আমি ছিলাম ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষার্থী। আজ আমি ফুল গ্রহণ করা একজন শিক্ষক। আগামী দিনে আমার শিক্ষার্থীরাও হয়তো শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা কিংবা বিভিন্ন পেশার মানুষ হবে। তাদের কেউ হয়তো একদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে নিজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করবে।
তখন এই ফুলের সঙ্গে আমার মতোই তাদেরও কোনো স্মৃতি জড়িয়ে যাবে। এভাবেই এক প্রজন্মের শ্রদ্ধা আরেক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে।
শিক্ষক হওয়ার পর আমি শিক্ষকতার দায়িত্বকেও নতুনভাবে বুঝতে শিখেছি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা সাধারণত শিক্ষককে জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা দেওয়া একজন মানুষ হিসেবে দেখি। কিন্তু শিক্ষক হওয়ার পর বোঝা যায়, এর পেছনে কত বড় দায়িত্ব রয়েছে।
শিক্ষক শুধু একটি সিলেবাস শেষ করেন না, একটি বিষয় পড়িয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান না। একজন শিক্ষক একজন তরুণের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারেন, তার কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে পারেন, মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারেন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার সাহস দিতে পারেন।
সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের শিক্ষক দিবসে পাওয়া ফুলগুলো তাই আমার কাছে শুধু ফুল নয়। এগুলো আমার যাত্রার একটি প্রতীক। এগুলো আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে আমি কোথা থেকে শুরু করেছিলাম, কতটা পথ পেরিয়ে আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি এবং একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সামনে কত বড় দায়িত্ব রয়েছে।
আরও একটি বিষয় উপলব্ধি করেছি, শিক্ষা শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্যই। প্রতিটি পাঠের পেছনে থাকেন একজন শিক্ষক, যিনি তার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। আবার অনেক সময় একজন শিক্ষকও তার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নতুন কিছু শেখেন। তাই শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একে অপরের পরিপূরক।
চীনে শিক্ষক দিবসের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, কৃতজ্ঞতাকে যখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা যায় এবং শ্রদ্ধাকে যখন প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধে রূপ দেওয়া যায়, তখন তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
একজন বিদেশি শিক্ষক হিসেবে এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে আরও বিশেষ। কারণ আমি এই ঐতিহ্যের দুই দিকই দেখেছি। একসময় আমি চীনে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ফুল তুলে দিয়েছি। আজ একই দেশে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করছি।
আমি যে ফুলগুলো একদিন আমার শিক্ষকদের দিয়েছিলাম, সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো যেন অন্য রূপে আমার কাছেই ফিরে এসেছে। সেই ফুল এখন শুধু ফুল নয়; এটি আমার জীবনের একটি পূর্ণ বৃত্তের প্রতীক—শিক্ষা, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে চলার এক সুন্দর গল্প।
হয়তো এটাই শিক্ষক দিবসের প্রকৃত অর্থ। শিক্ষককে শুধু একটি দিনে ফুল দেওয়া নয়; বরং সারা বছর মনে রাখা যে জ্ঞান, শিক্ষা এবং যারা সেই জ্ঞান আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন কেন তাদের সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ।
ফুল শুকিয়ে যায়, কিন্তু শ্রদ্ধার স্মৃতি শুকায় না। একজন শিক্ষার্থীর হাতে যে ফুল একদিন শিক্ষকের কাছে পৌঁছায়, সময়ের সঙ্গে সেটিই আবার নতুন কোনো শিক্ষার্থীর হাতে ফিরে আসে। এভাবেই শিক্ষা ও শ্রদ্ধার এই বৃত্ত চলতে থাকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।
লেখক:
মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, পিএইচডি, চীনের ফুচিয়ান প্রদেশের সানমিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওভারসিজ এডুকেশন (স্কুল অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেস)-এর সিনিয়র লেকচারার ও গবেষক।
এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
‘এআই সার্বভৌমত্ব’-কে তিনটি স্তরে দেখি-ডাটা সার্বভৌমত্ব, কম্পিউট সার্বভৌমত্ব এবং শাসন বা গভর্ন্যান্স সার্বভৌমত্ব। নাগরিকদের তথ্য দেশের ভেতরে রাখাই যথেষ্ট নয়; সেই তথ্য কোথায় ও কার মালিকানাধীন অবকাঠামোতে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং এআই ব্যবস্থার নিয়ম কে নির্ধারণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডাটা ও কম্পিউটিং অবকাঠামো আর নিছক প্রযুক্তিগত সম্পদ নয়; এগুলো জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ডাটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, ডাটা সেন্টার এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা বন্দরের মতোই কৌশলগত অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজস্ব এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ করলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক বিজান বার্নার্ড এর শঙ্কা, বিচ্ছিন্ন জাতীয় ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহযোগিতার বদলে নতুন বিভাজন তৈরি করবে। তাই এআই অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে সুরক্ষা, আন্তঃপরিচালনযোগ্য মানদণ্ড, কঠোর অডিট ও দুর্ঘটনা প্রতিবেদনের ব্যবস্থা এবং সীমিতসংখ্যক শক্তিশালী এআই মডেলের লাইসেন্সিং প্রয়োজন। আরও পড়ুন এআই ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে পানি-বিদ্যুৎ অপচয় করছেন না তো? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এআই অবকাঠামো যেন ধনী দেশগুলোর একচেটিয়া সম্পদ না হয়ে ওঠে। আঞ্চলিকভাবে যৌথভাবে পরিচালিত কম্পিউটিং অবকাঠামো ছোট দেশগুলোকেও সক্ষমতা দেবে। বিজান বার্নার্ড এর মতে, প্রয়োজন নতুন কোনো বৈশ্বিক চুক্তি নয়; বরং বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। তবে যথাযথ নীতিমালা ছাড়া এআই দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ আয়বৈষম্য বৃদ্ধি, বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা এবং নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এখনই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারলে যে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সাধারণত প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে তা মাত্র এক দশকেই অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে এআই একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ, দক্ষ মানবসম্পদ, তথ্য-উপাত্ত এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দ্রæত গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তিগত বৈষম্য আরো বাড়তে পারে।কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার চিত্র। ওয়াশিংটন থেকে গত (১০সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তুলনায় উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআই-এর কারণে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কাছে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তিন গুণেরও বেশি। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে ১৪.২ শতাংশ কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ৪.৫ শতাংশ। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬.২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে এআই-এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যা উচ্চ আয়ের দেশগুলোর (১৮.৭ শতাংশ) খুব কাছাকাছি। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এর সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা কর্মীদের প্রতিস্থাপনের মধ্যে নয়। বরং তাদের কাজের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার মধ্যে নিহিত। আরও পড়ুন আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে এআই! যা বলছেন বিশ্বব্যাংক প্রধান অর্থনীতিবিদ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেন, উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি নতুন ‘লাইফলাইন’। এ প্রযুক্তির সুফল পেতে বিশাল ডাটা সেন্টার বা অত্যাধুনিক ভাষা মডেল তৈরির প্রয়োজন নেই। স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্প ব্যয়ের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিচারিক সেবা এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তার ভাষায়, বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেটের মতো আগের প্রযুক্তিগুলোর তুলনায় এআই অনেক দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সুযোগটি কাজে লাগাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথমবারের মতো উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনটিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার এরই মধ্যেই তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পূর্বাভাস তৈরি এবং জনসেবা প্রদানে এআই ব্যবহার শুরু করেছে। বিশেষ করে যেখানে প্রশিক্ষিত জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার কিংবা সরকারি সক্ষমতা সীমিত, সেখানে এআই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়, কৃষকদের ফসল ব্যবস্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সেবার মান উন্নয়নে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আরও পড়ুন ট্রেন্ডে গা না ভাসালেই কি আপনি ব্যাকডেটেড? প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা, তবে ঝুঁকিও কম নয় বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে বলছে, গত তিন দশকের মধ্যে বর্তমানে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে দুর্বল গড় প্রবৃদ্ধির সময় পার করছে। তবে ২০৩০-এর দশকের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আনতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে না। বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত এআই প্রযুক্তি সীমিতসংখ্যক দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বড় অংশের কাছেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্যভাণ্ডার এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, যথাযথ নীতিমালা ছাড়া এআই দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ আয়বৈষম্য বৃদ্ধি, বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা এবং নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিন ধাপের রোডম্যাপ বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তিন ধাপের একটি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। প্রথম ধাপে বিদ্যমান এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেগুলোকে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজিত করতে হবে। তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পর উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে এগোতে হবে। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ার বলেন, এআই এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছে যা বহু প্রজন্ম ধরে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তবে যেসব দেশ এখনই বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, দক্ষ জনবল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে, তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। কেএসকে
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের ট্রেন্ড বদলাতে সময় লাগে না। একটি স্টাইল রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, আবার কিছুদিন পরেই জায়গা করে নিচ্ছে নতুন কোনো ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে বিউটি ও ফ্যাশনপ্রেমীদের নজর কেড়েছে এমনই এক ঝলমলে ট্রেন্ড-‘জেমম্যাক্সিং’। নাম শুনেই বোঝা যায়, এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ ঝিকিমিকি রত্ন, রাইনস্টোন, পুঁতি ও গ্লিটারের ব্যবহার। তবে এটি শুধু সাজের সঙ্গে কয়েকটি পাথর যোগ করার বিষয় নয়। বরং সাধারণ লুককে আরও নজরকাড়া, উজ্জ্বল এবং ব্যক্তিগত স্টাইলে রূপ দেওয়াই জেমম্যাক্সিংয়ের মূল ভাবনা। সাধারণ সাজে যোগ হচ্ছে ঝলমলে ছোঁয়া জেমম্যাক্সিংয়ে ছোট ছোট কৃত্রিম রত্ন, স্টোন, রাইনস্টোন বা ঝকঝকে পুঁতি ব্যবহার করে সাজে তৈরি করা হয় আলাদা মাত্রা। খুব সাধারণ মেকআপের সঙ্গেও কয়েকটি স্টোন যুক্ত করলেই লুকটি হয়ে উঠতে পারে পার্টি বা উৎসবের উপযোগী। চোখের চারপাশে ছোট স্টোন বসানো, আইলাইনের পাশে রাইনস্টোন লাগানো কিংবা আইশ্যাডোর ওপর কয়েকটি ঝলমলে পাথর ব্যবহার-সবই এই ট্রেন্ডের অংশ। কেউ আবার কপাল, গালের পাশ বা চোখের কোণেও সূক্ষ্মভাবে স্টোন ব্যবহার করছেন। ফলে মেকআপে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ফিউচারিস্টিক ও গ্ল্যামারাস আবহ। জেমম্যাক্সিংয়ে সাধারণ জিনিসও হয়ে উঠছে স্টাইল স্টেটমেন্ট শুধু মেকআপেই সীমাবদ্ধ নয় জেমম্যাক্সিংয়ের মজার দিক হলো, এর ব্যবহার শুধু মুখের সাজে আটকে নেই। পোশাক, চুলের অ্যাক্সেসরিজ, নখ, ব্যাগ এমনকি ফোনের কেসেও দেখা যাচ্ছে ঝকঝকে স্টোনের ব্যবহার। কেউ চুলের খোঁপা বা বিনুনিতে ছোট রত্ন বসাচ্ছেন, কেউ আবার পোশাকের নির্দিষ্ট অংশে রাইনস্টোন যোগ করছেন। ফোনের কেস, মেকআপ বক্স বা দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসকেও ঝলমলে করে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নিজের চারপাশের ছোটখাটো জিনিসেও ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার ছাপ রাখার সুযোগ দিচ্ছে এই ট্রেন্ড। চোখের সাজেই সবচেয়ে বেশি নজর বিউটি ট্রেন্ড হিসেবে জেমম্যাক্সিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রয়োগ সম্ভবত চোখের সাজে। কারণ চোখের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি যোগ করলেই পুরো মেকআপের চরিত্র বদলে যায়। কালো বা রঙিন আইলাইনারের পাশে ছোট স্টোন বসানো যেতে পারে। আবার চোখের ভেতরের কোণায় একটি বা দুটি পাথর ব্যবহার করেও তৈরি করা যায় সূক্ষ্ম ঝলক। যারা একটু বেশি সাহসী লুক পছন্দ করেন, তারা আইশ্যাডোর ওপর বিভিন্ন আকার ও রঙের স্টোন দিয়ে তৈরি করতে পারেন আলাদা নকশা। তবে অতিরিক্ত স্টোন ব্যবহার না করে পোশাক ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাণ ঠিক করলেই লুকটি আরও পরিশীলিত দেখাতে পারে। ফিরছে ২০০০-এর দশকের ঝলমলে ফ্যাশন জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার সঙ্গে অনেকেই নব্বই ও ২০০০-এর দশকের ফ্যাশনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেই সময়ে গ্লিটার, রাইনস্টোন, চকচকে পোশাক, ঝকঝকে হেয়ার অ্যাক্সেসরিজ এবং স্টেটমেন্ট জুয়েলারির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে সেই পুরোনো নান্দনিকতাই নতুন প্রজন্মের হাতে নতুন রূপ পাচ্ছে। পার্থক্য হলো, এবার পুরো সাজে ঝলমলে উপকরণ ব্যবহার করার বদলে অনেকেই ছোট ছোট জায়গায় স্টোন বসিয়ে তৈরি করছেন আধুনিক ও ব্যক্তিগত লুক। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এত জনপ্রিয়? জেমম্যাক্সিংয়ের জনপ্রিয়তার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও কম নয়। ক্যামেরার আলো পড়লে ছোট রাইনস্টোন বা কৃত্রিম রত্ন সহজেই ঝিলিক দেয়। ছবি ও ভিডিওতে এই ঝলমলে উপাদানগুলো খুব দ্রুত চোখে পড়ে। ফলে মেকআপের ছোট একটি পরিবর্তনও সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। বিশেষ করে পার্টি, কনসার্ট, উৎসব বা রাতের অনুষ্ঠানের লুকের সঙ্গে এই স্টাইল বেশ মানানসই হওয়ায় কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যেও এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিজের মতো করে সাজানোর সুযোগ জেমম্যাক্সিংয়ের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো-এখানে নির্দিষ্ট কোনো নিয়মে বাঁধা থাকতে হয় না। কেউ খুব মিনিমালভাবে এক-দুটি স্টোন ব্যবহার করতে পারেন, আবার কেউ চোখ, চুল ও পোশাকে একসঙ্গে ঝলমলে উপাদান যোগ করতে পারেন। আরও পড়ুন নারিকেল তেল কি সত্যিই সুপারফুড? চুল-ত্বকের যত্নেও কতটা কাজে দেয় অর্থাৎ এটি শুধু একটি বিউটি ট্রেন্ড নয়, বরং ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। রং, আকৃতি, নকশা ও ব্যবহারের জায়গা বদলে প্রত্যেকেই তৈরি করতে পারেন নিজের আলাদা জেমম্যাক্সিং লুক। আরও পড়ুন লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের দুনিয়ায় জেমম্যাক্সিং মূলত ঝলমলে সাজকে নতুনভাবে দেখার একটি প্রবণতা। সাধারণ লুকেও সামান্য রাইনস্টোন বা স্টোন যোগ করে যখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহ তৈরি করা যায়, তখন এই ট্রেন্ড তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই