স্বপ্ন ছিল বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করবেন। সেই আয় দিয়ে সংসারের হাল ধরবেন। পরিবারের সদস্যদের ভাগ্য ফেরাবেন। আর তাই পাড়ি জমিয়েছিলেন দেশ ছেড়ে সুদূর প্রবাস দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই যেন তাদের কাল হয়ে দাঁড়ালো। স্বপ্নের সঙ্গে পুড়ে ছাই হলো জীবনটাও।
এদিকে সন্তান পুড়ে ছাই হলেও সেটি ফেরত পাননি পরিবারের সদস্যরা। একইসঙ্গে তাদের কোনো রকম ক্ষতিপূরণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা কোনোটাই মিলছে না। আবার কারো কারো পাওনা থাকলে সেটাও যেন পরিশোধ করা হচ্ছে না।
গত ২৮ জুলাই রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্স টাউনের একটি সুপারশপে আগুন লাগে। সেই আগুনে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে প্রাণ হারান ৬ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৫ জন নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং বাকি একজন মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম (২৯), একই এলাকার আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদ (২৩) ও মৃত শরব আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৫৫), একই ইউনিয়নের তৈলখিয়ার চর এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (৩০) ও মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম বেপারির ছেলে মো. রাজিক (৫৫)।
মৃত্যুর প্রায় ১ মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। সেইসঙ্গে তাদের মরদেহগুলোও দক্ষিণ আফ্রিকায় দাফন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যরা ধরেই নিয়েছেন তাদের কাছে মরদেহ আর ফেরত আসছে না।
নিহতদের একজন বক্তাবলী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিম এলাকার বাসিন্দা শাহীন। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে দাদির কাছে বড় হয়েছেন। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় কিশোর বয়সেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। ফলে সংসারের অভাব পূরণে ২০১৮ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান শাহীন। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও তাদের আর্থিক সংকট কাটেনি।
শাহীনের দাদি নুরজাহান বেগম বলেন, একে একে আমার পরিবারের সবাই মারা যাচ্ছে। শাহীন বলেছিল চলে আসবে। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। সে যেখানে কাজ করতো তার অনেক টাকা পাওনা ছিল। কিন্তু এখন সেই টাকা আর ফেরত পাওয়ার কোনো খবর পাচ্ছি না। মরদেহের আশাও ছেড়ে দিয়েছি, সেখানে তার দাফন হয়েছে বলে শুনেছি।
নিহত আরেকজন আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর এলাকার বাসিন্দা আপন আহমেদ। আপনের স্বপ্ন ছিল বাড়ি নির্মাণ করে একমাত্র বোনের বিয়ে দেবেন। সেজন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেই বাড়ি অর্ধনির্মিত রয়ে গেছে।
আপন আহমেদের বাবা আলী মিয়া বলেন, ২০২১ সালে ৫ বছরের চুক্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন আপন। দুই মাস পরই তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কিছুই পেলাম না। আগুনে তার মরদেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যার কারণে মরদেহ দেশে না এনে সেখানেই দাফন করেছে। মৃত্যুর পর আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগও করেনি।
একই এলাকার মনির সরকারের ছেলে ফাহিমও ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে বড় ছিলেন তিনি। জীবিকার তাগিদে ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান ফাহিম। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার।
নিহত মো. ফাহিমের মা লুৎফা আক্তার বলেন, আমার কলিজা আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমার ছেলেটা সংসারের বড় ছিল। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে তাকে আগুনে পুড়ে ছাই হতে হলো। আমাদের ইচ্ছা ছিল দেশে ফেরার পর ধুমধাম করে তাকে বিয়ে করাবো। কিন্তু এখন তার কিছুই হলো না। শেষ পর্যন্ত তার মুখটাও দেখার সুযোগ হলো না।
একই এলাকার বাসিন্দা মৃত শরব আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ। তার সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে এক ছেলে। সন্তানদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বলেছিলেন দেড় মাস পর বাড়ি চলে আসবেন। কিন্তু তার আর বাড়ি আসা হলো না।
নিহত নুর মোহাম্মদের ছেলে সিয়াম বলেন, বাবা বলছিল দেড় মাস পর বাড়ি এসে আবার যাবেন। দেশে আর আসা হলো না। বাবাকে আর দেখার সুযোগ হলো না। শুনেছি সেখানেই মরদেহ দাফন করেছে। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি।
এভাবে প্রত্যেকেরই স্বজনদের দাবি- নিহতদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের কোনো বকেয়া বেতন বা অন্য পাওনা থাকলে তা যাচাই করে দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। সরকার থেকে আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলে আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবো।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, যারা মারা গিয়েছে তাদের অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র ছিল না। যার কারণে তাদের ক্ষতিপূরণ কিংবা মরদেহ ফেরত আনার ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করার সুযোগ থাকছে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রবাসী ও প্রবাস ফেরত কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু রায়হান বলেন, একজন প্রবাসীর কিছু হলে তার মরদেহ ফেরত আনা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা মৌলিক দাবি। সরকারের নিজ উদ্যোগেই এটা করা উচিত। তাদের বৈধ উপায়ে যাওয়া হয়নি বলে এই মানবিক বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আমরাও সেরকম উদ্যোগ নিতে পারছি না। কারণ আমাদের কাছে কোনো কাগজ নেই। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকবে তাদের জন্য কিছু করার।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরে ফিশান সেলিম এখন শুধু পাকিস্তানেই নয়, বাংলাদেশি দর্শকদের কাছেও বেশ পরিচিত মুখ। নতুন নাটক ‘দার-এ-নাজাত’ মুক্তির পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে নাটকে তার সংলাপ বলার ধরন ও ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে দর্শকদের একাংশ সমালোচনা করেছেন। তবে বিতর্কের বাইরেও দুরে ফিশানের যে দিকটি বারবার নজর কাড়ে, সেটি হলো তার ফ্যাশন সেন্স। কখনো রাজকীয় ব্রাইডাল সাজ, কখনো গ্ল্যামারাস গাউন, আবার কখনো একেবারে সাধারণ ক্যাজুয়াল পোশাকে-প্রতিটি লুকেই নিজের আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে দেখা যায় তাকে। দুরে ফিশানের অন্যতম নজরকাড়া সাজ তার ব্লাশ পিঙ্ক ব্রাইডাল লুক। হালকা গোলাপি রঙের গর্জিয়াস লেহেঙ্গাতে তাকে দেখা যায় একেবারে রাজকন্যার মতো। নেট ও অরগাঞ্জা কাপড়ের ওপর মুক্তা, সিকুইন ও ঝলমলে ক্রিস্টালের ভারী কাজ পোশাকটিকে দিয়েছে বিলাসবহুল আবহ। সঙ্গে থাকা ওড়নাতেও রয়েছে জমকালো এমব্রয়ডারি। এই ব্রাইডাল পোশাকটি তৈরি করেছে পাকিস্তানের বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস ফারহা তালাইব আজিজ। পোশাকের ভারী কাজের সঙ্গে দুরে ফিশানের সাজে রাখা হয়েছে বেশ পরিমিত ভারসাম্য। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ। ডিউই বেস, হালকা গোলাপি ব্লাশ, ন্যুড-পিঙ্ক গ্লসি ঠোঁট এবং চোখে নরম শিমারের ব্যবহার তাকে দিয়েছে সতেজ ও উজ্জ্বল লুক। গয়নাতেও ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া। ভারী সোনার সেটের বদলে গলায় চওড়া ডায়মন্ড চোকার, কানে ম্যাচিং ড্রপ ইয়াররিংস, কপালে ছোট ডায়মন্ড মাংটিকা এবং হাতে চিকন ব্রেসলেট-আংটি-সব মিলিয়ে সাজটি হয়েছে অভিজাত। চুলে করা হয়েছে স্লিক লো বান। খোঁপার চারপাশে সাদা ফুলের গাজরা যোগ হওয়ায় আধুনিক ব্রাইডাল লুকেও এসেছে ঐতিহ্যের মায়া। ব্রাইডাল লুকের একেবারে বিপরীতে দুরে ফিশানকে দেখা যায় গাঢ় লাল রঙের ফ্লেয়ার্ড আনারকলি-গাউন ঘরানার পোশাকে। ফুল-স্লিভ এই পোশাকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নিচের বিশাল ফ্লেয়ার। সেখানে থ্রি ডি কাপড়ের গোলাপ ও পাতার মোটিফ পোশাকটিকে দিয়েছে নাটকীয় ভলিউম। বডিসে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি এবং সামনের বোতামের প্যানেল লুকে যোগ করেছে রাজকীয়তা। সঙ্গে থাকা ম্যাচিং দোপাট্টাও সাজটিকে করেছে সম্পূর্ণ। এখানেও মেকআপ রাখা হয়েছে খুব বেশি ভারী নয়। গ্লোয়িং বেস, হালকা ব্লাশ, ন্যুড আইশ্যাডো এবং সফট রেড-বেরি লিপস্টিক-সবকিছু মিলে তৈরি হয়েছে পরিপাটি গ্ল্যামার। মাঝখানে সিঁথি করে নরম ওয়েভে খোলা চুল লুকটিকে দিয়েছে আরও এলিগেন্ট আবহ। ভারী পোশাকের সঙ্গে গলায় কোনো নেকলেস না পরে মাঝারি আকারের ঝুলন্ত স্টেটমেন্ট দুল বেছে নেওয়াটাও ছিল স্টাইলিংয়ের চমৎকার সিদ্ধান্ত। দুরে ফিশানের ফ্যাশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত এখানেই-জমকালো পোশাকের মতো সাধারণ সাজেও তিনি সাবলীল। কখনো ডিপ কালারের ফুল-স্লিভ বডিকন টপের সঙ্গে কালো উলের মাফলার এবং চকলেট-ব্রাউন ম্যাক্সি স্কার্ট, কখনো সাদা কুর্তি, আবার কখনো লেদার জ্যাকেট ও ডেনিম, টপস বিভিন্ন কম্বিনেশনে দেখা যায় তাকে।লেস টপের সঙ্গে ডেনিম কিংবা লেদার জ্যাকেটের মতো সহজ স্টাইলিংয়েও তার লুকে থাকে আধুনিকতার ছাপ। এখানে বাড়তি গয়না বা ভারী মেকআপের প্রয়োজন পড়ে না। বরং পোশাকের কাট, রঙের সমন্বয় এবং চুলের স্বাভাবিক স্টাইলই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। দুরে ফিশানের ফ্যাশন তাই শুধু ঝলমলে ব্রাইডাল পোশাকে আটকে নেই। রাজকীয় লেহেঙ্গা থেকে একেবারে সিম্পল ডেনিমের প্রতিটি লুকেই তিনি প্রমাণ করছেন, ফ্যাশনে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজের স্টাইলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করা। সমালোচনা যতই থাকুক, পোশাক-সাজে দুরেফিশানের এই বহুমাত্রিকতা যে দর্শকের নজর এড়াচ্ছে না, সেটাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। এসএকেওয়াই
গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৫ কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি। পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১০টির। এছাড়া ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আরও পড়ুন আরও তলানিতে শেয়ারবাজার এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে যা ছিল ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৪৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৩২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এছাড়া বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৪৫ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬০৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আরও পড়ুন সম্পদ বিক্রি করে আরও ৫৮৬৮ গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধের উদ্যোগ সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, প্যরামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং নিটল ইন্স্যুরেন্স। এমএএস/কেএসআর
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যেই ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা, অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব হুতিদের নিয়ন্ত্রণ—দুই দিক থেকেই সৌদি আরবের তেল রপ্তানি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি এবার সরাসরি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে? আরও পড়ুন হুথির হাতে পেরিম দ্বীপ, বন্ধ হবে লোহিত সাগরও? সৌদির জরুরি আবেদন হুথিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবার ফোনে কথা বলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প সেই অনুরোধে সাড়া দেননি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওয়াশিংটন সৌদিকে পুরোপুরি একা ছেড়ে দিয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার কথা জানা গেছে। অর্থাৎ সৌদির পাশে থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে এই মুহূর্তে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই সংকীর্ণ প্রণালি লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ পারস্য উপসাগর এড়িয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর পণ্য লোহিত সাগর দিয়ে পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া পাইপলাইনও বন্ধ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে এই পাইপলাইন সৌদি তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পাইপলাইনটি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে বাব আল-মান্দেবে হুথিদের অগ্রগতি একই সময়ে ঘটায় সৌদি তেল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কেন সরাসরি হামলায় যাচ্ছে না বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের সামনে এখন বড় দ্বিধা। সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ। কিন্তু হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি নতুন সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ইয়েমেন, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগর—তিনটি ফ্রন্টেই উত্তেজনা বাড়তে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সৌদিকে গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা দিলেও সরাসরি হামলায় যেতে চাইছে না বলে প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তেলের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এরই মধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহেরচাপ আরও বাড়তে পারে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় দেশটির রপ্তানিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত বিশ্ববাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্সকেএএ/