বার্সেলোনার রঙিন দিনগুলো যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল। গাউদির শিল্পময় স্থাপত্য, ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি, লা রাম্বলারের প্রাণচাঞ্চল্য আর ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা সেই শহরকে বিদায় জানিয়ে আবারও শুরু হলো নতুন পথচলা।
১৬ নভেম্বর ২০২৫। স্পেনে শরতের শেষ অধ্যায়। নীল আকাশে মেঘের ভেলা, বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া। সকাল ঠিক ১০টায় চার মাসের ছোট্ট রূপকথাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। অনিত স্টিয়ারিং হাতে নিতেই ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়তে লাগল বার্সেলোনার সুপরিকল্পিত নগরজীবন। সামনে অপেক্ষা করছিল প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক মনোমুগ্ধকর সড়কযাত্রা, গন্তব্য—ভূমধ্যসাগরের উপকূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা স্পেনের তৃতীয় বৃহত্তম এবং আধুনিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ শহর ভ্যালেন্সিয়া।
চালকের আসনে অনিত। বার্সেলোনার শহরতলি পেরিয়ে যাওয়ার সময় আনিকা জানালার বাইরে আঙুল তুলে দেখাল বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাস। চার বছর আগে ইরাসমাস স্কলারশিপ নিয়ে সে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের একটি সেমিস্টার সম্পন্ন করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর দিকে তাকিয়ে তার চোখেমুখে ভেসে উঠল একরাশ নস্টালজিয়া। অল্প সময়ের জন্য হলেও সেই ছাত্রজীবনের স্মৃতিগুলো যেন আবার ফিরে এল।
শহর ছাড়িয়ে হাইওয়েতে উঠতেই বার্সেলোনার ব্যস্ততা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। সামনে উন্মোচিত হতে লাগল ভূমধ্যসাগরীয় প্রকৃতির অপরূপ রূপ। রাস্তার দুপাশে সারি সারি জলপাইগাছ, ঢেউখেলানো পাহাড়, দূরে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গ্রাম আর নির্মেঘ নীল আকাশ—সব মিলিয়ে পথ যেন এক চলমান ছবির ক্যানভাস। আমরা জানালার কাচে মুখ ঠেকিয়ে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম, আর চার মাসের ছোট্ট রূপকথা মায়ের পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিল। তার শান্ত মুখটি দেখে মনে হচ্ছিল, এই পথচলাই যেন তার ছোট্ট পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
লা’আলডেয়া: একটি ছোট্ট বিরতি, এক অমূল্য স্মৃতি
বার্সেলোনা থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমরা লা’আলডেয়ার একটি হাইওয়ে সার্ভিস এরিয়ায় যাত্রাবিরতি করলাম। সামনে তখনো প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার পথ বাকি—গন্তব্য ভ্যালেন্সিয়া। বাইরে থেকে এটি ছিল একটি সাধারণ বিশ্রামকেন্দ্র; কিন্তু আমাদের জীবনের স্মৃতির পাতায় স্থানটি চিরদিনের জন্য বিশেষ হয়ে থাকবে।
এই বিরতিতেই ছোট্ট রূপকথার জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আনিকা আর নানুর স্নেহভরা হাতে প্রথমবারের মতো তার মুখে তুলে দেওয়া হলো নরম করে চটকানো পাকা কলা—তার জীবনের প্রথম শক্ত খাবার। প্রথমে বিস্ময়ে বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল সে, তারপর ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হলো। কিছুক্ষণ পর তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক নির্মল হাসি। সেই হাসিতে কোনো শব্দ ছিল না; কিন্তু ছিল সীমাহীন আনন্দ আর ভবিষ্যতের অসংখ্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

আমরা সবাই সেই মুহূর্তের নীরব সাক্ষী হয়ে রইলাম। বাবা-মায়ের আনন্দভরা মুখ, নানুর স্নেহমাখা হাত আর রূপকথার নিষ্পাপ হাসি আমি ক্যামেরায় বন্দী করলাম। তখনই মনে হলো—ভ্রমণের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি অনেক সময় গন্তব্যে নয়; বরং পথের মাঝখানে থেমে যাওয়া এমন ছোট্ট, মানবিক মুহূর্তগুলোর মধ্যেই জন্ম নেয়।
আরও প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিকেলের শেষ প্রহরে আমরা পৌঁছালাম ভ্যালেন্সিয়ায়। নীল আকাশ, নির্মল বাতাস আর ভূমধ্যসাগরের স্নিগ্ধ পরশে শহরটি যেন আন্তরিক অভ্যর্থনা জানাল নীল আকাশ আর ভূমধ্যসাগরের বাতাসে।
অনেক আগেই বুক করা ছিল ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা শান্ত, নিরিবিলি Hotel Blayet-এ। এখানে পর্যটকদের ভিড়ও ছিল তুলনামূলক কম। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর মনে হলো, যেন শরীর-মন দুটোই একমুহূর্তে স্বস্তির আশ্রয় খুঁজে পেল।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com
সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে রিসোর্টের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে চোখের সামনে উন্মোচিত হলো ভূমধ্যসাগরের অপার জলরাশি। দূরে একের পর এক ঢেউ তীরের বুকে আছড়ে পড়ছে, আর সেই অবিরাম গর্জন যেন প্রকৃতির চিরন্তন সংগীত হয়ে কানে বাজছিল। পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো সমুদ্রের নীল বুকে ছড়িয়ে এক অপার্থিব আবহ সৃষ্টি করেছিল। সেই মুগ্ধকর দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো, দীর্ঘ যাত্রার সব ক্লান্তি যেন ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে অজানার পথে হারিয়ে গেল। প্রকৃতির সেই নীরব স্নেহস্পর্শে আমাদের মন ভরে উঠল এক গভীর প্রশান্তি ও কৃতজ্ঞতায়।
ঘণ্টা দুয়েক বিশ্রামের পর রাতের খাবারের উদ্দেশে আবার বেরিয়ে পড়লাম। বাইরে তখন কনকনে শীত; কিন্তু সেই শীতও আমাদের উৎসাহে এতটুকু ভাটা ফেলতে পারেনি। অনিত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেল ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা একটি মনোরম রেস্তোরাঁয়। আনিকা একটাই প্রত্যাশা—ভ্যালেন্সিয়ার ঐতিহ্যবাহী, বিশ্ববিখ্যাত ও গর্বের খাবার পায়েলা ভ্যালেন্সিয়ানার (Paella Valenciana) আসল স্বাদ আমাদের নিয়ে উপভোগ করা। এই খাবার ভ্যালেন্সিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ও জাতীয় গর্ব, যার উপকরণ হলো চাল, মুরগি, খরগোশের মাংস, সবুজ শিম, সাদা শিম ও জাফরান। এটি সি-ফুড নয়, আসল ভ্যালেন্সিয়ান পায়েলা স্থলজ উপকরণে তৈরি। সঙ্গে ছিল আমার হাতে স্পেনের স্থানীয় এক গ্লাস বিয়ার, যা কিনা খাবারকে দারুণ উপভোগ্য করেছিল।

পরদিন সকালে আধুনিক ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হলাম। সকালে প্রাতরাশ সেরে আমরা ছুটলাম বিজ্ঞান ও শিল্পনগর কংক্রিটে আঁকা কল্পনার বাস্তব রূপ দেখতে। তুরিয়া নদীর পুরোনো খাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা City of Arts and Sciences প্রথম দর্শনেই বিস্ময় জাগায়। সাদা কংক্রিট, কাচ আর পানির প্রতিবিম্ব—সব মিলিয়ে মনে হয় আমরা যেন ভবিষ্যতের কোনো নগরে ঢুকে পড়েছি।
স্থপতি সান্তিয়াগো কালাত্রাভা এখানে কেবল ভবন তৈরি করেননি, তিনি কল্পনাকে দৃশ্যমান করেছেন। চোখের মতো Hemisfèric, মানুষের কঙ্কালের মতো Science Museum আর শিল্পের মন্দির Palau de les Arts—সবকিছু একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে মানুষের জানার ও ভাবার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে। এই জায়গায় হাঁটতে হাঁটতে আমি প্রশ্ন করলাম, ‘গুলো কি সত্যি মানুষ বানিয়েছে?” আমি উত্তর খুঁজি না। কারণ, কখনো কখনো বিস্ময়টাই যথেষ্ট।
শিল্প ও বিজ্ঞান নগরী (City of Arts and Sciences) হলো স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে অবস্থিত একটি বিশাল আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক কমপ্লেক্স। এখানে বিজ্ঞান, শিল্প, প্রযুক্তি ও শিক্ষাকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে ভবিষ্যৎমুখী স্থাপত্যের মাধ্যমে। এই শিল্প ও বিজ্ঞান নগরীর ভেতরেই সামুদ্রিক জীবন প্রদর্শনী কেন্দ্র ওশানোগ্রাফিক Oceanogràfic, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অ্যাকোয়ারিয়াম। এখানে ঢুকলে শব্দ কমে যায়, আলো নীল হয়ে ওঠে আর সময় যেন ধীরে চলে।

ভ্যালেন্সিয়ার সবচেয়ে মানবিক সৌন্দর্যের নাম তুরিয়া উদ্যান (Turia Garden), একসময় যে তুরিয়া নদী শহরের বুক চিরে বয়ে যেত, আজ তার পুরোনো নদীখাতই রূপ নিয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এক অপূর্ব সবুজ উদ্যানে। পুরোনো সেতুগুলো এখনো মাথার ওপর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাদের নিচে বয়ে চলেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন। সবুজের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—একটি শহর যদি সত্যিই তার মানুষকে ভালোবাসে, তবে তার রূপ বোধ হয় এমনই হওয়া উচিত।
ভ্যালেন্সিয়া শুধু সমুদ্র, আধুনিক স্থাপত্য আর কমলার শহর নয়; এই শহরের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে ফুটবলের আবেগ। রাস্তায় হাঁটলে যেমন ভূমধ্যসাগরের বাতাস অনুভব করা যায়, তেমনি কোথাও না কোথাও টের পাওয়া যায় ফুটবলের নিঃশব্দ উত্তাপ। ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব ডি’ফুটবল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১৯ সালে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই ক্লাব শহরের গর্ব, আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। এখানকার মানুষের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি ভ্যালেন্সিয়ার জীবনযাত্রা ও শহরপ্রেমেরই একটি অংশ।
দুপুরে আমরা কেএফসিতে মধ্যাহ্নভোজ সারলাম। খাবার ছিল বেশ উপভোগ্য। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এত বিশাল আধুনিক স্থাপত্য-কমপ্লেক্সের সবকিছু দেখা সম্ভব হলো না; তবু যতটুকু দেখেছি, তাতেই ভ্যালেন্সিয়ার আধুনিকতার প্রতি গভীর মুগ্ধতা জন্ম নিল।

বিকেল চারটায় অনিত আবার গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিল। এবার আমাদের গন্তব্য প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দূরের ঐতিহাসিক শহর গ্রানাডা। ভ্যালেন্সিয়ার নীল আকাশ, ভূমধ্যসাগরের বাতাস আর আধুনিক স্থাপত্যকে পেছনে ফেলে আমরা আবার রওনা হলাম নতুন এক ইতিহাসের সন্ধানে।
পেছনে পড়ে রইল ভ্যালেন্সিয়া—একটি শহর, যা আমাদের শুধু তার সৌন্দর্য দিয়ে মুগ্ধ করেনি; বরং কিছু অমূল্য স্মৃতিও উপহার দিয়েছে।
ভ্যালেন্সিয়া ছেড়ে যতই আমরা দক্ষিণের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, ততই প্রকৃতির রূপ বদলে যেতে লাগল। প্রশস্ত হাইওয়ের দুই পাশে দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কমলালেবুর বাগান ধীরে ধীরে জায়গা করে দিল অসংখ্য জলপাইগাছকে। শত শত একরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলপাইবাগানগুলো যেন সবুজ ঢেউ তুলে দিগন্ত ছুঁয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে চোখে পড়ছিল আঙুর, ডালিম, বাদাম ও ডুমুরের বাগান, যা আন্দালুসিয়ার উর্বর ভূমির প্রাচুর্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
পথের কিছু এলাকায় বেগুনি ফুলে সাজানো ছোট ছোট জাফরানের খেতও চোখে পড়ল। হাইওয়ের পাশে গাড়ি থামানো সম্পূর্ণ নিষেধ থাকাতে গাড়ি থামিয়ে জাফরানখেত দেখার ইচ্ছা থাকলেও আর দেখা হলো না। শরতের নরম আলোয় সেই ফুলগুলোর রং যেন সবুজ প্রান্তরের বুকে বেগুনি কারুকাজ এঁকে দিয়েছে। ভাবতেই বিস্ময় জাগে—এই কোমল ফুলের লালচে পরাগ থেকেই সংগ্রহ করা হয় বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান মসলা—জাফরান।

পথের দুপাশের পাহাড়ি ঢাল, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, ছোট ছোট গ্রাম আর অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো আমাদের যাত্রাকে আরও মুগ্ধকর করে তুলেছিল। গাড়ির জানালার বাইরে প্রতিটি দৃশ্য যেন একেকটি জীবন্ত জলরঙের ছবি। মনে হচ্ছিল, আমরা শুধু একটি শহর থেকে আরেকটি শহরে যাচ্ছি না; বরং স্পেনের প্রকৃতি, কৃষি আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছি।
বার্সেলোনা থেকে ভ্যালেন্সিয়া—এটি কেবল একটি পথযাত্রা ছিল না, এর মধ্যে মিশে ছিল ছোট্ট রূপকথার জীবনের প্রথম শক্ত খাবারের স্বাদ, আনিকার পুরোনো ছাত্রজীবনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া, একটি পরিবারের একসঙ্গে পথচলার আনন্দ আর একটি আধুনিক শহরের কাছ থেকে শেখা—কীভাবে বিজ্ঞান, স্থাপত্য, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে পাশাপাশি রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়।
তাই স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া আমাদের কাছে শুধু একটি গন্তব্য ছিল না; এটি হয়ে রইল আমাদের ভ্রমণজীবনের এক নরম, নীল সবুজ অধ্যায়, যেখানে ভূমধ্যসাগরের ঢেউয়ের শব্দের সঙ্গে মিশে রয়েছে পরিবারের হাসি, পথের বিস্ময় আর আমাদের ছোট্ট রূপকথার নিষ্পাপ হাসি।
বহু বছর পরেও হয়তো কোনো এক নিঃশব্দ সন্ধ্যায় চোখ বন্ধ করলে আবার দেখতে পাব সেই নীল আকাশ, ভূমধ্যসাগরের দিগন্তজোড়া ঢেউ, অস্তগামী সূর্যের সোনালি আলো আর গাড়ির পেছনের সিটে মায়ের পাশে কখনো মিষ্টি হাসিতে জেগে থাকা, আবার কখনো নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া ছোট্ট রূপকথাকে।
জীবনের কত পথ আমরা পেরিয়ে যাই, কত শহর দেখি, কত দৃশ্য চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়; কিন্তু কিছু মুহূর্ত হৃদয়ের গভীরে এমনভাবে গেঁথে থাকে, যাদের কোনো বিদায় নেই, কোনো শেষ নেই। ভ্যালেন্সিয়া তেমনই একটি স্মৃতি—একটি শহর, একটি সমুদ্র, একটি পরিবার এবং আমাদের ছোট্ট রূপকথাকে ঘিরে থাকা একটুকরো অমলিন সুখ।
তখন হয়তো মনে হবে—কিছু ভ্রমণ কখনো শেষ হয় না;
তারা পথ থেকে সরে গিয়ে স্মৃতির ভেতর আশ্রয় নেয়,
আর সারা জীবন নীরবে আমাদের সঙ্গে পথ চলতে থাকে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে কোনো সংলাপ বা আলোচনার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি বলেন, মার্কিন পক্ষ ইরানের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সংলাপ ও আলোচনার কোনো লাভ নেই। এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, কোনো আলোচনা নয়। ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা অর্থহীন। এদিকে, আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ দখলে নেওয়ার পর এ দাবি করা হয়েছে। মায়ুন দ্বীপটি পেরিম দ্বীপ নামেও পরিচিত। বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে দ্বীপটি সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তেলের পাইপলাইনে হামলা চালায় হুথিরা। এরপরই ওই পাইপলাইন থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই খবর আসে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হুথিদের ওপর মার্কিন বাহিনী যাতে হামলা চালায় সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ওই অনুরোধ নাকচ করে দেন ট্রাম্প। সূত্র: আল-জাজিরা এসএএইচ
বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্যানেল আইনজীবী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ৩টি রেলওয়ে অঞ্চলে মোট ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৬। চাকরির বিবরণ পদের নাম: আইনজীবী ১. আদালত: আপিল বিভাগ রেলওয়ে অঞ্চল: পূর্বাঞ্চল পদসংখ্যা: ২ ২. আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ রেলওয়ে অঞ্চল: পশ্চিমাঞ্চল পদসংখ্যা: ৮ ৩. আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ রেলওয়ে অঞ্চল: পূর্বাঞ্চল পদসংখ্যা: ১২শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাপ্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা পরিচালনায় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আপিল বিভাগের প্যানেল আইনজীবীদের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা পরিচালনায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আপিল বিভাগে তালিকাভুক্তিসহ মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।নিয়োগের ধরনচুক্তিভিত্তিক (প্রাথমিকভাবে ৩ বছর)।আবেদনের নিয়মপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র ডাকযোগে/সরাসরি প্রেরণ করতে হবে। নমুনা আবেদন (জীবনবৃত্তান্ত) ফরম এবং প্যানেল আইনজীবীদের কর্মপরিধি (Terms of Reference) ওয়েবসাইটে (www.railway.gov.bd) পাওয়া যাবে। ফরমটি ডাউনলোড/অনুরূপ ছক যথাযথ পূরণপূর্বক আবেদন করা যাবে।বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ আবেদনের ঠিকানাঅতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো), বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং আহ্বায়ক, প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ কমিটি, রেলভবন (কক্ষ নং-৪০১), ঢাকা।আবেদনের শেষ তারিখ৪ অক্টোবর ২০২৬যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগনির্দেশনা ও শর্তগুলো১. ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখের বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যেসব প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তবে যদি কেউ তার অভিজ্ঞতা হালনাগাদ করতে চান, তিনি আবার আবেদন করতে পারেন।২. একজন আবেদনকারী একাধিক প্যাকেজে প্যানেলভুক্তির জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারবেন।বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।দায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেছেন, যে কোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধানমন্ডিতে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। তারা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, যে কোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য এডিস মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা তৈরি করা। তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবহেলা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে তিনি শাস্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থেই সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত শহর গঠনে তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ অভিযানে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এমএমএ/এসএনআর