জাতীয়

সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে কেন বিভেদের পথে?

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে কেন বিভেদের পথে?
সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে কেন বিভেদের পথে?

শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ হিসেবে আমরা সবাই একই উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত এবং একই বংশধর হওয়া সত্ত্বেও আজ আমরা একে অপরের প্রতি মারমুখী অবস্থানে থাকতেই যেন বেশি পছন্দ করি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি একই সত্তা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত : ১)

আল্লাহপাক সব আদম সন্তানকে প্রভূত সম্মান ঠিকই দান করেছেন, কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা সেই সম্মান ধরে রাখতে পারিনি। সব আদম সন্তানকে আল্লাহতায়ালা সমভাবে সম্মানিত করেছেন এবং কোনো বিশেষ জাতি বা গোত্রের প্রতি পক্ষপাতমূলক ব্যবহার করেননি। একজন মানুষ, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, তার মূল পরিচয় হলো : সে আদম সন্তান আর আদম সন্তান হিসেবে সব ধর্মের মানুষ একই উম্মত।

আল্লাহপাকের কাছে সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী। মানুষ হিসেবে তিনি কাউকে পৃথক করেননি। তাঁর দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং একই উম্মাহ। কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়। যেমন, পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘আর মানবজাতি একই সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে তারা মতভেদ করল।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১৯)

আসলে নবী (আ.)-এর মৃত্যুর পর নবীর অনুসারীরা সাধারণত নিজেদের মধ্যে মতভেদ আরম্ভ করে এবং দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর প্রত্যেক দলই মনে করে, তারাই নবীর সত্য অনুসারী এবং অন্যরা ভ্রান্ত। কিন্তু সব নবীর অনুসারীই আদম-হাওয়ারই বংশধর।

আল্লাহপাক এই পৃথিবীতে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন মানবের সংশোধন করার জন্য আর দলে-উপদলে বিভক্ত না হয়ে সবাই যেন একই সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করে। একক নেতৃত্বের অধীনে থেকে জীবন পরিচালিত করাই আল্লাহপাকের ইচ্ছা আর এ লক্ষ্যেই তিনি নবী-রাসুলদের প্রেরণ করেছেন।

আজ আমরা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও শ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ভুলে বসেছি। যার ফলে কারও সঙ্গে সামান্য মতের অমিল হলেই শুরু করে দিই অন্যায়-অত্যাচার। অথচ মুসলিমের প্রতিবেশী যদি অমুসলিম হয়, তার সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ধরনের অধিকারের খেয়াল রাখা জরুরি করেছে ইসলাম।

আজ মুসলিম জাহানের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যায়, তাদের অবস্থা কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। সমগ্র মুসলিম জাহান আজ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। শ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারী মুসলমানরা আজ নিজেরাই নিজেদের শত্রু হয়ে আছে।

এক জাতি হিসেবেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। যেভাবে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের প্রভু-প্রতিপালক। অতএব তোমরা আমার ইবাদত করো।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৯২)

আবার বলা হয়েছে, ‘আর জেনে রাখো, তোমাদের এ সম্প্রদায় একটিই সম্প্রদায়। আর আমি তোমাদের প্রভু-প্রতিপালক।’ (সুরা মোমেনুন, আয়াত : ৫২)

সবার সৃষ্টি যেহেতু একই ঐশী উৎস থেকে, তাই সবার মূল কাজ হলো সবার মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করা। আজ মাজহাব নিয়ে চলছে দ্বন্দ্ব। সমগ্র বিশ্বে মাজহাবের ফেরে পুড়ছে মুসলমান।

আজ পাকিস্তানে যেমন সুন্নিরা আক্রান্ত হচ্ছে শিয়াদের দ্বারা, শিয়ারা আক্রান্ত হচ্ছে সুন্নিদের দ্বারা, আবার আহমদিয়ারা আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাকিস্তানে আজ এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয় না, যেখানে মাজহাবের ফেরে প্রত্যেক দিন নিরীহ মানুষের প্রাণ হারাতে হয়। এছাড়া ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ বিশ্বের বহু দেশে কেবল এই মাজহাবের কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাতে হচ্ছে অনেকের। এক মুসলমান ভাই অপর মুসলমানের আঘাতে মরছে আর এর জন্য সহায়তা করছে অপর কেউ, অথচ আমরা পড়ে আছি মাজহাব নামক শব্দের খাঁচায় বন্দি হয়ে।

সব ধর্মের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করেছে ইসলাম। ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা দেবে না। অন্য ধর্ম নিয়ে কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা যাবে না মর্মেও পবিত্র কুরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে যাদের তারা (মূর্তিপূজক) ডাকে, তাদের তোমরা গালি দিও না। তাহলে তারা সীমালঙ্ঘন করে অজ্ঞানতাবশত আল্লাহকেও গালি দেবে।’ (সুরা আনআম : ১০৮)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করার পর যে মদিনা-সনদ প্রণয়ন করেন, তা বিশ্ব ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান এবং শান্তি-সম্প্রীতির ঐতিহাসিক দলিল। এই সনদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রদান সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য ধারা সন্নিবেশিত রয়েছে। যেমন, সনদে স্বাক্ষরকারী সব গোত্র-সম্প্রদায় মদিনা রাষ্ট্রে সমান অধিকার ভোগ করবে; সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের স্ব-স্ব ধর্ম-কর্ম পালনের স্বাধীনতা ও অধিকার যথারীতি বহাল থাকবে; কেউ কারও ওপর কোনো রূপ আক্রমণ করবে না; সন্ধিভুক্ত কোনো সম্প্রদায় বহিঃশত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে উক্ত আক্রান্ত সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করতে হবে এবং শত্রুদের প্রতিহত করতে হবে; কোনো নাগরিক কোনো অপরাধ করলে তা তার ব্যক্তিগত অপরাধ বলে গণ্য করা হবে। (সিরাতে ইবনে হিশাম)

আজ আমরা অনেক ক্ষেত্রে মহানবির অতুলনীয় এই সম্প্রীতির শিক্ষা ভুলে ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছি। মহানবির (সা.) মৃত্যুর অল্পদিন আগে বিদায় হজের সময় বিরাট ইসলামী সমাগমকে সম্বোধন করে তিনি (সা.) উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন,

‘হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনো মতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপরে একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়, কালোও সাদার চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করল। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ।’ (বায়হাকি)

এই মহান শব্দগুলো ইসলামের উচ্চতম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম নীতিমালার একটি দিক উজ্জ্বলভাবে চিত্রায়িত করেছে। শতধা বিভক্ত একটি সমাজকে অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের সমতাভিত্তিক সমাজে ঐক্যবদ্ধ করার কী অসাধারণ উদাত্ত আহ্বান।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত। ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি কারও প্রতি কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করেননি। অন্যায়ের ক্ষেত্রেও তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি। অন্যায়ভাবে কোনো মুসলিমের পক্ষ অবলম্বনও করেননি।

তিনি ছিলেন ন্যায়ের প্রতীক। মানুষ হিসেবে তিনি সবার প্রতি ছিলেন উদার ও উত্তম আচরণকারী। প্রতিবেশী যে-ই হোক, অর্থাৎ মুসলিম কিংবা অমুসলিম, তার অধিকারের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সজাগ দৃষ্টিসম্পন্ন।

আজ আমরা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও শ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ভুলে বসেছি। যার ফলে কারও সঙ্গে সামান্য মতের অমিল হলেই শুরু করে দিই অন্যায়-অত্যাচার। অথচ মুসলিমের প্রতিবেশী যদি অমুসলিম হয়, তার সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ধরনের অধিকারের খেয়াল রাখা জরুরি করেছে ইসলাম।

আজও আমরা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ উদার নীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারি, তাহলে বিশ্বব্যাপী আবারও বইবে শান্তির সুবাতাস। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো ধর্মীয় ফেরকা বা সম্প্রদায়কে পছন্দ নাও করতে পারি, তাই বলে এ নিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলার কোনো অনুমতি ইসলাম ও আমার প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেয়নি। যেভাবে মহানবি (সা.) ঐতিহাসিক মদিনা সনদের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, সাম্য-মৈত্রীর সুদৃঢ় বন্ধন রচনা করে আদর্শ-কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অদ্বিতীয় নজির স্থাপন করেছেন, ঠিক তেমনি তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদেরকেও সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

সম্প্রীতির এই দেশে যদি কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের প্রতিহত করতে হবে। আমরা কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের আশ্রয় বা প্রশ্রয় দেব না।

আমাদের এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। এছাড়া আমাদের সংবিধান দেশের সব নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের অধিকার প্রদান করেছে। তাই বিভেদ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

লেখক: প্রাবন্ধিক, ইসলামী চিন্তাবিদ
masumon83@yahoo.com

এইচআর/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সৌদি আরবে ১০০-এর বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন। তাদের মূল কাজ হলো গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং হুতিদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করা। কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন সামরিক সদস্যরা সম্প্রতি গঠিত একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের আওতায় কাজ করছেন। এই কমান্ড কয়েক সপ্তাহ আগে গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করছে, যার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটছে তা প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। এটি পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া হুথিদের ওপর হামলার জন্য ভৌগোলিক তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণেও সৌদি আরবকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সহায়তার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করলেও সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ বা অন্যান্য সামরিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না। হুথিদের অগ্রযাত্রায় উদ্বেগ সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করেছে। এতে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়তে পারে। এর আগে সৌদি আরবেও হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইরানের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইয়েমেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকশ সদস্য রয়েছে। তারা হুথিদের সঙ্গে কাজ করছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, হুথিদের সহায়তায় ইরান শেষ পর্যন্ত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। এই নৌপথ বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্প্রতি ইয়েমেনে আইআরজিসির উপস্থিতির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হুতি হামলায় ইরানের ভূমিকা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অবশ্য নতুন নয়। ওবামা ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও ওয়াশিংটন সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছিল। তবে ওই সময়ের অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও কয়েক মাস হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। পরে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই অভিযান বন্ধ করা হয়। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, ওই অভিযানের শেষ করার স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। একাধিক যুদ্ধে চাপে মার্কিন বাহিনী ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীও এখন চাপে রয়েছে। মার্কিন সেনারা নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন এবং অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতেও যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সেখানে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কাজ করছে মার্কিন বাহিনী। এ অবস্থায় সৌদি-হুথি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কতটা জড়াবে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে কোনো হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হলে অতীতের মতো আবারও যুক্তরাষ্ট্র সমালোচনার মুখে পড়তে পারে। সূত্র: সিএনএন এমএসএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
শিশুর দাঁতের যত্ন কখন থেকে নেওয়া উচিত, জেনে নিন সঠিক সময়

শিশুর দাঁতের যত্ন কখন থেকে নেওয়া উচিত, জেনে নিন সঠিক সময়

২১ দিনের সহজ রুটিনে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করুন

২১ দিনের সহজ রুটিনে চোখের নিচের কালো দাগ দূর করুন

গিলপিনের তীরে, নীল নীরবতার দেশে

গিলপিনের তীরে, নীল নীরবতার দেশে

ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক তাঁরা
ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক তাঁরা

ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিক—এখন আর ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা নয়। ভারতের রাহুল দ্রাবিড় আছেন ডাবলিন গার্ডিয়ানের মালিকানায়। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্টি রোডস, ফাফ ডু প্লেসি ও হাইনরিখ ক্লাসেন মিলে গড়েছেন রটারডাম ডকারস। অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আছেন বেলফাস্ট উলভসের সহমালিকানায়। আরেক অস্ট্রেলিয়ান ম্যাথু হেইডেন গ্লাসগো কসমিকের মালিক। নিউজিল্যান্ডের কাইল মিলস ও নাথান ম্যাককালাম মালিক এডিনবরা ক্যাসল রকারসের। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ ওয়াহ আছেন আমস্টারডাম ফ্লেমসের মালিকানায়।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে এআই!

আগামী ১০ বছরের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলবে এআই!

হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

হোয়াইট হোল কি সত্যিই আছে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

‘সিংহাসন’ হারানো ও জয়ের হিসাব চুকানোর লড়াই ফাইনালে
‘সিংহাসন’ হারানো ও জয়ের হিসাব চুকানোর লড়াই ফাইনালে

ফাইনালের লাইনআপ এর চেয়ে ভালো হতে পারে না।সেটা মেয়েদের এককের ফাইনালে। এমন দুজন মুখোমুখি হবেন, যাঁদের একজনের মনে নিশ্চিতভাবে জ্বলছে প্রতিশোধের আগুন। র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ফাইনালেরই প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে। আর যিনি সেই সিংহাসনের দখল নিয়েছেন, তাঁর চ্যালেঞ্জও তো কম নয়। সিংহাসনটায় যে যোগ্যতাবলেই বসছেন, সেটা সেই রাজপাট হারানো প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে তো তাঁকে প্রমাণ করতে হবে!ভণিতা রেখে সরাসরি বলাই ভালো। ইউএস ওপেনে আগামীকালের ফাইনালে শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হবেন দ্বিতীয় বাছাই ইয়েলেনা রিবাকিনা। বাছাইয়ের ক্রমে তাকালেও কিন্তু ফাইনালের জন্য এর চেয়ে ভালো লাইনআপ হতে পারে না। তবে আসল লড়াইটা অন্য জায়গায়।ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর তৃতীয় নারী হিসেবে ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় ট্রফি জয়ের চ্যালেঞ্জ সাবালেঙ্কার সামনে। ফ্লাশিং মিডোজে এ নিয়ে টানা চতুর্থ ফাইনাল খেলবেন বেলারুশ তারকা। সব মিলিয়ে রিবাকিনার সামনে ফাইনালে আসলে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী এক প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া কাজাখস্তানের এই তারকাও কম কী!ফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কার মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত করেন রিবাকিনারিবাকিনার সামনে বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের সুযোগ। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সাবালেঙ্কাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে রিবাকিনার। গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এ নিয়ে সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবেন দুজন। ২০২৩ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে রিবাকিনাকে হারানোর মধুর স্মৃতি আছে সাবালেঙ্কারও।কিন্তু রিবাকিনাকে নিয়ে এখন সাবালেঙ্কার মনের ভেতরের কাটা ঘা-টা বেশ দগদগে। সেমিফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কার কাছ থেকে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা কেড়ে নেওয়া আগেই নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। নিউইয়র্কের বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টারে আজ সেই সেমিফাইনালেই যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বাছাই কোকো গফকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রিবাকিনা। তাতে কি সাবালেঙ্কার খুশি হওয়ার কথা? সম্ভবত। যে প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর কাছ থেকে শীর্ষস্থানের সিংহাসন কেড়েছেন, তাঁকে ফাইনালে পেয়ে দেখিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সাবালেঙ্কার আর যা–ই হোক, মন খারাপ হওয়ার কথা নয়।সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের সামনে দাঁড়াতে পারেননি পেগুলাবরং জেদটা মনের ভেতর চেপেই সেমিফাইনালের কোর্টে নেমেছিলেন সাবালেঙ্কা। তাতে ঝড়টা গেছে জেসিকা পেগুলার ওপর দিয়ে। সরাসরি সেটে জয়ের পথে আজ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পাত্তাই দেননি সাবালেঙ্কা। ৭-৫, ৬-২ গেমে জয়ের পথে পাওয়ার টেনিস এবং শক্তিশালী গ্রাউন্ড স্ট্রোকে পেগুলাকে স্রেফ উড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় সেটে সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের সামনে পেগুলাকে অসহায়ে লেগেছে। সাবালেঙ্কা যেখানে ২৯টি উইনার হাঁকান, সেখানে পেগুলা মাত্র ১২টি। এ জয়ে ওপেন–যুগে টানা সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম হার্ডকোর্ট ফাইনালে ওঠার রেকর্ড নিজের করে নিলেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ইউএস ওপেনে প্রতিটি ফাইনালে উঠলেন।শৈশবে না দেখা স্বপ্নই এখন মেয়েটির হাতের মুঠোয়ম্যাচ আগে হওয়ায় সাবালেঙ্কা রিবাকিনার আগে ওঠেন ফাইনালে, তারপর রিবাকিনা। অর্থাৎ ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাকে পান, সেটাই দেখার অপেক্ষা ছিল তাঁর। সেখানে রিবাকিনাকে পেয়ে যাওয়ায় আসলে সিংহাসন হারানোর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগও পেলেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু সেই সুযোগটা নিশ্চিতের প্রথম ধাপ হিসেবে সবার আগে তাঁকে ফাইনাল নিশ্চিত করতে হতো। সে জন্য সাবালেঙ্কা কতটা মরিয়া ছিলেন শুনুন তাঁর মুখেই, ‘ভীষণ ব্যাকুল ছিলাম। খুব করে ফাইনালে উঠতে চেয়েছি এবং এখন ট্রফিও নিজের করে নিতে চাই। তৈরি হয়েই ছিলাম। থাকা। জিততে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত ছিলাম।’জয়ের পর গফের সঙ্গে রিবাকিনাসেই প্রস্তুতি কতটা ছিল, তা বুঝে নিতে পারেন পেগুলার মুখেই, ‘সত্যি বলতে, আজ আমার তেমন কিছু করার ছিল কি না, জানি না। আমার মনে হয়, আজ সে যেভাবে খেলেছে, তাতে বিশ্বের ৯৯ শতাংশ খেলোয়াড়কে হারিয়ে দিত। সম্ভবত চলতি বছরে তার সেরা পারফরম্যান্স।’সাবালেঙ্কা যে প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসছেন, রিবাকিনা তা সম্ভবত আন্দাজ করে নিয়েছেন। ফাইনাল সামনে রেখে তাই বলেছেন, ‘আমার মনে হয় খেলার ধার অবশ্যই আরও বাড়াতে হবে। আজকের চেয়ে অনেক ভালো সার্ভিস করতে হবে এবং আক্রমণাত্মক খেলা ধরে রাখতে হবে।’২০১৩ সালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা-সেরেনা উইলিয়ামস ফাইনালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নারী এককের দুই শীর্ষ বাছাই। এবারের ফাইনালের ফল যা–ই হোক না কেন, আগামী সোমবার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠবেন রিবাকিনা। তার আগে ট্রফি জয়ের এই ম্যাচটা জিততে পারলে রিবাকিনার জন্য সেটা হবে সোনায় সোহাগা। আর সাবালেঙ্কা জিতলে?অনেকের মনে হয়তো তিনিই র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা হয়ে টিকে থাকবেন!

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আমীরুল ইসলাম: শৈশবের জগতে ফিরে যাওয়ার মানুষটা

আমীরুল ইসলাম: শৈশবের জগতে ফিরে যাওয়ার মানুষটা

বিলের কই মাছ কখনো স্টিম করে খেয়েছেন? রেসিপি দেখুন

বিলের কই মাছ কখনো স্টিম করে খেয়েছেন? রেসিপি দেখুন

যেসব ফোনে আর চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ

যেসব ফোনে আর চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ

0 Comments