জাতীয়

‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি
‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়ার ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথন রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিএনপি নেতা তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম ফরিদ উদ্দিন গাজী (৪৫)। তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য। তাঁর বাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা না দিলেও তাঁর পছন্দের প্রার্থী আছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গতকাল সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল

ছড়িয়ে পড়া কথোপকথন রেকর্ডে ব্যবসায়ীকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে প্রথমে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর ব্যবসায়ীর উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি, এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? যদিও আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’ জবাবে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’ এরপর ফরিদকে আবার বলতে শোনা যায়, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’

একপর্যায়ে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’ এরপর ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’

জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছিলেন ফরিদ গাজী। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা তিনি রেকর্ড করতে পারেননি। তিনি বলেন, ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।

ফরিদ গাজী ঘটনার পরপরই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) প্রথম আলোকে বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। জেলা বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে তাঁর (ফরিদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত, কোন ইউনিটের পরীক্ষা কবে
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত, কোন ইউনিটের পরীক্ষা কবে

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইনে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহান সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠনের কাজ চলছে।সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছরের ১৯ মার্চ ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষার মাধ্যমে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ২০ মার্চ ‘সি’ ইউনিট (বাণিজ্য) ও ‘ডি’ ইউনিট (আর্কিটেকচার) এবং ২৭ মার্চ ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা হবে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা এবং বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া আরও তিনটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরেও কেন চড়া দাম

ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরেও কেন চড়া দাম

জার্মানির রাজনীতিতে নব্য ডানপন্থী শক্তির উত্থানের পেছনে কী

জার্মানির রাজনীতিতে নব্য ডানপন্থী শক্তির উত্থানের পেছনে কী

রোনালদোকে নিয়েই পর্তুগালের নেশনস লিগের দল

রোনালদোকে নিয়েই পর্তুগালের নেশনস লিগের দল

বগুড়ার জেলা জজের পদায়ন বাতিলের দাবি আইনজীবী সমিতির, আদালত বর্জনের হুঁশিয়ারি
বগুড়ার জেলা জজের পদায়ন বাতিলের দাবি আইনজীবী সমিতির, আদালত বর্জনের হুঁশিয়ারি

বগুড়ার নতুন জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন হওয়া মো. মনিরুজ্জামানের পদায়নের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতি। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা জজ আদালতের গওহর আলী ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়। দাবি না মানলে আদালত বর্জনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।আইনজীবী সমিতির নেতাদের অভিযোগ, মো. মনিরুজ্জামান আগে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের ‘আজ্ঞাবহ বিচারক’ হিসেবে বগুড়ায় পরিচিত। বগুড়ায় তাঁর পদায়নের খবরে ১৫ সেপ্টেম্বর আপত্তি জানিয়ে সমিতির পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। কিন্তু আপত্তি উপেক্ষা করে ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।এর আগে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৫–এর বিচারক ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান। অভিযোগের বিষয়ে মো. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ মো. রেজাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। পরে তাঁরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আইনজীবী ও কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামানকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। সম্প্রতি মনিরুজ্জামানকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়নের খবর পেয়ে তাঁরা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দুবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। এরপরও গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে বগুড়ায় পদায়ন করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মো. মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় বগুড়ার আদালতে ‘অত্যন্ত আজ্ঞাবহ বিচারক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাবনা থেকে নির্বাচিত বিএনপির এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের আত্মীয় হওয়ায় তাঁর পদায়নে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তুলে ধরা হয়নি।সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে পদায়নের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আইনজীবী সমিতি জরুরি সভা ডেকে আদালত বর্জনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান নেতারা।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬৪, মামলা ৫৮

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬৪, মামলা ৫৮

সেই এলিটা কিংসলে এখন কোচ
সেই এলিটা কিংসলে এখন কোচ

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এলিটা কিংসলে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে এখন কোচ। দেশের শীর্ষ ফুটবল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চট্টগ্রাম সিটি এফসির ডাগআউটে আজ তাঁর অভিষেক হয়েছে কোচ হিসেবে। তবে খেলোয়াড় তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। কারণ হিসেবে ৩৬ বছর বয়সী এলিটা বললেন, বাফুফেতে তাঁর নাম নিবন্ধন এখনো হয়নি।বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে গত তিন মৌসুম ফরোয়ার্ড এলিটা ছিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের খেলোয়াড়। তবে সর্বশেষ মৌসুমে তাঁর মাঠেই নামা হয়নি।এলিটা নিজেকে ফিটনেস কোচ বললেও দলটির এক খেলোয়াড় জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি এফসি যে একবেলা অনুশীলন করেছে, সেটি করিয়েছেন এলিটাই। বিদেশি কোচ এখনো না আসায় কোচের ভূমিকায় ছিলেন তিনিই। দলে তিনি সহকারী কোচ।তবে প্রথম ম্যাচেই এলিটার অভিজ্ঞতা ভালো হয়নি। ফর্টিস এফসির কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দলটি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচ শেষে নিজের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এলিটা বললেন, ‘আমি আগে কখনো কোচ ছিলাম না। এ বছরই প্রথম কোচ হয়েছি। নতুন ভূমিকায় মাত্র শুরু করলাম।’এলিটা কিংসলি দলের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর আছে বিস্তর অতৃপ্তি, ‘এই ম্যাচে খেলার আগে প্রাক-মৌসুম মাত্র একটা অনুশীলন সেশন করেছি আমরা, কিন্তু ফুটবলে এভাবে এক সেশন করে মাঠে নামা যায় না। তবে আশা করি আমরা সমস্যাটা কাটিয়ে উঠব।’চট্টগ্রামের দলটি যে একবেলা অনুশীলন করেছে, সেটি বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। আর দলটি উঠেছেও কিংস অ্যারেনার ক্রিকেট ডরমিটরিতে।এলিটা জানালেন, বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশেই থাকেন তিনি। তবে তাঁর স্ত্রী (বাংলাদেশি) ও কন্যা বর্তমানে নাইজেরিয়ায় আছেন।২০১১ সালে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলতে প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন এলিটা। সেই থেকে নিয়মিত খেলার পাশাপাশি এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে তাঁর নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করে।২০২১ সালের মে মাসে এলিটা বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতে পান। ফিফা ও এএফসির অনুমোদনের পর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। দেশের শীর্ষ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনীর মতো ক্লাবে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছেন।শুরুতেই আবাহনীর ড্র, ফর্টিসের ৬ গোলের বিশাল জয়

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কেন বিতর্কিত এ চুক্তি

সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কেন বিতর্কিত এ চুক্তি

টানা পাঁচ জয়ের অপেক্ষায় চুল কাটেননি ভক্ত, দুই বছরেও জিততে পারল না ইউনাইটেড

টানা পাঁচ জয়ের অপেক্ষায় চুল কাটেননি ভক্ত, দুই বছরেও জিততে পারল না ইউনাইটেড

পানি চায় দুর্বৃত্তরা, ঘরের দরজায় খুলতেই ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

পানি চায় দুর্বৃত্তরা, ঘরের দরজায় খুলতেই ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

0 Comments