জাতীয়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না করলে এটি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। অথচ তাঁদের কোনো লক্ষণ থাকে না বলে তাঁরা বিষয়টি জানেনই না।

সাধারণত ১২০/৮০ হলো আদর্শ রক্তচাপ। তবে কিডনির রোগ বা হৃদ্‌রোগে ভুগে থাকলে ১২০/৭৫ থাকা উচিত। বয়স ৩৫ থেকে ৪০ হলে ৩ থেকে ৬ মাস পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ কী

রক্ত চলাচল করে ধমনির মাধ্যমে। রক্ত চলার সময় ধমনির দেয়ালে যে চাপের সৃষ্টি হয়, সেটাই রক্তচাপ। কারও ধারাবাহিক কয়েক দিন রক্তচাপ ১৪০ ও ৯০ মিলিমিটার পারদের বেশি থাকলে বলা যায়, তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।

কেন হয়

৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ জানা যায় না। ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের কারণে রক্তচাপ বাড়ে। যেমন কিডনির রোগ, হরমোনজনিত রোগ, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও স্টেরয়েড সেবন।

অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ কেন ক্ষতিকর

হৃদ্‌রোগ: রক্তচাপের বিপরীতে হার্ট পাম্প করতে থাকলে হার্টের দেয়ালগুলো অস্বাভাবিক পুরু হয় এবং তার নিজস্ব রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। করোনারি রক্তনালিতে ব্লক দেখা দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। পাম্পিং ক্ষমতা কমে হার্ট অকার্যকর হতে পারে।

কিডনি বিকল: ধীরে ধীরে কিডনির কার্যকারিতা কমে। কিডনি অকার্যকর হলে ডায়ালাইসিস অথবা প্রতিস্থাপন করতে হয়।

স্ট্রোক: অতিরিক্ত রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। মস্তিষ্কের রক্তনালি ব্লক কিংবা রক্তক্ষরণ হয়ে স্ট্রোক হলে মৃত্যু কিংবা সারা জীবন পঙ্গু হয়ে থাকতে হতে পারে।

অন্ধত্ব: রেটিনায় রক্তনালি পরিবর্তিত হয়ে রেটিনোপ্যাথি হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা অন্ধত্বের ঝুঁকি দেখা দেয়।

প্রান্তিক রক্তনালি: প্রান্তিক রক্তনালি চিকন হওয়ার কারণে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে পায়ে গ্যাংগ্রিন (পচন) হতে পারে।

মহাধমনি: বুক ও পেটের মহাধমনি অত্যধিক প্রসারিত হয়ে (এনিউরিজম) ফেটে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।

করণীয় কী

কয়েক দিন প্রেশার মাপার পর যদি ১৪০/৯০-এর বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ ও ঝুঁকিগুলো নির্ধারণ করতে হবে। কিছু কিছু পরীক্ষা যেমন প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, প্রস্রাবের অ্যালবুমিন, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, শর্করা ও চর্বি পরীক্ষা করা উচিত।

উচ্চ রক্তচাপ হলে—ধূমপান পরিহার করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করুন, যেমন ৩০ মিনিট জোরে হাঁটা, সাঁতার কাটা ইত্যাদি। চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মিত সেবন করুন। সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন প্রেশার মেপে লিখে রাখুন। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার। খাদ্যে লবণের পরিমাণ কমান। লাল মাংস ও চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিন। মানসিক চাপ কমান ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা করুন। অন্যান্য সমস্যা যেমন উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস থাকলে তার চিকিৎসা নিন। রক্তচাপ স্বাভাবিকে নামা মানে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া নয়।

  • ডা. এ কে এম মূসা, সাবেক অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

  • চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকা

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মানচিত্রে আফ্রিকা বড় হলো, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কি বদলাল
মানচিত্রে আফ্রিকা বড় হলো, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কি বদলাল

পৃথিবী বদলায়নি, বদলেছে নীল এই গ্রহকে দেখার একটি প্রচলিত মানচিত্র। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ টোগোর উদ্যোগে ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪-১ ভোটে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।প্রস্তাবটি মূলত ‘ইকুয়াল আর্থ’-এর মতো সম-আয়তনভিত্তিক মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেয়, যেখানে মহাদেশগুলোকে তাদের প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি তুলে ধরে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে; আর এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও ইউক্রেন—ইউরোপের এই ছয় দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে সামান্যই বলতে হয়—একটি মানচিত্রের প্রজেকশন বদলানো মাত্র। কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর কিছু প্রশ্ন—পৃথিবীকে আমরা কীভাবে দেখতে শিখেছি? কে বা কারা সেই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দিয়েছে? এ দুটির চেয়েও গুরুতর জিজ্ঞাসা হলো, শক্তিধর ও বলহীন, কেন্দ্র ও প্রান্ত, ধনী ও গরিবের ধারণা কি শুধু রাজনীতি-সমাজনীতি-অর্থনীতিতে তৈরি হয়, নাকি আমাদের দেখাশোনা-বোঝাপড়াতেও তার ছাপ পড়ে?বহুকাল ধরে প্রচলিত মার্কেটর প্রজেকশনে পৃথিবীর উচ্চ অক্ষাংশের ভূখণ্ডকে অস্বাভাবিক বড় দেখায়। ফলে মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান বা কাছাকাছি আকারের মনে হয়। অথচ বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় আফ্রিকা।মার্কেটর প্রজেকশন তৈরি করেছিলেন জেরারডাস মার্কেটর, ১৫৬৯ সালে। তাঁর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল নৌযাত্রায় দিকনির্দেশনা ও কম্পাস বিয়ারিং সঠিক রাখা, ভূখণ্ডের আসল বা সঠিক আয়তন দেখানো নয়। তাই এটিকে সরাসরি ‘আফ্রিকাকে ছোট করার ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র’ বললে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে না। কিন্তু এখানেই বিষয়টির গভীরতর দিকটিরও শুরু।২.মানচিত্র পৃথিবীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলায় বড় ভূমিকা রাখে। একটি শিশু যখন শৈশব থেকে এমন মানচিত্র দেখে বড় হয়, যেখানে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো সুবিশাল আর আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকা সংকুচিত, তখন তা অবচেতনভাবেই তার মনোজগতে বৈশ্বিক শক্তি ও গুরুত্বের একটা সমীকরণ তৈরি করে দেয়।মানচিত্র কোনো দেশের গরিবি বা সমৃদ্ধি তৈরি করে না ঠিকই, কিন্তু পৃথিবীকে কীভাবে দেখতে হবে, তার একটি মানসিক অভ্যাস তৈরি করে। আর কে না জানে, ক্ষমতা ইতিহাসে শুধু বন্দুক দিয়ে কাজ করেনি; দৃষ্টিভঙ্গির ওপরও প্রভাব ফেলার কোশেশ জারি রেখেছে। উপনিবেশবাদ তাই কেবল জাগতিক সম্পদের জবরদখল নয়, জ্ঞানের তথা মনোজগতের ওপর একধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠারও প্রচেষ্টা।ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকার সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, নির্বিচার শোষণ করেছে—তা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু শোষণ শুধু সোনা-জহরত বা খনিজের ছিল না; শোষণ ছিল কে জ্ঞানী, কে সভ্য, কার ভাষা উন্নত, কার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ—এসবের সংজ্ঞা নির্ধারণের ওপরও।ভাড়াটে সেনা দিয়ে যেভাবে আফ্রিকা লুটছে রাশিয়াটমাস ব্যাংবিংটন মেকলের ১৮৩৫ সালের ‘মিনিট অন ইন্ডিয়ান এডুকেশন’ তার জাজ্বল্য উদাহরণ। তিনি এমন একটি ভারতীয় শিক্ষিত শ্রেণি তৈরির কথা বলেছিলেন, যারা রক্তে ও বর্ণে ভারতীয় হলেও রুচি, মতামত, নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিতে ‘ইংরেজ’ হবে।শাসক যদি শুধু জমি বা বাড়ি দখল করে, মানুষ একদিন তা ফেরত চায়। কিন্তু যদি শাসক বোঝাতে পারে যে শাসিতের ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি ফেলনা, তখন দখল আরও গভীরে শিকড় ছড়ায়।এডওয়ার্ড সাইদের ‘ওরিয়েন্টালিজম’ আমাদের সেই ক্ষমতার সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে। ‘প্রাচ্য’ সম্পর্কে পশ্চিমা জ্ঞান কীভাবে একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত, সাইদ তা দেখিয়েছেন। অন্যকে ব্যাখ্যা বা রূপায়িত করার ক্ষমতাও একধরনের শাসন, তা–ও স্পষ্ট করেছেন তিনি। ফ্রাঞ্জ ফানো আরও এক ধাপ এগিয়ে দেখিয়েছেন, উপনিবেশবাদ কীভাবে মানুষের আত্মপরিচয়ে আঘাত করে, যার ফলে শাসিত মানুষ নিজের মানমর্যাদা প্রকাশেও শাসকের চোখ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।এই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার সমান বড় দেখায়। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা মহাদেশটি গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়যে জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিকীকরণের শিকার, তাদের ভূখণ্ডও যদি মানচিত্রে বাস্তবের তুলনায় সংকুচিত দেখায়, তবে সেই দৃশ্যমান অসমতার সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। শুধু রুটির বণ্টনে তো নয়, স্বীকৃতিরও অসমতা আছে।গরিবিকে আমরা সাধারণত খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আয়ের নিরিখে দেখি। কিন্তু মানুষের বঞ্চনার আরও স্তর আছে—স্বীকৃতির বঞ্চনা, মর্যাদার বঞ্চনা। কে ইতিহাসের নায়ক? কার সাহিত্য সেরা? কোনটা দর্শন আর কোনটা লোকবিশ্বাস? কার শিল্প জাদুঘরে থাকবে, কার শিল্পকে বলা হবে নৃতাত্ত্বিক বস্তু? কার ভাষা আন্তর্জাতিক? এসব প্রশ্নের উত্তর ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।আজও বিশ্ব অর্থনীতির বৈষম্য বুঝতে উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকারকে উপেক্ষা করা যায় না। অনেক গবেষণাতেই ঔপনিবেশিক শাসনের অর্থনৈতিক কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। আর এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘না’ ভোটটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরাশক্তিটি অবশ্য এটিকে নিছক মানচিত্র সংশোধনের উদ্যোগ হিসেবে দেখেনি।ভোটাভুটিতে মার্কিন প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে একে বৃহত্তর ‘আমূল মতাদর্শিক প্রকল্প’ ও ‘জ্ঞানগত ন্যায়বিচার’-এর মতো বিষয় টেনে আনেন। বাস্তব আয়তনের কাছাকাছি মানচিত্র ব্যবহারের মতো আপাতনিরীহ ও যুক্তিযুক্ত একটি আহ্বানকে যুক্তরাষ্ট্র কেন বৃহত্তর আদর্শিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দেখল?‘সবুজ বিপ্লব’ যেভাবে আফ্রিকার ক্ষতি করছেজাতিসংঘের এ প্রস্তাব কোনো আইন নয়, মার্কেটর প্রজেকশন বা গুগল ম্যাপসের মতো অ্যাপ নিষিদ্ধও করা হয়নি। এটি মূলত সম-আয়তনভিত্তিক মানচিত্রকে বেশি ব্যবহারের আহ্বান। তাই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র ‘না’ ভোটটি মনের ভেতর কেমন খচখচ করে। এর অর্থ এই নয় যে আমেরিকার প্রত্যেক নাগরিক বা পশ্চিমের সব মানুষ আফ্রিকাকে ‘ছোট’ করে দেখেন।কিন্তু রাজনৈতিক প্রশ্নটি উবে যায় না, যখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পৃথিবীর ভূখণ্ডকে তুলনামূলকভাবে তার প্রকৃত আকারে দেখানোর পক্ষে, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি কেন তার বিরোধিতা করছে? এখানেই মানচিত্র একটি প্রতীকে পরিণত হয়। সমস্যা কোনো একটি রেখা বা রঙে নয়; সমস্যা হলো কেন্দ্র নির্ধারণের অভ্যাসে। তখন মানচিত্র আর সাধারণ কোনো কাগজের টুকরা থাকে না, তা বৈশ্বিক বৈষম্য ও ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।৩.তাই বলে ‘পশ্চিম’ মানেই চিরন্তন শত্রু—এমন সরল গল্পে আটকে দেওয়াও সত্যের অপলাপ হবে। পৃথিবীকে ‘পশ্চিম বনাম গ্লোবাল সাউথ’ বা ‘ধনী বনাম গরিব’—এমন সরলীকরণে ভাগ করলে ইতিহাস ও বর্তমানের বাস্তবতাও আড়ালে পড়ে যায়। ঔপনিবেশিক জিঞ্জির থেকে মুক্ত হওয়ার পর এশিয়া-আফ্রিকার বহু দেশে স্থানীয় অভিজাত শ্রেণি ও স্বৈরশাসকেরা নিজেদের সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে; সমাজে-রাষ্ট্রে গেড়ে বসেছে দুর্নীতি, বৈষম্য, অনাচার।আফ্রিকান চিন্তাবিদ আশিল এমবেম্বে তাঁর ‘অন দ্য পোস্টকলোনি’ বইয়ে ঔপনিবেশিক শক্তির উত্তরাধিকার বিশ্লেষণের পাশাপাশি স্বাধীনতা-উত্তর আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বৈরাচারী ক্ষমতার কাঠামোগুলোকেও কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। তাই সমস্যাটি কেবল ‘সাদা’ বনাম ‘কালো’র নয়, এটি মূলত ক্ষমতাবান বনাম ক্ষমতাহীনের।মানতেই হবে, ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম রূপগুলোর একটি ছিল উপনিবেশবাদ। কিন্তু তার উত্তরাধিকারকে বুঝতে হলে আজকের বৈশ্বিক করপোরেশন, স্থানীয় শোষক বা অলিগার্কি ও আধুনিক ভূরাজনীতি—পুরো কাঠামোকেই আতশি কাচের তলায় নিয়ে দেখতে হবে।'বর্ণবাদী' গান্ধী এবং আফ্রিকার প্রতিশোধমানচিত্রে আফ্রিকাকে বড় দেখালে মহাদেশটির জমি এক ইঞ্চিও বাড়বে না, রাতারাতি সব অভুক্তের পাত খাবারে ভরে যাবে না, শিক্ষাবঞ্চিত শিশুটির জন্য নতুন বিদ্যালয় স্থাপিত হবে না, খনিশ্রমিকের মজুরি বাড়বে না। কিন্তু যা বদলাবে, তা হলো ‘দেখার অভ্যাস’। আর এটি মোটেও তুচ্ছ বিষয় নয়। উপনিবেশবাদ শেষ হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার অসমতা কি শেষ হয়েছে? এটিই আসল প্রশ্ন।শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যারা অন্যের চোখ দিয়ে নিজেদের দেখেছে, তাদের নিজস্ব দৃষ্টিতে বিশ্বকে দেখার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এ পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। নতুন মানচিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই ‘আফ্রিকা কত বড়’ নয়, প্রশ্নটি হলো আমরা কি এখনো শক্তিধরকে বড় এবং দুর্বলকে ছোট দেখতেই অভ্যস্ত থাকব?যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে মানচিত্র বদলানোর চেয়েও বড় কাজ হবে আমাদের দেখার চোখ তথা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। কারণ, উপনিবেশবাদ শুধু ভূখণ্ড দখল করে না, কখনো কখনো সে মানুষের মাথার ভেতর একটি ‘মানচিত্র’ এঁকে দিয়ে যায়। সেই মানচিত্রে বলবানকে বড়, দুর্বলকে ছোট; কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ, প্রান্তকে গৌণ করে দেখা হয়। সেই মনস্তাত্ত্বিক মানচিত্রই মুছে ফেলতে হবে।হাসান ইমাম সাংবাদিকhello.hasanimam@gmail.com

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এবার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অটোচালক আহত

এবার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অটোচালক আহত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কতটা জরুরি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কতটা জরুরি

২৮ বছর পর ‘জোড়া ফুল’ হারাল তৃণমূল, মমতার নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’

২৮ বছর পর ‘জোড়া ফুল’ হারাল তৃণমূল, মমতার নতুন প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’

শত বছরের বেশি সময় পর নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতির সন্ধান
শত বছরের বেশি সময় পর নতুন বন্য বিড়াল প্রজাতির সন্ধান

বলিভিয়ায় নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল ‘টিলকায়ো’র সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। জিনগত বিশ্লেষণে প্রজাতিটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ওয়াসার মিটার বাক্স: চামচে তুলে আনা পানিতে কিলবিল করছিল মশার লার্ভা

ওয়াসার মিটার বাক্স: চামচে তুলে আনা পানিতে কিলবিল করছিল মশার লার্ভা

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনসে বিস্ফোরণে নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৫ জনই পুলিশ সদস্য

পাকিস্তানে পুলিশ লাইনসে বিস্ফোরণে নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৫ জনই পুলিশ সদস্য

সুজির জাফরানি হালুয়ার রেসিপি

সুজির জাফরানি হালুয়ার রেসিপি

স্থানীয় বিএনপির বিরোধিতার মধ্যেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠান করলেন রুমিন ফারহানা
স্থানীয় বিএনপির বিরোধিতার মধ্যেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠান করলেন রুমিন ফারহানা

উপজেলা বিএনপি কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং অনুষ্ঠান করতে না দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মৌখিকভাবে বলার পরও নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে অনুষ্ঠান করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।আজ শুক্রবার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে উপজেলায় ২০২৫ সালের প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রুমিন ফারহানার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ স্মরণে উপজেলার আবদুল কাদির শাহ পাঠাগার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের জেরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আশুগঞ্জ বাজারে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ুমিছিল হয়। ওই কর্মসূচি থেকে আশুগঞ্জে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।এদিকে শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে গত বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জে উপজেলা পরিষদের পেছনের মাঠে রুমিন ফারহানার দুই অনুসারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার দুজন হলেন আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আতাউর রহমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বিপ্লব। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচন করায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।এ ছাড়া গত বুধবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মীরা আজকের অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য ইউএনওর কাছে মৌখিকভাবে দাবি তোলেন। তাঁদের আপত্তির কারণে আজকের অনুষ্ঠান ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।শেষ পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আজকের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিলেন।অনুষ্ঠান ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতোসহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তার জন্য যা করণীয়, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। আজকের অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে আমার নেতৃত্বে পুলিশের ৫০ জন সদস্য মোতায়েন ছিলেন।’এদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাঁর অনুসারীরা দুই শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তাঁরা রুমিন ফারহানার পক্ষে নানা স্লোগান দেন।অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ভাষাসৈনিক অলি আহাদ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের ইতিহাসে রচিত হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের ইতিহাস রচিত হয় রাজনৈতিক বয়ানে।’রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস রচিত হয় যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তার হাতের কলমে। যদি সেটা না হতো, তাহলে অলি আহাদ, মাওলানা ভাসানী (মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকদের জীবনী আরও বিস্তৃতভাবে আমরা জানতে পারতাম। তাঁদের সততা, দেশপ্রেম, সাহস, আপসহীনতা—এই বিষয়গুলো আমরা নতুন প্রজন্মকে জানাতে পারতাম।’শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে লাঠিখেলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের আয়োজক শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় ২০২৫ সালে প্রাথমিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ও ২০২৬ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মোট ১৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রুমিন ফারহানা বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে। রাজনীতিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। রাজনীতিতে এটা কিছু নয়। আমি মনে করি, রাজনীতিতে যেকোনো কথার জবাব মানুষ দেয়।ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যেকোনো সময় বাংলাদেশ ছাড়তে পারেন, যেকোনো সময় বাংলাদেশে ঢুকতে পারেন। সংবিধানে এটি পরিষ্কার বলা আছে। বাংলাদেশে ঢোকার পর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটা সরকার বলতে পারবে।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ডেমোক্র্যাটদের কেন অভিবাসন নিয়ে সোচ্চার হতে হবে

ডেমোক্র্যাটদের কেন অভিবাসন নিয়ে সোচ্চার হতে হবে

মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব

মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব

অবশেষে মুখ খুললেন ক্যাটরিনা, মা হওয়ার আগে-পরের লুকের সমালোচনার বিপরীতে দিলেন ৬টি দাঁতভাঙা জবাব

অবশেষে মুখ খুললেন ক্যাটরিনা, মা হওয়ার আগে-পরের লুকের সমালোচনার বিপরীতে দিলেন ৬টি দাঁতভাঙা জবাব

0 Comments