শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে আগে থেকে কিছু বলার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা আপিল করতে চাইলে তখন আইনই তা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। তারা কখন কীভাবে এটা সমাধান করতে হয়, দে আর কম্পিটেন্ট এনাফ।’
আরএমএম/জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নিউইয়র্কে এসেছিলেন বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হয়ে। ফিরছেন এক নম্বর হয়ে, সঙ্গে ইউএস ওপেনের ট্রফিও। ইয়েলেনা রিবাকিনা যেন আরিনা সাবালেঙ্কার কাছ থেকে এক রাতেই কেড়ে নিলেন সবকিছু—বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান এবং ইউএস ওপেনের ট্রফি। শনিবার রাতে ইউএস ওপেনের ফাইনালে রিবাকিনা ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কাকে। অবশ্য ফলাফল যা-ই হোক, রিবাকিনার এক নম্বর হওয়া নিশ্চিত ছিল আগেই।প্রথম সেট হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু তৃতীয় সেটে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার পর আর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ২-১ ব্যবধানে ব্রেক নেওয়ার পর রিবাকিনাই দাপট দেখান। হন চ্যাম্পিয়নও।এটি রিবাকিনার ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম, এ বছরের দ্বিতীয়। মৌসুমের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও সাবালেঙ্কাকেই হারিয়েছিলেন তিনি। আর নিউইয়র্কে এবার থামালেন সাবালেঙ্কার ১৯ ম্যাচের জয়যাত্রা। ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর ইউএস ওপেনে আর হারেননি সাবালেঙ্কা, এবার সেই ধারাও থামল।এবারের আগে ইউএস ওপেনে রিবাকিনার সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলো। তার ওপর সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে চোট পেয়ে কয়েক দিন হাঁটতেই পারেননি। ফলে নিউইয়র্কে আদৌ খেলতে পারবেন কি না, সেটিই ছিল অনিশ্চিত। সেখান থেকে কাজাখস্তানের মেয়ে এখন চ্যাম্পিয়ন।২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা ২০২২ সালে উইম্বলডন জিতেছিলেন, এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ইউএস ওপেন। ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করতে এখন শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেন বাকি। এমন সাফল্যের পরও যেন পুরো ব্যাপারটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য। রিবাকিনা বলেছেন, ‘কী ঘটেছে, এখনো ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছি না। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক কিছু অর্জন করেছি।’অন্যদিকে,সেরেনা উইলিয়ামসের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন জেতার সুযোগ হারিয়েছেন সাবালেঙ্কা। রানার্সআপের হতাশা লুকাতে পারেননি চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই বেলারুশিয়ান। পুরস্কার বিতরণীর সময় তাঁর চোখে ছিল জল, ‘আমি একটু ভালো খেলতে পারলে ভালো লাগত। তবে মনে হয়, আগামী বছর।’
একটি গ্রন্থাগারের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভবন নয়, আধুনিক আসবাব নয়; এমনকি বইও নয়। তার সবচেয়ে বড় সম্পদ পাঠক। কারণ, পাঠক না থাকলে লাখো বইও শেষ পর্যন্ত নিছক কাগজের স্তূপ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের দিকে তাকালে সেই নির্মম সত্যটিই চোখে পড়ে। সেখানে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭টি বই আছে। আছে ছয়টি বাংলা দৈনিক, দুটি ইংরেজি দৈনিক ও ১৩টি দেশীয় সাময়িকী। অথচ প্রায় সাত বছর ধরে এসব বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না পাঠকেরা।২০১৯ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাঠকসেবা বন্ধ করা হয়েছিল। কথা ছিল, আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন হবে, পাঠকসেবা বাড়বে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হবে। কিন্তু সাত বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ১৬ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। তাতে প্রায় ১০ হাজার পাঠকের বসার ব্যবস্থা থাকার কথা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯২ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ। অথচ গ্রন্থাগারের দরজা পাঠকের জন্য এখনো বন্ধ। এই পরিস্থিতি শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার উদাহরণ নয়; এটি আমাদের উন্নয়নচিন্তার একটি গভীর অসুখের প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রায়ই প্রকল্প গ্রহণকে উন্নয়ন এবং প্রকল্পের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়কে সাফল্যের মাপকাঠি ধরে নিই। কিন্তু প্রকল্পটি মানুষের জীবন কতটা বদলাল, নাগরিক কতটা সুবিধা পেলেন, সেই প্রশ্নটি যেন গৌণ হয়ে যায়। ফলে ভবন তৈরি হয়, সড়ক হয়, সেতু হয়, প্রতিষ্ঠান হয়—কিন্তু যার জন্য এসব করা, সেই মানুষটি সেবা পান না। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের ক্ষেত্রেও যেন একই ঘটনা ঘটেছে। ভবন নির্মাণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, দরপত্র, ঠিকাদারি, অনুমোদন, মেয়াদ বাড়ানো—এসবের নিজস্ব যুক্তি আছে। কিন্তু পাঠকের প্রয়োজনের যুক্তি আরও সরল: তিনি বই পড়তে চান। একজন শিক্ষার্থীকে সাত বছর অপেক্ষা করিয়ে কোনো প্রশাসনিক যুক্তিই তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। একজন গবেষক সাত বছর হারিয়েছেন। একজন চাকরিপ্রার্থী, একজন লেখক, একজন সাধারণ বইপড়ুয়া মানুষ—সবার কাছ থেকেই সাতটি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যে রাষ্ট্র বইয়ের জন্য ভবন বানায় কিন্তু পাঠককে বই থেকে সাত বছর দূরে রাখে, তার উন্নয়নচিন্তায় কোথাও একটি মৌলিক ভুল থেকে যায়। উন্নয়নের শেষ কথা ইট, বালু, সিমেন্ট কিংবা ব্যয়ের হিসাব নয়; শেষ কথা মানুষ। মানুষের প্রয়োজনের আগে প্রকল্পকে রাখলে উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু সমাজ তৈরি করতে পারে না। আর যে উন্নয়ন মানুষকে জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেটি শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন নয়—উন্নয়নের একটি ব্যয়বহুল ভ্রম মাত্র।