জাতীয়

কলিজার টুকরাকে একবারও কোলে নেওয়া হলো না, রাশিয়ায় চিরঘুমে আলাল

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
কলিজার টুকরাকে একবারও কোলে নেওয়া হলো না, রাশিয়ায় চিরঘুমে আলাল
কলিজার টুকরাকে একবারও কোলে নেওয়া হলো না, রাশিয়ায় চিরঘুমে আলাল

সন্তান জন্মের খবর পেয়েছিলেন হাজার হাজার মাইল দূরের রাশিয়া থেকে। স্বপ্ন ছিল কাজ শেষে দেশে ফিরবেন। আদরের সন্তানকে প্রথমবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরবেন। শুনবেন প্রিয় সন্তানের মুখে বাবা ডাক। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভয়াবহ বিস্ফোরণে রাশিয়াতেই চিরঘুমে শায়িত হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের আলাল হোসেন।

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন আলাল হোসেন। চারদিন পর ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কফিনবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো আলালকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা।

নিহত আলাল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামের খেড়ু মন্ডলের ছেলে। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে বছরখানেক আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে চীনের সিনোপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার।

নিহত আলালের বাবা খেড়ু মন্ডল জানান, পরিবারের জন্য ভালো কিছু করার আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে শিগগির দেশে ফেরার কথা ছিল আলালের। কিন্তু একটি বিস্ফোরণ তাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।

এদিকে ছেলের কফিন দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আলালের মা ফাতিমা খাতুন। সন্তান হারানোর শোকে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। বুক চাপড়ে কান্না করছেন আর বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই থামছে না আহাজারি।

আলালের শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন জানান, রাশিয়ায় যাওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আলালের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান। দূর প্রবাসে থেকেই সন্তানের জন্মের খবর পান তিনি। তখন থেকেই ছেলেকে একবার কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন আলাল। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই দেশে ফিরে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন—এমন স্বপ্নই দেখতেন তিনি।

প্রতিবেশী আরাফাত হোসেন বলেন, ‌‘পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন আলাল। পরিবারকে ভালো রাখার সেই মানুষটিই ফিরেছেন কফিনবন্দি হয়ে। সবমিলিয়ে আলালের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।’

আসিফ ইকবাল/এসআর/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মানদেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে
মানদেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য জ্বালানি তেল নিয়ে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি ট্যাংকার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে।ট্যাংকারটি সহজ পথে কম সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারত বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে। এ প্রণালির এক পাশে এশিয়ার দেশ ইয়েমেন, অন্য পাশে আফ্রিকার দেশ জিবুতি।হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী নিনেমিয়া নামের ট্যাংকারটি বাব আল-মানদেব এড়িয়ে চট্টগ্রামে এসেছে সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকা ঘুরে। গতকাল শনিবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এ যাত্রায় সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে এলে ১৬ দিনের মতো সময় লাগত। খরচও অনেক কম হতো।ট্যাংকারটির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইম ওশেন ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) পি কে রয় প্রথম আলোকে বলেন, ঘুর পথে একটি ট্যাংকারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় হতে পারে। সরাসরি এলে এ ব্যয় হয় না।এ যাত্রায় সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে এলে ১৬ দিনের মতো সময় লাগত। খরচও অনেক কম হতো।বাব আল-মানদেব প্রণালিমধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেবের কৌশলগত পেরিম বা মাইয়ুন দ্বীপ দখল করেছে। দ্বীপটি প্রণালিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং এর অবস্থান সবচেয়ে সরু অংশের কাছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে হুতিদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়েছে।হুতিদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল–মানদেব, যেভাবে হুমকির মুখে বিশ্ববাণিজ্যহুতিরা অবশ্য এখন পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করেনি। তাদের দাবি, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ। তবে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জাহাজমালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি শুধু জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে যায় বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে। মিসর, মরক্কোসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যে এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।৪৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব, মিসর, মরক্কো এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৫৫১ কোটি ডলারের পণ্য। এসব দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারের পণ্য। সব মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি বা ৪৬ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি ও রপ্তানি) পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৯৩৯ কোটি ডলার। বাব আল-মানদেব ও সুয়েজনির্ভর দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ।হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্রআরও গুরুত্বপূর্ণ হলো রপ্তানিতে এ পথের নির্ভরতা। এনবিআরের হিসাবে, এসব বাজারে গেছে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে এসব অঞ্চল থেকে এসেছে মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ।অবশ্য পুরো বাণিজ্য এখনই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলে অথবা নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজ কোম্পানিগুলো বাব আল-মানদেব এড়িয়ে চলতে শুরু করলে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। তাতে সময় বেশি লাগে এবং খরচও বেশি।দেশের রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে যায় বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে। মিসর, মরক্কোসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যে এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।তাৎক্ষণিক ঝুঁকি জ্বালানিতেবাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয় জ্বালানি আমদানি। হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব এশিয়ার দেশগুলোয় তেল সরবরাহে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছিল। কিন্তু হুতিরা সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় এ পথে ঝুঁকি বেড়েছে।হরমুজ ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), সারসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। হরমুজ দিয়ে এখন কার্যত বাংলাদেশে কোনো জাহাজ আসছে না। বাব আল-মানদেব দিয়ে আসছে। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে হলে নিরাপত্তাঝুঁকি, বিমা ব্যয়, জাহাজভাড়া, দীর্ঘ ট্রানজিট সময় এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি পর্যন্ত অনেক খাতেই প্রভাব পড়তে পারে।হরমুজ ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), সারসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। হরমুজ দিয়ে এখন কার্যত বাংলাদেশে কোনো জাহাজ আসছে না। বাব আল-মানদেব দিয়ে আসছে।রপ্তানিতেও বাড়বে সময় ও খরচবাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে পণ্যবাহী জাহাজ বাব আল-মানদেব ও সুয়েজ এড়িয়ে গেলে উত্তমাশা অন্তরিপ ঘুরতে হবে। শিপিং এজেন্টদের হিসাবে, এতে যাত্রায় সাধারণভাবে আরও ১০ থেকে ১২ দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে। বাড়বে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহার ও পরিবহন ব্যয়।রপ্তানি পণ্যের সমুদ্রপথের ভাড়া সাধারণত বিদেশি ক্রেতা বহন করে। তবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ব্যয় রপ্তানিকারকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়।সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানবাব আল-মানদেব সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে যেসব প্রতিযোগী দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, তাদের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। কারণ, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটোই বাড়বে।দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রপ্তানিতে পরোক্ষ প্রভাবটাই বেশি হবে। বিদেশি ক্রেতারা পণ্য পরিবহনের বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করলেও দিন শেষে চাপটা আমাদের ওপর পড়তে পারে।’মাহমুদ হাসান খান বলেন, তুরস্ক থেকে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তুলা আমদানিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। কাঁচামাল আসতে সময় বেশি লাগলে উৎপাদন ও রপ্তানির সময়সূচিও চাপে পড়বে।গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট হয়। এখন বাংলাদেশ যথেষ্ট গ্যাস পাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।বাংলাদেশ আগে থেকেই ভুগছেইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর তার প্রভাব নানাভাবে বাংলাদেশের ওপরে পড়ে। গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট হয়। এখন বাংলাদেশ যথেষ্ট গ্যাস পাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে চাপ পড়েছে। দেশেও দাম বাড়াতে হয়েছে।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাব আল-মানদেব সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে যেসব প্রতিযোগী দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, তাদের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। কারণ, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটোই বাড়বে।মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, জ্বালানি তেল আমদানিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হবে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানির বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়াতে সরকারকে এখনই জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। মধ্য মেয়াদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া উচিত।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ট্রেডমিল নয়, প্রকৃতির মাঝে হাঁটলেই কমবে ওজন

ট্রেডমিল নয়, প্রকৃতির মাঝে হাঁটলেই কমবে ওজন

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আজ টিভিতে যা দেখবেন (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

গুগলের সবকিছু ফ্রি, তবু এক বছরে কীভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করল

গুগলের সবকিছু ফ্রি, তবু এক বছরে কীভাবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার আয় করল

নায়ক–চাবুক দুটোই বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না
—ওমর সানী
নায়ক–চাবুক দুটোই বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না —ওমর সানী

নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনও পেরিয়েছে ৩ দশক। এবার রস‍‍+আলোর মুখোমুখি হলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের।প্রথম প্রশ্ন, লোডশেডিং কেমন উপভোগ করছেন?বেশ উপভোগ করছি। হয়তো খুব শিগগির এটা ঠিক হয়ে যাবে। লোডশেডিংয়ের সময়টাকে পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম হিসেবেই নিচ্ছি। আর বিদ্যুৎ এলে মনে হয়, জীবনে আবার নতুন করে আলো ফিরে এসেছে! আচ্ছা, চৌধুরী সাহেবকে ম্যানেজ করা কঠিন, নাকি চৌধুরীসাহেবের মেয়েকে?যে চৌধুরী সাহেবকে বলেছি, তিনি মারা গেছেন, এখন আর সংলাপ দিয়ে লাভ নাই। তবে মেয়েকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করলে হয়তো আবার নতুন কোনো চৌধুরী সাহেবের আবির্ভাব ঘটতে পারে!  বাংলা সিনেমায় সব সময় বড়লোকের মেয়েদের সাথেই আপনার প্রেম হয়ে যেত কেন?এ জন্যই তো ওমর সানী! ওমর সানী হচ্ছে গরিবের আর্টিস্ট, এটা নিয়ে আমি খুব প্রাউড। আমি বড় লোকের আর্টিস্ট হতে চাই না। গরিবের ভালোবাসায় যে স্বস্তি আছে, বড়লোকের এসিতে সেটা পাওয়া যায় না!ভিলেনদের সাথে ফাইট, নাকি ফেসবুকে নেগেটিভ কমেন্ট যারা করে তাদের সাথে ফাইট—কোনটা করতে বেশি মজা লাগে?ফেসবুকে যারা নেগেটিভ কমেন্ট করে, ওরা না বুঝেই করে। ওদের জন্য দোয়া করি, যেন ব্রেনটা ঠিক থাকে। আর ওদের সঙ্গে ফাইটে নামলে তো আমারই সময় নষ্ট—ভিলেনের সঙ্গে ফাইট করে টাকা পাই, ফেসবুকের সঙ্গে ফাইট করে কী পাই? তাই ওদের কমেন্টকে এখন বিনোদন হিসেবেই নিই, ফ্রি কমেডি শো—টিকিটও লাগে না!আপনার রেস্টুরেন্টের নাম ‘চাঁপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ কেন? এটা কি নিজের জীবন থেকে নেওয়া?পৃথিবীতে শ্বশুরবাড়ির খাবার সব সময় মজার হয়। আমার এখানে যারাই কাস্টমার হিসেবে আসেন, তাঁদের শ্বশুরবাড়ির পয়েন্ট অব ভিউ থেকে আপ্যায়ন করি। এ জন্যই নাম—চাঁপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি। এখানে খেতে এসে কেউ যেন বিল দেওয়ার সময় মনে না করেন, ‘শ্বশুরবাড়িতে এসে আবার বিল কেন!’ তাই খাবারটা শ্বশুরবাড়ির, কিন্তু বিলটা একদম নিজের বাড়ির।আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগরতড়িৎ উক্তিঅনেক ব্যবসাই তো করলেন, চাবুকের ব্যবসা করবেন কবে?চাবুকের ব্যবসা করব না। ভাতের হোটেলই আমার শেষ ব্যবসা। চাবুক দিয়ে মানুষ পেটানো যায়, কিন্তু ভাতের হোটেলে মানুষ পেট ভরে খায়—আমি তাই দ্বিতীয়টাই পছন্দ করি। এখন জীবনের বাকি সময়টা চাবুক নয়, চামচ-থালা নিয়েই কাটাতে চাই!আপনি কি আসলেই অরিজিনাল চাবুক অর্ডার করেছিলেন?আসলে পরিচালক–প্রযোজকেরা চাবুক নিয়ে আসত। আমার হাতে দিত কিংবা নায়িকার হাতে দিত। কিন্তু এখন হইছে কি, একটা চাবুক রাখব। সাক্ষাৎকার দিতে এলে এই চাবুক নিয়ে আসব। প্রশ্ন করার আগে সাংবাদিকেরাও একটু ভেবেচিন্তে প্রশ্ন করবে! আর উত্তর পছন্দ না হলে চাবুক দেখিয়ে বলব—‘পরের প্রশ্ন!’ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনি নায়ক নন, গায়ক। এমন হলে কোন গানটি গাইবেন?আমি প্রায় একটা গান করি। গানটা আমার ভীষণ প্রিয়—‘জীবন আঁধারে পেয়েছি তোমারে/ চিরদিন পাশে থেকো বন্ধু’! নায়ক না হয়ে গায়ক হলে এই গান দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করব—গলায় সুর থাকুক আর না থাকুক! তবে শ্রোতারা যদি গান শুনে আবার আমাকে নায়ক বানিয়ে দিতে চায়, তখন আর কী করা—ফিরে আসতেই হবে! তা কোন বন্ধুকে চিরদিন পাশে রাখতে চাইবেন, নতুন বন্ধু, নাকি ৩১ বছরের পুরোনো বন্ধু মৌসুমী...৩১ বছরের পুরোনো বন্ধু মৌসুমীকেই পাশে রাখব। নতুন বন্ধুত্ব করার বয়স আর ধৈর্য—দুটোই এখন কমে গেছে! ৩১ বছর যাকে সহ্য করে এসেছি, তাকে এখন আর ছেড়ে নতুন কাউকে খুঁজব কেন? নতুন বন্ধুর আবার কত দিনের গ্যারান্টি, মৌসুমীর তো ৩১ বছরের ওয়ারেন্টি চলছে!এত বছর নায়ক ছিলেন, এবার যদি নিজের জীবন নিয়ে সিনেমা বানান—নাম কী দেবেন?নাম দেব ‘ওমর সানী এখনো আছেন’। কারণ এত কিছুর পরও আমি টিকে আছি—এটাই তো সবচেয়ে বড় ক্লাইম্যাক্স! আর সিনেমার শেষে একটা কথা থাকবে—নায়ক বদলাতে পারে, চাবুক বদলাতে পারে, কিন্তু ওমর সানী বদলায় না!Ai ড্রামাবিয়ে না করার ১০ উপকারিতা...১টা ফাউছিনতাই! Be পজিটিভ বিদুৎ-বিড়ম্বনায় তাঁহারা যা লিখতেনচোরের ওপর বাটপারিঅপ্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
‘একদম হৃদয় দিয়ে গাইত ফরিদা’

‘একদম হৃদয় দিয়ে গাইত ফরিদা’

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছে

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন কি ঘনিয়ে আসছে

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের প্রতি সি চিন পিংয়ের আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের প্রতি সি চিন পিংয়ের আহ্বান

লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের ওপর ইয়েমেন সরকারের হামলা
লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের ওপর ইয়েমেন সরকারের হামলা

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বলেছে, তারা লোহিত সাগরের উপকূলে হুতি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর হুতিদের বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানো হয়।ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারন করেছে। দেশটির পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী এই সংঘাতকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোখা শহরের কাছে হুতিদের যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল–নাজিলি বলেন, মোখা থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে মোখা–ধুবাব সড়কে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিরা মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরদিন শুক্রবার তারা মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালির ওপর তাদের প্রভাব আরও জোরদার হয়।জাতিসংঘ গত শুক্রবার বলেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে লড়াই তীব্র হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালি এখন ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির নিয়ন্ত্রণে। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।এরই মধ্যে হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি আরও হুমকির মুখে পড়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এসি মেরামতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

এসি মেরামতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই হরমুজে নতুন নৌপথ চালুর উদ্যোগ ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই হরমুজে নতুন নৌপথ চালুর উদ্যোগ ইরানের

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে জোরালো আলোচনা

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে জোরালো আলোচনা

0 Comments