জাতীয়

মানদেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
মানদেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে
মানদেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ, দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়বে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য জ্বালানি তেল নিয়ে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি ট্যাংকার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে।

ট্যাংকারটি সহজ পথে কম সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারত বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে। এ প্রণালির এক পাশে এশিয়ার দেশ ইয়েমেন, অন্য পাশে আফ্রিকার দেশ জিবুতি।

হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী নিনেমিয়া নামের ট্যাংকারটি বাব আল-মানদেব এড়িয়ে চট্টগ্রামে এসেছে সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকা ঘুরে। গতকাল শনিবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এ যাত্রায় সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে এলে ১৬ দিনের মতো সময় লাগত। খরচও অনেক কম হতো।

ট্যাংকারটির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইম ওশেন ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) পি কে রয় প্রথম আলোকে বলেন, ঘুর পথে একটি ট্যাংকারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় হতে পারে। সরাসরি এলে এ ব্যয় হয় না।

এ যাত্রায় সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে এলে ১৬ দিনের মতো সময় লাগত। খরচও অনেক কম হতো।
বাব আল-মানদেব প্রণালি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেবের কৌশলগত পেরিম বা মাইয়ুন দ্বীপ দখল করেছে। দ্বীপটি প্রণালিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং এর অবস্থান সবচেয়ে সরু অংশের কাছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে হুতিদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়েছে।

হুতিরা অবশ্য এখন পর্যন্ত সব আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করেনি। তাদের দাবি, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ। তবে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জাহাজমালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি শুধু জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে যায় বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে। মিসর, মরক্কোসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যে এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।

৪৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব, মিসর, মরক্কো এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৫৫১ কোটি ডলারের পণ্য। এসব দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারের পণ্য। সব মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি বা ৪৬ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি ও রপ্তানি) পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৯৩৯ কোটি ডলার। বাব আল-মানদেব ও সুয়েজনির্ভর দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো রপ্তানিতে এ পথের নির্ভরতা। এনবিআরের হিসাবে, এসব বাজারে গেছে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে এসব অঞ্চল থেকে এসেছে মোট আমদানির প্রায় ১৫ শতাংশ।

অবশ্য পুরো বাণিজ্য এখনই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলে অথবা নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজ কোম্পানিগুলো বাব আল-মানদেব এড়িয়ে চলতে শুরু করলে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। তাতে সময় বেশি লাগে এবং খরচও বেশি।

দেশের রপ্তানির বড় অংশ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে যায় বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে। মিসর, মরক্কোসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্যে এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।

তাৎক্ষণিক ঝুঁকি জ্বালানিতে

বাংলাদেশের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয় জ্বালানি আমদানি। হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব এশিয়ার দেশগুলোয় তেল সরবরাহে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছিল। কিন্তু হুতিরা সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় এ পথে ঝুঁকি বেড়েছে।

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), সারসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। হরমুজ দিয়ে এখন কার্যত বাংলাদেশে কোনো জাহাজ আসছে না। বাব আল-মানদেব দিয়ে আসছে। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হলে হলে নিরাপত্তাঝুঁকি, বিমা ব্যয়, জাহাজভাড়া, দীর্ঘ ট্রানজিট সময় এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি পর্যন্ত অনেক খাতেই প্রভাব পড়তে পারে।

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), সারসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। হরমুজ দিয়ে এখন কার্যত বাংলাদেশে কোনো জাহাজ আসছে না। বাব আল-মানদেব দিয়ে আসছে।

রপ্তানিতেও বাড়বে সময় ও খরচ

বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর ও যুক্তরাষ্ট্রের একাংশে পণ্যবাহী জাহাজ বাব আল-মানদেব ও সুয়েজ এড়িয়ে গেলে উত্তমাশা অন্তরিপ ঘুরতে হবে। শিপিং এজেন্টদের হিসাবে, এতে যাত্রায় সাধারণভাবে আরও ১০ থেকে ১২ দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে। বাড়বে জাহাজের জ্বালানি ব্যবহার ও পরিবহন ব্যয়।

রপ্তানি পণ্যের সমুদ্রপথের ভাড়া সাধারণত বিদেশি ক্রেতা বহন করে। তবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ব্যয় রপ্তানিকারকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়।

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রপ্তানিতে পরোক্ষ প্রভাবটাই বেশি হবে। বিদেশি ক্রেতারা পণ্য পরিবহনের বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করলেও দিন শেষে চাপটা আমাদের ওপর পড়তে পারে।’

মাহমুদ হাসান খান বলেন, তুরস্ক থেকে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তুলা আমদানিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। কাঁচামাল আসতে সময় বেশি লাগলে উৎপাদন ও রপ্তানির সময়সূচিও চাপে পড়বে।

গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট হয়। এখন বাংলাদেশ যথেষ্ট গ্যাস পাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।

বাংলাদেশ আগে থেকেই ভুগছে

ইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর তার প্রভাব নানাভাবে বাংলাদেশের ওপরে পড়ে। গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ব্যাপক সংকট হয়। এখন বাংলাদেশ যথেষ্ট গ্যাস পাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। সারা দেশে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে চাপ পড়েছে। দেশেও দাম বাড়াতে হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাব আল-মানদেব সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, বিশেষ করে যেসব প্রতিযোগী দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, তাদের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে। কারণ, পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটোই বাড়বে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, জ্বালানি তেল আমদানিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হবে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানির বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়াতে সরকারকে এখনই জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। মধ্য মেয়াদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া উচিত।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রিবাকিনার হাতে ইউএস ওপেনের ট্রফি, সঙ্গে র‍্যাঙ্কিং রাজত্বও
রিবাকিনার হাতে ইউএস ওপেনের ট্রফি, সঙ্গে র‍্যাঙ্কিং রাজত্বও

নিউইয়র্কে এসেছিলেন বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হয়ে। ফিরছেন এক নম্বর হয়ে, সঙ্গে ইউএস ওপেনের ট্রফিও। ইয়েলেনা রিবাকিনা যেন আরিনা সাবালেঙ্কার কাছ থেকে এক রাতেই কেড়ে নিলেন সবকিছু—বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান এবং ইউএস ওপেনের ট্রফি। শনিবার রাতে ইউএস ওপেনের ফাইনালে রিবাকিনা ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কাকে। অবশ্য ফলাফল যা-ই হোক, রিবাকিনার এক নম্বর হওয়া নিশ্চিত ছিল আগেই।প্রথম সেট হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন সাবালেঙ্কা। কিন্তু তৃতীয় সেটে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার পর আর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি। ২-১ ব্যবধানে ব্রেক নেওয়ার পর রিবাকিনাই দাপট দেখান। হন চ্যাম্পিয়নও।এটি রিবাকিনার ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম, এ বছরের দ্বিতীয়। মৌসুমের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও সাবালেঙ্কাকেই হারিয়েছিলেন তিনি। আর নিউইয়র্কে এবার থামালেন সাবালেঙ্কার ১৯ ম্যাচের জয়যাত্রা। ২০২৩ সালের ফাইনালে কোকো গফের কাছে হারের পর ইউএস ওপেনে আর হারেননি সাবালেঙ্কা, এবার সেই ধারাও থামল।এবারের আগে ইউএস ওপেনে রিবাকিনার সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল শেষ ষোলো। তার ওপর সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে চোট পেয়ে কয়েক দিন হাঁটতেই পারেননি। ফলে নিউইয়র্কে আদৌ খেলতে পারবেন কি না, সেটিই ছিল অনিশ্চিত। সেখান থেকে কাজাখস্তানের মেয়ে এখন চ্যাম্পিয়ন।২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা ২০২২ সালে উইম্বলডন জিতেছিলেন, এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ইউএস ওপেন। ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করতে এখন শুধু ফ্রেঞ্চ ওপেন বাকি। এমন সাফল্যের পরও যেন পুরো ব্যাপারটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য। রিবাকিনা বলেছেন, ‘কী ঘটেছে, এখনো ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছি না। গত কয়েক সপ্তাহে অনেক কিছু অর্জন করেছি।’অন্যদিকে,সেরেনা উইলিয়ামসের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন জেতার সুযোগ হারিয়েছেন সাবালেঙ্কা। রানার্সআপের হতাশা লুকাতে পারেননি চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই বেলারুশিয়ান। পুরস্কার বিতরণীর সময় তাঁর চোখে ছিল জল, ‘আমি একটু ভালো খেলতে পারলে ভালো লাগত। তবে মনে হয়, আগামী বছর।’

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সিন্টা অফিস থেকে নথি সরানোর অভিযোগ, মুখ খুললেন কুনিকা

সিন্টা অফিস থেকে নথি সরানোর অভিযোগ, মুখ খুললেন কুনিকা

সারা বছর অপেক্ষা, প্রচারের ঘাটতিতে আক্ষেপ প্রকাশকদের

সারা বছর অপেক্ষা, প্রচারের ঘাটতিতে আক্ষেপ প্রকাশকদের

এই বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

এই বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

চট্টগ্রামের গ্রন্থাগারটি দ্রুত খুলে দিন
চট্টগ্রামের গ্রন্থাগারটি দ্রুত খুলে দিন

একটি গ্রন্থাগারের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভবন নয়, আধুনিক আসবাব নয়; এমনকি বইও নয়। তার সবচেয়ে বড় সম্পদ পাঠক। কারণ, পাঠক না থাকলে লাখো বইও শেষ পর্যন্ত নিছক কাগজের স্তূপ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের দিকে তাকালে সেই নির্মম সত্যটিই চোখে পড়ে। সেখানে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭টি বই আছে। আছে ছয়টি বাংলা দৈনিক, দুটি ইংরেজি দৈনিক ও ১৩টি দেশীয় সাময়িকী। অথচ প্রায় সাত বছর ধরে এসব বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না পাঠকেরা।২০১৯ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাঠকসেবা বন্ধ করা হয়েছিল। কথা ছিল, আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন হবে, পাঠকসেবা বাড়বে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হবে। কিন্তু সাত বছর পরও সেই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ১৬ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। তাতে প্রায় ১০ হাজার পাঠকের বসার ব্যবস্থা থাকার কথা। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯২ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ। অথচ গ্রন্থাগারের দরজা পাঠকের জন্য এখনো বন্ধ। এই পরিস্থিতি শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার উদাহরণ নয়; এটি আমাদের উন্নয়নচিন্তার একটি গভীর অসুখের প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রায়ই প্রকল্প গ্রহণকে উন্নয়ন এবং প্রকল্পের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়কে সাফল্যের মাপকাঠি ধরে নিই। কিন্তু প্রকল্পটি মানুষের জীবন কতটা বদলাল, নাগরিক কতটা সুবিধা পেলেন, সেই প্রশ্নটি যেন গৌণ হয়ে যায়। ফলে ভবন তৈরি হয়, সড়ক হয়, সেতু হয়, প্রতিষ্ঠান হয়—কিন্তু যার জন্য এসব করা, সেই মানুষটি সেবা পান না। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের ক্ষেত্রেও যেন একই ঘটনা ঘটেছে। ভবন নির্মাণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, দরপত্র, ঠিকাদারি, অনুমোদন, মেয়াদ বাড়ানো—এসবের নিজস্ব যুক্তি আছে। কিন্তু পাঠকের প্রয়োজনের যুক্তি আরও সরল: তিনি বই পড়তে চান। একজন শিক্ষার্থীকে সাত বছর অপেক্ষা করিয়ে কোনো প্রশাসনিক যুক্তিই তাকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। একজন গবেষক সাত বছর হারিয়েছেন। একজন চাকরিপ্রার্থী, একজন লেখক, একজন সাধারণ বইপড়ুয়া মানুষ—সবার কাছ থেকেই সাতটি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যে রাষ্ট্র বইয়ের জন্য ভবন বানায় কিন্তু পাঠককে বই থেকে সাত বছর দূরে রাখে, তার উন্নয়নচিন্তায় কোথাও একটি মৌলিক ভুল থেকে যায়। উন্নয়নের শেষ কথা ইট, বালু, সিমেন্ট কিংবা ব্যয়ের হিসাব নয়; শেষ কথা মানুষ। মানুষের প্রয়োজনের আগে প্রকল্পকে রাখলে উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু সমাজ তৈরি করতে পারে না। আর যে উন্নয়ন মানুষকে জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেটি শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন নয়—উন্নয়নের একটি ব্যয়বহুল ভ্রম মাত্র।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাপুটে জয়ে সিরিজ রিশাদ-সাইফদের দখলে

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাপুটে জয়ে সিরিজ রিশাদ-সাইফদের দখলে

দাম বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার গহনা

দাম বাড়ার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার গহনা

কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

0 Comments