পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হেসেখেলেই হারালো বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তিন ম্যাচের আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের ৫ উইকেট আর ১০২ বল হাতে রেখে হারিয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। বৃষ্টির কারণে প্রথম দুই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এই জয়েই ১-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ‘এ’।
সেনওয়েস পার্কে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ৪০ ওভারে ১৮২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যান। ৬৭ বলে ৭টি চার মেরে ইনিংসটি সাজান তিনি। জুবাইর হামজা করেন ৩১ রান। শেষ দিকে ইমরান মানাকের ৫৩ বলে ৪৩ রানের ইনিংস দলকে ১৮০ পেরোতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ হোসেন। ১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। আলিস আল ইসলামও দুর্দান্ত বোলিং করে ১০ ওভারে ৩৫ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুশফিক হাসান ও সাইফ হাসান নেন একটি করে উইকেট।
১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম মিলে গড়ে দেন বড় জয়ের ভিত। সাইফ ৫৩ বলে ৬১ রান করেন, যাতে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। নাঈম ৭৭ বলে ৬০ রানের ইনিংসে মারেন ৬টি চার ও একটি ছক্কা।
তাদের বিদায়ের পর পারভেজ হোসেন ইমন ১৭ বলে ১৬ এবং নুরুল হাসান ২২ বলে ১৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত রিশাদ হোসেন ১৪ বলে ৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৩৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান করে বাংলাদেশ, হাতে থাকে ১৭ ওভার।
এমএমআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাসে থাকা চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাতজন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নিয়াজ মোর্শেদ (২২), তাঁর ছোট বোন মিমতাহ (১৭)। তাঁদের মামা মো. ফেরদৌস আলম (৫৫) ও মাইক্রোবাসের চালক মো. মুন্না। তাঁরা সবাই কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা।নিহত ফেরদৌস আলমের আত্মীয় মো. ওমর ফারুক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মিমতাহর বড় বোনের বিয়ে হয়। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসে করে তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন কক্সবাজারের ঈদগাহ এলাকায় ফিরছিলেন। এ সময় পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ জানায়, শিকলবাহা এলাকা অতিক্রমের সময় একটি কাভার্ড ভ্যান ইউটার্ন নিতে গিয়ে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে ফেরদৌস আলম ও মিমতাহ নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর অপর দুজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে কাভার্ড ভ্যানটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও পাল্টে গেছে খুলনার বাজারের চিত্র। ফের একদফা বেড়েছে সবজির দাম। মাছের দাম রয়েছে পূর্বের ন্যায় আর মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা। ডিমের দামও হালি প্রতি ২-৩ টাকা বেড়ে ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর এবং গল্লামারি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বাজারে কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পাকা মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহেও কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা কেজি দাম কম ছিলো। অন্যদিকে, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং রসুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচকলা ২০-৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে রুই-কাতল আকার ও মানভেদে ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, গুঁড়ো মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। আর চাষের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৬০০-৭০০ টাকা, আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট ইলিশ, চিংড়ি, বাইন মাছ, দেশি কই কিংবা নদীর বেলে মাছের মতো মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে এক হাজার টাকারও বেশি। গলদা আর বাগদা চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ৫-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। আর গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। গল্লামারি বাজারের মাছ বিক্রেতা এমদাদ শেখ বলেন, খুলনার মাছ দেশের সব জায়গায় যায়। অন্যান্য জায়গায় মাছের দাম অনেক। সেখানে খুলনার বাজারে মাছের দাম তুলনামূলক কম আছে। চাষের মাছের দাম একটু বেশী। চিংড়ি মাছের দাম আমদানি কম থাকায় একটু বেশী। পরিবহন খরচ আর দ্রব্য মূল্যের বাড়তি দামের কারণে মূলত মাছের দাম বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা খবির মিয়া বলেন, এবারের মৌসুমে অনাবৃষ্টির কারণে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। মাঝে দাম অনেকটা কমেছিলো। তবে এ সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম, কুমড়া আর পেঁপে জাতীয় সবজির দাম অনেকটা কমেছে। তবে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম আরও কমে যাবে। বাজারে আসা ক্রেতা এস এম শামীম আহমেদ বলেন, বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু মাছের দামে কোনো সামঞ্জস্যতা নেই। আর সবজির দাম বাড়ে কমে। এক সপ্তাহ দাম কম থাকলে পরের সপ্তাহে দাম হয় দ্বিগুণ। ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৮ টাকা হালি। যা কিছুদিন আগেও ৪০-৪২ টাকা ছিলো। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন। বাজারে আসা অন্য এক ক্রেতা অয়ন হালদার বলেন, আমি যশোরে চাকরি করি। খুলনায় ছুটিতে এসে বাজারে আসলাম। খুলনার বাজারে যশোরের থেকে মাছ ও সবজির দাম ৩০-৪০ টাকা কম বেশী মনে হলো। তবে খুলনার বাজারে টাটকা মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু দাম অনেক বেশী মনে হলো। আরিফুর রহমান/এসজেডএইচ/জেআইএম
আজ রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বাংলা, ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো- নামাজের সময়সূচি ফজর- ৪:২৯ মিনিট। জোহর- ১১:৫৮ মিনিট। আসর- ৪:২১ মিনিট। মাগরিব- ৬:০৮ মিনিট। ইশা- ৭:২৩ মিনিট। আজ সূর্যাস্ত- ৬:০৪ মিনিট। আজ সূর্যোদয়- ৫:৪৩ মিনিট। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফজর- ৪:২৯ মিনিট। সূর্যোদয়- ৫:৪৪ মিনিট। বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তা হলো- বিয়োগ করতে হবে- চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট। সিলেট: -০৬ মিনিট। যোগ করতে হবে- খুলনা: +০৩ মিনিট। রাজশাহী: +০৭ মিনিট। রংপুর: +০৮ মিনিট। বরিশাল: +০১ মিনিট। (সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন) কোন ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ ফরজ, কত রাকাত সুন্নত? প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্তে মোট ১৭ রাকাত নামাজ ফরজ, ১২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা (যা নবীজি (সা.) নিয়মিত পড়তেন)। এ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্তে কিছু সুন্নতে যায়েদা (যা নবীজি (সা.) মাঝে মাঝে পড়তেন) নামাজও রয়েছে। আর ইশার পর সুবহে সাদিকের আগে ৩ রাকাত বেতরের নামাজ ওয়াজিব। ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ আদায় করা অপরিহার্য, ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। কখনও অনিচ্ছায় ছুটে গেলে পরে কাজা করে নিতে হবে। সুন্নতে মুআক্কাদা ও যায়েদা নামাজ আদায় করলে সওয়াব হবে, আদায় না করলে গুনাহ হবে না। এখানে আমরা পাঁচ ওয়াক্তে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের রাকাতসংখ্যা উল্লেখ করছি: ফজর ফজরের ফরজ নামাজ ২ রাকাত। ফরজের আগে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। জোহর জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত ও পরে ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আসর আসরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা। মাগরিব মাগরিবের ফরজ নামাজ ৩ রাকাত। ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ইশা ইশার ফরজ নামাজ ৪ রাকাত। ফরজের আগে ৪ রাকাত নামাজ সুন্নতে যায়েদা, ফরজের পর ২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুআক্কাদা। ইশার ফরজের ও সুন্নতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ৩ রাকাত বেতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ইসলামে ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় ফরজ ঘোষণা করে বলেন, নামাজ মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরজ। (সুরা নিসা: ১০৩) ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়াকে হাদিসে কুফুরি গণ্য করা হয়েছে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাদের ও কাফেরদের মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল, সে কুফুরি করল। (সুনানে তিরমিজি: ২১১৩) নবীজি (সা.) আরও বলেন, বান্দা আর শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ১৪৮) কেয়ামতের দিন নামাজের হিসাবই সবচেয়ে আগে নেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সবচেয়ে আগে তার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। সেটি যদি যথাযথ পাওয়া যায়, তবে সে সফল হয়ে গেলো এবং মুক্তি পেয়ে গেলো। আর যদি তাতে ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। (সহিহ জামে সগির: ২০২০) ওএফএফ