মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ব্যস্ততম শিমুলিয়া ঘাটে খাবার হোটেলে হামলা চালিয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের একদল লোক। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো হামলায় ছয়টি রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড দোকানে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হোটেল ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও পর্যটকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়া শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে, লৌহজং থানা, পদ্মা সেতু উত্তর থানা, শ্রীনগর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিমুলিয়া ঘাটের দাদা ভাই ফাস্টফুড অ্যান্ড জুস বারে কয়েকজন বেদে সম্প্রদায়ের লোক জুসের অর্ডার দেন। জুস দিতে কিছুটা দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
তবে এর প্রায় এক ঘণ্টা পর একটি দল রামদা, চাপাতি, লাঠিসোঁটা ও লোহার রডসহ শিমুলিয়া ঘাটের কয়েকটি খাবারের দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা ছয়টি রেস্তোরাঁয় ঢুকে চেয়ার-টেবিল, কাচের সামগ্রী, ফ্রিজ, অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
অতর্কিত এ হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, হঠাৎ হামলায় ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন হামলায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় ঘাট এলাকায় পর্যটক, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভ ঘোষ/এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সার্ভার রুমে আগুন। পরদিন উত্তরার সেন্টার পয়েন্টের ফুডকোর্টের রান্নাঘরে আগুন। এরপর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্স শোরুমে অগ্নিকাণ্ড। একই দিনে মহাখালীর BAT-এর একটি ভবনে গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর। স্থান, স্থাপনা, কার্যক্রম ও ঝুঁকির ধরন ভিন্ন হলেও ঘটনাগুলোর বার্তা এক—আমাদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও গভীর বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এই আগুনগুলো কি নিছক কাকতালীয় দুর্ঘটনা? নাকি এগুলো আমাদের প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, তদারকি ও জবাবদিহির দুর্বলতার প্রকাশ? প্রতিটি ঘটনার কারণ পৃথক ও নিরপেক্ষ তদন্তে নির্ধারিত হতে হবে। তদন্তের আগে কোনো ঘটনাকে ‘শর্টসার্কিট’, ‘নাশকতা’ বা ‘মানবিক ভুল’ বলে চূড়ান্ত করা উচিত নয়। তবে একজন অগ্নিনিরাপত্তা পেশাজীবীর দৃষ্টিতে ঘটনাগুলো এমন কিছু মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। রূপপুর: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি ছোট আগুনও বড় সতর্কবার্তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একটি সার্ভার রুমে আগুনে কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা কেবল দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কারিগরি তদন্তেই নির্ধারণ করা সম্ভব। তারপরও ঘটনাটি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চনিরাপত্তাসম্পন্ন স্থাপনায় সার্ভার রুম শুধু কয়েকটি কম্পিউটার রাখার জায়গা নয়। এটি তথ্য, যোগাযোগ, নথি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এমন কক্ষে সাধারণ স্মোক ডিটেক্টরের পাশাপাশি Very Early Smoke Detection, স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম, উপযুক্ত ক্লিন-এজেন্ট নির্বাপণব্যবস্থা, অগ্নিরোধী কেবল, জরুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ, ফায়ার-রেটেড বিভাজন এবং নিরাপদ দূরবর্তী ডেটা ব্যাকআপ থাকা প্রয়োজন। কাছাকাছি ফায়ার স্টেশন এবং স্থাপনার নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার পরও যদি আগুন একটি সার্ভার রুমে ব্যাপক ক্ষতি করে, তবে প্রশ্ন উঠবেই—আগুন শনাক্ত হতে কত সময় লেগেছে? অ্যালার্ম কি যথাসময়ে বেজেছিল? সংকেত পাওয়ার পর কে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? স্বয়ংক্রিয় নির্বাপণব্যবস্থা ছিল কি এবং থাকলে তা কাজ করেছে কি? কক্ষের অগ্নিরোধী দরজা বন্ধ ছিল কি? কেবল ট্রে বা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে আগুন ও ধোঁয়া অন্য অংশে ছড়িয়েছে কি? জরুরি দল কত মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল? ঘটনাটি দুর্ঘটনা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অবহেলা, নাকি উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ড—তা অনুমান দিয়ে নয়, ফরেনসিক প্রমাণ দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ রেকর্ড, ফায়ার অ্যালার্ম লগ, বৈদ্যুতিক ডেটা, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ও যন্ত্রাংশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার তদন্ত হতে হবে স্বাধীন, বহুবিষয়ক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। রূপপুরের ঘটনা আমাদের পুরোনো একটি সামরিক সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়—শুধু অত্যাধুনিক বন্দুক থাকলেই প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয় না; বন্দুকের পেছনে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত, সতর্ক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সিদ্ধান্তক্ষম মানুষ। অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সরঞ্জামের পেছনে সেই মানুষটি কোথায়—এ প্রশ্ন এখন জরুরি। সেন্টার পয়েন্ট: নতুন ভবন মানেই নিরাপদ ভবন নয় উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট একটি তুলনামূলক নতুন বাণিজ্যিক স্থাপনা। সেখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ডিটেকশন ও অ্যালার্ম, স্প্রিংকলার এবং হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা থাকার কথা। তারপরও ফুডকোর্টের রান্নাঘরে শুরু হওয়া আগুন যদি নিজস্ব ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে এসে তা নেভাতে হয়, তবে ভবনের সামগ্রিক অগ্নিনিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কমার্শিয়াল রান্নাঘর একটি বিশেষ অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ স্থান। এখানে খোলা শিখা, উচ্চ তাপমাত্রা, রান্নার তেল, এলপিজি বা গ্যাসলাইন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং হুড-ডাক্টে জমে থাকা চর্বি একই সঙ্গে উপস্থিত থাকে। সাধারণ ABC অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সব ধরনের রান্নার তেলের আগুনে কার্যকর বা নিরাপদ নয়। এ ধরনের রান্নাঘরে উপযুক্ত Wet Chemical বা Class-K নির্বাপণব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কিচেন হুড সাপ্রেশন, গ্যাস শাট-অফ ইন্টারলক, জরুরি বৈদ্যুতিক বিচ্ছিন্নকরণ এবং নিয়মিত হুড-ডাক্ট পরিষ্কার অপরিহার্য। প্রতিটি ফুড আউটলেটের কর্মীদের জানতে হবে—আগুন দেখলে কে অ্যালার্ম দেবে, কে গ্যাস বন্ধ করবে, কে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করবে, কে উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করবে এবং কে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেবে। পৃথক দোকান, ফ্লোর ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মধ্যে সমন্বিত Incident Command না থাকলে আধুনিক ভবনও কয়েক মিনিটে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। স্প্রিংকলার হেড দেখা গেলেই ধরে নেওয়া যায় না যে ব্যবস্থা সচল। পানির রিজার্ভ পর্যাপ্ত কি না, পাম্প Auto Mode-এ আছে কি না, কন্ট্রোল ভালভ খোলা আছে কি না, প্রয়োজনীয় চাপ পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং সর্বশেষ কবে Flow Test হয়েছে—এসবই কার্যকারিতার অংশ। নতুন ভবন নিরাপদ ভবনের সমার্থক নয়; পরীক্ষিত, রক্ষণাবেক্ষিত এবং দক্ষ জনবল দ্বারা পরিচালিত ভবনই নিরাপদ। এপেক্স শোরুম: একটি DB বোর্ড থেকে কত বড় আগুন হতে পারে? ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের এপেক্স শোরুমে আগুনের ঘটনা আবারও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক ও স্টোরেজ নিরাপত্তাকে সামনে এনেছে। প্রাথমিকভাবে DB বোর্ড বা বৈদ্যুতিক উৎসের কথা আলোচিত হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল এবং কারণ তদন্তে নিশ্চিত করতে হবে। একটি Distribution Board-এ আগুনের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ঢিলা টার্মিনাল, অতিরিক্ত লোড, ভুল রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার, অসম লোড বণ্টন, নিম্নমানের কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত ইনসুলেশন, ধুলা-আর্দ্রতা, অতিরিক্ত তাপ অথবা বৈদ্যুতিক আর্কিং। জুতার দোকান বা গুদামে কার্টন, ফোম, রাবার, সিনথেটিক উপাদান, আঠা ও প্লাস্টিক থাকায় ছোট আগুন দ্রুত উচ্চ তাপ এবং ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে শুধু কর্মীদের দায়ী করলেই হবে না। দেখতে হবে—তাঁরা বাস্তব প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কি না; সঠিক ধরনের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল কি না; যন্ত্রে পর্যাপ্ত চাপ ছিল কি না; নিরাপত্তা সিল ও মেয়াদ ঠিক ছিল কি না; বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করা হয়েছিল কি না; এবং আগুন শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম তিন মিনিটে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেয়ালে ঝোলানো অলংকার নয়। প্রশিক্ষণ ছাড়া আতঙ্কিত একজন কর্মীর হাতে এটি প্রায় অকার্যকর হয়ে যায়। আবার প্রশিক্ষিত কর্মীকেও বড় বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের সামনে ঠেলে দেওয়া যাবে না। তাঁর প্রথম দায়িত্ব হবে অ্যালার্ম দেওয়া, মানুষকে সতর্ক করা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা এবং নিরাপদ পলায়নপথ নিশ্চিত করা। মহাখালীর BAT-এর: গ্যাস কাটার মানেই নিয়ন্ত্রিত ‘হট-ওয়ার্ক’ মহাখালীর BAT-এর ভবনে গ্যাস কাটার দিয়ে রড কাটার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকলে তা একটি গুরুতর Hot Work Management Failure-এর ইঙ্গিত দেয়। গ্যাস কাটিং, ওয়েল্ডিং বা গ্রাইন্ডিংয়ের স্ফুলিঙ্গ অনেক দূরে ছড়িয়ে লুকানো দাহ্য পদার্থ, পরিত্যক্ত আসবাব, ফোম, তারের ইনসুলেশন বা ধুলায় আগুন ধরাতে পারে। স্ফুলিঙ্গ সরু ফাঁক দিয়ে নিচের তলা বা অদৃশ্য স্থানে পৌঁছে ধীরে ধীরে আগুন সৃষ্টি করতে পারে। Hot Work কখনো মৌখিক অনুমতিতে করা উচিত নয়। লিখিত Hot Work Permit, কাজের স্থান পরিদর্শন, দাহ্য পদার্থ অপসারণ, ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেট, গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ অবস্থান, উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত Fire Watch থাকতে হবে। কাজ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ভবন সংস্কারাধীন, পরিত্যক্ত বা ভাঙার অপেক্ষায় থাকলেও অগ্নিনিরাপত্তার দায়িত্ব বাতিল হয় না। ‘শর্টসার্কিট’ কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত-ফল নয় বাংলাদেশে আগুনের পর খুব দ্রুত বলা হয়—‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত’। কিন্তু শর্টসার্কিট বা আর্কিং কেন ঘটল, সেটিই প্রকৃত তদন্তের বিষয়। দায় এড়ানোর সুবিধাজনক শব্দ হিসেবে ‘শর্টসার্কিট’ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আর্থিং: কার্যকর Earthing বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারেন্টকে নিরাপদ পথে মাটিতে পাঠায় এবং সুরক্ষা যন্ত্রকে দ্রুত ট্রিপ করতে সহায়তা করে। শুধু আর্থিং রড বসালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; Earth Resistance এবং Continuity নিয়মিত পরীক্ষা ও নথিভুক্ত করতে হবে। LPS: Lightning Protection System বা বজ্রনিরোধব্যবস্থায় এয়ার টার্মিনাল, ডাউন কন্ডাক্টর, আর্থ-টার্মিনেশন ও ইকুইপোটেনশিয়াল বন্ডিং সমন্বিতভাবে থাকতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে একটি বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নয়। কেবল ও ইনসুলেশন: অনুমোদিত লোড অনুযায়ী সঠিক আকারের মানসম্মত কেবল ব্যবহার করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর Insulation Resistance Test, টার্মিনাল টাইটনেস পরীক্ষা এবং থার্মাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে অস্বাভাবিক উত্তপ্ত সংযোগ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। জরুরি সার্কিটে ঝুঁকি অনুযায়ী অগ্নিসহনশীল ও কম ধোঁয়া উৎপাদনকারী কেবল ব্যবহার করা উচিত। SPD: বজ্রপাত বা বৈদ্যুতিক সুইচিং থেকে সৃষ্ট ক্ষণস্থায়ী অতিরিক্ত ভোল্টেজ সার্ভার, ফায়ার অ্যালার্ম, সিসিটিভি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নষ্ট করতে পারে। Surge Protective Device বা SPD এসব সংবেদনশীল সরঞ্জামকে সুরক্ষা দেয়। LPS ও SPD পরস্পরের বিকল্প নয়; সমন্বিত নকশায় উভয়ই প্রয়োজন। AFCI/AFDD: সাধারণ MCB অতিরিক্ত কারেন্ট বা শর্টসার্কিটে ট্রিপ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত তার, ঢিলা সংযোগ বা ভাঙা ইনসুলেশন থেকে সৃষ্ট সব বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক আর্ক শনাক্ত করতে পারে না। Arc-Fault Circuit Interrupter বা Arc-Fault Detection Device আগুন সৃষ্টির আগেই এমন আর্ক শনাক্ত করে সার্কিট বিচ্ছিন্ন করতে পারে। এর সঙ্গে RCCB/RCBO, সঠিক সার্কিট ব্রেকার সমন্বয়, হালনাগাদ Single Line Diagram, লোড ব্যালান্সিং এবং অনুমোদিত প্রকৌশলীর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক বৈদ্যুতিক অডিট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতীয় কর্তৃপক্ষের এখনই যা করা প্রয়োজন প্রথমত, আলোচিত চারটি অগ্নিকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু আগুনের উৎস নয়—Detection, Alarm, Containment, Suppression, Evacuation এবং Human Response-এর কোন স্তর কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান জনস্বার্থে প্রকাশও করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, হাসপাতাল, শপিংমল, ফুডকোর্ট, শিল্পকারখানা, ডেটা সেন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার জন্য ঝুঁকিভিত্তিক ফায়ার সেফটি অডিট চালু করতে হবে। কাগজপত্র দেখে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিবর্তে সরঞ্জামের বাস্তব কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতি শিফটে প্রশিক্ষিত Emergency Response Team, ফায়ার ওয়ার্ডেন এবং স্পষ্ট Incident Command কাঠামো থাকতে হবে। বছরে অন্তত দুইবার পরিস্থিতিভিত্তিক মহড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আকস্মিক No-Notice Drill আয়োজন করা উচিত। চতুর্থত, ফায়ার অ্যালার্ম, পাম্প, স্প্রিংকলার, হাইড্র্যান্ট, ফায়ার ডোর, জরুরি আলো ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের Inspection, Testing and Maintenance-এর ডিজিটাল রেকর্ড রাখতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবস্থা বন্ধ রাখা বা পরীক্ষার ভুয়া তথ্য দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পঞ্চমত, বড় অগ্নিকাণ্ডের পর একটি জাতীয় Lessons Learned Bulletin প্রকাশ করা উচিত, যাতে অন্য প্রতিষ্ঠান একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে। তদন্ত প্রতিবেদন ফাইলে বন্দী থাকলে মৃত মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—কেউ সেই তদন্ত থেকে উপকৃত হয় না। এই চারটি আগুন অনেক কথা বলছে। এগুলো বলছে—কোথাও প্রযুক্তি আছে, কিন্তু পরীক্ষা নেই; সরঞ্জাম আছে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ নেই; প্রশিক্ষণের সনদ আছে, কিন্তু বাস্তব দক্ষতা নেই; পরিকল্পনা আছে, কিন্তু নেতৃত্ব ও মহড়া নেই। ফায়ার সার্ভিস জাতীয় জরুরি প্রতিক্রিয়ার শেষ শক্তিশালী স্তম্ভ। কিন্তু আগুন লাগার পর প্রথম তিন থেকে পাঁচ মিনিট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দায়িত্ব। সেই মূল্যবান সময় হারিয়ে গেলে দূরের বা কাছের ফায়ার স্টেশন—কোনোটিই তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। রাষ্ট্রের কাছে আবেদন—প্রতিটি বড় আগুনের পর শোক, পরিদর্শন ও তদন্ত কমিটির পরিচিত চক্র থেকে বেরিয়ে আসুন। অগ্নিনিরাপত্তাকে ভবনের ছাড়পত্র নয়, জাতীয় জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করুন। অগ্নিনিরাপত্তা কোনো দেয়ালে ঝোলানো সনদ, লাল রঙের সিলিন্ডার কিংবা ব্যয়বহুল যন্ত্রের নাম নয়। এটি নিরাপদ প্রকৌশল, কার্যকর প্রযুক্তি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষিত মানুষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং কঠোর জবাবদিহির একটি জীবন্ত সংস্কৃতি। আগুনের চারটি সতর্কবার্তা আমরা পেয়েছি—এখন প্রশ্ন, রাষ্ট্র কি পঞ্চমটির জন্য অপেক্ষা করবে? লেখক : ফায়ার, ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ; সাবেক পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। এইচআর/জেআইএম
ইন্টার মায়ামি ২ : ২ ন্যাশভিললিওনেল মেসি তাঁর কাজটা আজও করলেন। ইন্টার মায়ামি যে দুটি গোল করেছে, দুটোতেই তাঁর অবদান। তিনি নিজে একটি গোল করেছেন, সেটিও ছিল নজরকাড়া। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কী! এরপরও ইন্টার মায়ামি আজও জয় পেল না। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে মায়ামির নু স্টেডিয়ামে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল ন্যাশভিলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছেন মেসিরা।ম্যাচের ৬২ মিনিটে মেসি গোলটি করেছেন রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে। মেসির এই গোল মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। কিন্তু যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিট) গোল করে ন্যাশভিলকে সমতায় ফেরান ইংলিশ স্ট্রাইকার স্যাম সারিজ। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ন্যাশভিলের বিপক্ষে মেসির গোল এখন ১৭টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ।বাংলাদেশ সময় আজ সকালে হওয়া ম্যাচে অবশ্য মেসির আরও গোল পাওয়ার সুযোগ ছিল। ৫০ মিনিটে তাঁর একটি শট ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে। ৭৮ মিনিটে আরেকটি শট লাগে পোস্টে। আর ম্যাচের শেষ দিকে মেসির একটি শট ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস মাথা দিয়ে ক্লিয়ার করেন। এরপরই সারিজের গোলে সমতায় ফেরে ন্যাশভিল। এ ছাড়া মেসি দ্বিতীয়ার্ধে সহজ সুযোগও নষ্ট করেছেন।Messi. Left foot. 20 yards out. Miami takes the lead on Nashville! pic.twitter.com/DuBJI7gxOz— Major League Soccer (@MLS) September 13, 2026 ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। চতুর্থ মিনিটে অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে গোল করেন সারিজ। মায়ামি সমতায় ফেরে ম্যাচের ১৯ মিনিটে, সেখানেও ভূমিকা ছিল মেসির। মায়ামির অধিনায়ক মেসির নেওয়া বাঁকানো কর্নার কিক ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার রিড বেকার হোয়াইটিংয়ের মাথায় লাগে। তাতে বলটি দিক পরিবর্তন করে নিজেদের জালে জড়ায়।অ্যানফিল্ড লিভারপুলের ঘরের মাঠ, না পরের মাঠএবারের এমএলএস মৌসুমে ঘরের মাঠে এগিয়ে থেকেও ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে মায়ামি। এই তালিকায় তাদের ওপরে আছে শুধু নিউইয়র্ক সিটি ও মন্ট্রিয়েল। লিড ধরে রাখতে না পারাই মেসিদের সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে।মেসির গোলের পর তাঁকে ঘিরে উদ্যাপনইস্টার্ন কনফারেন্সে ন্যাশভিলের সঙ্গে এখনো তাদের পয়েন্টের পার্থক্য ৯, হাতে ম্যাচ আছে ৯টি। এই মৌসুমে ন্যাশভিলের বিপক্ষে চার ম্যাচ খেলেও একটিতেও জিততে পারেনি মায়ামি। মৌসুমের শুরুতে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ থেকেও মায়ামিকে বিদায় করেছিল ন্যাশভিল।হ্যাটট্রিকের ‘মাস্তানি’তে মেসির রেকর্ড মাস্তানতুয়োনোর