মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গতকাল শনিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সি চিন পিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের পরিপন্থী। তাই শান্তি ফেরাতে চীন ব্রিকসের অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। পরে এতে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জোটটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের দখলে।
সি চিন পিং ব্রিকসকে ‘গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বদানকারী জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আত্মনির্ভরতার মডেল হিসেবে কাজ করার জন্যও তিনি জোটটির প্রশংসা করেন।
সি বলেন, ব্রিকসের উচিত উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া। আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেবে এবং ১৯তম ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করবে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন সি চিন পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সি বলেন, ভারত–চীন সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাঁর দেশ। চীন ও ভারত একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিন্ন উন্নয়ন অর্জন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ সাত বছর পর সি চিন পিংয়ের নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তাঁদের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হয়। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ২০২০ সালে সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার জনপ্রিয়তা একসময় ছিল তুঙ্গে। আজকাল কম দেখা গেলেও সম্প্রতি ইন্সটাগ্রামে পর পর ৩টি গ্ল্যাম লুক শেয়ার করেছেন তিনি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম
বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেডে ৩৫ ক্যাটাগরির পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। মোট পদসংখ্যা ৮৬। আবেদনের শেষ তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬।চাকরির বিবরণ১. পদের নাম: সহকারী প্রকৌশলী (নৌ–স্থপতি), পিঅ্যান্ডডি বিভাগপদসংখ্যা: ২২. পদের নাম: সহকারী প্রকৌশলী (নৌ–স্থপতি), পিঅ্যান্ডডি বিভাগ, কিউসি সেলপদসংখ্যা: ১৩. পদের নাম: সহকারী প্রকৌশলী (নৌ–স্থপতি), উৎপাদন বিভাগপদসংখ্যা: ২ ৪. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী, শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ২৫. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী, আউটফিটিং শপপদসংখ্যা: ২৬. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী, আইসিই শপপদসংখ্যা: ১৭. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী, ইলেকট্রিক্যাল শপপদসংখ্যা: ১৮. পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী, মেশিন শপপদসংখ্যা: ১দায়িত্বে নতুন পিএসসি প্রধান, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ৯. পদের নাম: সুপারভাইজার, শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ১১০. পদের নাম: সুপারভাইজার, পেইন্ট শপপদসংখ্যা: ১১১. পদের নাম: সুপারভাইজার, আউটফিটিং শপপদসংখ্যা: ২১২. পদের নাম: সুপারভাইজার, ইলেকট্রিক্যাল শপপদসংখ্যা: ১১৩. পদের নাম: হিসাব সহকারী, অর্থ বিভাগপদসংখ্যা: ১১৪. পদের নাম: নিম্নমান করণিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (এলডিসি), পিঅ্যান্ডডি বিভাগপদসংখ্যা: ১১৫. পদের নাম: নিম্নমান করণিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (এলডিসি), এইচআর সেকশনপদসংখ্যা: ১১৬. পদের নাম: নিম্নমান করণিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (এলডিসি), প্রধান ভান্ডারপদসংখ্যা: ১১৭. পদের নাম: ক্রেন ড্রাইভার, ডকিং সেকশনপদসংখ্যা: ১১৮. পদের নাম: মেইলম্যান, এমডি অফিসপদসংখ্যা: ১১৯. পদের নাম: যানবাহন চালক, এমটি সেকশনপদসংখ্যা: ৫২০. পদের নাম: কুক, পারসোনেল সেকশনপদসংখ্যা: ৫বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ ২১. পদের নাম: নিরাপত্তাপ্রহরী, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সেকশনপদসংখ্যা: ২২২. পদের নাম: পিয়ন, পিঅ্যান্ডডি বিভাগপদসংখ্যা: ১২৩. পদের নাম: শ্রমিক (ফিটার), শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ৭২৪. পদের নাম: শ্রমিক (আর্ক ওয়েল্ডার), শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ৪২৫. পদের নাম: শ্রমিক (মিগ ওয়েল্ডার), শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ৩২৬. পদের নাম: শ্রমিক (সিএনসি মেশিন অপারেটর), শিপবিল্ডিং শপপদসংখ্যা: ২২৭. পদের নাম: শ্রমিক (ওয়েল্ডার), আউটফিটিং শপপদসংখ্যা: ৬২৮. পদের নাম: শ্রমিক (ফিটার), আউটফিটিং শপপদসংখ্যা: ৪২৯. পদের নাম: শ্রমিক (ইলেকট্রিশিয়ান), ইলেকট্রিক্যাল শপপদসংখ্যা: ২৩০. পদের নাম: শ্রমিক (এসি টেকনিশিয়ান) এইচভিএসি/ফ্রিজ শপপদসংখ্যা: ২৩১. পদের নাম: শ্রমিক (সহকারী কার্পেন্টার), কার্পেন্ট্রি শপপদসংখ্যা: ৭৩২. পদের নাম: শ্রমিক (সহকারী ল্যাগিংম্যান), কার্পেন্ট্রি শপপদসংখ্যা: ৩৩৩. পদের নাম: শ্রমিক (ডিজেল ফিটার), আইসিই শপপদসংখ্যা: ২যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ৩৪. পদের নাম: শ্রমিক (পেইন্টার), পেইন্ট শপপদসংখ্যা: ৯৩৫. পদের নাম: শ্রমিক (মেশিন অপারেটর), মেশিন শপপদসংখ্যা: ২নিয়োগের ধরন১ থেকে ২২ নম্বর পদ: চুক্তিভিত্তিক২৩ থেকে ৩৫ নম্বর পদ: দৈনিক মজুরিভিত্তিক বেতন-ভাতাচুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে অন্যান্য ভাতাদি ও বোনাস প্রদান করা হবে। দৈনিকভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে দৈনিক বেতন/ মজুরি ও ডিইডব্লিউ লি. এর নিজস্ব বেতন কাঠামো, নিয়োগ নীতিমালা বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রচলিত নিয়মানুযায়ী বোনাস (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রদান করা হবে।আবেদনের নিয়মপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লি., বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সোনাকান্দা, বন্দর-১৪১০, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ’ বরাবর প্রেরণ করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬চাকরির বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।
অনেকে সবাই মনে করেন ট্রেডমিলে দৌড়ালে ওজন কমে। তাই জিমে গিয়ে অনেকেই কোন কিছু না করে প্রথমেই ট্রেডমিলে উঠে হাঁটতে শুরু করে দেন। আসলে এটা ঠিক নয়। বরং এই ধারণা একেবারেই ভুল। তার চেয়ে হাঁটা অনেক উপকার।ট্রেডমিল একটা যন্ত্র ছাড়া তো আর কিছু নয়; এর গতি গতানুগতিক। নির্দিষ্ট ছন্দ আর ছকের বাইরে তো আর হাঁটা যাবে না। এর থেকে বরং পথে থাকে বৈচিত্র্য। সব পথও আবার এক রকম নয়। এমনকি দিনের বিভিন্ন সময় বদলে যায় এর রূপ। প্রকৃতিও যোগ করে নানা কিছু। ফলে পায়ের পেশি এ ক্ষেত্রে কাজ করে বেশি। তাই ক্যালরিও বেশি ক্ষয় হয়।ট্রেডমিলে হাঁটার চেয়ে বাইরে হাঁটা ভালস্বাস্থ্যসচেতন মানুষ মাত্রই যান জিমে বা শরীরচর্চা করেন বাড়িতে। অনেকে আবার নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। তবে ট্রেডমিল নয়, বরং বাইরে হাঁটলে ওজন কমে দ্রুত। শুধু তা–ই নয়, এতে অবসাদ দূর হয় এবং মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য বাইরে নিয়মিত হাঁটা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।আপনি ওজন কমাতে চাইলে নিঃসন্দেহে বাইরে হাঁটাহাঁটি দারুণ এক কার্যকর উপায় হতে পারে। অনেকেই আছেন যাঁরা আবার ট্রেডমিলে হাঁটতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। অথচ এর চেয়ে বাইরে হাঁটলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়।জিমে ট্রেডমিল ব্যবহারের সময় আপনি টিভি দেখতে পারেন, ভেতরে পরিবেশ শীতল থাকে, আপনি গান শোনেন, পাশের কারও সঙ্গে কথা বলেন। অর্থাৎ একই সময়ে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে ট্রেডমিলে। এ জন্য আপনার মস্তিষ্ককে অনেকগুলো কাজ একসঙ্গে করার সংকেত দেয়, যা আপনার মনোযোগকে বিচ্ছিন্ন করে। আপনি ট্রেডমিলে কোনো হিট ট্রেনিং (হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং) করলে অনেক কিছু একসঙ্গে করা যাবে না। অন্যদিকে আপনি বাইরে হাঁটলে আপনাকে মনোযোগী থাকতে হবে। কারণ, উঁচু–নিচু রাস্তা দেখতে হবে, গান শুনলেও তা আপনার হাঁটার পথে ছন্দ আনবে। আর এ সময় ডোপামিন–জাতীয় হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হওয়ায় ওজনও দ্রুত কমবে।এ ছাড়া বাইরে হাঁটলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, আপনি বাইরে হাঁটলে ট্রেডমিলে হাঁটার চেয়ে বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হবেন। ট্রেডমিলে সমান্তরাল ট্র্যাকে হাঁটতে হয় অথচ পথ থাকে উঁচু–নিচু। এতে পায়ের পেশি থাকে অনেক বেশি কার্যকর। উঁচুতে বা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে পায়ের পেশিতে বেশি চাপ পড়ে, যা পেশি গঠনে খুবই কার্যকর। এতে হৃৎস্পন্দন বাড়ে, ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, যা খুবই ইতিবাচক। ফলে ক্যালরি বেশি ক্ষয় হয়।হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় কোনো সবুজ উদ্যানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে হাঁটাহাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় কোনো সবুজ উদ্যানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে হাঁটা। আশপাশের মানুষের কোলাহল, পাখির কলতান—সব মিলিয়ে ইতিবাচক শক্তি পাওয়া যাবে। হাঁটার সময় সূর্যের আলো পড়ে, যা ভিটামিন ডির উৎস; ভিটামিন ডি আপনার আলসেমি দূর করে চাঙা রাখবে। এ ছাড়া সূর্যের আলোর মাধ্যমে দেহের মধ্যে ‘সারকাডিয়ান রিদম’ প্রবাহ ত্বরান্বিত হয়, যা আপনার রাতের ঘুমে সহায়তা করে। এ ছাড়া গরম, ঠান্ডা বা বৃষ্টিতে নানা ধরনের তাপমাত্রা ও পরিবেশের ভিন্নতার মধ্যে হাঁটলে আপনার মস্তিষ্ক সহনশীলতা পরীক্ষার সুযোগ পাবে, যা খুবই ইতিবাচক।কোনো কারণে মন অশান্ত থাকলে বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে, এমন কোনো সবুজ পার্কে ঘণ্টাখানেক হাঁটুন, দেখবেন ভালো লাগবে। মনে রাখতে হবে, শুধু শরীরচর্চা বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই ওজন কমে না, অবসাদে থাকলেও ওজন হ্রাসকে বাধাগ্রস্ত করে।পার্কে হাঁটতে গেলে চেষ্টা করুন মনোযোগ দিয়ে হাঁটতে। কত পদক্ষেপ হাঁটলেন, শ্বাসপ্রশ্বাস, স্মার্টওয়াচে হৃৎস্পন্দন, অক্সিজেন স্যাচুরেশন দেখুন, ১০ মিনিট হাঁটার পর দেখুন কতটা দূরত্ব আপনি পার করেছেন। সবুজ পার্কে ঘণ্টাখানেক হাঁটুন, দেখবেন ভালো লাগবেতারপর ১৫টি স্কোয়াট দিয়ে আবার হাঁটা শুরু করুন। ২০ মিনিট হাঁটার পর পার্কের বেঞ্চে স্ট্রেচ করতে পারেন। লাঞ্জেসের মতো ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারেন। এভাবে নিজের মতো করে হাঁটার সঙ্গে ব্যায়ামের একটা রুটিন বানিয়ে নিলে দ্রুত ভালো ফল পাবেন।লাইফস্টাইলে নিয়মিত চর্চা আপনাকে এনে দেয় ইতিবাচক ফল। তাই সুস্থ থাকতে ভালো অভ্যাসগুলোর চর্চা করুন। ভালো থাকুন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম ও পেকজেলসডটকম