ক্রিকেটের এক খুশবু আছে। কখনো কখনো এর খোসা ছাড়ানোর আগেই নাকে এসে লাগে। মানে অপেক্ষা করতে হয় না। দেখা যায়, টেস্টের প্রথম বল থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুগন্ধে নাক ভুরভুর করে, জাদুর কাজল লাগে চোখে। সেটি দর্শকের প্রশান্তি।
এজবাস্টন টেস্টে প্রথম দিনে রাজাউল্লাহ বোলিং হাতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেই প্রশান্তি ছিল না। অন্তত পাকিস্তানি ও নিরপেক্ষ দর্শকের জায়গা থেকে কথাটা বলাই যায়। প্রশান্তি নয়, সিরিজে শুরু থেকে জন্মেছিল অশান্তি। প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের নিঃশর্ত হারের একপেশে লড়াই, ৭ খেলোয়াড়কে দেশে পাঠানো, জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তের হুমকি মিলিয়ে ভারসাম্যহীন লড়াইয়ের ‘হরর শো’তে কালশিটে পড়েছিল চোখে।
কিন্তু ২১ বছরের ছেলেটি বোলিং শুরু করতেই ছড়িয়ে পড়ল খুশবু। ব্যাটিংয়ে নামতেই গ্যালারিতে চোখে চোখে জাদুর কাজল। সেই ‘কাজলে’র পুরো নাম রাজাউল্লাহ মাসওয়ানি। মাইকেল আথারটনের ভাষায় ‘রাজবল’।
এজবাস্টনে সেই ‘রাজবল’ দর্শকের চোখের কাজল হয়ে ওঠার পথে কী কী করেছেন, তা এতক্ষণে আপনার জানা। সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে চলুন এক জায়গা থেকে ঘুরে আসি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার আপার দির জেলার শহর নেহাগ দারা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ শহরেই জন্ম রাজাউল্লাহর। সেখান থেকে দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে যেতে হয় মারদানে। রাজাউল্লাহর পেটানো মুখ ও শরীরের মতোই রুক্ষ পাহাড়ি জায়গা; কিন্তু বিপুলা সম্ভারের, যেমনটা ছেলেটির প্রতিভা।
সেই প্রতিভার শিকড় প্যাঁচানো টেপ ও টেনিসে। বাংলাদেশেও অনেকের গল্পও তা–ই। আট ভাই–বোনের সংসারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেটা হয়, ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাবা ক্রিকেট খেলতে দেন না। বড় ভাইকে দেখে রাজাউল্লাহকেও সেই বারণের গরাদ ডিঙিয়ে টেপ টেনিস খেলতে হয় চুপিসারে; কিন্তু গায়ে ও কবজিতে জোর থাকলে টেপ টেনিসে নিজেকে বেশি দিন লুকিয়ে রাখা যায় না।
মারদানের আকমল খান ক্রিকেট একাডেমির প্রধান ও পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির সাবেক ক্রিকেটার আকমল খানের চোখে পড়েন। ক্রিকেট বলে দীক্ষাও নিতে শুরু করেন সেখানে। শেখার সে পথে ২০২৩ সালে নেমে পড়েন আন্তজেলা অনুর্ধ্ব–১৯ ক্রিকেটে। তারপর অ্যাবোটাবাদ আঞ্চলিক অনূর্ধ্ব–১৯ দলে। কৈশোরের সেই রাজাউল্লাহকে নিয়ে আকমল খানের স্মৃতিচারণা, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই সে দলের সেরা পারফরমারদের একজন ছিল।’
কুঁড়িতেই সুবাস ছড়ানোয় মারদান জেলা দলে জায়গা করে নিতে রাজাউল্লাহর সময় লাগেনি। তখন হাতের চোটে কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়; কিন্তু মারদান থেকে রাজাউল্লাহর এজবাস্টন পর্যন্ত গিয়ে ‘রাজবল’ হয়ে ওঠার পুরো গল্প শুনলে বুঝবেন, এই ছেলেকে আসলে কোনোকিছুই ঠেকিয়ে রাখতে পারত না। কথায় আছে না, কপালের লিখন না যায় খণ্ডন!
টেস্ট অভিষেকে রাজাউল্লাহর প্রথম বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৯ মাইল/১৪৩ কিমি। সিরিজে পাকিস্তানি কোনো পেসারের দ্রুততম ডেলিভারি।
ঘরোয়ায় সুনাম বাড়ছিল রাজাউল্লাহর। তাতে অ্যাবোটাবাদ ৩০ জনের দলে থাকলেও ফার্স্ট ক্লাসের জার্সিটা সেখানে তাঁর গায়ে ওঠেনি। ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নিয়তি।
পেশোয়ার আঞ্চলিক দলের কোচ রাফাতুল্লাহ অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদের দলে নেন তাঁকে। এজবাস্টনে তৃতীয় দিনে রাজাউল্লাহ ৯টি ছক্কা মারার যে যৌথ বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন, তার সুলুক সন্ধানে ফিরতে হয় এ দলের হয়েই ২০২৫–২৬ মৌসুমে কায়েদে–ই–আজম ট্রফির এক ম্যাচে। ঠিক তার আগের ম্যাচে পেশোয়ার অল্প রানে অলআউট হওয়ার পথে দশে নেমে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন রাজাউল্লাহ। পরের ম্যাচেই রাজাউল্লাহ ওপেনার এবং সেঞ্চুরি, আরেক ইনিংসে ফিফটি।
পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডিজের হয়ে গত মৌসুমে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (এনসিএ) অনুশীলনে রাজাউল্লাহর গতি মনে ধরে এইচপি পরিচালক আকিব জাভেদের। গত আগস্টে এনসিএতে পিসিবি আয়োজিত ১২ জনের বোলিং ক্যাম্পের ‘প্লেয়ার অব দ্য ক্যাম্প’ও হন রাজাউল্লাহ। তারপর ঠিক এখান থেকেই তাঁর জীবনটা পাল্টে গেল।
সেই পাল্টে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় পটভূমিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডে তখন পাকিস্তান দলের অবস্থা তথৈবচ। দলে ১৪০ কিমি গতিতে বোলিংয়ের পেসারও নেই। সেই দুর্বলতা আগেই ঢাকতে এই সিরিজের আগে পাকিস্তানের তৎকালীন কোচ সরফরাজ খান বলে দেন, তাঁর দেশে নাকি গতিময় পেসারের বেশ অভাব। বটে!
প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান যে সাত খেলোয়াড়কে দলে ডাকে, রাজাউল্লাহ তাদেরই একজন। মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এ বোলার এনসিএ থেকে কিছুদিনের জন্য বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওদিকে ইংল্যান্ডে পাকিস্তান দল হাস্যরস ও তির্যক কটূক্তিতে জেরবার। সরফরাজের জায়গা নেওয়া কোচ মাইক হেসন সম্ভবত ডেকে পাঠান রাজাউল্লাহকে। সে ডাকে রাজাউল্লাহর সাড়া দেওয়ার ঘটনাও বেশ নাটকীয়। শুনুন তাঁর মুখে, ‘একদিন সকালে ফজরের নামাজ পড়ার পরপরই (এনসিএর) নাবিল ভাই আমাকে ফোন করে দ্রুত এনসিএতে যেতে বলেন। যখন সেখানে পৌঁছাই, আমার জানাও ছিল না যে ইংল্যান্ডে পাঠানোর জন্য ডাকা হয়েছে।’
বাকিটা আপনার জানা। তবু ফিরে তাকাতে হয় ক্রিকেটীয় সেই খুশবু ছড়ানোর শিকড়সন্ধানে। টেস্ট অভিষেকে মাঠে নেমেই রাজাউল্লাহ আর দেরি করেননি। মহামতি প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ বইয়ে পলিমার্কাসের সেই কথার মতো, ‘যার যা প্রাপ্য তা দিতে’ শুরু করেন।
টেস্ট অভিষেকে রাজাউল্লাহর প্রথম বলের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৯ মাইল/১৪৩ কিমি। সিরিজে পাকিস্তানি কোনো পেসারের দ্রুততম ডেলিভারি। বোলিংয়ে পাকিস্তান যে এই গতির অভাবেই ভুগেছে, সেটা বোঝা গেল চতুর্থ বলে। আবারও ৮৯ মাইল গতিতে বল, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান জো রুট এলবিডব্লু। একপেশে লড়াইয়ে গোটা সিরিজে নাক কুঁচকানো ইংরেজ দর্শকও ততক্ষণে এজবাস্টনের গ্যালারিতে বসে সেই খুশবুটা পেতে শুরু করেছেন—যাকে বলে ‘র ট্যালেন্টের’ সুবাস।
টেস্টে রাজাউল্লাহর সেই প্রথম ওভার মনে রাখবেন অনেকেই। পাকিস্তান কোনো পেসারকে নিকট অতীতে এতটা ভয়ংকর লাগেনি। ভয়ংকর সেই গতিময় সৌন্দর্যের সুবাসেই পরে ঝুলিতে জমা পড়ল আরও ৩ উইকেট। বিশ্লেষকেরা ততক্ষণে হামলে পড়েছেন। স্লিঙ্গিং অ্যাকশন, গতি এবং সুইংয়ে ওয়াকার ইউনিসকে মনে পড়েছে সবার।
‘বুরেওয়ালা এক্সপ্রেসে’র সম্মান এতটুকু হানি না করে বলা যায়, রাজাউল্লাহর শুরুটা অন্তত সুইংয়ে ওয়াকারকেও ছাপিয়ে গেছে। শুধু বড় বড় ইনসুইং ছিল ওয়াকারের শুরুতে, রাজাউল্লাহর দুটোই আছে। সরাসরি বলেছেনও বোলিংয়ে তাঁর ব্লু–প্রিন্ট ওয়াকারকে দেখেই, ‘শুরু থেকেই ওয়াকার ভাইকে অনুসরণ করি। তার মতো হওয়ার চেষ্টা করি।’
মজার বিষয়, ক্যামেরার সামনে রাজাউল্লাহকে দেখে মনে হয় গাঁয়ের সেই ছেলেটি, যে লেন্সে তাকিয়ে এমনিতেই হেসে ফেলে। মাঠেও ১৪৫ কিমি গতি তুলে স্ক্রিন দেখে ভেবেছিলেন ১৩৫ কিমি! এই সারল্যটুকু বুঝে এবং ব্যাটিং দেখে আন্দাজ করে নেওয়া যায়, তাঁর উইলোবাজির ‘ব্লুপ্রিন্ট’ কোত্থেকে নেওয়া?
টেপ টেনিস!
পেছনের পায়ে ভর করে একে একে মেরেছেন জফরা আর্চার এবং গাস অ্যাটকিনসনদের। বড় বড় ছক্কা। সামনের পা লেগ সাইডে একটু সরিয়ে লং অন ও মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ‘হিটিং থ্রু দ্য লাইনে’ টেপ টেনিসের ব্যাটসম্যানরা ওভাবে মারেন; কিন্তু এ ব্লুপ্রিন্টের ভেতরকার ব্লুপ্রিন্ট আবার অন্যকিছু। তারুণ্যের ভয়ডরহীন সাহস!
তা না হলে পাকিস্তান ইনিংস হার এড়ানো থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে নয়ে নামা একজন ব্যাটসম্যান ছক্কা মারার সাহস পান কীভাবে! তার ওপর অ্যাটকিনসনকে এক ওভারেই মেরেছেন তিন ছক্কা। আর শটগুলোর কী ‘সাউন্ড’! সাধারণত হার্ড–হিটার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের ‘সু্ইট স্পটে’ বল লাগলেও সংঘর্ষের শব্দ একটু মিষ্টি হয়; কিন্তু রাজাউল্লাহর ব্যাট যখন ছক্কা মারতে বলে লেগেছে, সেটা অনেকটা কাঠ ভাঙার মতো ‘কড়াৎ’ কিংবা ‘মড়াৎ’ শব্দের মতো। আর্চারকে তো লেংথের বলে ছক্কা মেরেছেন শুধু ব্যাট চালানোর স্পিডে ভর করে, যেটা টেপ টেনিসে দেখা যায়।
পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে রাজাউল্লাহর ছক্কা মারার শব্দ যত পৌঁছেছে, বাবরদের মুখের হাসিও ধীরে ধীরে তত চওড়া হয়েছে। সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত সম্ভবত রাজাউল্লাহ আউট হওয়ার আগে রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লু থেকে বেঁচে যাওয়ার সময়। পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম যেভাবে হাততালিটা দিয়েছে, দেখে মনে হতে পারে এজবাস্টন টেস্টই জিতে নিয়েছে!
না, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পাকিস্তান এজবাস্টনেও হেরেছে; কিন্তু তৃতীয় দিনে রাজাউল্লাহর ৬৩ বলে সেই ৮১ রানের ইনিংস শেষ হওয়ার পর এজবাস্টনের গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়েছে। যেটা গোটা পাকিস্তান দলও পায়নি। আজ তাঁর ৫ ওভার বোলিংয়ের সময়ও বৃষ্টি ঝরেছে করতালির। সেই তালির আওয়াজে একটি বিষয় বোঝা গেল পরিষ্কার।
পাকিস্তান এই সিরিজে ধবলধোলাই হলেও সেই ‘পরিষ্কার’ হওয়ার মাঝেই জন্ম হলো একটি তারকার। নাম তাঁর ‘রাজবল’ কিংবা রাজাউল্লাহ নামে এক জাদুর কাজল।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলীমনগর ঘাটে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মোস্তফা (৬০) নামে আরও একজন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় চরবাগডাঙ্গার ফরিদপুর বিওপি ও ভারতের খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এসময় মো. ওয়াসিম (২৩) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অপর ১১ জন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। আরও পড়ুন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ জন ভারতে উদ্ধার, নিখোঁজ ১ পরে সন্ধ্যায় ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বিষয়টি বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারকে জানান। বিএসএফ সদস্যরা ১০ বাংলাদেশি যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। পরবর্তীতে রাত ১০টায় ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোহান মাহমুদ/এফএ
শেয়ারবাজারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারনির্ভর লেনদেন দেখা যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। গত কয়েক মাসের বাজারের গতিপ্রকৃতি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনায় আমার মধ্যে এ দৃঢ় বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস আমরা শেয়ারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও কম মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের র্যালি বা উত্থান দেখেছি। যদিও অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের সঙ্গে এসব শেয়ারের উত্থান-পতনের যৌক্তিক কোনো যোগসূত্র যদিও নেই। তারপরও স্বল্পমেয়াদি মুনাফার প্রবণতা থেকে এ ধরনের কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ আমরা দেখেছি। তাতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মানের অনেক কোম্পানির শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, দীর্ঘদিন একই ধরনের শেয়ারের দামের উত্থান হয় না। বিশেষ করে দুর্বল মানের কোম্পানিগুলোর দাম সাময়িক সময়ের জন্য বাড়লেও একটি পর্যায়ে এসে সেগুলোর দরপতন হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়। বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, সে সময় এখন খুবই সন্নিকটে। তার বদলে আগামী কিছুদিনের শেয়ারবাজার হবে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিনির্ভর।কেন বাজার ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারনির্ভর হবে, এমন বিশ্বাসের পেছনে আমার বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ এই মুহূর্তে সামনে রয়েছে। তার প্রথম কারণ, এরই মধ্যে ব্যাংক খাতে ভালো ভালো ব্যাংকগুলোয় স্থায়ী আমানতের সুদহার বেশ কমে গেছে। সামনে এ সুদহার আরও কমার ইঙ্গিতও আমরা পাচ্ছি। এ ছাড়া সরকারি বন্ডের সুদহারও এখন কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গতিও স্থবির। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারই বিনিয়োগের ভালো বিকল্প উৎস হয়ে উঠছে। উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী, যাদের বড় অংশই এখন শেয়ারবাজারমুখী হচ্ছেন। বড়, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পোদ্যোক্তারা যখন বাজারে আসেন, তখন ভালো শেয়ারের চাহিদা তৈরি হয় বাজারে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করবে বেশির ভাগ কোম্পানি। যেসব কোম্পানি ঐতিহাসিকভাবে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। যার ইতিবাচক প্রভাব এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়বেই। অনেক দিন ধরে আমাদের বাজারে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। তাই এসব শেয়ার ঘুরে দাঁড়াবেই।এরই মধ্যে রিটার্ন জমার সময় শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরের বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ আয়ের ক্ষেত্রে সরকার ১৫ শতাংশ কর-চূড়ান্ত দায় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত তারা এ সুবিধার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ছাড় সুবিধা পাচ্ছি। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। আমাদের শেয়ারবাজারে এমন বেশ কিছু ভালো কোম্পানি রয়েছে। এসব উদ্যোক্তার হাতে ওই কোম্পানির ভালো অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। এসব উদ্যোক্তারা যে লভ্যাংশ পান, সেই লভ্যাংশের বিপরীতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর সাশ্রয় হবে। ফলে তাঁরা নিজেদের কোম্পানি বা ভালো লভ্যাংশ দেয় এ রকম কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে আরও বেশি আগ্রহী হবেন। এসব কারণে আমার মনে হচ্ছে যে খুব দ্রুত আমরা শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের উত্থান দেখতে পাব। শহীদুল ইসলাম, এমডি ও সিইও, ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টপরিচিতি: শেয়ারবাজারে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানে শক্ত করে বসেছে আর্সেনাল। শনিবার সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সান্ডারল্যান্ডের মাঠ স্টেডিয়াম অব লাইটে জয় পেতে অবশ্য কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে আর্সেনালকে। প্রথমার্ধে কোনো গোল না হওয়ার পর বিরতির সময় বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ব্রুনো গিমারায়েস। আর দ্বিতীয়ার্ধে তিনিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৫৮তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে বল সান্ডারল্যান্ডের গোলের ওপরের কোণায় পাঠান ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। গিমারায়েস গ্রীষ্মে সান্ডারল্যান্ডের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নিউক্যাসল থেকে আর্সেনালে যোগ দিয়েছিলেন। সাবেক ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঠেই এবার গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে ম্যাচে নাটকীয়তার কমতি ছিল না। পেনাল্টি পেয়ে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল সান্ডারল্যান্ড। সেট-পিসে ড্যান ব্যালার্ডকে এজরি কনসা ধরে রেখেছেন বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি এবং স্বাগতিকদের পেনাল্টি দেওয়া হয়। স্পটকিক নিতে আসেন এনজো লে ফি। কিন্তু আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচ এবং এমনকি পুরো শিরোপার লড়াইয়ের গতিপথ বদলে দিতে পারতো। ‘এটা বিশাল একটি জয়, কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারতো। এই পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না,’ বলেন আর্তেতা। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যালার্ডকে ধরে রাখার কারণেই পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল। তবে আর্তেতা সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিজের আপত্তিতে অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। এই জয়ে শীর্ষে থাকা দলটির সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির ব্যবধান দাঁড়িয়েছে তিন পয়েন্টে। রোববার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ফলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্সেনালের জন্য এই জয় নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। এমএমআর