জাতীয়

সব ভেসে গেল যমুনার স্রোতে

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সব ভেসে গেল যমুনার স্রোতে
সব ভেসে গেল যমুনার স্রোতে

জি বি এম রুবেল আহম্মেদ

স্রোতস্বিনী যমুনা। বর্ষা এলেই চারদিকে নেমে আসে আতঙ্ক। নদীর ফুলে ওঠা জল যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে মানুষের জীবনের দিকে। একেকটি পাড়ভাঙার শব্দ শুনলে মনে হয়, কোনো হিংস্র প্রাণী গর্জন করছে। মুহূর্তে ভেঙে পড়ে জমি, হারিয়ে যায় স্মৃতি, বিলীন হয়ে যায় জীবনের সঞ্চয়।

করিম মিয়ার জীবনও এমনই এক ভাঙনের গল্প। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া আবাদি জমি একে একে সব গিলে খেয়েছে যমুনা। এখন বসতভিটাটুকুই শেষ সম্বল। শীতকালে পানি নেমে চর জাগলে সেখানে বাদাম, ভুট্টা আর মরিচের চাষ করেন। সেই সামান্য আয়ে চলে সংসার–অসুস্থ স্ত্রী, এক ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে।

সংসারে অভাব যেন নিত্যসঙ্গী। অনেক দিন একবেলা খেয়ে কাটাতে হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরায়–কথাটা যেন তাদের জীবনের বাস্তব চিত্র। করিম মিয়ার বড় মেয়ে চারটি গরু আর পাঁচটি ছাগল লালন-পালন করে। আশা ছিল, ছাগলগুলো বিক্রি করে বড় মেয়ের বিয়ের খরচের একটা ব্যবস্থা হবে। ছোট ছেলে রহিম–বয়স কম, কিন্তু দায়িত্ব অনেক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তবে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয় না। বেশিরভাগ দিন গরু-ছাগল চরাতেই কাটে।

আরও পড়ুন

অনুবাদ গল্প / আকাশ ও পানির মধ্যবর্তী নীল

সেদিনও রহিম গরু-ছাগল নিয়ে চরে গিয়েছিল। খালি গায়ে, হাফপ্যান্ট পরে বালুর ওপর বসে ছিল। রোদ, কষ্ট; এগুলো তার কাছে নতুন কিছু নয়। বিকেলের দিকে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। রহিম গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিলো। হঠাৎ সে দেখল, চরজুড়ে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ফেরার পথও ডুবে গেছে। রহিম সাঁতার জানে। গরুগুলোও পার হতে পারবে। কিন্তু ছাগল?

সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। ছোট্ট মাথায় বড় সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত ছাগলগুলোকে অগভীর পানিতে রেখে গরুগুলো নিয়ে বাড়ি ফিরল। বাবাকে নিয়ে আবার ছাগল আনতে যাবে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দূরে দেখা গেল পাঁচটি ছাগল পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। রহিম চিৎকার করে উঠল। চোখ ভরে পানি নেমে এলো।

করিম মিয়া নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলেন। দুই হাত মাথায় দিয়ে তাকিয়ে রইলেন খোলা আকাশের দিকে। ওই ছাগলগুলো শুধু ছাগল ছিল না; সেগুলো ছিল বড় মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, সংসারের আশ্রয়, ভবিষ্যতের ভরসা। সব ভেসে গেল যমুনার স্রোতে।

আরও পড়ুন

শব্দসীমার খাঁচায় কি মান হারাচ্ছে ছোটগল্প?

রাতে ঘরে খাবার নেই। বড় মেয়ে চুপচাপ চৌকিতে শুয়ে কাঁদছে। ছোট দুই মেয়ে ভাতে দুটি আলু দিয়ে রান্না করছে। সেদিন রাতের খাবার ছিল শুধু আলুভর্তা আর নীরব কান্না। বাইরে তখনো যমুনার পানি বইছে। আর ভেতরে ভেঙে যাচ্ছে তাদের হৃদয়।

সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখা গেল, বন্যার পানি ঘরে ঢুকে পড়েছে। উঠান যেন নদীতে পরিণত হয়েছে। আধাভাঙা টিনের ঘরটাও হয়তো দুপুরের আগেই নদীগর্ভে চলে যাবে। থালা-বাসন, কিছু কাপড় আর শেষ সম্বল গরু নিয়ে সবাই রওয়ানা দিলো আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। করিম মিয়া বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে যেতে রাজি নন।
চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন, ‘হে আল্লাহ, আমাগো ঘরটা রাইখা দিও। সব নিছো, এইটুকু আর নিয়ো না।’
বড় মেয়ে রহিমা বাবার হাত ধরে বলল, ‘আব্বা, আহেন। আগে জীবন বাঁচাই। নদী তো সবই লইয়া গেল।’
করিম মিয়া মাটিতে বসে পড়লেন, ‘আমি যামু না রে মা। এই ভিটা ছাইড়া কই যামু?’

শেষ পর্যন্ত দুই মেয়ে আর ছেলে মিলে তাকে টেনে নিয়ে গেল। করিম মিয়ার আর্তনাদে যেন আকাশও ভারী হয়ে উঠল। কেউ কলাগাছের ভেলা বানিয়েছে। কেউ শিশু কাঁধে নিয়ে হাঁটছে। কারো মাথায় চালের বস্তা। কেউ শুধু শূন্য হাতে।

আরও পড়ুন

কবরের লাশ চুরি ঠেকাতে প্রতি রাতে গ্রামবাসীর পাহারা

করিম মিয়া কয়েকবার পেছনে তাকালেন। বাড়িটা তখনো দাঁড়িয়ে। মনে হচ্ছিল, হয়তো বেঁচে যাবে। দুপুরের আগেই খবর এলো– ঘরটা নেই। সব নদীতে চলে গেছে। করিম মিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। তারপর মাথা নিচু করে বললেন, ‘নদী ঘর নেয়, মানুষরে না। মানুষ আবার ঘর বানায়।’

বড় মেয়ে বাবার দিকে তাকাল। প্রথমবারের মতো সে বুঝল–সব হারিয়েও মানুষ বেঁচে থাকে। কারণ নদী ভিটা ভাঙতে পারে কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা ভাঙতে পারে না। সেই ইচ্ছে নিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে, নতুন করে গড়ার স্বপ্ন দেখে।

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ
পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ

কুমিল্লার লাকসামে পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লাকসাম পৌর এলাকার মিশ্রি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  নিহত দুই শিশু হলো- মিশ্রি গ্রামের অ্যাডভোকেট শামসুল হকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৩) এবং তার বড় ভাই দুবাই প্রবাসী নাসির উদ্দিনের ছেলে সুফিয়ান (আড়াই বছর)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। স্থানীয়রা জানান, পৌর এলাকার মিশ্রি উত্তর পাড়ার নিজ বাড়ির পুকুরপাড়ে দুই শিশু খেলাধুলা করছিল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের পায়ের স্যান্ডেল পুকুরে ভাসতে দেখে স্বজনরা। পরে পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলি বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবি: দেশে ফিরলেন ভারতে উদ্ধার ১০ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবি: দেশে ফিরলেন ভারতে উদ্ধার ১০ জন

গন্ধম গহিনে

গন্ধম গহিনে

ঘুটঘুটে অন্ধকার, এক প্রান্তে আলোর রেখা—এমন গা ছমছমে সুড়ঙ্গ আছে বান্দরবানেই

ঘুটঘুটে অন্ধকার, এক প্রান্তে আলোর রেখা—এমন গা ছমছমে সুড়ঙ্গ আছে বান্দরবানেই

২৫ কোটি টাকার কৃষি প্রকল্পে লোকসান, তবু বলতে হয় ‘সাফল্যের গল্প’
২৫ কোটি টাকার কৃষি প্রকল্পে লোকসান, তবু বলতে হয় ‘সাফল্যের গল্প’

রাজশাহী বিভাগে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ১০২টি পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদন না হওয়ায় চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকেরা। তবু সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে বাধ্য করা হয়েছে তাঁদের। বিস্তারিত দেখুন প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
দ্রুতই ভালো শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্ৰহ বাড়বে

দ্রুতই ভালো শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্ৰহ বাড়বে

শেষ হলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার

শেষ হলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, কার হাতে উঠল কোন পুরস্কার

ঢাকার বায়ুর মান আজ কেমন?

ঢাকার বায়ুর মান আজ কেমন?

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল্লাহ হক (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।  শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চকসিমানন্দ বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল্লাহ হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রাইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে।  ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হন আসাদুল্লাহ হক। পরে তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন নিহত হওয়ার খবর তারা শুনেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে আসাদুল্লাহ হক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। তানভীর হাসান তানু/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বদলি নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, জিতলো আর্সেনাল

বদলি নেমে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, জিতলো আর্সেনাল

এই সংবিধান চললে ৫ বছর পর তারেক রহমান শেখ হাসিনায় পরিণত হতে পারেন

এই সংবিধান চললে ৫ বছর পর তারেক রহমান শেখ হাসিনায় পরিণত হতে পারেন

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় মসজিদ-ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় মসজিদ-ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

0 Comments